বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রামসাগর

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান EvA AhMED (০ পয়েন্ট)

X ভ্রমন গল্প রামসাগর নাম শুনে মনে হতেই পারে যে কন সাগরের কথা বলছি। তবে বাস্তবে রামসাগর একটি দীঘি। তবে বিশালতায় অনেকটা সাগরের মতোই। অন্যান্য দীঘি থেকে এটিকে আলাদা করে দেখার আরো অনেক কারণ রয়েছে। এটি বাংলাদেশে মানুষের তৈরী বৃহত্তম দীঘি। শুধু তাই নয়, দিনাজপুরে অবস্থিত এ দীঘিটি দেশের প্রাচীন দীঘিগুলোর একটি। রামসাগর দীঘিটির আয়তন চার লাখ ৩৭ হাজার ৪৯২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। পাড়ের কাছাকাছি দীঘির গড় গভীরতা প্রায় চার ফুট। পাড়ের উচ্চতা ১৩ দশমিক ৫ মিটার। দীঘিটির নির্মাণ কাহিনী নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। কথিত আছে, রাজা প্রাণনাথের শাসনামলে দিঘীটি খনন করা হয়। তার রাজত্বকালে রাজ্যে একসময় প্রচণ্ড খরা দেখা দেয়। কোথাও সামান্য খাবার পানি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন রাজা প্রাণনাথ এই বিশাল দীঘি খনন করেন। মাত্র ১৫ দিনে এই দীঘির খনন কাজ শেষ হয়। কিন্ত খনন শেষে দেখা যায় দীঘিতে পানি উঠছে না। তখন রাজা স্বপ্নে দেখেন, রাজকুমার রামকে যদি দীঘির মাঝখানে দেবতার উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হলেই কেবল দীঘিতে পানি উঠবে। রাজা সবাইকে ডেকে তার স্বপ্নাদেশ শোনালেন। রাজা চাইছিলেন না তার ছেলেকে হারাতে। কিন্ত রাজকুমার রাম নির্ভীকভাবে প্রজাদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে রাজি হন। পরদিন দীঘির মাঝখানে বলির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়। সবাইকে কাঁদিয়ে বলি দেয়া হয় রাজকুমার রামকে। এরপরই ভরে ওঠে দীঘিটি। দীঘির পানিতে তলিয়ে যায় রাজকুমারের মৃতদেহ। রাজকুমার রামের নামানুসারেই দীঘিটির নামকরণ করা হয় ‘রামসাগর’। অবশ্য স্থানীয়ভাবে এটি ‘নীলসাগর’ নামেও পরিচিত। তবে ঐতিহাসিকদের মতে এই দীঘির ইতিহাস একটু অন্যরকম। তাদের দাবি, দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ এই দীঘি খনন করেন। রামনাথ ছিলেন দিনাজপুর রাজবংশের শ্রেষ্ঠতম রাজা। তিনি ১৭২২ সাল থেকে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরে রাজত্ব করেন। দিনাজপুর রাজবংশের ইতিহাসের মতে, ১৭৫০ থেকে ১৭৫৫ সালের মধ্যে অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের পূর্বে রামসাগর দিঘি খনন করা হয়। দিনাজপুর সদর উপজেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত এই রামসাগর। দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত। ১৯৬০ সালে দীঘিটিকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আনা হয়। ১৯৯৫-৯৬ সালে একে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল রামসাগরকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে কিছু পিকনিক স্পট এবং শিশুপার্ক। ইচ্ছে করলে পরিবারের সাথে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন রামসাগরে। প্লেইজ কমেন্ট করোন।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রামসাগর
→ রামসাগর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now