বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রবার্ট নামের ভুতুড়ে রহস্যময় পুতুল

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X হলিউডের জনপ্রিয় ভৌতিক সিনেমা ‘চুকি’র কথা অনেকের মনে আছে। ১৯৮৮ সালের এ সিনেমার কাহিনীতে দেখানো হয়, একটি পুতুলের মধ্যে একজন খুনি-আত্মা ঢুকে পড়ে এবং একের পর এক খুন করতে থাকে। এ ঘটনাটি সত্যি ঘটে যাওয়া একটি ভৌতিক পুতুলের কাহিনী থেকেই নেয়া তা হয়তো অনেকের অজানা। ভৌতিক পুতুলটির নাম রবার্ট যা এখন ফ্লোরিডার ইস্ট মার্টেলো মিউজিয়ামে কাচের বাক্সে রক্ষিত আছে। ঘটনার শুরু ১৯০৩ সালে। থমাস অটো নামের এক ধনী ব্যবসায়ী পরিবারসহ আমেরিকার ফ্লোরিডা শহরের ইটন অঞ্চলে একটি বিশাল বাড়িতে বাস করতেন। কর্মচারীদের নির্যাতনকারী হিসেবে তার বদনাম ছিল। একমাত্র সন্তান রবার্ট ইউজেন অটোকে দেখাশোনার জন্যে থমাস অটো একজন দাসী ঠিক করেন। একদিন থমাস অটোর স্ত্রী জানতে পারেন, দাসীটি বাহামা দ্বীপের একজন কালোজাদু চর্চাকারী। অবধারিতভাবেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। দাসীটি রবার্টকে একটা মানুষরূপী পুতুল উপহার দিয়েছিল। ভেতরে খড়কুটো ভরা পুতুলটি ছিল তিন ফুট লম্বা, বোতামের চোখ, আর মাথায় মানুষের চুল। অনেকের ধারণা চুলগুলো রবার্ট অটোরই। রবার্ট তার এ পুতুলকে খুবই পছন্দ করত। পুতুলটির প্রতি রবার্টের আসক্তি এতই বেড়ে গিয়েছিল, সে নিজের নামটাই পুতুলকে দিয়ে দেয় এবং তাকে জেন বলে সম্বোধন করত। পুতুলকে নিজের পোশাক পরিয়ে রাখত। সব সময় সঙ্গেই থাকত পুতুলটি। এমনকি খাবার টেবিলেও পুতুলের জন্যে নির্দিষ্ট ছিল রবার্টের পাশের চেয়ারটি। ঘুমানোর সময়ও পুতুলকে পাশে চাই। খুব শিগগিরই পুতুলের সঙ্গে এ সুন্দর সম্পর্ক ভয়ানক রূপ নিতে থাকে। নিজের ঘরে জেন তার পুতুল রবার্টের সঙ্গে অনবরত কথা বলত। বাবা-মা ও বাড়ির কর্মচারিরা জেনের ঘর থেকে মাঝে মাঝেই অন্য একটা কণ্ঠস্বর ও হাসির শব্দ শুনতে পেতেন। জেনের ঘরের জিনিসপত্র ও খেলনা মাঝে মাঝে এলোমেলো হয়ে যেত নিজ থেকেই। আবার অনেক সময় খেলনাগুলো কেউ ভেঙে রেখে দিত। জেন সবসময় এসব কাজের জন্যে পুতুলটিকে দোষারোপ করত। দিন দিন এসব অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড বেড়েই চলেছিল। কর্মচারিরা ছুটি নিয়ে চলে গেলে ভয়ে আর ফিরে আসত না। বাড়িটি ভুতুড়ে পুতুলের বাড়ি নামেই পরিচিতি পেতে থাকল। অটো পরিবার অবশেষে জেনকে রবার্ট থেকে আলাদা করল। রবার্টের জায়গা হল স্টোর রুমের একটা বাক্সে। এ বাক্সে একা অনেক বছর কাটিয়ে দেয় রবার্ট। পরিণত বয়সে জেন বিয়ে করে এ বাড়িতেই বসবাস করতে থাকে। একদিন জেন বাড়ির স্টোর রুমে পুরাতন জিনিস খুঁজতে গিয়ে তার ছোটবেলার খেলার পুতুল রবার্টকে খুঁজে পায়। জেন ছেলেবেলায় রবার্টের প্রতি যেমন আসক্ত হয়েছিল ঠিক তেমনটাই হয়ে যায়। জেনের স্ত্রী অতিষ্ট হয়ে রবার্টকে আবার স্টোর রুমে রেখে দেয়। তার এ কাজে জেন আর স্ত্রীর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। হঠাৎ একদিন কোনো এক অজানা কারণে জেনের স্ত্রী মারা যায়। কিছুদিন পরে জেনও বিদায় নেয়। অনেকদিন রবার্ট একা একা ছিল এ বাড়ির স্টোর রুমের বাক্সে। একদিন বাড়িটি কিনে নিল নতুন একটি পরিবার। শুরু হল আবার ভৌতিক কাণ্ড। স্টোর রুমের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে তারা হাসির শব্দ শুনতে পেত। বন্দি রবার্টকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রুমে খুঁজে পাওয়া যেত। কোনো এক রাতে বাড়ির কর্তার হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে দেখতে পান পুতুলটি তার পায়ের কাছে বসে আছে। আর পুতুলটির হাতে রয়েছে একটা ছুরি। তাদের এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার জন্যে এ ঘটনাই যথেষ্ট। এমন ভুতুড়ে পুতুলটিকে সরিয়ে নেয়া হয় ইস্ট মারটেলো জাদুঘরে।সেখানে এটিকে একটা কাচের বাক্সে রাখা হয়। কিন্তু রবার্টের ভুতুড়ে কাণ্ড শেষ হয়নি। অনেক প্রদর্শনকারী এবং এ জাদুঘরের কর্মচারীরা দাবি করেন, তারা রবার্টকে নড়তে দেখেছেন। জাদুঘরের একজন কর্মচারী রবার্টকে রাতের বেলা পরিষ্কার করে সব আলো নিভিয়ে চলে যান। কিন্তু পরের দিন এসে দেখেন সব বাতি জ্বালানো। আর রবার্টকে যেভাবে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলেন সে অন্যভাবে বসে আছে। অবাক বিষয় হচ্ছে, নতুনভাবে ধুলোর আস্তরণ পড়েছে রবার্টের জুতোর উপর। গুজব রয়েছে, রবার্টের সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলে অবশ্যই রবার্টের কাছে নম্রভাবে অনুমতি চাইতে হবে তারপর ছবি তোলা যাবে। অনুমতি না নিয়ে ছবি তুললে নেমে আসবে দুর্ভোগ। রবার্ট নামের পুতুলটি আজও ভুতুড়ে রহস্য হয়ে নাবিকের পোশাক পরে কোলে একটা সিংহ নিয়ে চেয়ারে বসে আছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রবার্ট নামের ভুতুড়ে রহস্যময় পুতুল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now