বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিয়েল লাভ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X মীমের আজ খুব ভয় করছে কারণ আজ সে দেখা করতে যাচ্ছে তার পছন্দের মানুষ হাবিবের সাথে । যদিও মীম হাবিবের ছবি ফেসবুকে দেখেছে । হাবিব দেখতে খুব ফর্সা না হলেও কালো বলা যায় না । কিন্তু মীম তো দেখতে খুব কালো তা হাবিব জানে না কারণ হাবিব মীমের ছবি এখনো দেখে নি যদিও মীম তার ছবি হাবিবকে দিতে রাজি ছিল কিন্তু হাবিব দেখতে চায় নি কারণ হাবিব মীমকে বাস্তবে প্রথম দেখতে চায় । . তাই আজ মীম হাবিবের সাথে দেখা করার জন্য রমনার বট মূলে এসেছে কিন্তু হাবিব আসছেই না । মীম প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বসে আছে । তাই মীম হাবিবকে ফোন দিল । ফোনে বাজার সাথে সাথে হাবিব বলে উঠলো , “প্লিজ আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর । আমার আসতে আর ১৫ মিনিটের মত লাগবে । প্লিজ আর একটু বস ” বলেই হাবিব ফোন রেখে দেয় । . হাবিবের ব্যবহার দেখে মীম অবাক হয়ে যায় কারণ আজ তাদের দেখা করার কথা এটা সত্য । কিন্তু মীম যে আসবেই এর গ্যারান্টি কি আছে ? আর মীম যে ঠিক টাইমেই আসবেই তার কি গ্যারান্টি আছে ? কিন্তু হাবিব আগেই সব বুঝে গেল কি ভাবে সেটাই মীম চিন্তু করে পায় না । কি অগাত বিশ্বাস মীমের উপর হাবিবের । ভাবতেই মীমের দুই চোখ বেয়ে দুই ফোটা জ্বল গড়িয়ে পড়ে । হয়ত খুব কম মানুষের ভাগ্যে এমন বিশ্বাস্ত মানুষের দেখা মেলে । . মীমের মনে পড়ে যায় । সেই পাঁচ বছর আগের কথা । তখন মীম ক্লাস টেনে পড়ে আর হাবিব দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ে । একদিন রাতে শোয়ার সময় হঠাৎ করেই মীমের ফোন বেজে উঠে । মীম ফোন ধরতেই অপর পাশ থেকে শোনে “আমি তোমাকে ভালোবাসি , মীম” । মীম কিছু না বলে ফোন রেখে দেয় । কিন্তু মীম ভেবে পা্চ্ছে না ছেলে টা মীমের নাম্বার পেল কোথায় ? কারণ এই ফোন নাম্বার তো মীমের পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কারো কাছে নেই । তাহলে ? এই সব ভাবতে ভাবতে মীম সেদিনের মত ঘুমিয়ে পড়ে । . পরদিন প্রাইভেট থেকে ফেরার সময় মীমের ফোনে আবার ফোন আসে ঐ নাম্বার থেকে । মীম জানতে চায় তার নাম কি ? আর নাম্বারই বা কোথায় পেল? ছেলেটা মীমকে বলে তার নাম হাবিব আদনান আর । আর রং নাম্বার হিসাবে ডায়াল করেছে । মীম এই কথা শোনার পর ভাবে কিভাবে মিলে গেল নাম ও নাম্বার ? . মীম যদিও হাবিবের সাথে ভালো করে কথা বলত না । কিন্তু হাবিবের সব কথার ই মীম উত্তর দিত । তাই হাবিবের কাছে মীম আর আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে । কিন্তু মীমের সাথে হাবিব বেশি কথা বলায় মীমের পড়ারলেখার ক্ষতি হতে থাকে । তবু মীম হাবিবকে সময় দিত যা হাবিবকে আরও বেশি মীমের প্রেমে ফেলে দেয় । কিন্তু হাবিব নিজে থেকে বিষয়টা উপলদ্ধি করে মীমের সাথে কথা বলা কমিয়ে দেয় । . পরীক্ষা শেষে হাবিব ও মীমের কথা বলা আবার আগের মত স্বাভাবিক হয়ে যায় । ধীরে ধীরে মীমও হাবিবকে বিশ্বাস করা শুরু করে । তাই তাদের মধ্যে কথা ফুল ঝড়ি চলতে থাকে । . এভাবেই পাঁচটি বছর কেটে যায় । মীম বহু বার হাবিব সাথে দেখা করতে চাইলেও হাবিব দেখা করতে পারত না । কারণ ডাক্তারি পড়তে গিয়ে হাবিব তেমন সময় পেত না । এতে অবশ্য মীমের রাগ হতো না । কারণ তত দিনে মীমের মন হাবিবের উপর বিশ্বাস করে ফেলেছে । তাই হয়ত দূরে থেকে না দেথেও তাদের প্রেমে কোনো ফাটল ধরে নি ।অবশেষে আজ হাবিব ও মীম দেখা করতেছে । . “আপনেই কি মীম ?” এই কথা শুনে মীমের ধ্যান ভাঙ্গে । উপরে তাকিয়ে দেখে , হাবিব মীমের সামনে দাড়িয়ে আছে । মীমের পছন্দের সাদা পাঞ্জাবী পড়ে । মীম কোনো কথা না বলে শুধু মাথা উপর-নিচ করে দাড়িয়ে থাকে । . -তোমাদের বাড়িতে কোনো আয়না আছে ? -আছে । থাকবে না কেন ? -কখন আয়নাতে নিজের মুখ দেখেছো ? মনে তো হয় না দেখছো । -মানে .....( অবাক হয়ে বলে মীম) -তুমি এত কালো একটা মেয়ে । কিভাবে ভাবলে আমি তোমাকে ভালোবাসবো ? যখন তুমি আমার ছবি দেখেছো তখন কি বুঝ নি যে তুমি আমার যোগ্য না । -...............(মীমের মুখ হতে কোনো কথা বের হচ্ছে না ) -শুনো । বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে প্রেমের অভিনয় করছি । কিন্তু জানতাম না যার সাথে প্রেমের অভিনয় করতেছি সে এতোটা কালো । তাহলে হয়ত অভিনয় করতাম না । যাই হোক , এখন কি বুঝতে পারছো যে তুমি আমার যোগ্য নও ? মীম মাথা দুলিয়ে হ্যা বলে । কিন্তু মীমের চোখ ভিজে ওঠে । হাবিব মীমের ভেজা চোখের তাকায় কিন্তু এতে তার বিন্দু মাত্র করুণা হয় না বরং উপহাস করে বলে , যাক বুঝতে পারছো তাহলে । আর কখন আমাকে ফোন করবে না । ঠিক আছে ? মীম হুম বলে কিন্তু এটা বলতে যেন তার গলা লেগে যায় । . “বলেই হাবিব মীমের সামনে থেকে চলে যায় । মীম তাকায় হাবিবের ফিরে যাওয়ার পথের পানে কিন্তু হাবিব একবারও মীমের দিকে তাকায় না । সরাসরি গেট থেকে বের হয়ে যায় । এটা দেখেই মীমের চোখ থেকে বৃষ্টির মত পানি ঝরতে থাকে । আর ভাবে এই হাবিব যাকে কিনা মীম এত বিশ্বাস করত ? এটাই কি হাবিবের প্রেম ছিল ? এইসব ভাবতে ভাবতে মীম পার্ক থেকে বের হয়ে যেতে থাকে । আজ মীমরে মনে একটা কথায় বাজছে ,কেন সৃষ্টিকর্তা তাকে কালো করে সৃষ্টি করছে ? যদি আজ সে ফর্সা হত তাহলে তো তার প্রেম বিফলে যেত না !এতো দিন মীম কালো মেয়ের ব্যর্থ প্রেমের গল্প শুনে এসেছে কিন্তু আজ তা মীম নিজে পরখ করল ।এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে রাস্তায় চলে এসেছে মীমের খেয়াল নেই । হঠাৎ করেই একটা বাস এসে মীমকে ধাক্কা দেয় । . মীমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার জানায় মীমের শরীর থেকে অনেক রক্ত ঝড়েছে তাই ইমারজিন্সি ও+ পজেটিভ রক্ত প্রয়োজন । কিন্তু হাসপাতালে কোনো রক্ত নেই । অবশেষে এক স্বহৃদয়বান ব্যক্তি মীমকে রক্ত দিয়ে বাঁচতে সাহায্য করে ।একমাস পর আজ মীম সুস্থ ।কিন্তু মনের আঘাতের ক্ষত এখনো শুকায় নি । সন্ধ্যার সময় মীমের বাবা এসে মীমকে জানিয়ে গেল যে মীমকে কাল দেখতে আসবে । . মীম কিছু বলে না শুধু মাথা নাড়িয়ে বলে আচ্ছা । পরদিন মীম পাত্র পক্ষের সামনে বসে আছে । হঠাৎ করেই কেউ বলে উঠল “আমার পছন্দ হয়েছে” কন্ঠটা মীমের পরিচিত । তাকাতেই দেখে হাবিব বসে আছে তার বাবা-মা সাথে । দেখে মীমের শরীরে আগুন ধরে যায় । তাই মীম বলে উঠে সে পাত্রের সাথে আলাদা করে কথা বলতে চায় । অতঃপর মীম ও হাবিবকে আলাদা কথা বলতে মীমের ঘরে পাঠানো হয় । . -করুণা দেখাতে এসেছেন ? -করুণা হবে কেন ? ভালোবেসে এসেছি । -তাই ! কিন্তু হাবিব , মানুষ একবার বকা হয় বারবার নয় । -মানে ? -মানে সোজা । আপনার মত মানুষকে আমি বিয়ে করতে পারব না । যে মানুষকে রূপ দেখে ভালোবাসে । সো আপনি এখন আসতে পারেন । -আচ্ছা । চলে যাচ্ছি কিন্তু আমার ভালোবাসা ফেরত দাও । -মানে ? -আমি তোমাকে যে তিন ব্যাগ রক্ত দিয়েছি তা ফেরত চাই । -মানে ? -মানে সোজা মেডাম । আপনাকে সেদিন কথা গুলো আমি মজা করে বলেছিলাম । আসলে দেখতে চেয়েছিলাম আমার উপর আপনার বিশ্বাস আছে কি না ? কিন্তু জানতাম না যে আমার প্রতি আপনার একবিন্দুও বিশ্বাস নাই । বিশ্বাস থাকলে এমন করে অ্যাকসিডেন্ট করতে না । আবার আমাকে ভুল বুঝতে না । যে মনে করে আমি রুপ দেখে ভালোবাসি তাকে আমিও বিয়ে করব না । . বলেই হাবিব রুম হতে বের হয়ে যেতে লাগে তখন মীম হাবিবকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে , সরি আর এমন হবে না । হাবিবও সাথে সাথে বলে মনে থাকবে তো ? আর শোনো প্রকৃত প্রেম কালো মেয়ে , ফর্সা মেয়ে দিয়ে হয় না । প্রকৃত প্রেম হয় বিশ্বাস ও মন দিয়ে । হুম বুঝলাম জনাব , বলেই মীম হাবিবকে আরও জোরে বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে নেয় । এই বাহু বন্ধনের ভেতর মীমের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের কোনো অভাব নাই ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিয়েল লাভ
→ রিয়েল লাভ......পাইলাম আমি ইহাকে পাইলাম....চাঁদের আলোয় চিকচিক করে ওঠে ওর চোখের জল
→ রিয়েল লাভ
→ রিয়েল লাভ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now