বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#রিভার্স_ওয়াল্ড পর্ব - ২
______
লন্ডনের ভার্সিটি থেকে সরকারিভাবে বিশেষ সনদ প্রদান করা হবে। সবচেয়ে ভালো পারফরম দেখিয়ে ভার্সিটির সর্বোচ্চ মার্ক প্রাপ্ত স্টুডেন্টদের মধ্যে থেকে ১০ জনকে সিলেক্ট করে তাদেরকে ভালো একটা প্রফেশানের সাথে সংযুক্ত করেও দেয়া হবে। বিশ্বের কয়েকটা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কোন একটায় হয়তো তার প্রফেশানটা হয়ে যাবে, এই স্বপ্ন নিয়ে চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষা করে আসছিল হাজার হাজার স্টুডেন্ট। এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে ছিল বাংলাদেশি ছাত্র ইকবাল মাহমুদ এবং তার সাথে আরো কয়েকজন।
ক্লাসে ছোটখাটো আবিষ্কারের টুকিটাকি চমক দেখিয়ে ভালো পারফরম দেখানোর মত দ্বিতীয় ইকবাল আর সেখানে ছিল না। পুরো লন্ডন সিটিতে ভালো পারফরমের জন্যই খুব কম সময়েই তার নামটা বেশ পরিচিত লাভ করে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইকবাল আর সনদ পায় না।
শুধু তাই নয়, ইকবালের সাথে যাদের যাদের সনদ পাওয়ার কথা ছিল তাদের কেউই সেবার সনদ পায় না। যে ১০ জনকে সনদ প্রদানের জন্য সনাক্ত করা হয়েছিল তাদের প্রায় সবা-ই পলিটিক্সদের সাথে সংযুক্ত ব্যাক্তিদের ছেলে-মেয়ে ছিল, আর নয়তো কোন বড় ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পৃক্ত কেউ ছিল।
ব্যাপারটা সবার কাছেই পরিষ্কার ছিল যে, “জোর যার মুল্লুক তার” নীতির ব্যবহার করা হয়েছে।
পরে লন্ডনের পুরো সিটিতে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, তবে তাতে কোন লাভ হয়নি।
পুলিশদের শ'তিনেক পাউন্ড স্টার্লিং দিলেই যেন রেসপন্সের সহিত যে কারো কাজ করে দেয়। তাদের চিন্তা-ভাবনাও হচ্ছে অন্য রকম। তারা ভাবে, দেশের প্রতি তাদের যে রেসপন্সিবিলিটি রয়েছে, সেটা পালনের সাথে যদি কয়টা স্টার্লিং হাদিয়া পাওয়া যায় তবে সেটা নেয়াই যায়, সেটা অবৈধ হয় না।
ছাত্রদের মাঝে যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল সেটা পুলিশ সেরকম দায়িত্ব নিয়েই হয়তো থামিয়ে দিয়েছিল।
.
তবে সনদ না পেয়ে ইকবাল যতটা না কষ্ট পেয়েছিল তার চেয়েচেয়ে বরং বেশি খুশিই হয়েছিল। অন্তত কোথাও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে বানানো আলু ভর্তার এভুলিউশন কারো মাঝে বিতরণ করা লাগবে না। তবে তার লক্ষ্য থেকে সে এক পা নড়েনি। তাকে তার টার্গেট পয়েন্টে যে করেই হোক পৌঁছাতে হবে।
ইকবাল তার বন্ধুদের নিয়ে, বিশেষত যাদের সনদ পাওয়ার কথা থাকলেও পায়নি তাদেরকে নিয়ে একটি এসোসিয়েট গঠন করে। তারপর তারা লন্ডনেই একটা প্রাইভেট প্লেজ ঠিক করে একটা ল্যাব তৈরি করে। তাদেরকে একটু সাবধানতার সহিত কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তারা যা চায় সেটা হবে পরবর্তী জাতির জন্য একটা হুমকিস্বরূপ, সেটা যদি কেউ খুনাক্ষরেও টের পেয়ে যায় তবে তাঁদের জন্যও সেটা হবে আরেকটা হুমকি।
তাদের গবেষণার থিম ছিল বিবর্তনের প্রথম নিয়ামক নতুন প্রকরণ সৃষ্টির দ্বিতীয় থিম।
ডিএনএ ট্রান্সফার।
কিন্তু সেটাকে পরিবর্তন করে ইকবাল সেটার নাম দেয় “গ্রেট ক্রিয়েট!”
ইকবাল বিবর্তনের এই থিওরিটাকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা অভিযোজিত বিবর্তন হিসেবে মেনে নেয় না। তার কাছে এটা একটা ভিন্ন রকমের নতুন সৃষ্টি। ইকবাল তাই সে সেটার নামটাও পরিবর্তন করার পর গবেষণা কাজ চালায়।
তবে সেটা এদের জন্য আরও একটা সুবিধের কাজ হয়। কেউ এই নামটা শুনলে খুব একটা বেশি আগ্রহের কারণ খুঁজে পায় না।
প্রতিদিন মানুষ কত নতুন নতুন মহান সৃষ্টিই না করে যাচ্ছে, তার হিসেব করতে গেলে তো সারাজীবন এর পিছনেই পরে থেকে জীবনটা পার করে দিতে হবে।
ইকবাল তার বন্ধুদের নিয়ে বেশ কিছুদিন লন্ডেনই গবেষণা চালিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত কারণে তাদের মধ্যে একটা ঝামেলা হয়।
ঝামেলার পর ইকবাল দেশে ফিরে আসতে চাইলেও বাকিরা চাইত না যে ইকবাল তাদের গবেষণা ছেড়ে দিয়ে দেশে ফিরে যাক। কারণ তাদের মধ্যে প্রথম জেনেটিক ট্রান্সফার-এর চিন্তা ইকবালের মাথাই আসে, আর ইকবাল ছাড়া এদের আগানোও সম্ভব নয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইকবাল দেশেই ফিরে আসেন এবং সেখানেই তার রিসার্চ স্টার্ট করেন।
.
.
.
পুলিশের এরকম আচরণ আর ডাক্তারের অস্বাভাবিক মার্ডার হওয়ার পর খালিদের সাসপেক্ট চলে যায় পুলিশের উপর। কিন্তু পুলিশকেও বা সে কিভাবে দোষারোপ করবে।
তবে যে করেই হোক তাকে এ জটলার সমাধার করতেই হবে।
এদিকে বাবাকে না পেয়ে প্রায় ভেঙে পরে খালিদ। ইকবাল বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটাও বুঝতে পারছে না সে। এতদিনে খালিদ তাদের সেই ভাড়া করা বাসায় গিয়ে উঠেছে।
হঠাৎই খালিদের মাঝে একটা ভাবান্তর চলে আসে। আস্তে আস্তে সবকিছু তার কাছে কেমন যেন ক্লিয়ার হয়ে যেতে থাকে।
পরেরদিন সকালে কি যেন একটা ভেবে থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় খালিদ।
.
থানার গেট দিয়ে প্রবেশ করেই খালিদের চোখ যায় ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক-এর ডেস্কের দিকে। ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিকই সেদিন হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের কয়টা কথা শুনিয়ে চলে এসেছিল। খালিদ সেদিকেই এগিয়ে যায়। ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক খালিদকে দেখে একটু আগ্রহ বাড়িয়ে বলে ওঠে,
.
“আরে খালিদ যে! বসো বসো।
তা কি খবর, তোমার বাবাকে কি খুঁজে পেলে?”
.
খালিদ চুপচাপ ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিকের বিপরীত দিকের চেয়ারটা দখল করে বসে। ইন্সপেক্টরের সাথে খুচরো আলাপ করার ইচ্ছা খালিদের এখন নেই। তার উপর আবার তাদের কাজ কর্ম খালিদের কাছে মোটেও ভালো ঠেকছে না। কিছুক্ষণ চুপ হয়ে বসে থাকে খালিদ। তারপর ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিকের দিকে তাকিয়ে জানতে চায়,
“আপনারা নাকি ইনভেস্টিগেশন বন্ধ করে দিয়েছেন?”
.
ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক এবার চেয়ার হেলান দেওয়া থেকে উঠে খালিদের দিকে একটু ঝুকে বলে,
“দেখ খালিদ, তোমরা বাবা মার্ডার হন নি। তিনি নিখোঁজ। তিনি যে লন্ডনে ছিলেন সেটারও কোন প্রুফ আমাদের কাছে নেই। তো আমরা এই অহেতুক বিষয়ের পিছনে ঘুরে তো আমাদের সময় নষ্ট করতে পারি না।”
.
খালিদ এরকম একটা উত্তরের আশায় এখানে আসেনি। তবে এরকম একটা উত্তর যে তাকে শুনতে হবে, সে বিষয়েও সে নিশ্চিত হয়ে ছিল। খালিদের মাথায় এখন অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ভিন্ন ভাবে কিছু একটা করতে হবে।
খালিদ শান্ত গলায় উত্তর দেয়,
“আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমি মিথ্যে বলছি?”
.
“বিশ্বাস করব কিভাবে?”
.
“আমার কাছে বাবার মেডিকেল সার্টিফিকেট রয়েছে।” জানায় খালিদ।
.
“শোন খালিদ, তুমি চাইলে আমিও ওরকম দু’চারটা মেডিকেল সার্টিফিকেট বানিয়ে তোমাকে দেখাতে পারব।” পুনরায় চেয়ারে হেলান দিয়ে কথাটা বলে ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক।
.
“কত চাই আপনার?”
.
“মানে?” ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক খালিদের দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়।
.
“আচ্ছা, আপনি NEWS শব্দটা সম্পর্কে কিছু জানেন?”
.
“না তুমি একটু আগে কি যেন বললে?”
.
“বলছি আপনি NEWS শব্দটার ফুল মিনিং জানেন?”
.
ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক খালিদের দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে একটু চুপ থেকে উত্তর দেয়,
“লোকমুখে NEWS শব্দটিকে N(North), E(East), W(West) এবং S(South) হিসেবে ব্যাবহৃত হয়।”
.
- “আচ্ছা, এই যে দেখুন আমরা news শব্দটি দ্বারা north, east, west, south মানে উত্তর পূর্ব পশ্চিম এবং দক্ষিণের খবরা-খবরকে বুঝি। আসলেই কি নিউজ শব্দটি দ্বারা শুধু এই চার দিকের সংবাদকে বুঝায়? উপরের নিচের খবর কি এর মধ্যে আসে না? মানে মহাকাশ বা মাটির নিচে ভূমি বিষয়ক কোন সংবাদ কি আসতে পারে না? আবার দেখুন news শব্দটি চতুর্দশ শতাব্দীতে new শব্দের বহুবচন হিসেবে ব্যবহার হওয়া শুরু করে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যম দ্বারা কি সব নতুন বিষয়কেই বুঝায়? পুরাতন কোন বিষয় কি সংবাদ মাধ্যমে আসে না?”
.
- “তুমি কি বুঝাতে চাইছো বলো তো?”
.
- “আচ্ছা, আপনাকে একটা পারসোনাল কোয়েশ্চান করতে পারি?”
.
ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক একটু আমতা আমতা করে উত্তর দেয়,
- “হুম।”
.
- “আচ্ছা, আপনি কি আপনার ফ্যামিলিকে খুশি রাখার জন্য সবসময় তাদের সাথে সত্য কথা বলেন?”
.
- “না, মাঝে মাঝে তো দুয়েকটা মিথ্যে বলতেই হয়।”
.
“ঠিক তাই! জীবনে এমন অনেক কিছুই করতে হয় যেগুলোর জন্য ছোটখাটো ভুলও করতে হতে পারে। তবে সেটা পাপ হয় না।”
.
ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক এবার নিজের মধ্যে একটা ভাবান্তর এনে খোঁচা খোঁচা দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে বলে,
- “কত দিতে পারবে?”
.
খালিদ এতক্ষণ এটার অপেক্ষাই করেছিল।অবশেষে ফাঁদে পা দিয়েছে। খালিদ তাচ্ছিল্যের সহিত ঠান্ডা মাথায় উত্তর দেয়,
“তারা যা দিয়েছে তার থেকে ১০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং বেশি দিব।” (১০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখের বেশি হবে। ১ পাউন্ড স্টার্লিং= ১০৬ টাকা)
.
ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক তার সামনে থাকা টেবিলের উপর ভর করে খালিদের দিকে ঝুকে একটু আস্তে করে বলে;
- “আই নিড থার্টি থাউজেন্ড পাউন্ড স্টার্লিং।”
.
খালিদও শান্ত গলায় উত্তর দেয়,
- “ইটস ওকে, আই উইল কাম বেক উইথ ইউর ডিমান্ড।” কথাটা বলেই খালিদ চলে আসে।
.
খালিদের কাছে তখন দেবার মত অতোগুলো টাকা ছিল না। সবটাই ছিল তার একটা চাল মাত্র। লন্ডনে এসে বাবার চিকিৎসা, নতুন বাসায় ওঠা এবং নিজের খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরা নিয়ে অনেক টাকাই খসাতে হয়েছে খালিদকে।
পরের দিন সকালে জানা যায় ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক খুন হয়েছে। কেউ তার বুকে পরপর কয়েকটা বুলেট গেঁথে বুকটা একেবারে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে।
বিষয়টা নিয়ে খালিদের মনে বিন্দুমাত্রও ভাবান্তর আসে না। খালিদ যেমনটা চেয়েছিল তেমনটাই তো হয়েছে।
গতকাল ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিকের এর সাথে কথা বলার পর খালিদ সর্বপ্রথম তার নাম্বার ট্র্যাক করে। রাতে ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক কোথায় যায়, কি করে, সেগুলো পুরো তার অবজারভেশনে রাখে। এরমধ্যে ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক রাতে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছিল এসেক্সের একটা ফাইভ স্টার ক্লাবে।
পরদিন সকালে খালিদ এসেক্সের সেই ফাইভ স্টার ক্লাবে চলে যায়। গিয়ে যেটা জানতে পারে, ফ্রেডরিক নাকি তার নাইট গার্লস লাইসার সাথেই অনেকটা সময় ধরে ছিল। খালিদ এরপর চলে যায় সেই নাইট গার্লস লাইসার কাছে।
লাইসার কাছে গিয়ে জানতে পারে অনেক দিক থেকে লাইসার ফ্রেডরিকের উপর রাগ থাকলেও ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিকের মৃত্যুকে সে ব্যপকভাবে মর্মাহত।
সবকিছু মিলিয়ে খালিদ বেশ হতাশায় পড়ে যায়। এরপর সারা লন্ডন যতটা সম্ভব ইকবালকে খুঁজেছে খালিদ। কিন্তু কোথাও কোন হদিস মিলে না তার। এরই মধ্যে সে বিভিন্ন নিউজে ও চ্যানেলে সম্প্রচারও করে দেয় ইকবালের নিখোঁজ সংবাদের।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতেও কোন ফলপ্রসূ না পেয়ে আশা প্রায় ছেড়েও দেয় খালিদ। তারপরই হঠাৎ করে একদিন লন্ডনের সেই হাসপাতালেই ইকবালের খোঁজ মেলে। তবে তাকে পাওয়া যায় মৃত, ডাক্তারের মতো তাকেও ব্রেইন শূন্য করে মার্ডার করা হয়েছে।
বিষয়টা আরো বেশি জটিল হয়ে দাঁড়ায়। ডাক্তার এবং ইকবালকে একই ভাবে মারার কারণটা বুঝে উঠতে পারে না খালিদ।
তবে এটা নিশ্চিত যে, এগুলো সব একজনেরই কাজ। প্রথমে ডাক্তারকে দিয়ে ইকবালকে কিডন্যাপ করা হয়। তারপর ডাক্তার যেন মুখ খুলতে না পারে সেজন্য তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
খালিদ এক গোলক ধাঁধার মধ্যে পড়ে যায়। ডাক্তারকে যে খালিদের সাসপেক্ট হয়েছিল সেটা তো সে শুধু সে পুলিশকে বলেছিল। এদিকে আবার পুলিশকেও মার্ডার করে দেয়া হয়। তবে পুলিশকে মারার ধরণ আবার ভিন্ন।
তবে কি খুনি আরো একজন আছে?
কোন দিক থেকে হিসেব মিলাতে পারে না খালিদ। তার কাছে এমন কোন ক্লুও নেই যে সে সেই ক্লু ধরে ভিক্টিমদের খুঁজে বের করবে।
ওইদিকে আবার ইকবালের শরীরেও এমন কোন ক্লু পাওয়া যায় না যা থেকে পুলিশ আবার নতুন করে ইনভেস্টিগেশন শুরু করবে। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী ইকবালের মাথায় কোন ব্রেইন ছিল না। কিন্তু কেউ সেই ব্রেইনকে যে নিয়েছে সেটাও বোঝার কোন সিস্টেম নেই।
ডাক্তারের মাথায় থাকলেও ইকবালের মাথায় ছিল না কোন আঘাতের চিহ্ন।
এত সব জটলা বুঝতে পারা না পারার এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ইনভেস্টিগেশন বন্ধ করে দেয়।
খালিদও বশেষে হতাশ হয়ে মৃত বাবাকে নিয়ে দেশে ফিরে আসে খালিদ।
এসে জানতে পারে সপ্তাহখানেক আগে একটা কার এক্সিডেন্ট হয়। সেই এক্সিডেন্টের পর খালিদের মাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলেও ততক্ষণে ডাক্তাররা তাকেও মৃত ঘোষণা করে।
.
খালিদের মাথার উপর থেকে ছায়ার মত থাকা আকাশটা যেন সরে যায়। চারপাশে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। পায়ের তলার মাটিও যেন সরে যায় তার। তার সাথেই কেন এমনটা হচ্ছে?
বাবা মা দুজনকেই একসাথে হারিয়ে যেন বড় একা হয়ে যায় খালিদ।
কিন্তু একটা বিষয়ে গোলমাল থেকেই যায় খালিদের কাছে। মা বাবা দুজনকেই তো একসাথে হারাতে হল খালিদকে।
তবে এ দুজনের মৃত্যুও কি একই সূত্রে গাঁথা? কেউ কি ইচ্ছে করেই খালিদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে খালিদের বাবা মাকে?
যদি তাই হয়, তবে কাউকেও ছেড়ে দিবে না খালিদ। মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় সে।
.
.
.
চলবে!.....
লেখা : মুহাম্মদ আবদুল্লাহ রাফি
.
পরপর দুইটা পর্ব তো দিলাম। এই দুই পর্ব কেমন লেগেছে কমেন্ট করে জানাবেন কিন্তু!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now