বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ৯টা। বাবু বসে আছে শান্তার বেডের পাশে। গত ৪ মাস ধরেই সে প্রতিটা রাত শান্তার বেডের পাশে বসে কাটায়। কখন শান্তা কোমা থেকে জেগে উঠবে এই কামনায়। প্রতিটা ক্ষণেই তার মনে হয় এই বুঝি তার বোনটা জেগে উঠলো। বাবু বলে ডাক দিলো। কিন্তু না সে এখনও ঘুমে। জেগে উঠে না। কখনই বা জেগে উঠবে তাও কেউ জানেনা।
*********************************************
বাবু আর শান্তা দুই ভাই-বোন। বাবু ছোট। শান্তা বড়। দুইজনের মধ্যে সারাদিন ঝগড়া, মারামারি লেগেই থাকে কোন না কোন কারণে। হয়তো বাবু গিয়ে শান্তার চুলটা টেনে দিলো, নাহয় শান্তা গিয়ে বাবুকে চিমটি দিয়ে দিলো।
-তুমি আমাকে চিমটি দিলে কেন??
-তুই আমার চুল টানলি কেন আগে??
ব্যস শুরু হয়ে গেলো রেসলিং। মেরেকেটে একটা অবস্থা। তাদের নিয়ে তাদের মা অতিষ্ট। সারাদিন বকাঝকা করতে থাকেন তাদের এই দুরন্তপনার জন্য।
-তোরা কি আমাকে একটু শান্তি দিবি না?? সারাদিন লেগে থাকিস কেন??
-দেখো না মা দি আমাকে চিমটি দিয়েছে।
-না মা, বাবু আমার চুল টেনে দিয়েছে আগে।
মার সামনেই দুইজন আবার লেগে যায় এই বলতে বলতে। মা দুইজনকে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে দুই রুমে পাঠিয়ে দেন।
-তোর চুল টেনে দিয়েছে তাতে হয়েছে কি?? চুল কি সব মাথা থেকে খসে পড়েছে?? আর তোকে চিমটি দিয়েছে তাতে কি চামড়া উঠে গেছে?? দুইজন দুই রুমে থাকবি। খবরদার একসাথে হবি না একদম।
কিছুক্ষণ দুইজন দুই রুমে থাকে। কিন্তু একটু পর আবার দুইজন একসাথে হয়ে যায়। কারণ মারামারি, ঝগড়াঝাটি করলেও তাদের মধ্যে ভাব সবচেয়ে বেশি। কেউ কাউকে ছেড়ে একদন্ডও থাকতে পারে না। মাও জানেন সেই কথা। তিনি দুইজনকে রুমে পাঠিয়ে নিজেই হাসেন। কারণ একটু পর আবার দুইজন একসাথেই হয়ে যাবে।
ছুটির দিনে বিকালে দুই ভাই-বোন একসাথে ঘুরতে বের হয়। ঘুরেটুরে সন্ধ্যায় খেয়েদেয়ে ঘরে ফিরে।
রাতে শান্তা বাবুকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় মাথায় হাত বুলিয়ে। মাঝে মাঝে শান্তা বাবুকে জিজ্ঞেস করে, “আচ্ছা ভাই, আমাকে ছাড়া থাকতে পারবি??” বাবু সাথে সাথে শান্তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। বলে, “এসব কথা আর কখনও বলবে না। তুমি আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবে। কোথাও যেতে দিবো না।”
-না ধর কখনও যদি আমার কিছু হয়ে যায় তখন??
-দি আমি কিন্তু এখন কেঁদে দিবো।
বাবুর ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে শান্তা আর কিছু বলে না। তার কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে, “না ভাই, তোকে ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না।”
-প্রমিজ??
-প্রমিজ। এবার খুশি তো??
ভালই কাটছিল তাদের দিনগুলি। কিন্তু কথায় আছে সুখের দিনগুলো মেইড ইন চায়না। একদিন ছুটির দিনে তারা ঘুরতে বের হয়। হাঁটতে হাঁটতে বাবু হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পায়ে খুব ব্যাথা পায়। পা ফুলে যায়। সে ব্যাথায় গোঙাতে থাকে। শান্তা বাবুকে বলে, “ভাই, একটু সহ্য কর। আমি দোকান থেকে আইসক্রিম নিয়ে আসি। পায়ে ঠান্ডা লাগালে ব্যাথা কিছুটা কম লাগবে। তুই এখানে বস। আমি যাবো আর আসবো।” এই বলে শান্তা এগোলো। আইসক্রিম নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলো। হঠাৎ বাবু দেখে এক প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ফুল স্পিডে শান্তার দিকে আসছে। বাবু চিৎকার করে বলে, “দি, তুমি এখন পার হইও না।” কিন্তু শান্তার কানে তা পৌঁছায় না। সে পার হওয়ার জন্য রাস্তায় নামলো। তখন সেই দানব কার শান্তাকে আঘাত করে পালিয়ে গেলো। বাবু দিইইই বলে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেলো। জ্ঞান যখন ফিরে দেখে সে হাসপাতালের বেডে। পাশে মা বসে আছে। সে উঠে জিজ্ঞেস করলো, মা দি কই?? মা শুধু কান্না করে। সে আবার জিজ্ঞেস করে। তারপর মা জানান তার দিদি মাথায় আঘাত পেয়েছে। ডাক্তার বলেছেন আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান ফিরলে ফিরবে। নাহয় কবে ফিরবে জানা নেই। আটচল্লিশ ঘন্টার প্রতিটা ঘন্টা সে তার বোনের দিকে তাকিয়ে ছিল এই ভেবে যে এই বুঝি শান্তার জ্ঞান ফিরলো। কিন্তু না, তার জ্ঞান ফিরে না। ডাক্তার বললেন, সে কোমায় চলে গেছে।
*****************************************************
চার মাস কেটে গেলো। প্রতিটা দিন সে তার দিদির পাশে বসে দিন গুণে কখন তার দিদির জ্ঞান ফিরে। তার দিদির প্রতি তার অনেক অভিমান জন্মেছে। সে তার দিদিকে অনেক বকে। কেঁদে কেঁদে বলে, “পাজি মেয়ে, প্রমিজ করেছিলে আমাকে ছেড়ে কখনও কোথাও যাবে না। এখন কোথায় তোমার প্রমিজ?? চারটা মাস তুমি আমার সাথে একটুও কথা বলো নাই। আমি কিভাবে থাকি তুমি জানো না?? ও দি, প্লিজ একবার কথা বলো। আমি তোমাকে ছাড়া যে আর থাকতে পারছি না। আমি কারো সাথে মারামারি করতে পারি না। কারো চুল টানতে পারিনা। কেউ আমাকে চিমটি দেয় না। কেউ আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়না। খাইয়ে দেয়না। জানো দি?? আমি এখন নিজের হাতে খাই। কিন্তু তোমাকে ছাড়া রাতে থাকতে পারি না। তাই সারারাত তোমার পাশে বসে থাকি। তুমি প্লিজ একটু জেগে উঠো। একটাবার আমাকে জড়িয়ে ধরো। প্লিজ দি।” এসব বলে কাঁদতে কাঁদতে সে ঘুমিয়ে পড়ে। আরেকটা রাতও কেটে গেলো। পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙে একবুক আশা নিয়ে। আর রাত শেষ হয় একরাশ হতাশা নিয়ে। এভাবেই চলতে থাকে তার দিন। দিন গুণে কবে তার দিদির জ্ঞান ফিরবে। কবে আবার তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করবে। কবে আবার তাকে চিমটি দিয়ে মারামারি করবে........
লেখকঃ আদিত্য চক্রবর্ত্তী
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now