বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রহস্যময় বাস

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X আমি মনির।আমার জীবনে ঘটে গেছে অজানা রহস্যময় এক ঘটনা।মানুষের জীবনে প্রতিদিন অনেক কিছুই তো ঘটে।কিন্তু এমন কিছু ঘটনা ঘটে যে তার সমাধান হয় না।সেই ঘটনা চিরকাল একটা রহস্য হিসেবেই থেকে যায়।আমার সাথে ঠিক এমন একটা ঘটনা ঘটে গেছে। আজ থেকে প্রায় ৬ মাস আগে আমি আমার নানা বাড়িতে বেড়াতে গেছিলাম।বলে রাখি আমার বাসা ঢাকায় আর আমার নানা বাড়ি নরসিংদীর একটা গ্রামে।আর আমি পড়াশুনা করি ইন্টার প্রথম বর্ষে।গরমের ছুটি পাওয়া তে সিদ্ধান্ত নিলাম যে নানা বাড়ি ঘুরে আসবো।আর নানা, নানী, মামারাও আমায় বেড়াতে যাইতে বলছিল।তাই রওনা দিলাম নানার বাড়ি এবং আমি একাই যাচ্ছি।কারণ আব্বু আম্মুর যাওয়ার সময় পায় নি।তো নানা বাড়িতে পৌছে মামাতো ভাইবোনের সাথে ঘুরাঘুরি,আড্ডা,মজায় দুই তিনদিন ভালোই কেটে গেল।তিনদিন পর হঠাৎ আব্বু রাত ১০ টার দিকে আমায় ফোন করে বললো যে আম্মু নাকি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।গাঁয়ে অনেক জ্বর আসছে।কথাটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেল আমার।আমিও সিদ্ধান্ত নিলাম এখনই বের হয়ে যাবো বাসার উদ্দেশ্যে ।নানা,নানী,মামারা আমায় এত রাতে যেতে নিষেধ করলো বরং পরেরদিন সকালে যেতে বললো।কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা আম্মু অসুস্থ তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমায় ঢাকায় পৌছাতেই হবে।আর এখান থেকে ঢাকা তো তেমন একটা দূরেও না।তাই সবার কথা অমান্য করে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলাম।নানার বাসা থেকে বের হতে হতে রাত ১১ টা বেজে গেছে।তো রাস্তায় এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি।কিন্তু রাস্তা প্রায় ফাকা।লোকাল বাস তো দেখাই যাচ্ছে না যেন।যেই দুই একটা যাচ্ছে সেগুলো আবার লোকাল না ওগুলো তো যেখানে সেখানে থামবে না।এভাবেই বাসের অপেক্ষায় বসে আছি হঠাৎ একটা বাস এসে থামলো।আমি যেন এবার হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।বাসটা তেমন একটা বড় ছিল না।মাঝারি আকারে বাস ছিল।আমি বাসের কাছে গিয়ে বললাম আমি ঢাকা যাবো যাবে কি না?হেল্পার কিছু বললো না শুধু মাথা নাড়ালো যে যাবে।ব্যাপারটা আমার কাছে কিছুটা অদ্ভুদ লাগলো।কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে আমি আর ভাবলাম না আমি উঠে পড়লাম বাসে।বাসে উঠে দেখি কোনো যাত্রি নাই।শুধু আমি হেল্পার আর ড্রাইভার আছি।যাই হোক আমি একটা সিটে গিয়ে বসলাম।ঢাকায় যেতে আমার সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘন্টা।কিন্তু ফাকা বাসে কেমন যেন লাগছে আমার।কেউ যদি একজন থাকতো তাইলে গল্প করা যেত।বাসের ড্রাইভার আর হেল্পার ও যেন কেমন অদ্ভুদভাবে চুপ করে আছে।কয়েকবার ডাকলাম এই ভেবে যে কথা বলবো বা আড্ডা দিবো কিন্তু কেউ আমার কথার জবাব ই দিলো না।হেল্পার সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।আর ড্রাইভার চুপচাপ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে।তাই কি আর করার একাই চুপচাপ বাসে আছি।বাসও এগিয়ে চলছে ঢাকার উদ্দেশ্যে।কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বাসের পিছন থেকে সিগারেট এর ধোঁয়ার গন্ধ পেলাম।আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি একটা লোক গায়ে চাঁদর দিয়ে জড়িয়ে বসে আছে এবং আপনমনে সিগারেট টানছে।আমি এবার লোকটিকে দেখে অবাক হলাম।বাসতো পুরো ফাকা ছিল।তাইলে পিছনের ছিটে এই লোকটি কিভাবে আসলো।আমি তো পুরো হতবাক হয়ে গেলাম।আবার মনে মনে ভাবতে লাগলাম হয়তোবা পিছনে সুয়ে ছিল তাই দেখতে পারি নি।কিন্তু লোকটির সিগারেট এর গন্ধ আমার সহ্য হচ্ছে না।আমি সিগারেট এর গন্ধ একেবারে সহ্য করতে পারি না।তাই অনেকবার লোকটিকে ডেকে সিগারেট খেতে মানা করলাম।কিন্তু লোকটি যেন আমার কথা শুনছেই না।আপনমনে সে সিগারেট টেনেই যাচ্ছে।এবার আমি বাধ্য হয়ে বাসের পিছে লোকটির কাছে গিয়ে বসে বললাম যে সিগারেট খেয়েন না আমার অসুবিধা হচ্ছে।আপনি একটু পড়ে খাইয়েন।আমার কথা শুনামাত্র লোকটি এবার তার গায়ের চাঁদর সরিয়ে আমার দিকে তাকালো।আমি এবার লোকটির মুখ দেখলাম।সেই মুখ আমি আর কখনো দেখতে চাইবো না।লোকটির মুখ একেবারে বিভৎস।আর আমার দিকে রাগী চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছে।এই দৃশ্য দেখে আমি প্রচণ্ড ভয় পেলাম।আমি দৌড় মেরে বাসের সামনে গিয়ে হেল্পার কে ডেকে সব বললাম।এবার হেল্পার কথা বললো।আমার দিকে না তাকিয়েই হেল্পার বললো পিছনে যা কিছুই হোক না কেন আপনি পিছনে তাকাবেন না।চুপ করে নিজের সিটে গিয়ে বসে থাকুন।হেল্পার এর কথা শুনে আমার যেন ভয় আরো বেড়ে গেলো।আমি এবার নিজের সিটে বসতে চলে গেলাম।কিন্তু আবার একটু কৌতুহল হলো আমার।আমি সিটে বসার আগে বাসের পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখি বাসের পিছনে একেবারে ফাকা।কেউ নেই সেখানে।আমি এবার আরো ভয় পেয়ে গেলাম।পিছনে বসে সিগারেট টানছিল ওই লোকটি কই গেলো।নিমিষেই কিভাবে উধাও হয়ে গেলো।বাসের পিছনে তো কোনো দরজা নেই আর বাস তো কোথাও থামেও নই তাইলে লোকটি কিভাবে উধাও হলো বা।তাইলে ওই লোকটি কে ছিল।এসব কথা মাথায় আসতেই আরো ভয় যেন আমাকে ঘিরে ধরছিল।আমি নিজের সিটে বসে বসে আল্লাহ্ কে ডাকছিলাম,দোয়া পড়ছিলাম।আমার নানা মামারা আমায় রাতে যেতে মানা করলো আর আমি তাদের কথা না শুনে রাতে বেড়িয়ে পড়ে মারাত্তক একটা ভূল করেছি।আজ নিজের জেদে আমার এই অবস্থা।আব্বু কেউ ফোন করে বলি নি যে আমি আসছি বাসায়।ফোনটা বের করলাম আব্বুকে ফোন করবো ভেবে কিন্তু দেখি ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক নেই।এটা দেখে আমি আরো অবাক হলাম এবং ভয় আমার বেড়েই চলছিল।শুধু একটাই কথা ভাবছিলাম যে আমি আজ প্রাণে বেঁচে বাসায় ফিরতে পারবো তো?এরকম হাজারো চিন্তা মাথায় নিয়ে দোয়া দূরুদ পড়তে পড়তে বাসে যে কতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলাম জানি না।একসময় বাস থেমে গেলো।হেল্পার আমায় ডেকে বললো আপনার গন্তব্যে এসে গেছি এখন নামেন।আমিও এবার বাস থেকে নেমে গেলাম।বাস থেকে নেমেই আমার মনে পড়লো যে বাসের ভাড়া দিতে তো ভূলে গেছি।এমনকি হেল্পার ও আমার থেকে ভাড়া চায় নি।যাই হোক বাসের ভাড়া দেওয়ার জন্য যেই আবার পিছনের দিকে ঘুরেছি দেখি বাস নেই।পুরো রাস্তা ফাকা।আমি এবার প্রচণ্ড ভয় পাইলাম।মাত্র কয়েক সেকেণ্ড এর মধ্যে একটা বাস কিভাবে চলে যেতে পারে।এটা তো অসম্ভব ব্যাপার।আমি একটু অন্যদিকে ঘুরলাম আর বাস উধাও হয়ে গেলো।আমি এবার ভয়ে ঘামা শুরু করেছি।আমার সাথে এসব কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।আমি এবার মোবাইল চালু করে সময় দেখি রাত ১ টা বাজে।মানে আমাকে ঠিক সময় তেই নামিয়ে দিছে।হঠাৎ পিছন থেকে আমার ঘারে কেউ হাত দিল।এতে আমি অনেক ভয় পেয়ে গেলাম।আমি ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার ভয় যেন আরো বেড়ে গেল যেন আমার কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে এবার।আমি দেখি বাসে যেই লোক পিছে বসে সিগারেট টানছিল আর পরে আবার উধাও হয়ে যায় সেই লোকটি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং আমার দিকে তার বিভৎস চেহারা নিয়ে তাকিয়ে হাসছে।সেই কি ভয়ংকর তার হাসি।সেই হাসি শুনলে যে কেউ অজ্ঞান হয়ে যাবে।কিন্তু আমি এখনো অজ্ঞান হয় নি।মনে মনে আল্লাহ্‌ কে ডাকছিলাম যেন আমিও অজ্ঞান হয়ে যাই।এবার লোকটি আমায় বললো তোর খুব সাহস তাই না।এই যাত্রায় তুই বেচে গেলি হাহাহা।এই কথা বলে আমার সামনে থেকে আবার নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো লোকটি।এই দৃশ্য দেখে এবার আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না অজ্ঞান হয়ে গেলাম। আমার যখম জ্ঞান ফিরলো আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমার বাসায় আমার ঘরে।আমার জ্ঞান ফিরার পর আমায় আব্বু আম্মু বললো তোমার কি হয়ছিল?তুমি বাসার সামনে পড়েছিলে কেন?সকালে এলাকার কয়জন লোক দেখতে পায় যে তুমি বাসার সামনে পড়ে আছ।তুমি তো নানার বাসায় ছিলে।তাইলে তুমি বাসায় কি করে আসলে।আমি এবার সব খুলে বললাম আব্বু আম্মুকে।আমার কথা শোনার পর আব্বু বললো তোমার আমাকে না জানিয়ে রাতের বেলা এভাবে চলে আশা ঠিক হক হয় নি।রাস্তাঘাটে কখন কোন বিপদ হয়ে যায়।আর কখনো এমন কাজ করবে না বলে দিলাম। তারপর............... আমার জীবনের ভয়াবহ সেই ঘটনার ছয় মাস পার হয়ে গেছে।সেই ঘটনার অনেক রহস্য আমার কাছে এখনো অজানা হয়ে আছে।বিশেষ করে বাসটা আমায় যেখানে নামিয়ে দিয়েছিল সেখান থেকে আমার বাসায় আসতে ৩০ মিনিট লাগে তাইলে অজ্ঞান হওয়ার পর রাস্তা থেকে আমি আমার বাসার সামনে কিভাবে আসলাম।আজও আমি এর কোনো উত্তর পাই নি।আর বাকি রহস্যগুলোর ও আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাই নি।ওই ঘটনার পর আমি রাতে চলাচল করাই বন্ধ করে দিছি।সেই ভয়াবহ ঘটনা এখনো যেন আমায় তাড়া করে বেড়ায়।রাতে ঘুমাতে গেলে চোঁখ বন্ধ করলেই যেন সেই লোকটি বলে আমায় "তোর খুব সাহস তাই না।এই যাত্রায় বেঁচে গেলি"।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রহস্যময় বাস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now