বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাতের গলির অশান্তি

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। মাছবাজারের গলিটা দিনের বেলায় সবসময় সরব থাকে। দোকানপাট খোলা, মানুষের কোলাহল, মাছের গন্ধে ভরপুর পরিবেশে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যেন জীবনের এক বিশেষ ছন্দ বাজে। কিন্তু রাত গভীর হলে এই গলি একেবারেই অন্য রূপ নেয়—অন্ধকার, নীরবতা আর কেবল ভ্যাপসা বাতাস। সেদিন রাতেও ঠিক তেমনই ছিলো চারদিক। বেশ রাত হয়ে গেছে, দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, রাস্তার শেষ প্রান্তে ভাঙা বাতিগুলোর ঝিকিমিকি আলোতে কেবল মাঝে মাঝে কোনো বিড়ালের ডাক বা কুকুরের হুংকার ভেসে আসছিলো। এমন সময় হঠাৎ করেই গলির নিস্তব্ধতা ভাঙলো এক তরুণীর ফিরে আসায়। মেয়েটা একটু দেরি করেই ফিরেছিলো সেদিন। তার গায়ে শহুরে সাহস, কিন্তু চোখেমুখে কিছুটা ক্লান্তি। গেটের সামনে এসে দেখে তালা দেওয়া। দারোয়ান তখন ঘুমিয়ে আছে। মেয়েটা বারবার ডাকতে লাগলো। দারোয়ান ঘুম ভাঙতে সময় নিলো, আর ঘুম ভাঙার পর যেনো বিরক্তি মিশে বেরিয়ে এলো তার আচরণে। সে গেট খুললো বটে, কিন্তু মুখের ভাষা হয়ে উঠলো রূঢ়। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলো। উত্তেজনার মাথায় মেয়েটা হঠাৎ করেই থাপ্পড় মেরে বসলো দারোয়ানকে। মুহূর্তেই আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি বদলে গেলো। দারোয়ানও নিজেকে সংযত রাখতে পারলো না, উল্টো মেয়েটাকে ধাক্কা দিলো, বুকে লাথিও মারলো। চিৎকারে চারপাশের মানুষ জেগে উঠলো। গলির বাসিন্দারা দরজা খুলে বাইরে এলো, কেউ কেউ বারান্দায় দাঁড়ালো। লেখকের মা–বাবাও বেরিয়ে এলেন শব্দ শুনে। এ সময় মেয়েটা স্বীকার করলো যে সে রাগের মাথায় প্রথমেই দারোয়ানকে মেরেছে। অথচ বয়সে প্রায় বাবার সমান মানুষকে থাপ্পড় দেওয়াটা কি তার উচিত ছিলো? অনেকে মাথা নেড়ে বললো, “এটা তো সকালে বসে সমাধান করা যেতো।” কিন্তু তখন কারো কারো মনে হলো, না, আগুনের সঙ্গে আগুন নেভানো যায় না—এখনই বিহিত করতে হবে। দারোয়ান তখন ভয়ে গা ঢাকা দিলো। তারও অপরাধ ছিলো, তাই পালিয়ে গেলো। কিন্তু গ্রাম থেকে আসা এক সাধারণ মানুষ, এই শহরে কাজ করে খায়, তার গ্রামের ঠিকানা কারো জানা নেই। তাই যখন ছাত্ররা তাকে খুঁজতে গিয়ে গ্রামে ঢোকে, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অচেনা গ্রামে, অন্ধকার রাতের মধ্যে ছাত্ররা ঢুকে পড়ে। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো দারোয়ানকে শাস্তি দেওয়া, কিন্তু গ্রামের মানুষ তখন এটাকে অন্যভাবে নিলো। হঠাৎ করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা হলো—“বাইরের লোক ঢুকে পড়েছে।” স্বভাবতই গ্রামের মানুষজন বেরিয়ে এলো। ভাবুন তো, নিজের গ্রামে রাতে কেউ ঢুকে গোলমাল করলে, কে আর চুপচাপ বসে থাকে? ফলে ছাত্ররা ধাওয়া খেলো, ইটপাটকেল পড়লো, আইন বিভাগের একজন আহত হলো। কিন্তু এই ধাওয়া কি দরকার ছিলো? রাতের আঁধারে চেনা–অচেনা গলিতে ঝুঁকি নেওয়ার কি দরকার ছিলো? লেখকের চোখে তখনকার দৃশ্য ভেসে উঠছে—একদল তরুণ দৌড়ে পালাচ্ছে, কেউ গলির ভেতর পড়ে যাচ্ছে, কারো হাতে রক্ত, কারো চোখে ভয়ের ছাপ। গ্রামবাসীও বুঝে উঠতে পারেনি আসলে ঘটনার মূল কারণ কী, তারা কেবল নিজেদের জায়গা রক্ষার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সুযোগটা নিলো সেই এলাকার কিছু খারাপ লোক। তারা আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পছন্দ করে না। সুযোগ বুঝে গলির অন্ধকারে তারা ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো, মেরেপিটলো। এই সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হলো নিরীহ মানুষগুলো। দোকানপাট ভাঙচুর হলো, বাসার জানালা গুঁড়িয়ে গেলো, অথচ তারা তো জানতোই না আসল ঘটনাটা কী! দোষ না করেও তারা হলো ভুক্তভোগী। সেনাবাহিনী আসার পর যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলো, তখন গলির চারপাশে পড়ে রইলো ভাঙা কাচ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইটপাটকেল আর আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস। লেখকের মনে তখনো একটাই প্রশ্ন—সবকিছু কি এভাবে হতে হতো? এক সামান্য ঘটনাকে কেনো এত বড় আকার দেওয়া হলো? কারা এই আগুনে ঘি ঢেলে নিজেদের নাম করার নেশায় ছাত্রদের উসকে দিলো? সেদিন রাতের পর থেকে মাছবাজারের গলি যেনো ভিন্ন হয়ে গেলো। প্রতিটি দেয়ালে, প্রতিটি জানালায় ভেসে বেড়ায় সেই আতঙ্কের ছাপ। গলির বাতাসে লেগে রইলো ভাঙচুরের শব্দ, চিৎকারের প্রতিধ্বনি। অথচ সত্যিটা ছিলো খুবই সাধারণ—একজন দারোয়ান আর এক তরুণীর মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি। সেটাকে সময়মতো থামানো গেলে এত রক্ত, এত ভাঙচুর, এত দোষারোপের প্রয়োজন হতো না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রাতের গলির অশান্তি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now