বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রুমের জানালা দিয়ে বাইরের পুকুরটার দিকে তাকিয়ে আছে অনিলা। জ্যোৎস্না রাত,চাঁদের আলো পড়ে পুকুরের পানি ঝলমল করছে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির সাথে ঝিরঝিরে হাওয়া পরিবেশটাকে বেশ শীতল করে দিয়েছে।অনিলা ভাবছে অবশেষে তাহলে তার প্রতিক্ষিত দিনটি চলে এসেছে।একটু আগেই রিশান ফোন করে বলল সে কাল ঢাকায় আসছে চাকরির ইন্টার্ভিউ দিতে পাশাপাশি অনিলার সাথেও দেখা করবে। সুন্দর মনোরম পরিবেশ সাথে এমন খুশির সংবাদ আনন্দটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
রিশানের সাথে ওর পরিচয় ফেসবুকে।আর সেখান থেকেই বন্ধুত্ব , অতঃপর ভালবাসা।ছেলেটাতছেলেটার মাঝে কি একটা আছে যার কারনে মাত্র ৩ মাসেই ছেলেটাকে ভালবেসে ফেলেছে ও।শুধু ও না, দুজনই দুজনকে অনেক ভালবাসে।রিশানের বাড়ি চট্টগ্রাম তাই এখনো দেখা হয়নি ওদের।
রিশান এবার মাস্টার্স কমপ্লিট করলো আর অনিলা ঢাবিতে অনার্স ২য় বর্ষে পড়ালেখা করে।
দুরত্বের কারনে এখনো দেখা হয়ে উঠেনি ওদের।।কিন্তু এত প্রতিক্ষার পরে কাল দেখা হচ্ছে ভেবেই আনন্দের শিহরন বয়ে গেল ওর মনের মধ্যে। অবশেষে সমস্ত উচ্ছ্বাসকে সংবরণ করে ঘুমুতে গেল অনিলা।
পর্ব ২
বিকেল ৫ টা। স্মৃতিসৌধের পেছনের নির্জন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে অনিলা। রিশানের সাথে এখানেই দেখা করার কথা।অনিলা ভেবে পাচ্ছেনা এত জায়গা থাকতে রিশান এখানে কেন দেখা করতে বলল।অন্যান্য দিনের তুলনায় জায়গাটাকে আরও বেশি নির্জন মনে হচ্ছিলো।পেছনের এদিকটাতে মানুষজন নেই বললেই চলে। যদিওবা দু একজন আছে তারাও সন্ধে হয়ে যাওয়ায় চলে যাচ্ছে একে একে। ৫ টার সময় দেখা করতে বলেছে রিশান কারন ওর ইন্টার্ভিউ শেষ হতে নাকি দেরি হবে।
মনে মনে বিরক্ত হচ্ছে অনিলা, কোনো রেস্টুরেন্টে দেখা করলেও হতো তা না এখন এই নির্জন জায়গার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ওকে।৫ টার সময় দেখা হওয়ার কথা ৫.১৫ বেজে গেছে। ফোন বের করে রিশানকে ফোন করতে যাবে তখনি ........... মাটিতে লুটিয়ে পড়লো অনিলার দেহ।রক্তে ভেসে যাচ্ছে..... অনিলা পেছন ফিরে দেখতেও পারলোনা কাজটা কে করেছে।
(পর্ব ৩)
রুমে বসে খবরের কাগজ পড়ছে রিশান।পড়ছে বললে ভূল হবে , আপাতত সে একটা নিউজ খুঁজতেছে।হঠাৎ পেয়ে গেলো সেটা।' গতকাল সন্ধ্যায় স্মৃতিসৌধের পেছনে এক তরুণীকে খুন করা হয়েছে।ধারালো কিছু দিয়ে গলা কেটে ফেলে খুনটা করা হয়েছে।খুনিকে এখনো ধরা সম্ভব হয়নি।'
তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো রিশানের মুখে।যাক, আরেকটা কীট পৃথিবী থেকে দূর করে দিয়েছে সে। এটা নিয়ে ৬ নাম্বার। রিশান ভাবছে, মেয়েরা হলো নরকের কীট, ছেলেদের ইমোশন নিয়ে খেলা করে শেষে অন্যজনকে বিয়ে করে। আর ছেলেটার জীবন হয় নষ্ট।শুধুশুধু এই নরকের কীটগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী।যতজনকে মারতে পারবে ততোজনই পৃথিবী থেকে দূর হলো আর কয়েকটা ছেলে আর তার পরিবারের জীবন বেঁচে গেল। মেয়েটা আরেকজনকে বিয়ে করে চলে যায় ঠিকই কিন্তু ছেলেটা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে নেশাগ্রস্থ হয়ে পরে আর যার প্রভাব পরে পরিবার, সমাজ, দেশ এমনকি পুরো পৃথিবীর উপর।সব ছেলেরা নেশাগ্রস্থ না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয় কিংবা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরে........। কী লাভ এই মেয়েগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে যাদের জন্য পৃথিবীর ক্ষতি হয়। এসব ভাবতে ভাবতেই ফোন বেজে উঠলো রিশানের।রিসিভ করে হ্যালো বলতেই উপাশ থেকে মেয়েকন্ঠ ভেসে এলো।
কথা বলা শেষ হলে রিশান বলল,' শোনো প্রিয়ন্তি, আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই। এ সপ্তাহে সময় নেই, সামনের সপ্তাহেই আমরা দেখা করবো ওকে?
খুশি মনেই রাজি হলো প্রিয়ন্তি নামের মেয়েটি।'
ফোন কেটে দিতেই মুখে পৈচাশিক হাসি ফুটে উঠলো রিশানের। এটা নিয়ে ৭ নাম্বার কমপ্লিট হবে..........
_সমাপ্ত_
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now