বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
???? Real LovE ????
.
রেলের রাস্তায় বসে আছি। অনেক্ষণ ধরে দেখছি একটা মেয়ে রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারের সামনে ব্রেঞ্চিতে বসে আছে। আমি এগিয়ে গেলাম।
আমিঃ- কে তুমি এতো রাতে এখানে কি করো? ( ছোট মনে হলো তাই তুমি করেই বললাম)
মেয়েটিঃ- নিশ্চুপ.....................আমি আবারো মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
আমিঃ - কি হলো কথা বলছো না কেনো? এই জায়গাটা মোটেও ভালো না বাড়ি ফিরে যাও। মেয়েটি এখনো।
নিশ্চুপ। আমি আবারো বিরক্ত হয়ে বললাম,
আমিঃ- তোমাকে দেখেতো ভদ্র ঘরের মেয়ে মনে হয়। এতোরাতের এখানে কি?
মেয়েঃ - ইশানের জন্য অপেক্ষা করছি। ( ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে বলল) মেয়েটি মুখ তুলে আমার দিকে থাকালো। আমি
ভয় পেয়ে গেলাম। কেমন যেনো ফ্যাকাসে। আমি আবারো বললাম,
আমিঃ- নাম কি তোমার?
মেয়েঃ- ইশু। চোট্র করে উত্তর দিলো।
আমিঃ- ইশান তোমার বয় ফ্রেন্ড নাকি? ইশু মাথা কাৎ করলো।
আমিঃ - ছেলেটি তোমাকে ধোকা দিয়েছে বাড়িতে ফিরে যাও। এখানে এতো রাত পর্যন্ত থাকা ঠিক হবে না।
ইশুঃ - নিশ্চুপ...............
আমিঃ - কি হলো যাও বাসায় যাও। ও আসবে না।
ইশুঃ - ওও এসেছে তো।
আমিঃ - কোথায়? অবাক হয়ে বললাম। মেয়েটি আমাকে আঙুল দিয়ে ইশারা করলো। দূরে থাকিয়ে দেখলাম একটা ছেলে বসে আছে। তার মানে ঐ ছেলেটাই ইশান।
আমিঃ - তাহলে ওর কাছে যাচ্ছো না কেনো?
ইশুঃ - আমি চাইলেই ওর কাছে যেতে পারবো না।আমি রিতীমতো অবাক হয়ে বললাম, আমিঃ- কেনো? ঝগড়া করেছো নাকি। মেয়েটি
মাথা নাড়িয়ে না বোধক জানালো।
আমিঃ- তাহলে!!
ইশুঃ- একটা ঠিকানা বলে বলল, এই,ঠিকানায় গেলেই বুঝতে পারবেন। আমি ঠিকানাটা মোবাইলে লিখে রাখলাম। সামনের দিকে তাকাতেই দেখলাম। মেয়েটি
উধাও। চারদিকে খুজলাম কোথাও নেই। আমি এই বিষয়ে তেমন ভ্রুক্ষেপ না করে
বাসায় চলে এলাম। দু-দিন হয়ে গেলো রেললাইনের দিকে যাচ্ছি না। অফিসের কাজের খুব চাপ তাই। আজ হঠাৎ মেয়েটার দেয়া ঠিকানাটার কথা মনে পড়লো। আমি খুজতে খুজতে সে ঠিকানায় গিয়ে পৌছলাম। কলিং বেল দুবার বাজানোর পর একজন মহিলা দরজা খুললেন। মহিলাঃ তুমি কে বাবা? আমিঃ জি আমি, জয় এটা কি ইশুর বাসা। মহিলা আমার দিকে কেমন করে যেনো থাকাচ্ছে। আর বাসার প্রায় সব লোক এখানে এসে জড়ো হয়েছে। সবাই কেমন করে যেনো তাকাচ্ছে।আমিঃ কি হলো আপনাদের। মহিলাঃ আমার সাথে চলো।
আমিঃ মহিলাকে ফলো করতে লাগিলাম। বাড়ির পেছনে একটা কবর স্থানে গিয়ে থামলেম তিনি। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
মহিলাঃ আঙুল দিয়ে কবর ইশারা করে বললেন,ঐ যে কবর দেখতে পাচ্ছো ওটা ইশুর কবর। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। কি হলো বুঝলাম না। ইশু মারা গেছে তাহলে রেল লাইনের ওখানে। না এটা কি করে হবে। ইশু তাইতো বলেছিলো যে, ও ইশানের কাছে যেতে পারবে না। আমিঃ তাহলে রেল লাইনে যে আমি ইশুকে দেখলাম।
মহিলা কাঁদছেন। মহিলাঃ হ্যা, রেল লাইনে ইশুকে প্রায় অনেকে দেখেছে ।
আমিঃ এটা কি করে?
মহিলাঃ ইশানকে ইশু খুব ভালোবাসতো ইশানও ইশুকে খুব ভালোবাসতো। ইশুর বিয়ে ঠিক করা হয়েছিলো। বিয়ের দিন রাতেই ইশু সব কাপড় চোপড় নিয়ে পালিয়ে যায়। দূর্ভাগ্য বশত। ইশানের পৌছতে দেরী হয়। ইশান গিয়ে দেখে ইশু মাঠিতে পড়ে আছে।
রক্তাক্ত অবস্থায়। ইশান ইশুর কাছে যেতেই।
ইশানঃ ইশু কি হয়েছে তোমার?
ইশুঃ ওরা আমার সব শেষ করে মেরে ফেলছে। আমার সব শেষ ইশান।
ইশানঃ তোমার কিছু হবে না ইশু। আমি আছিতো। কিন্তু ওখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে ইশু। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে ইশু একটাই কথা বলে ইশু ঃ ইশান তুমি তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। তোমায় বাচতে হবে। মহিলা কাঁদছেন আমিও।
মহিলাঃ নর পশুরা আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলল।তবে ইশু ঐ নর পশুদের মেরে প্রতিশোধ নিয়েছে। আমি কি বলবো? ভাবতে পারছি না।
.
রাস্তায় হাঠছি আর ভাবছি। লোকগুলো কেনো ইশুর জীবনটাকে এভাবে তচনচ করে দিলো।
.
বেচে থাকুক এমন হাজারো ইশুর ভালোবাসা। স্যালুট এমন ভালোবাসাকে।
যে ভালোবাসাকে মৃত্যুও হার মানাতে পারে না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now