বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ বেশ ভালো লাগছে।শত ক্লান্তির পর
পরিশ্রমের পর একটা চাকরী যোগাড় করতে
পারলাম।চাকরীটা বেশ ভালোই।আর বেতনটাও
মোটামুটি ভালো।আমার দিন বেশ চলে যাবে।
কিন্তু মিলিকে কিভাবে জানাবো।ওতো আমাকে
দেখলেই প্রথমে রাগান্বিত চোখে তাকায়।
তাইতো ভয়ে আজ পর্যন্ত ভালোবাসার কথাটাও
বলতে পারলাম না।
আগে চাকরীটা করি তারপর নাহয় সরাসরি বিয়ের
প্রস্তাবটাই পাঠাবো।এরপর দেখা যাবে কি হয়।
.
মিলি আমাদের এলাকারই মেয়ে।ওকে প্রথম
দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম।কিন্তু
তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুধু বন্ধুদের সাথে আড্ডা
দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ ছিলো না।তখন
একবার সামনা সামনি বলেছিলাম ওকে আমার ভালো
লাগে।
তখন ঝাঁঝালো কন্ঠে বলেছিলো, আপনার
মতো একটা বখাটে ছেলের সাথে
রিলেশনতো দূরের কথা, কথাই বলা যাবে না।
কখনই আর আমার সামনে আসবেন না।
এরপর থেকে আর ভুলেও ওর সামনে যাই নি।দূর
থেকেই দেখতাম আর ও আমার দিতে অগ্নি
দৃষ্টিতে তাকাতো।
.
চাকরীটা বেশ ভালোই কাটছে।মাস শেষ আজ
হাতে বেতনটা পেলাম।খুব আনন্দ লাগছে।যাই
একটু মার্কেট থেকে প্রথমে কিছু জিনিস কিনে
নিয়ে আসি।মিলির জন্য প্রথম বেতনের টাকা দিয়ে
একটা শাড়ী আর কিছু কাচের চুড়ি কিনে নিলাম।
এরপর গেলাম একটা মিডিয়াম সাইজের আয়না
কিনতে।
আয়নার দোকান ঘুরতে ঘুরতে কোনোটাই
পছন্দ হচ্ছে না।শেষের কর্ণারের দিকে একটা
দোকানে গেলাম।২-৩ টা আয়না দেখার পর একটা
আয়না বেশ পছন্দ হয়েছে আমার।চারপাশে বেশ
চমৎকার ডিজাইন।ডিজানটা পুরোনো হলেও বেশ
আকর্ষণীয় আয়নাটা।কিন্তু দামটাও একটু বেশী।
তবুও আমার খুব পছন্দ হয়েছে।তাই এইটাই নিয়ে
নিলাম।
.
আয়না নিয়ে ফিরে এলাম বাসায়।আমি থাকি ব্যাচেলর
বাসায়।একা একটা রুম নিয়েই থাকি।তাই রুমে এসে
বিছানার পাশেই দেয়ালটার সাথে আয়নাটা লাগিয়ে
দিলাম।
ফ্রেশ হয়ে খেয়ে একবার আয়নায় চেহারাটা
দেখলাম।বাহ বেশ ফকফকা দেখা যাচ্ছে।মনে
হচ্ছে অন্ধকারে আলো ছাড়াও চেহারা স্পষ্ট
দেখা যাবে।
শুয়ে পরলাম বিছানায়।কিন্তু মিলিকে গিফটগুলো
কিভাবে দেই।আর দিলেও তার সাথে একটা চিরকুট
দিতে হবে।তাই আবার বিছানা থেকে ওঠে একটা
চিরকুট লিখলাম।লিখে শাড়িটার বক্সে দিয়ে।আবার
শুয়ে পরলাম।একসময় ঘুমিয়ে পরলাম।
.
ঘুম ভেঙ্গে গেলো হঠাৎ মনে হলো
চারপাশে তুমুল ঝড় তুফান বইছে।আমার খাট জুড়ে
জুড়ে নড়ছে।কিন্তু চোখ খুলতেই কোনো
কিছুর ছিটে ফুটাও নেই।চারপাশ নীরব অন্ধকার
কারো কোনো শব্দ নেই।মনের ভুল
ভেবে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে
গেলাম অফিসের উদ্দেশ্যে।সকালের নাস্তাটা
বাহিরেই খাওয়া হয় বেশী।আশার সময় মিলিকে
দেওয়ার জন্য গিফট টা আনতে ভুলেই গিয়েছি।
নাহয় যাওয়ার সময় দিয়ে যেতে পারতাম।থাক কালই
দিবো।
.
কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে হাত মুখ ধুয়ে আবার
একটু আয়নায় গেলাম নিজের চেহারা দেখতে।
মুখে কিছু ব্রণ উঠেছে।ওগুলোকে আয়না
দেখে খুচাচ্ছি।মনে হলো আয়নায় আমার চেহাটা
আমাকে দেখে মুচকি হাসছে।আমি ভালো
করে আয়নায় তাকালাম।কই নাহ কিছুইতো না।আমার
মনের ভুল।কি যে হচ্ছে আজকাল কিছুই বুঝতে
পারছি না।
আর কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পরলাম।
.
সকালে বরাবরের মতোই অফিসে যাচ্ছি।দেখি
মিলি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।আর হাতে একটা গিফট
বক্স।আরে এইটাতো আমার কিনা সেই গিফট
বক্সটা।কিন্তু মিলির হাতে গেলো কি করে? নাহ
হয়তো একই রকমের হতে পারে।আমি পাশ
কাটিয়ে যাচ্ছি তখনই মিলি ডাক দিলো,
-এই এদিক আসেন।(মিলি)
-আমাকে ডাকছেন?
-হ্যা এদিকে কি আর কেউ আছে আশে পাশে?
-হ্যা ওই যে ওই চায়ের দোকানদার।
-ফাইজলামি করেন আমার সাথে?
-নাহ মানে।জ্বী বলুন?
-আমি বলবো মানে।আপনি কি করেছেন আর
আমি কেন ডেকেছি জানেন না?
-নাহ আমিতো কিছু করি নি।জানবো কিভাবে?
-নাটক করা হচ্ছে আমার সাথে।কাল রাতে আপনি
আমার রুমে ঢুকে আমার হাতে এইসব দিয়ে চলে
আসলেন।সাথে সাথে আপনাকে খুঁজলাম কিন্তু
কোথাও পেলাম না।এত তাড়াতাড়ি কোথায় হাওয়া
হয়ে গিয়েছিলেন হ্যা? আর আপনার সাহস কি করে
হলো আমাদের বাসায় ঢুকে আমার রুমে
যেতে?
-আমিতো রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম।আপনার বাসায়
যাবো কেন আমি?
-আপনি এই শাড়ি আর চুড়ি কিনেন কি আর এই
চিরকুটের লিখা আপনার না?
-হ্যা আমার।কিন্তু আমিতো দেই নি।(মাথা চুলকাতে
চুলকাতে বললাম)
-তাহলে কি আপনার জমজ ভাই বা আপনার ভুত এসে
দিয়ে গিয়েছে এইসব যতসব।আমিতো ভাবতাম
আপনি বোকা মদন হাবলা টাইপের।কিন্তু এখনতো
দেখি আপনি অনেক চালাক,স্মার্ট,আর সাহসীও।
-যদি গিফট পছন্দ না হয় তাহলে নিয়ে যাই।
-এই ছাড়েন।আমি কি বলেছি নাকি যে পছন্দ হয়
নাই।আমিতো আপনাকে সতর্ক করার জন্য দাঁড়িয়ে
ছিলাম।রাতে চোরের মতো এভাবে ঢুকবেন
না।কেউ দেখলে সমস্যা হবে।আর আপনি যদি
ব্যাথা পান।আর গিফট এর জন্য থ্যাংক ইউ।(একটা মুচকি
হাসি দিয়ে বাসায় চলে গেলো মিলি)
.
তাহলে মিলিও আমাকে পছন্দ করে।উয়াহু বলে
একটা চিৎকার দিলাম।তবে মনে মনে।কিন্তু মিলিকে
আমি এইসব কখন দিলাম? রাতেতো আমি ঘুমিয়ে
ছিলাম।মাথায় কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে।কিছুই ঢুকছে না
মাথায়।
সারাদিন অফিসেও এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশ চিন্তা করি
আমি।কাজও ঠিক মতো করতে পারি নি।তাই বসের
কাছ থেকেও ঝাড়ি শুনতে হয়েছে।
:
.
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now