বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রহস্যময়_বই_১
ঘর গুছাতে গুছাতে তৌহির বুকশেলফ এর মধ্যে দুটো পুরাতন বই খুঁজে পায় রুমি। বই গুলো একদম জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে,বেশ কয়েকটা পাতা ও নেই একটি বইয়ে।তৌহি এসব পুরনো বই আর পড়বে না ভেবে রুমি সেগুলে ষ্টোর রুমে নিয়ে রেখে আসে।
দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ কেটে গেলো।অফিস শেষ বাসায় ফিরে বই পড়া তৌহির নিত্যদিনের অভ্যাস। আজও বাদ গেলো না কিন্তু আজ সে নতুন কোন বই খুঁজে পাচ্ছে না।সব বই ই পড়া হয়ে গেছে তার।হঠ্যাৎ তার মনে পড়লো বেশ কিছুদিন আগে সে তার বাবার পুরনো কিছু বই খুঁজে পেয়েছিলো সেগুলো পড়া হয়নি। কিন্তু সেগুলো ও খুঁজে পেলো না।
-এই রুমি তুমি কি আমার কিছু পুরনো বই বুক শেলফ থেকে সরিয়েছো।
রুমি অতটা বই প্রেমি নয় তবুও তৌহি কি মজা পায় সেটা জানার জন্য মাঝেমধ্যে দু একটা বই হাতে নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। তাই তৌহি তাকে জিজ্ঞেস করে সে হয়তো বা সরিয়েছে।
-হ্যা,আমি গত সপ্তাহে দুটো বই সরিয়ে নিয়ে ষ্টোর রুমে রেখে এসেছি।
-তোমাকে কতোবার বলেছি আমাকে না বলে আমার জিনিষ এ হাত না দিতে।
-আচ্ছা বাবা সরি।আর বই গুলোর অবস্থা ও খুব খারাপ হয়ে গিয়ে ছিলো।একটিতে তো কয়েকটা পৃষ্টা ও ছিলো না। আমি ভেবেছি তুমি ওসব পুরাতন বই আর পড়বে না তাই আমি ষ্টোর রুমে রেখে আসি।
-বই যতই পুরাতন হোক না কেনো বইয়ের গুণ কখনো শেষ হয় না। বই হলো মহামূল্যবান সম্পদ। আমাদের বইয়ের যত্ন নেওয়া উচিৎ।
তৌহিকে থামিয়ে..
-থামো থামো আমার এখন তোমার বই বিষয়ক জ্ঞান নেওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। আমি তোমার বই গুলো এনে আবার আগের জায়গায় বই গুলো রেখে দিচ্ছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে। বইয়ের মর্যাদা তুমি বুঝলে না তাই বইকে এমন অপমান করে কথা বললে।আমার বিশ্বাস তুমি একদিন ঠিকই বইয়ের মর্যাদা বুঝতে পারবে।
-আচ্ছা আচ্ছা।
-শুনো আমি মার্কেটে যাচ্ছি কিছু নতুন বই কেনার জন্য।
-আবার নতুন বই।
-হ্যা পুরনো বই গুলো পড়া শেষ হয়ে গেছে। আর তুমি তো জানই আমার বই পড়তে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
বলে তৌহি বেরিয়ে গেলো।
-সাবধানে যেও কিন্তু। বই পাগল স্বামী আমার বলে হাসতে হাসতে ষ্টোর রুমের দিকে যেতে থাকলো রুমি। তৌহির ওই দুটো বই আগের জায়গায় এনে রেখে দিতে হবে না হয় বইয়ের বিস্তারিত বলতে বলতে তার মাথা খেয়ে ফেলবে।
রুমি ভেবে পায় না এখনকার যুগেও এতো বই পোকা মানুষ আছে যে কিনা বই পড়ার প্রতি এতো বেশি নেশাগ্রস্থ।
রুমির কিছুতেই মনে পড়ছে না রুমি কোথায় সেই বই দুটো রেখেছে। অনেক খুঁজাখুঁজি করলো কিন্তু সবই বৃথা গেলো।
ক্রিং ক্রিং ক্রিং বেল বাজার শব্দ। তৌহি ফিরে এসেছে। তার হাতে ছয়টা বই।
-কী নিয়ে এসেছো তোমার প্রাণের বই।
-হ্যা নিয়ে এসেছি এবার মন ভরে পড়া যাবে।
-এই শুনো!
-কী বেপার তুমি এমন ভাবে বলছো কেনো?কী হয়েছে।
-না মানে।
-আরে বলে ফেলো।
-আমি না তোমার ওই দুটো বই খুঁজে পাই নি!
-অহ আচ্ছা এই কথা। আচ্ছা সমস্যা নেই আগামীকাল ভালো ভাবে খুঁজলে পাবে।
-হুম।
পরদিন যথারীতি তৌহি অফিসে চলে যায়। তৌহির যাওয়ার পরই রুমি চলে যায় ষ্টোর রুমে। নিজেকে নিজেই দোষারোপ করতে শুরু করে কীভাবে সে এতো ভুলোমন হতে পারে। কোথায় যে বই দুটো রেখেছে।আর কী দরকার ই ছিলো তার তৌহির বই গুলাও সরানোর। অনেক খুঁজাখুঁজি করলো কিন্তু কিছুতেই বই দুটো খুঁজে পেলো না। আজকে তৌহির হাতে তাকে ঝাড়ি খেতে হবেই ভেবে ভেবে যখন সে চলে আসছিলো তখন পুরনো আলমারির সাথে তার উড়না আটকে যায়। টান দেওয়ার সাথেই ছিঁড়ে যায় উড়নাটা। আর ধপ করে উপর থেকে একটি বক্স পড়ে।মেঝেতে বক্সটির পড়ার সাথে সাথেই রুমি দেখতে পায় বক্সটিতে একটি বই। কৌতুহল বসত সে বই টি হাতে নেয়। ষ্টোর রুমে রাখায় ধুলোবালি তে ভরে গেছে বইটি। রুমি তার হাত দিয়ে আলতো করে বইটির নামের অংশ মুছে।ঘাড় সবুজ রঙের কলমে লেখা বইয়ের নামটি ভেসে উঠে। বইটির নাম "রহস্যময় বই"।
সাথে সাথেই রুমির মনে পড়ে যায় সেদিন সে আলমারির উপরেই রেখেছিলো বই দুটো। ঠুলে টেনে উঠে দেখে ঠিক তাই। আলমারির উপরেই রেখেছে সে বই দুটো। কিন্তু এখন সে তিনটি বই পেয়ে গেলো। তৌহি আরেকটি বই পেয়ে খুশি হবে ভেবে সে তিনটি বই শেলফ এ রাখতে গেলো। রুমির বই পড়ার প্রতি প্রচণ্ড বিসাদ তবুও কেনো জানি "রহস্যময় বই"টি পড়তে তার ইচ্ছে করছিলো। তার মন বার বার বলছিলো,"রুমি বই টি পড়। বইটিতে নিশ্চয় কিছু আছে"
রুমি বইটি হাতে নিলো।বইয়ের মলাটের উপর আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল সে।যেনো সে একজন মা,সে তার সন্তান কে আদর করছে। রুমি তৌহির দুটো বই রেখে দিলো। রুমি হাতে রাখা বইটি টেবিলের উপর রাখা মাত্রই একই সাথে ফোন এবং কলিং বেল বেজে উঠলো। রুমি দৌড়ে গিয়ে ফোন টা ধরা মাত্রই ফোনটা কেটে গেলো। অচেনা একটি নম্বর থেকে ফোন এসেছে।এদিকে কলিং বেল বেজেই চলেছে।
-আসছি
বলে রুমি গিয়ে দরজা খুললো। কিন্তু একি দরজায় কেউ নেই। তারমানে কেউ কি রুমির সাথে মশকরা করছে। কে কে বলে রুমি বেশ কয়েকবার জীজ্ঞেস করলো কিন্তু কারো অস্তিত্ব ই খুজে পেলো না। রুমি ফিরে এসে আবার বইটি হাতে নিতে যাবে ঠিক তখনি আবার অনবরত কলিং বেল বাজতে শুরু করলো সেই সাথে ফোন ও বাজতে লাগলো। রুমি ফোন না ধরে রাগ করে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখে তৌহি দাঁড়িয়ে আছে।
-তারমানে তুমিই আমার সাথে এসব ফাজলামি করছিলে। কী দরকার ছিলো এসব করার। জানো আমি কতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।(এক প্রকার চেঁচিয়ে ই)
তৌহি এসবেই কিছুই বুঝতে পারছে না। সে কিছু না বলে ঘরে ঢোকে।
রুমির দিকে তাকিয়ে দেখে রুমি এখনো রাগে ফুঁসছে।
-কী বেপার রাগে তো তুমি একদম টমেটো মতো হয়ে গেছো!
-হবো না তো কী করবো।
তৌহি উঠে রুমিকে বসায় তারপর রুমির দিকে পানির গ্লাস বাড়িয়ে দিয়ে,
-শান্ত হও শান্ত হও।এতো উত্তেজিত কেনো হচ্ছো।
রুমি এক চুমুকে পুরো গ্লাসের পানি শেষ করলো। যেনো বহুদিন সে পানি খায় না।
রুমি কিচ্ছুক্ষণ চুপ করে থাকে।
-কী হয়েছে এবার বলো।আর কীসের ফাজলামি কথা বলছিলে?
-আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠ্যাৎ করে একই সাথে ফোন এবং কলিং বেল বাজতে শুরু করলো। আমি দৌড়ে এসে ফোনটা হাতে নিলাম কিন্তু ফোনটা কেটে গেলো। পরে দরজা খুলে দেখি কেউ নেই।আমি আবার ফিরে আসা মাত্রই আবার কলিং বেল এবং ফোন একই সাথে বাজতে শুরু করলো এবার আমি দরজা খুললাম খুলে দেখি তুমি দাঁড়িয়ে।
-না আমি তো মাত্র এলাম। এসে মাত্র একবার ই কলিং বেল দিয়েছি।
-প্লিজ আমাকে মাফ করে দিয়ো, আমি তোমাকে ভুলে অনেক কিছু বলে ফেলেছি(চোখে কান্না কান্না ভাব)
তৌহি রুমিকে জড়িয়ে ধরে।
-আরে না। কিছুই বলো নি তুমি। যাও আমার জন্য খাবার রেডি করো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
রুমি খাবার রেডির করার জন্য চলে যায়। তৌহি রুমির ফোন হাতে নেয়। সন্দেহ করে নয় সে জানে রুমি তাকে তার প্রাণের চেয়ে ও বেশি ভালোবাসে।কিন্তু রুমির ইনকামিং কল এ কোন নম্বার ই নেই। তৌহি ফোন রেখে ফ্রেশ হতে চলে যায়। নিশ্চয় রুমি ভুল শুনেছে। একলা ঘরে থাকে সারাদিন এমন ভুল কিছু মাথায় আসতেই পারে।
খাবার টেবিলে বসে আছে তৌহি। রুমি তাকে খাবার তুলে দিচ্ছে। তৌহি রুমিকে ও বসতে বলে।
রুমি প্লেটে খাবার নিয়ে....
চলবে..!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now