বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রহস্যময় সেই বাড়িটা-০৬

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "রহস্যময় সেই বাড়িটা" আবুল ফাতাহ মুন্না -------------------- (পর্ব-৬) উদ্ধার পর্ব পরেরদিন যে সমস্যাটা আমাদের কাছে সবচাইতে বড় হয়ে উঠল সেটা হল,ছেলেটাক উদ্ধার করার উপায় বের করা।আমরা তিনজনই চোখে একরকম অন্ধকার দেখছি বলা যায়। আজও স্কুল শেষে খেলতে যাওয়া হলনা।ফুটবল দিয়ে কাবাডি খেলার জন্য মনটা আকুপাকু করলেও নষ্ট করার মত সময় আমাদের হাতে নেই।গোয়েন্দা যখন হয়েছি একটু ত্যাগ তো স্বীকার করতেই হবে। আমরা তিনজনই স্কুল থেকে সোজা বাসায় ফিরলাম।বাসায় গিয়েই নাকে মুখে কয়েকটা গুজেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী।পিকুলদের বাসার ছাদে হাজির হলাম।পিকুল আজই ওর বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিয়েছে।ছাদের রুমটাকে আমরা এখন আমাদের হেডকোয়ার্টার বানাতে পারি।যদিও পিকুল ওর বাবাকে হেডকোয়ার্টার সংক্রান্ত কিছু বলেনি।তাহলে রুমের বদলে পিঠে ‘গুড়ুম’ পড়ার আশঙ্কাটাই বেশি ছিল! পিকুল স্কুলে যাবার আগেই আমাদের নতুন হেডকোয়ার্টারে তালা লাগিয়ে গিয়েছিল।তালাটা খুলে আমরা ভেতরে ঢুকলাম।রুমটা বেশি বড় না,পিচ্চি।ভেতরেও তেমন কিছু নেই।রুমটা তৈরি করা হয়েছিল পিকুলের দাদা পিকাশের নিরিবিলিতে পড়াশোনার জন্য।পিকাশ দা পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ফেলাতে এখন রুমটা খালিই পড়ে থাকে।পড়াশোনার জন্য চেয়ার আর একটা টেবিল ফেলা হয়েছে রুমে।পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেলে সাময়িক বিশ্রামের জন্য আমদানী হয়েছে খাটের।তবে পিকুলের বাবা রুমে ফ্যান লাগাতে দেননি।তাতে করে ফ্যানের বাতাসে ‘সাময়িক বিশ্রাম’ ‘বিরামহীন বিশ্রামে’ পরিনত হবার ব্যাপক আশঙ্কা আছে!তবে পিকাশ আর পিকুলের বাবা পিনাকী বাবুর পরিকল্পনা ধোপে টেকেনি।পিকাশ দা চেয়ার টেবিলের চাইতে খাটটাতেই বেশি সময় কাটাত।কারণ,ছাদে ফ্যান ছাড়াই সবসময় প্রচুর বাতাস পাওয়া যায়! আমরা খাটটাতে গিয়ে বসলাম।সন্ধ্যা হতে বেশি দেরী নেই।খানিক পরই নামাজের জন্য বের হতে হবে।তার আগেই প্রাথমিক আলাপ সেরে নিতে হবে।নামাজের পর মূল পরিকল্পনা। ‘তো কে কি ঠিক করলি?’জানতে চাইল ফরহাদ। ‘আমার মাথায় তো কিছু আসছে না,’হতাশ গলায় বলল পিকুল। ‘আমারও না,’আমি মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললাম। ‘আমার মাথায় একট প্ল্যান অবশ্য আছে।’এবার ফরহাদ বলল। আমি আর পিকুল ফরহাদের আরো কাছে চলে এলাম।ফরহাদ নীচু গলায় ওর পরিকল্পনা বলা শুরু করল,‘আমরা আজ রাতে ছেলেটার রুমের জানালার কাছে যাব।এরপর ওকে ডেকে জানালার কাছে নিয়ে আসব।সব খুলে বলব ওকে।বলব ও যেন দরজা খুলে আমাদের সাথে পালিয়ে আসে।এটাই ওর বাঁচার একমাত্র পথ।’ এতুটুকু শুনেই আমি হতাশ।‘প্ল্যানটা আমার মোটেই পছন্দ হচ্ছেনা।’বাগড়া দিলাম আমি।‘প্রথম সমস্যা,আজ রাতে জানালা খোলা নাও থাকতে পারে। দ্বিতীয় সমস্যা,জানালা খোলা থাকলেও আমরা ডাকলেই ও সুরসুর করে জানালার কাছে চলে আসবে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। তৃতীয় সমস্যা,জানালার কাছে এলেও ও আমাদের কথা বিশ্বাস করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসার বদলে আহসান সাহেব কর্তৃক দৌড়ানি দেবার সম্ভবনাই বেশি! চতুর্থ সমস্যা,ও আমাদের সাথে চলে এলেও ওকে আমরা কোথায় রাখব? পঞ্চম সমস্যা,রাখার ব্যাবস্থা হলেও ওকে খাওয়াব কী? ষষ্ঠ সমস্যা,থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা হলেও কয়দিন ওকে এভাবে রাখব? সপ্তম সমস্যা,...’ ‘সমস্যা আর কয়টা বাকি আছে?’ফরহাদ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল। ‘কি জানি,গুনে দেখিনি তো।’ ‘সমস্যা না বের করে পারলে একটা ভাল আইডিয়া বের কর।’ ‘আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে,কিন্তু সেটাতে মারাত্মক ঝুকি আছে।’পিকুল বলল। ‘কালো জাদুকরের বাড়ি থেকে তার বলির পাঠাকে তুলে নিয়ে আসার চাইতে আর ভয়ংকর কি হতে পারে?’ ‘বলির পাঠা?এটা আবার কী ধরনের শব্দ?’ ‘আর কিছু খুঁজে পেলাম না তো।‘বলির মানুষ’ শুনতে নিশ্চয়ই খুব একটা ভাল শোনাবে না!’ ‘তাও ঠিক।আচ্ছা বাদ দে।এখন আমার পরিকল্পনাটা শোন। আমরা গিয়ে ছেলেটাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে আসব।’ আমি হেসে ফেলতে গিয়েও অনেক কষ্টে সামলে নিলাম।এই প্যাঁকাটি পিকুল করবে কিডন্যাপ? ফরহাদও দেখি মুখ শক্ত করে আছে।নিশ্চয়ই হাসি সামলাচ্ছে। ‘পিকাশ দা’র এক বন্ধুর ফার্মেসী আছে।সেখান থেকে ক্লোরোফর্ম জোগার করা যাবে।এরপর রাতের বেলা ছেলেটাকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে নিয়ে আসব।পরেরদিন গিয়ে পুলিশকে সব খুলে বলব।’পিকুল এক নিশ্বাসে ওর দুর্ধর্ষ(!)পরিকল্পনা বলে গেল। ‘প্ল্যান তো মাশআল্লাহ ভালো,কিন্তু ওকে অজ্ঞান করতে হলে তো আগে বাড়িটাতে ঢুকতে হবে।সেটা কিভাবে?’ফরহাদ হাসি চেপে বলল। ‘কেন,স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে জানালার স্ক্রু খুলে ঢুকব।’ ‘এবং আমরা পরের দিন পুলিশের কাছে গিয়ে বলব,আমরা গতকাল রাতে আহসান সাহেবদের বাড়িতে সিধ কেটে ঢুকেছি,এরপর এই ছেলেটাকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে কিডন্যাপ করে নিয়ে এসেছি,কারণ আমাদের ধারণা আহসান সাহেবরা কালু জাদুকর!মার বুঝেছিস একটাও মাটিতে পড়বেনা!’সহাস্যে বললাম আমি। পিকুল মুখ গোমড়া করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,আমাদের প্ল্যান তো খুব হেসে উড়িয়ে দিচ্ছিস তুই একটা বল দেখি কেমন মাস্টার প্ল্যানার হয়েছিস।’ ‘আমার প্ল্যান হল,কোনও প্ল্যান না করা।আজ রাতে ওখানে যাব আমরা,এরপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।যদি আজকের মধ্যে আমরা কিছু না করতে পারি তবে কাল বড়দের জানাব।কারণ কালকের দিনটাই হাতে আছে আমাদের,এরপরই অমাবস্যা।’কাল রাতে ওখানে গিয়ে ভয় অনেকাংশেই কমে গেছে আমার তাই বেশ সাহস দেখাতে পারলাম। আমার প্ল্যানটা বোধহয় দুজনেরই পছন্দ হয়েছে।দুজনেই মাথা ঝাকাচ্ছে। ‘হ্যা,সেটাই ভাল হবে।কী বলিস?’ফরহাদ বলল। ‘ওকে,ডান,’আমি আর পিকুল বলে উঠলাম। মাগরিবের আজান দিয়ে ফেলল তখনই। ফরহাদ বলল।‘এখন তাহলে সবাই বাসায় চলে যাই।গিয়েই সবাই পড়তে বসবি।তাহলে আর রাতে বের হতে ঝামেলা হবেনা।রাতে একবারে খাওয়া দাওয়া করে এখানেই চলে আসবি।এখান থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে বের হব,ঠিক আছে?’ ‘ওকে,ডান,’আমি আর পিকুল আবার বলে উঠলাম। ৬ ভয়াল জন্তু বাসায় এসে পড়তে বসে গেলাম ঠিকই কিন্তু পড়াটা আর হচ্ছেনা।হবার কথাও না।যে কিনা একটু পরই কালো জাদুকরের আস্তানা থেকে একটা ছেলেকে উদ্ধার করে আনতে যাচ্ছে সে কিভাবে পড়ায় মনোযোগ দেবে? অতএব পড়ার ইচ্ছে টেবিলে রেখেই আমি রাতের আসন্ন অভিযান নিয়ে ভাবতে বসলাম। ভাবতে বসে একটু পরই দেখি আটটা বেজে গেছে।শুধু পড়তে বসলেই সময় কাটতে চায় না! খাওয়া দাওয়া করে মা’কে কোনও রকম ভুজুং ভাজং দিয়ে বেরিয়ে এলাম বাসা থেকে।সোজা চলে গেলাম পিকুলদের বাড়ির ছাদে। গিয়ে দেখি পিকুল বসে আছে।‘কি রে একা একা বসে আছিস যে?’ ‘কি করব,উত্তেজনায় তো আমার পেট কামড়াচ্ছে!’ ‘যাক তোরও তাহলে কামড়াচ্ছে?আমি ভাবলাম আমার একারই বুঝি এই সমস্যা!’বলতে না বলতেই ফরহাদ এসে হাজির।ওর পিঠে একটা ছোটখাট ব্যাগও দেখা যাচ্ছে। ‘ওটার মধ্যে কী এনেছিস?খাবার?’ব্যাগটা দেখে কৌতূহল সামলাতে পারলাম না। ‘খাবারের কথাটাই সবার আগে মনে হল বুদ্ধু?এটার মধ্যে ছুড়ি,স্ক্রু ড্রাইভার,রশি এই সব হাবিজাবি দরকারি জিনিষ আছে।ক্লোরোফরমও আছে এক বোতল,’শেষের কথাটা বলার সময় পিকুলের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে দিল ফরহাদ। ‘এই জিনিস আবার পেলি কোথায়?’ ‘কেন ফার্মেসী কি শুধু তোর দাদার বন্ধুরই আছে,আর কারো নেই?’ ‘তা বের হবি কখন?’এবার জানতে চাইলাম আমি। ‘কাল যে সময় বের হয়েছিলাম,দশটার দিকে।আরো ঘন্টা খানেক বাকী আছে।ততক্ষণ গ্যাট হয়ে বসে গল্প করা ছাড়া তো আর করার মত কিছু নেই।’ আমরা ছোট্ট ঘরটাতে বসে গল্প করতে লাগলাম।সবাই একসাথে থাকার কারণেই হয়ত সময়টা খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেল।দশটা বাজতেই আমরা উঠে পড়লাম।হেঁটে হেঁটে চলে এলাম আহসান সাহেবদের বাড়ির কাছে।চারপাশের পরিবেশ গতকালকের মতই।গাছের ফাঁক দিয়ে চাঁদের আবছা আবছা আলো নেমে আসছে মাটিতে। আমরা তিনজন দেয়াল টপকালাম আগের নিয়মে।আজ উত্তেজনা এবং ভয়টা গতকালের চাইতে অনেক বেশি।স্বাভাবিক।আমরা জানিনা কিভাবে ছেলেটাকে উদ্ধার করতে হবে।কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এরকম ভয়ংকর একজন মানুষের বাসা থেকে একজনকে বের করে নিয়ে আসা যে কতটা উত্তেজনা এবং ভয়ের জন্ম দিতে পারে সেটা অনভিজ্ঞ কাউকে বোঝানো অসম্ভব। আমরা সোজা চলে এলাম ছেলেটার রুমের জানালার পাশে।মনে হচ্ছে আমার বুকের ঢিব ঢিব শব্দটা ফরহাদ আর পিকুল পরিষ্কারই শুনতে পাচ্ছে। ফরহাদ জানালার পাল্লাটা ধরে আস্তে করে টান দিল।পাল্লাটা ভেজানো ছিল শুধু,টান দিতেই খুলে গেল গতকালের মত। ভেতরে ডিম লাইটের হালকা নীল আলোয় বিছানার উপর একটা অস্পষ্ট অবয়ব দেখা যাচ্ছে।কম্বল মুড়ি দিয়ে আছে অবয়বটা। ‘এখন কি করবি?’পিকুল জিজ্ঞেস করল।কার উদ্দেশ্যে সেটা বোঝা গেলনা।সম্ভবত আমাদের দুজনের উদ্দেশ্যেই।তবে জবাব দেয়ার ভারটা আমি ফরহাদের উপরই ছেড়ে দিলাম।যেহেতু ওই আমাদের দলনেতা। ফরহাদ কিছুক্ষণ মাথা চুলকিয়ে বলল,‘এক কাজ অবশ্য করে যায়।পিকুল যেমন বলেছিল,জানালার শিক খুলে বাড়িটার ভেতর ঢোকা যায়।ব্যাগে দরকারি জিনিষপত্র আছে।চাইলে ঢোকা যাবে।’ ‘তারমানে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকবি?’আমি জানতে চাইলাম। ‘তাছাড়া আর কী করব?তখন তো খুব বলছিলি অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থা।তা এখন কী ব্যাবস্থা করবি?’ ‘কিন্তু ধরা পড়লে কী হবে ভেবে দেখেছিস?’এরপর আসল কথাটা বললাম,‘তাছাড়া আমরা কিন্তু নিশ্চিত নই আহসান সাহেব সত্যি কালো জাদুকর কিনা।স্রেফ অনুমান করেছি।অনুমানের ভিত্তিতে পুলিশও সাধারণত অভিযান চালায় না।সেখানে আমরা তো বলতে গেলে কিডন্যাপই করতে চলেছি।’ আমার কথা ওদেরকে চিন্তায় ফেলে দিল।ওরাও বুঝতে পারছে এখন পর্যন্ত ব্যাপারটা বড়দের দৃষ্টিতে ‘বাচ্চাদের খেয়ালীপনা’ থাকলেও স্রেফ সন্দেহের বশে বাড়ির ভেতর এভাবে ঢুকে পড়লে সেটা অনেক গুরুতর হয়ে দাঁড়াবে। হঠাত মাথায় একটা বুদ্ধি এল,একেবারে বিদ্যুৎ চমকের মত।‘এই আমার মাথায় না একটা বুদ্ধি এসেছে।’ আমার কথায় কেউই আগ্রহ দেখাল না তেমন।শুধু মুখ তুলে আমার দিকে তাকাল ফরহাদ। ‘শোন বুদ্ধিটা কাজে না লাগলে তোদের কথা দিতে হবে আমরা আগ বাড়িয়ে বিপদ ডেকে আনবনা।কালই বড় কাউকে সব খুলে বলব।বলা যায়না,আহসান সাহেবদের সম্পর্কে মানুষদের যে ধারণা তাতে করে আমাদের সন্দেহটা বিশ্বাস করেও ফেলতে পারে অনেকে।’ ‘আগে বল তোর বুদ্ধি।তারপর ভেবে দেখা যাবে।’ ‘বলার কিছু নেই।চেষ্টা করে দেখতে হবে।আয় আমার সাথে,’বলে আমি বাড়ির সামনের দিকে চলে এলাম।দরজার সামনের ছোট্ট বারান্দাটায় উঠে পড়লাম দলবল নিয়ে। বাড়ির দরজটা ভেতর দিকে খোলে।ছিটিকিনি দিয়ে আটকে রাখা হয়।আমার মনে একটা ক্ষীণ একটা আশা,দরজটা যেই লাগিয়ে থাকুক সে হয়ত দরজার ছিটকিনিটা স্রেফ তুলে দিয়েছে।যদি তাই হয় তাহলে দরজাটা ধরে এখন টান দিলে চাপ আলগা হয়ে ছিটকিনিটা নেমে যাবে।তবে ছিটিকিনিটা তুলে যদি ঘুরিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমার পরিকল্পনা মাঠে মারা যাবে।দেখা যাক আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে কী রেখেছেন। আমি দরজার হাতলটা ধরে টান দিলাম।সঙ্গে সঙ্গেই খুট করে একটা শব্দ হল!তারমানে দরজাটা খুলে গেছে! আহসান সাহেব বোধহয় কল্পনাও করেন না যে তার বাড়িতে কেউ রাতেরবেলা হানা দেবে।এজন্যই হয়ত সতর্কতার এই অভাব। আমি আমার সঙ্গীদ্বয়ের দিকে তাকিয়ে বিজয়ের হাসি হেসে বললাম,‘নে দরজা খুলে দিলাম।’ ওরা দুজনই হতবাক।ভাবতেও পারছেনা আমি এমন একটা কাজ করে ফেলতে পারি।পিকুল ওর হা হয়ে যাওয়া মুখটা বন্ধ করে বলল,‘কিভাবে করলি?’ আমি মুখে একটা চালবাজির হাসি ফুটিয়ে সব খুলে বললাম। ‘জটিল বুদ্ধি করেছিস রে,’বিষ্মিত পিকুল বলে উঠল। ‘হুমম,’সায় জানাল ফরহাদও। এদিকে গর্বে আমার বুকটা প্রায় ইঞ্চি কয়েক বেড়ে গেল। ‘ভাল হয়েছে।এখন যদি ধরা পড়েও যাই তাহলে বলতে পারব রাতে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম,দরজা খোলা দেখে ঢুকে পড়েছি।’ফরহাদ বলল। ‘আমরা এতরাতে হাটতে বেরিয়ে(?) দরজা খোলা পেয়ে ঢুকে পড়েছি এটা কেউ বিশ্বাস করবে?’পিকুল মুখ কাঁচুমাচু করে বলল। ‘তা অবশ্য কেউ করবেনা!’ফরহাদ জবাব দিল।‘তবে সিঁদ কেটে ঢোকার চাইতে ঢের ভাল হয়েছে।এখন আর যাই হোক পুলিশে দিতে পারবেনা কেউ আমাদের।এখন দেরি না করে আল্লাহর নাম নিয়ে ঢুকে পড়ি চল।’ আমি আস্তে করে দরজায় ঠেলা দিলাম।মৃদু ক্যা-আচ আওয়াজ করে খুলে গেল দরজা।খানিকটা ভয় পেয়ে গেলাম আমরা।তখনই না ঢুকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম।না,কোনও সারা শব্দ পাওয়া যাচ্ছেনা।পুরো বাড়িটা যেন মৃত্যুপুরী।খুব ধীরে ধীরে ঢুকে পড়লাম আমরা। ছেলেটার রুম বাড়ির ডানদিকে।সেদিকেই এগিয়ে চলল আমাদের খুদে দলটা।এখন আরেকটা ভয়,ছেলেটার রুম আবার আটকানো না থাকে।তাহলে সব ঝুকি আর পরিশ্রম পন্ড হয়ে যাবে। তবে দেখা গেল আজ আমাদের ভাগ্য যথেষ্ট ভাল।দরজাটা হাট করে খোলা। এই মুহূর্তে আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা ডাইনিং রুম।ড্রয়িংরুম আর ডাইনিং লাগোয়া।ডাইনিং রুমের তিনদিকে তিনটা দরজা।বাম পাশেরটা আহসান সাহেবদের।সামনের দিকেরটা হল গেস্ট রুম।যেটা এই মুহূর্তে খালি।আর ডান পাশে হল সেই রহস্যময় বাসিন্দার রুম। খুব সন্তর্পণে সে রুমে ঢুকে পড়লাম আমরা ফরহাদের পিছু পিছু। দরজার পাশের খাটে ঘুমাচ্ছে ছেলেটা।একটা কম্বল জড়িয়ে রেখেছে সারা দেহ। হঠাত গা ছম ছম করে উঠল আমার।এই প্রথম যেন উপলব্ধি করতে পারছি কত ভয়ংকর একটা কাজ আমরা করে ফেলেছি এবং করতে যাচ্ছি। ‘এখন?’বাচ্চাদের মত ফিস ফিস করে বলল পিকুল। ‘দরজাটা চাপিয়ে দে,’নির্দেশ দিল ফরহাদ। পিকুল কথামত গিয়ে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে এল। ‘শোন,আগে রুমের লাইটটা জ্বালাই।তাহলে আমরা ছেলেটাকে ডাক দিলে ও অতটা ভয় পাবেনা।অন্ধকার দেখলে আবার চিৎকার দিতে পারে।ওকে ঘুম থেকে উঠিয়ে সব বুঝিয়ে বলব।আশা করি আমাদের সাথে যেতে রাজি হবে।আর না হলে ক্লোরোফর্ম তো আছেই!’ ‘ডাকটা কে দেবে শুনি?’এবার আমি বলে উঠলাম ফিস ফিস করে। আমরা তিনজনই কে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছি ডিম লাইটের স্বল্প আলোতে।অবশেষে আমার আর পিকুলের দৃষ্টি ফরহাদের মুখের উপর এসে মিলে গেল!বুদ্ধিমান ফরহাদও বুঝে গেল ডাকটা কে দিতে যাচ্ছে! অন্ধকারে পরিষ্কার না দেখলেও মনে হল ফরহাদ একটা ঢোক গিলল!এই প্রথম আমার মনে হল দলনেতা না হয়ে খারাপ হয়নি! ‘আচ্ছা আমিই ডাকব।তোরা তো সব ভিতুর ডিম এক একটা। তোরা এক কাজ কর লাইট জ্বালিয়ে দরজার কাছে গিয়ে দাড়া।আমি চেষ্টা করব ছেলেটা চিৎকার দিতে চেষ্টা করলে মুখ চেপে ধরতে।এরপরও যদি শব্দ হয়ে যায় তাহলে আগে পিছে না দেখে খিচে দৌড় লাগাবি বুঝেছিস?’ ‘এ জিনিষ আবার বোঝা লাগে নাকি!’আমি মনে মনে বললাম।মুখে অবশ্য কিছু না বলে মাথা ঝাকালাম। ‘তাহলে কাজ শুরু করে দে।’ আমি সুইচবোর্ডের কাছে চলে এলাম।মার্কার পেন দিয়ে L লেখা সুইচে চাপ দিলাম। কয়েকবার মিট মিট করে জ্বলে উঠল উজ্বল আলো।লাইট জ্বলে উঠতে আমি আর পিকুল দরজার কাছে পজিশন নিলাম।অবস্থা বেগতিক দেখলেই চম্পট! ফরহাদ বুকে একটা ফু দিয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা মানুষটার দিকে ঝুকে পড়ল।মাথা থেকে আস্তে করে কম্বলটা সরালো ডাক দেবার জন্য। কম্বলটা মুখ হেকে সরিয়েই অস্ফুট শব্দ করে এক ঝটকায় সরে গেল ফরহাদ।যেন ইলেকট্রিক শক খেয়েছে।ওর চেহারায় নগ্ন আতঙ্ক দেখতে পাচ্ছি আমরা।ভয়ংকর কিছু একটা দেখছে এমনভাবে ফরহাদ তাকিয়ে রইল বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষটার দিকে। এদিকে আমরাও ভড়কে গিয়েছি ফরহাদের অবস্থা দেখে।ওকে ভয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতেও পারছিনা।শুধু রাজ্যের বিষ্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। এদিকে ফরহাদের আওয়াজের কারণেই হয়ত বিছানায় শোয়া মানুষটার ঘুম ভেঙ্গে গেছে।এরপর রুমের লাইট কিংবা আমাদের দেখে কম্বল সরিয়ে মানুষ...নাহ,মানুষ বলি কিভাবে-জন্তুটা উঠে দাড়াল! আমার জীবনে এমন ভয়ংকর দৃশ্য কখনো দেখিনি এ কথা যেমন নিশ্চিত করে বলতে পারছি তেমনি ভবিষ্যতেও যে দেখবনা সে ব্যাপারেও আমি নিশ্চিত।ভয়ে আমার গোটা দেহ বাঁশপাতার মত কাঁপতে লাগল। আমাদের সামনে দাঁড়ানো প্রাণীটাকে আসলে কী বলা যায়? গরিলা,বনমানুষ নাকি অন্য কিছু?তবে সব কিছু ছাপিয়ে যে জিনিষটার কথা আমার মাথায় সর্বপ্রথম এল সেটা হল,ওয়্যারউলফ,মায়ানেকড়ে! সারাদেহে পশমের জঙ্গলে ভর্তি মানুষের আকৃতির ভয়াল জন্তুটা আমাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কখন যে আমরা আত্মচিৎকার শুরু করেছি সেটা আমরা নিজেরাও ভাল জানিনা।আমাদের প্রলম্বিত চিৎকারে জন্তুটাও যেন বিমুঢ় হয়ে পড়েছে। আমাদের সংবিৎ ফিরল আহসান সাহেব আর তার স্ত্রীর রুমে ঢোকার মধ্য দিয়ে। (শেষ পর্ব আজকেই দেওয়া হবে) -------------------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রহস্যময় সেই বাড়িটা-০৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now