বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
~~
(আচমকা এভাবে কেউ উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে সাথে যদি মৃদু ধাক্কা দেয়,
তবে কার না ঘুম হারাম হয়!? রিয়াদ এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটে নি।
ঘুম থেকে উঠে যেইমাত্র সে আড়মোড়া দিতে যাবে, তখনি সে আবিষ্কার করলো
সে তার ভার্সিটির ক্লাসরুম এ।
এতোক্ষণ ক্লাসরুমের বেঞ্চি তে বসে হাতের উপর মাথা রেখে সে ঘুমাচ্ছিলো। l
আর তাকে ডাক দিয়ে জাগ্রত করলো রিফা।
রিফা আর রিয়াদ দুজন এক ই ভার্সিটি তে অনার্স ২য় বর্ষে। তারা একে অপরের খুব ভালো ফ্রেণ্ড।
বলা চলে, এক জন কে ছাড়া আরেক জন অচল।
তো, রিয়াদ ঘুম থেকে উঠেই খেয়াল করলো, ক্লাস এর বাকি রা তার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে।
সে ইতোমধ্যে তাদের হাসির রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে রিফার রিএকশন দেখে।
রিয়াদ এর আর বুঝতে বাকি রইলো না, রিফা অনেক্ষণ ধরেই তাকে ডাকছে)
~~
-কিরে? ডাকলি কেন? আমার এতো সাধ এর ঘুম টা ভেঙ্গে দিলি!
-হাদারাম! তোর তো আমারে থ্যাঙ্কস দেওয়া উচিত! টিফিন টাইম শেষ! একটু পর ই স্যার চলে আসবে। এজন্য তোকে ডাক দিসি! আর তুই কিনা আমাকেই ঝারি দিলি?
~~
(রিয়াদ অত:পর দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রিফার কথার সত্যতা যাচাই করলো
এবং মাথা চুল্কাতে চুল্কাতে বললো)
-স্যরি দোস্ত! আসলে আমি বুঝতে পারিনি রে!
-তোর স্যরির গুষ্ঠি কিলাই! কথা বলবি না! যা! আর কোনো দিন তোর উপকার ও করবো না! মানুষের উপকার করলেও আজকাল দাম পাওয়া যায় না!
-এই যা!! দোস্ত, এই সামান্য বিষয় নিয়ে এতো রাগ করার কি আছে?? স্যরি তো বললাম! এবারের মতো মাফ করে দে না দোস্ত! প্লিইইইজ!?
-মাফ করতে পারি, যদি ছুটির পর ফুচকা খাওয়াতে রাজি থাকিস।
-আচ্ছা! খাওয়াবো! এখন পেত্নির মতো একখান হাসি দে তো দেখি!
-কি!? আমার হাসি পেত্নির মতো? দাড়া, আজ তোর দুই দিন কি আমার চার দিন!
(এই বলেই রিয়াদ কে কিল, ঘুসি মারার জন্য উদ্যত হলো রিফা।
এমন সময় ক্লাসে স্যার প্রবেশ করলো, আর এই সুবাদে রিফার কিল, ঘুসির হাত থেকে রিয়াদ বেঁচে গেলো
আর রিফার দিকে তাকিয়ে বিজয়ী হাসি দিলো)
~~
অত:পর ছুটির পর তারা দুজনে গেলো ফুচকা খেতে। রিয়াদ খাওয়াবে তাই রিফা এই সুযোগ এর সদ্ব্যবহার করার প্ল্যান করলো~~
-দোস্ত, খাওয়ানোর আগে পকেট টা ভালো ভাবে চেক করে নে খাওয়াতে পারবি কিনা!
-কেন? তোর কি আমার পকেট খালি করার প্ল্যান আছে?
-আরে নাহ! খাওয়ার পর যদি আবার বলিস যে টাকা নেই তাহলে তো আমার দেয়া লাগবে তাই বললাম আর কি।
-অও! তুই তোর ইচ্ছা মতো খা। বিল নিয়ে চিন্তা করিস না।
-এই না হলো আমার বয়ফ্রেণ্ড!
-এহ! যা ভাগ! তোর মতো পেত্নি রে গার্ল্ফ্রেন্ড বানানোর কোনো শখ আমার নাই।
-হইসে! তোর মতো হাদারাম এর গার্লফ্রেন্ড হওয়ার শখ ও আমার নাই! হু!
~~
এভাবেই চলতে থাকে তাদের দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটি, বন্ধুত্ব। এভাবে চলতে চলতে তারা এক সময় একে অপরের প্রেম এ পড়ে যায়।
রিফা নিজে রিয়াদ এর মুখ থেকে 'ভালোবাসি' কথা টা শুনতে চাইতো, আর রিয়াদ তাকে বলার সাহস পেতো না। কেউ কাউ কে ভালোবাসার কথা মুখে বলতো না, বুঝতেও দিতো না।
শুধুমাত্র একটাই কারণে। আর সেটা হলো বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়~~
(এক দিন হঠাৎ রিফা খুব একটা জরুরি কথা বলার জন্য রিয়াদ কে ডাকলো)
-কি ব্যাপার দোস্ত, কি এমন জরুরি বিষয় বলবি যে ফোনে বলা যাবে না? যার জন্য আমাকে এখানে আসতে বললি?
-দোস্ত, বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। বাবা তো পারলে আজ ই বিয়ে দিয়ে দেয়! কি করি, বল তো?
(রিয়াদ যেনো কথা টা বিশ্বাস করতে পারছিলো না! সে যেনো খুব বড় একটা শক খেলো! অত:পর নিজেকে সামলে নিয়ে)
-তোর তো বিয়ের বয়স হয়েছেই। তো এতে রাজি না হওয়ার কি আছে?
-দেখ রিয়াদ! আমি ফাজলামির মুড এ নাই
-আচ্ছা, স্যরি
-রিয়াদ, একটা সত্যি কথা বলবি?
-হুম, অবশ্যই! বল!
-তুই আমাকে ভালোবাসিস?
(প্রশ্ন টা শুনে রিয়াদ এক বার রিফার চোখ এর দিকে তাকালো, জিজ্ঞাসু দৃষ্টি তে রিফা তাকিয়ে আছে রিয়াদ এর দিকে। অত:পর রিয়াদ নিচের দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ হয়ে রইলো)
-রিয়াদ! জবাব দে! হ্যা, অথবা না? আজ তোকে বলতেই হবে! প্লিজ রিয়াদ! জবাব দে!
-হ্যা! আমি তোকে ভালোবাসি রিফা! অনেক বেশি ভালোবাসি। (আবেগজড়িত কণ্ঠে)
-তাহলে এতো দিন বলিস নি কেনো?
-যদি তুই আমাকে ভুল বুঝে ফ্রেন্ডশিপ টা শেষ করে দিস এই ভয়ে! তোকে ছাড়া থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নারে!
তুই যদি ফ্রেন্ডশিপ টা ভেঙ্গে দিস, তাহলে আমি নিজে কে সামলাতে পারবো নারে!
-তুই আমার চোখের ভাষা বুঝিস না? তুই বুঝিস না, আমি তোকে কতো টা ভালোবাসি?
(চোখ দিয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো)
[কথা টা যেনো রিয়াদ বিশ্বাস করতে পারছে না, তাই আবার জিজ্ঞেস করলো]
-কি বললি? আবার বলবি একটু?
-যা ভাগ! হাদারাম! তুই শুধু আমাকে কষ্ট দিস!
-আমি আবার কি করলাম?
-ভালোবাসি কথা টা বলতে এতো দিন লাগলো?
-তুই ও তো বলতে পারতি
-ছেলেরা আগে প্রোপজ করে, মেয়েরা না! বুঝছিস!? হাদারাম একটা!
-ও তাই?
-হু! তাই!
-এহেম এহেম! এই যে মিস রিফা,
আপনি কি আমার মা এর বউ মা হবেন?
-হিহিহ! সেটা হওয়ার জন্যই তো তিন টা পাত্র অলরেডি ক্যান্সেল করে দিছি!
-তো আজ ই মা বাবা কে পাঠাচ্ছি তোমার বাসায়।
মা তো জানেই তোমার কথা। আর আমি জানি মা খুব ভালো ভাবেই বাবা কে ম্যানেজ করে নিবে।
-আচ্ছা, আমার বাবা যদি রাজি না হয়?
-....(নিশ্চুপ)
-আচ্ছা আগে বাসায় যাও, যা হবে, পরে দেখা যাবে।
-আচ্ছা।
^^সেদিন এর পরের দিন রিয়াদ এর বাবা মা দুজনেই রিফার বাসায় গিয়েছিলো। রিফার মা বাবার সাথে বিয়ের ব্যাপারে কথা বার্তা বলার পর রিফার বাবা শেষমেশ একটি শর্ত দিলো যে,
যদি রিয়াদ পড়ালেখা শেষ করে ভালো বেতনের কোনো চাকরি পায়, তবে ই রিফার সাথে তার বিয়ে দেয়া হবে।
কারণ কোনো বাবা মা ই চায় না তার মেয়ে কোনো বেকার ছেলের সংসার করুক।
রিয়াদ এর বাবা মা ও এই শর্তে রাজি হয়ে যায়।
অত:পর রিয়াদ রিফা দুজনেই তাদের অনার্স পাস করে বের হয় এবং রিয়াদ এর চাকরির খোঁজ শুরু হয়।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! এক দিন চাকরির খোঁজে রাস্তায় চলাচলের সময়
রিয়াদ এর একটি দ্রুতগতির ট্রাক এর সাথে ধাক্কা লাগে^^
আজও রিফা প্রতি মাসের এই দিন টা তে রিয়াদ এর কবরের পাশে এসে সুখ দুক্ষের কথা বলে,
রাগ করে, অভিমান করে, মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে কান্না করে।
কিন্তু এটা মেনে নিতে পারে না যে, রিয়াদ আর কখনো ফিরে আসবে না, চলে গিয়েছে না ফেরার দেশে।।
~~
মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনা
আমাদের জীবন টাই পরিবর্তন করে দেয়।
(সমাপ্ত)
লিখা : Zisan
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now