বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- আমাকে ১ ঘন্টার জন্য ছাড়বে ভাইয়া?
রাত ৩:০০ টা ছুই ছুই,
রাতের নিস্তব্ধতায় নিকোটিন এর ধোঁয়ায় নিজেকে খুজে বেড়াচ্ছে! আজকাল কাজের বড্ড চাপ যাচ্ছে। প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ টা নতুন লাশ আশে পোর্স ম্যাডাম এর জন্য। লাশ আসলেও মানা যায়।
কিন্তু যে লাশ গুলো আসে তার মধ্যে ধর্ষন এর লাশ থাকে ১০ টায় ভিতর ৬ টা...!! আসলেই ধর্ষন এর প্রঘব দিনকে দিন বেড়েই চলছে!
তেমনি আজকেও একটা লাশ এসেছে রাত ২:০০ টায়। পুলিশ কোন এর ভাঙা জমিদার বাড়ির ভিতরে উলঙ্গ আর ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছে। পুলিশ লাশ টার কিছুই শনাক্ত করতে পারে নি। কারন সাড়া শরিরে অসংখ্য ক্ষত এর চিহ্ন! কোন একটা জায়গা বাদ নেই যে অত্যাচার করা হয় নি। মুখটাও থেতলে দেওয়া হয়েছে খুব ভারী কোন বস্তু দিয়ে! খুব অত্যাচার হয়েছে মেয়েটার উপর সেটা মেয়েটাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে। এমন নৃশংস অত্যাচার করার লাশ রাকিবের চাকরী জীবনের ৫ বছর এ প্রথম দেখলো! যে কোন সাধারন মানুষ যদি এই লাশ টা দেখতো তাহলে হয়তো ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতো। রাকিবের অভ্যাস আছে বলেই এখন ও টিকে আছে!
রাকিব লাশ টা কাল সকালে দেখতো। কিন্তু কৌতুহল এর কারনে লাশটার পরিক্ষা নিরিক্ষা এখনই নিবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো!
রাকিব লাশ টা কাটতে শুরু করবে এমন সময় হুট করে লাশ উঠে বসলো! রাকিবের মানসিক শক্তি প্রখর হওয়ায় সে দাঁড়িয়ে আছে। ভয় পাচ্ছে না বললে ভুল হবে। পাচ্ছে সেটা অন্য দশ পাঁচ টা মানুষের তুলনায় কম! লাশ ওঠে বসার মত পরিস্থিতি রাকিবের এই প্রথম। রকিব একটু সরে আসলো। ও শুনেছে এইসব লাশ দের নাকি কিছু ইচ্ছা থাকে। সে গুলো পূরন করে জন্য তারা আবার জেগে ওঠে। এতদিন রাকিবের কাছে এমন হয় নি। তাহলে আজ আসলো কেনো?? ও কি আসলেই অতৃত্ব...??
রাকিব আনমনে ভাবছে এমন সময় উপরের উক্তিটা করে ওঠে লাশ টা! ভাইয়া ডাক টা শুনেই রাকিবের বুকের ভিতর টা হুহু করে ওঠে। রাকিব উত্তর দিলো,
- ভাইয়া? আর একবার বলবা? এই ডাকটা কত দিন পর শুনলাম! (রাকিব ভুলেই গেলো ও কিসের সাথে কথা বলছে)
- ভাইয়া..! ভাইয়া..!! ভাইয়..!! (লাশ টা)
- আহ! কতদিন পরে তৃপ্ত হলো এই বুকটা! আচ্ছা তোমার নাম কি বোন???
- আমি আহিয়া! নুসরাত সুলতানা আহিয়া!
- বাহ! খুব সুন্দর নাম! কিন্তু তোমার এই অবস্থা করলো কারা? কি শত্রুতা ছিলো তোমার ওদের সাথে? এত নিসংস ভাবে কেনই বা মারলো তোমায়??
- শুনবে?? (আহিয়া বলে ওঠলো)
- হুম। শুনবো আমি। তোমার পিছনের সব কাহিনী।
- আচ্ছা।
শোন তাহলে,
আমি আহিয়া! এবার অনার্স ৩য় বর্ষে ছিলাম। একা একা থাকতাম ঢাকায়! বাবা - মা ছিলো না। ছোট বেলাতেই মারা গিয়েছিলো। ঢাকায় আমি টিওশনি করতাম নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য। ৪ দিন আগে। টিওশনি করাতে করাতে রাত ১১ টা বেজে গেছে! আমি থাকতাম উত্তরায়। সেখানে রাত হয়ে গেলেই গ্রাম এলাকার মত হয়ে যায়! বাসায় ফিরছিলাম, তখন পিছনে তাকিয়ে দেখি অনেক গুলা ছেলে আমাকে ফলো করছে। আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম জানো ভাইয়া! কারন সে ছেলেগুলোর মধ্যে আমি যাকে ভালোবাসতাম সেও ছিলো! আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ও এই রকম বাজে দৃষ্টি দিয়ে তাঁকিয়ে ছিলো আমার দিকে! আর অনেক বাজে বাজে কথাও বলছিলো।
আমি আস্তে আস্তে হাঁটার গতি বাড়াচ্ছিলাম। ততই ওর আমার কাছে চলে আসছিলো। হুট করে আমার হাত ধরে আমার প্রেমিক! আমি ওকে হাত ছাড়তে বলছিলাম। কিন্তু ও ছাড়ছিলো না। আমাকে টানছিলো যেখানে ওর অন্যান্য বন্ধুরা ছিলো! আমি হুট করে থাপ্পড় দিয়ে বসি আমার প্রেমিক নামক জানোয়ার টাকে! ও মাতাল অবস্থায় থাকায় থাপ্পড় খেয়ে পড়ে যায়। আমি দৌঁড় দেই। কিন্তু বেশিক্ষন পারি নি। রাস্তায় অন্ধকারে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। হুট করে একটা ইটের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম। ওরা আমার পিছন পিছন দৌঁডে আসছিলো। তাই আমাকে ধরে ফেলে। আমাকে ধরে বলে,
- এখন কোথায় যাইবেন ম্যাডাম??? চলেন খেলা হইবো। (ওই ছেলে গুলা)
- আ..আ..আপনারা কারা? ছাড়ুন আমায়! (কান্নারত দৃষ্টিতে মিনতি করছিলাম)
- না.. আপনারে তো ছাড়ার জন্য ধরি নাই। ধরে রাখার জন্য ধরছি।
- প্লিজ ভাই। আমাকে যেতে দিন প্লিজ! আমার সাথে এরকম করবেন না প্লিজ ভাই??? (তাদের পা ধরে মিনতি করতেছিলাম)
- না। চল আমাদের সাথে চল।
- আমাকে যেতে দিন প্লিজ.....
আর বলতে পারি নি। একজন আমার মুখ চেপে ধরেছিলো।
- তারপর???
রাকিব চেয়ার থেকে ওঠে বলে ওঠলো.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now