বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরের একটি সপ্তাহ সাম্বু দিনে তিন ঘণ্টা তার বাবার সান্নিধ্যে থাকতো, এবং শো শেষ হবার পর বিমর্ষ হয়ে পড়তো। ওর জন্য ব্যাপারটা ছিল রোজকার বিচ্ছেদ। ওর রাতের শো-টাও দেখতে ইচ্ছা করতো, কিন্তু মা স্কুল নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতো। সময় যে কত মূল্যবান সেটা মা বুঝতে চাইতো না। স্কুল বসে থাকবে, কিন্তু বাবা তো আর না। রাতের শো যারা দেখতো তাদের রীতিমত ঈর্ষা করতো সে।
সাম্বুর জোরাজুরির সামনে টিকতে না পেরে মা শেষপর্যন্ত শেষদিন ছবিটা দেখতে রাজি হলেন। ওরা রাতের শো দেখতে গেল। তিনি উইমেন্স ক্লাস-এ বসলেন। তাকে তাঁর সমস্ত সাহস জড়ো করতে হয়েছিল ছবি দেখতে বসার জন্য। বিজ্ঞাপন যতক্ষণ চললো ততক্ষণ তিনি নিশ্চিন্তই ছিলেন, কিন্তু ছবি শুরু হতেই তার হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে গেল।
পর্দায় তাঁর স্বামীকে দেখা যাচ্ছিল, ছবিতে তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বলছেন, বাচ্চার সাথে খেলছেন, গান গাইছেন, হাঁটছেন, জামা পাল্টাচ্ছেন— সেই একই জামা, একই কণ্ঠ, একই রাগ, একই রকম আনন্দ— তাঁর মনে হচ্ছিল যেন পুরো জিনিসটাই নিষ্ঠুরতা, তাঁর দিকে ছুড়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি বেশ ক’বার চোখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ছবিটা তাকে আকর্ষণ করছিল— কষ্টকর কিছুর মাঝে যে আকর্ষণ থাকে। এরপর একটা দৃশ্য এলো যেখানে তিনি চেয়ারে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। কিভাবে তিনি মগ্ন হয়ে খবরের কাগজ পড়তেন!
তাদের বিবাহিত জীবনে কতবার যে তিনি এই নিয়ে ঝগড়া করেছিলেন! এমনকি শেষদিনও রাতে খাবারের পর তাঁর ক্যানভাসের চেয়ারটায় খবরের কাগজ সামনে নিয়ে বসে ছিলেন, আর তিনি সেটা দেখে রেগে গিয়ে “তুমি আর তোমার কাগজ! আমিও গিয়ে বাকি দিন ঘুমিয়ে কাটাতে পারতাম” বলে চলে এসেছিলেন। পরে এসে দেখেন চেয়ার উল্টে পড়ে আছেন তিনি, মুখের উপর পত্রিকার পাতাগুলো…
এই দৃশ্যটা সহ্য করার মতো ছিল না। তিনি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now