বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রহস্য যখন কবরস্থানে

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X আমি রকি আমার বন্ধু সজিব এর গ্রামে আসছি বেড়াতে।সজিব নিজেই আমায় নিয়ে আসছে ওর গ্রামে।বলে রাখি সজিব আর আমি ভার্সিটিতে ক্লাসমেট এবং আমরা খুব ভালো বন্ধু।যাই হোক সজিব যখন ওর গ্রামে যাওয়ার কথা প্রথম বলে আমায় আমি তখন বেশি না ভেবে রাজি হয়ে যাই।কারণ আমি ছোট থেকে শহরে বড় হয়েছি।শহরের ইট কাঠের বদ্ধ পরিবেশ থেকেই বড় হয়েছি কিন্তু গ্রামের নির্মল বাতাস,ফসলি ক্ষেত, চারিদিকে সবুজের সমরোহ দেখার সুযোগ আমার হয় নি।তাই সজিবের কথায় রাজি হয়ে গেলাম কিন্তু সজিবের গ্রামে এসে একটু যে গ্রামটা ঘুরে দেখবো সেই সৌভাগ্য আর হলো না আমার।গ্রামে পৌছে সে কি বৃষ্টি।বৃষ্টি যেন থামার নাম ই নিচ্ছে না।গ্রামে পৌছেছিলাম দুপুরে আর বৃষ্টি নাকি সকাল থেকেই হচ্ছিল।এভাবেই কখনো আস্তে কখনো আবার অনেক জোড়ে সারাদিন বৃষ্টি হয়েই গেলো।তাই আর কোথাও বেরানো হলো না। সারাদিন সজিবের বাসাতেই কাটিয়ে দিলাম।এখন রাত ১২ টা।চারিদিকে নিঃস্তবদ্ধ নিরবতা।তার মাঝে ঝিঝিপোকার ডাক আর বাইরে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ার শব্দ।আমি আবার একটু রাত করে ঘুমাই এবং রাত জেগে বই পড়া আমার একটা অভ্যাস।বই পড়তে পড়তে হাতে থাকা মোবাইলে সময় দেখি একটা বাজে।এবার চোঁখে ঘুম ও আসছে তাই বই পড়া বন্ধ করলাম।ঘুমানোর আগে একটু বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলো আমার।গ্রামে আবার বাথরুম বাসার বাইরে হয়।শহরে সাধারণত ঘরের সাথে বা বাড়ির মধ্যেই বাথরুম থাকে।যাই হোক সজিবের বাসাতেও আবার বাথরুম বাসার বাইরে অবশ্য বেশি দূরে না।কিন্তু একা যাবো কি না ভাবছি।আমার পাশে সজিব শুয়ে আছে কিন্তু ওহ ঘুমিয়ে গেছে।তাই আর ডাকলাম না সজিব কে।আর আমিও ভয় টয় কম পাই।তারপর ফোনের আলো দিয়ে বাথরুমের দিকে রওনা দিলাম।বাইরে গিয়ে দেখি অনেক অন্ধকার।আর বৃষ্টি তখনো পড়ছে টিপটিপ করে।যাই হোক মোবাইলের আলো দিয়ে বাথরুমের কাছে গিয়ে বাথরুম ঢুকে পড়লাম।কিছুক্ষণ পর বাথরুম থেকে বের হয়ে আবার ঘরে যাওয়ার জন্য রওনা দিব ঠিক তখনই দেখলাম একদল লোক একটা মৃত ব্যাক্তির খাটিয়া নিয়ে যাচ্ছে এবং সবার মাথায় টুপি,পড়নে সাদা পাঞ্চাবী এবং পায়জামা।এটা দেখে আমি অনেক অবাক হলাম।এত রাতে এই লোক গুলো মৃতদেহটা কে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে।আমার মাথায় খালি এই কথাই আসছে।মনে হয় কেউ মারা গেছে তাই কবর দিতে যাচ্ছে।জানাযা হবে মনে হয়।কিন্তু এত রাতে কেন জানাজা হবে।লোকটা কি তাহলে বেশিক্ষণ হয় নি মারা যাওয়ার তাই এখনই কবর দিবে।আমি অজানাকে জানতে পছন্দ করি।অস্বাভাবিক ব্যাপারে আমার সবসময় আগ্রহ কাজ করে।তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমিও ওই লোকগুলোর সাথে যাবো ব্যাপারটি কি জানার জন্য।আর আমিও না হয় জানাযা পড়ে মাটি দিয়ে আসবো লাশটাকে।তারপর আমি দ্রুত পাঁ চালিয়ে ওই লোকগুলোর সাথে চলতে লাগলাম।একটা লোককে জিজ্ঞেশ করলাম "আপনারা কোথায় যাচ্ছেন এবং কে মারা গেছে"কিন্তু কোনো উত্তর আসলো না লোকটির কাছ থেকে।সব লোকগুলো যেন বির বির করে কি পড়ে যাচ্ছে।আর আমি যে ওনাদের সাথে যাচ্ছি সেটা কেউ খেয়ালই করছে না।আমার দিকে কেউ তাকাচ্ছেও না।যাই হোক আমিও আর কিছু না বলে লোকগুলোর সাথে চলতে লাগলাম।কিন্তু আমারা হাটছি তো হাটছি কিন্তু কোথায় যে যাচ্ছি বুঝতে পারছি না।আর চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার কিন্তু আমার অবশ্য ভয় করছে না আমি খুব আগ্রহী যে কি করে লোকগুলো সেটা দেখার জন্য।তারপর আম বাগান,ফসলি ক্ষেত,লিচু বাগান পাড় হয়ে আমরা একটা মস্ত বড় বট গাছের কাছে গিয়ে পৌছালাম।আমার কাছে মোবাইলের আলো ছিল তাই দিয়ে যেটুকু দেখা যায় আরকি।তো বট গাছের কাছে এসে লোকগুলো থেমে গেলো। আমি এবার মোবাইলের আলোতে দেখলাম এখানে আরো কবর আছে তাইলে মনে হয় এখানেই কবরস্থান।তারপর দেখলাম মৃত ব্যাক্তিটিকে কবর দেওয়ার জন্য আগে থেকেই একটা কবর খুড়ে রাখা হয়েছে।যাইহোক এরপর সবাই লাশটাকে সামনে রেখে জানাযার জন্য দাঁড়িয়ে গেলো।ওই লোকগুলোর মধ্যে একজন জানাযার নামাজ পড়ানোর জন্য সামনে দাড়ালো আর বাকিরা তাকে অনুসরণ করে পিছনে দাড়ালো।আমিও তাদের সাথে জানাযার নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম।এবার যথারিতি নিয়ম মেনে জানাযার নামায পড়ানো শুরু হলো।যখন সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ হলো আমি তাকিয়ে দেখি একটা লোকও নাই সব উধাও শুধু লাশের খাটিয়া পড়ে আছে।আর আমি একলা শুধু এত রাতে এই কবরস্থানে আছি।আমি এবার অনেক ভয় পেলাম।ভয়ে আমার সারা শরীর কাপতে লাগলো।আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আমি কি করবো।আর আমি ভেবে পাচ্ছি না যে একমূহুর্তের মধ্যে লোকজন সবাই কোথায় গেলো।তারপর আমি একটু সাহস সঞ্চয় করে লাশের খাটিয়ার কাছে গেলাম তারপর দেখি লাশ খাটিয়া তে নেই।আমি এবার আরো অনেক অবাক হলাম।ভয় আমার আরো যেন বেড়েই চলছে।তারপর সামনে দেখি কবর খোড়া।ভাবলাম লাশ কি তাহলে এই কবরের মধ্যেই আছে।এবার আরেকটু সাহস নিয়ে কবরের কাছে গিয়ে কবরের মধ্যে ফোনের আলো ফেলে যা দেখলাম যে কবরে কোনো মাটি দেওয়া হয় নি।কবর ফাকা আছে।তারপর কবরের ভিতরে যা দেখলাম তাতে আমার সারা শরিরের লোম দাঁড়িয়ে গেলো।আমি প্রচণ্ড ভয় পেলাম।আমি যে জোরে চিৎকার দিবো আমার গলা থেকে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না।আমি ওই কবরে দেখলাম যে ওই মৃতদেহটা টা আর কারো নয় ওই মৃতদেহটা আসলে আমার।আমি নিজে শুয়ে আছি কবরে।এবং আমার সেই মৃতদেহ বিভৎস চেহারা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না অজ্ঞান হয়ে গেলাম।পরেরদিন দিন সকালে আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম সজিবের বাসায় আমার ঘরে।আমি তাকিয়ে দেখি আমার চারপাশে অনেক মানুষ ভির করে আছে।সজিব ওর বাবা মা সহ আরো অনেক মানুষ এবং একটা হুজুরও আমার পাশে বসে আছে। এবার সজিব আমায় বললো:- কিরে তুই ওই কবরস্থানে কিভাবে গেলি।ওখানে তো দিনের বেলাতেই মানুষে যেতে ভয় পায় আর তুই ওত রাতে ওখানে গেছিস।ভোররাতে নামাজ পড়ার জন্য উঠছি দেখি তুই নাই।তারপর বাড়ির সবাই মিলে তোকে অনেক খুজলাম পড়ে সকালের দিকে আমারে এখানকার একটা কৃষক তার জমিতে যায়।তার জমি ছিল ওই কবরস্থানের কাছে।তাই তোকে ওই কৃষক কবরস্থানের মাঝখানে পড়ে থাকতে দেখে।তারপর সে গ্রামের সবাইকে বলে এরপর সারা গ্রাম জানাজানি হয়ে যায়।আমরাও জেনে যাই তারপর তোকে আমরা কবরস্থান থেকে বাসায় নিয়ে আসি।তুই শহর থেকে আসছিস তুই একা কেন ওই জায়গায় গেছিস।আর তুই চিনলি কি করে ওই কবরস্থান? আমি:-আমিতো বাথরুমে গেছিলাম।তুই ঘুমাইছিলি তাই ডাকি নি। সজিব:-এটা ঠিক করিস নি তুই রকি।তুই বাথরুমে যাবি তাও আমায় ডাকার দরকার ছিল।এটা গ্রাম্য এলাকা কখন যে কি বিপদ হয়ে যায়।আর তোর যদি খারাপ কিছু হয়ে যেতো তাইলে আমি তোর বাবা মা কে কি জবাব দিতাম। আমি:-দুঃখিত সজিব।আমি আর এমন করবো না। এবার হুজুর আমায় বললেন:-তুমি তো বাথরুমে গেছিলে তাইলে কবরস্থানের মাঝে পড়ে ছিলে কেনো? সজিব:-হ্যা এটা তো আমারও প্রশ্ন।তুই বাথরুমে গেছিলি তাইলে বাথরুম থেকে কবরস্থানে কিভাবে পৌছালি।হুজুর কে সব খুলে বল আমরা সবাই শুনতে চাই। তারপর আমি হুজুরকে সব খুলে বললাম।আমার কথা শোনার পর হুজুর:-তুমি যেই লোকগুলো কে দেখেছো সেগুলো মানুষ ছিল না।সেগুলো ছিল জ্বীন।আর ওরা তোমাকে ভয় দেখাইছিলো।এমন ঘটনা এই গ্রামে এর আগেও ঘটেছে।কিন্তু ওই জ্বীনগুলো তোমার ক্ষতি করতে চাই নি।যাই হোক তুমি শহর থেকে আসছো তাই জানো না বা বুঝতে পারো নি।তোমার ওই লোকদের পিছুপিছু যাওয়া ঠিক হয় নি।তখন কিছু জ্বীন মানুষের রূপ ধরে যাচ্ছিল।আর তুমি সাহস দেখিয়ে চলে গেছো ওদের সাথে।এই গ্রামের অনেক মানুষও কিছু লোককে একটা মৃতদেহের খাটিয়া নিয়ে যেতে দেখেছে যেমন তুমি দেখেছো।এমনকি এই জন্যে গ্রামের কোনো মানুষ ভয়ে রাতে আর বাইরে বের হয় না।যাই হোক তোমাকে আমি এই তাবিজ পড়িয়ে দিচ্ছি আর পানি পড়া দিচ্ছি দেখবে তোমার সাথে আর খারাপ কিছু হবে না। তারপর হুজুর আমায় একটা তাবিজ পড়িয়ে দিলেন,পানি পড়া দিলেন এবং ঘুমানোর আগে দোয়া দূরুত পড়ে গায়ে ফু দিতে বললেন।এরপর হুজুর চলে গেলেন।তারপর আমি ওই দিনটা কোনোভাবে সজিবের বাসায় থেকে পড়ের দিন আমার বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম।কারণ এখানে থাকলে যদি আবার আমার সাথে এমন হয় তাই চলে যেতে চাচ্ছিলাম।সজিব ও আপত্তি করে নি আমার চলে যাওয়াতে।যাই হোক এসেছিলাম সজিবের গ্রাম দেখতে কিন্তু গ্রাম ভালো করে না দেখেই খারাপ পরিস্থিতির জন্য চলে যাওয়া লাগছে নিজ গন্তব্যে।তাই বিষন্ন মন নিয়েই সজিব কে বিদায় জানিয়ে আমার বাসার দিকে রওনা দিলাম। বাসায় আসার পর এক মাস আমি একটু ভয়ে ভয়ে ছিলাম।হাতে তাবিজ ছিলো তাও রাতে ঘুমাতে গেলে চোঁখে সামনে ভেসে উঠতো ভয়ংকর সেই দৃশ্য।বাসাতেও কিছু বলি নাই গ্রামে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার কথা।তারপর গায়ে অনেক জ্বর ও আসে আমার।অনেকদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলাম।তারপর আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়ে যায়।আমিও সুস্থ হয়ে যাই।হাতে থাকা তাবিজটাও হাত থেকে খুলে কবে যে পড়ে যায় বুঝতেও পারি নি।তবে তাবিজ হারালেও আমার আর কোনো সমস্যা হয় নি।আমিও আমার পড়াশুনা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ি। তাই বলে যে একেবারে সব ভূলে গেছি তা কিন্তু নয়।এখনো মাঝেমধ্যে মনে পড়ে যায় কবরের মধ্যে নিজের চোঁখের সামনে নিজের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা।সেই ঘটনা মনে পড়লে আমার গায়ের সকল লোম যেন দাঁড়িয়ে যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রহস্য যখন কবরস্থানে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now