বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাতে অনেক দেরিতে ঘুমিয়েছি,,তাও
আজকে অনেক ভোরে উঠে
গেলাম,,, কিছুই ভাল লাগছে নাহ
তাই নিজেই এক মগ কফি
বানিয়ে ছাদে গেলাম,,,ছাদে এখনো
সবাই ঘুমাচ্ছে,,শুধু আমার
চোখেই ঘুম নেই,,আর কিছুক্ষন
পরেই আমার বিয়ে,,,মাত্র
কয়েক ঘন্টা আমি স্বাধীন আছি,,,
আচ্ছা রাক্ষুসী টাও হয়তো এখন
ঘুমাচ্ছে,,তাই নাহ,? হুম হয়তো
তাই,,,কেনো জানি আজকে
দুইদিন আমি ওর কথা ভাবছি,,,
নাহ অনেক দিন সিগেরেট এর
টান দেই নাই,,,বিয়ের পর হয়তো
এটাও নিষেধ হয়ে যাবে,,,
কিন্তু সিগেরেট আনবে কে???
ধুর আমিই যাই,,ভাল
লাগছে নাহ,,,কফিটা খেয়ে
বাহিরে যাওয়ার জন্য
টিশার্ট পরলাম,,,দরজার কাছে
যেতে না যেতেই দেখি মা উঠে
গেছে,,, আমাকে দেখলেইই
এখন প্যাচাল মারা শুরু
করবে তাই আস্তে আস্তে লুকিয়ে
বাহিরে চলে আসলাম,,
জুতা পায়ে পরলাম নাহ,,আজকে
হিমু হতে ইচ্ছে করছে,,,
কিন্তু আমার কপালে রুপা নাই
আছে রাক্ষুসী
কোন দোকান খোলা নেই,,
তাই পাশের গলির মামার
দোকানে যাচ্ছি,,আরে আরে আমার
আপন মামা না,,ওনার দোকান থেকে
আমরা সব বন্ধুরা,,চা সিগেরেট খাই
তাই ওনাকে মামা ডাকি
আরকি....
মামার দোকান সারা রাত খোলা
থাকে,,,কত রাত এখানে
আড্ডা দিছি তার হিসাব নেই,,,
.....
_ ও মামা,,কেমন আছো ..????
: কেরে???
_ আমি অভ্র,,চিনো নাই??
: ওহ,,অভ্র??? হ্যা বাবা ভাল আছি
তুমি কেমন আছো???
_ আর ভাল থাকা,,,আমার
ভাল থাকার দিন শেষ মামা,,,
আচ্ছা যাই হোক মামা একটা সিগেরেট
আর এক কাপ চা দাও,,অনেক
দিন তোমার হাতের চা খাই নাই....
: দাড়াও বাবা দিচ্ছি,,,তা তোমার ভাল
থাকার দিন শেষ কেনো???
সবে তো শুরু হওয়ার কথা,,,,
_ বুঝবানা তুমি,,,
: থাক,,না বুঝাই ভাল,,এই নাও
চা,আর,সিগেরেট,,,,
_ হুম দাও,,,
.....
অনেকদিন পর সিগেরেট মুখে দিলাম
রাক্ষুসী টা সিগেরেট খাওয়া টাও
বন্ধ করে দিছে,,,
একদিন তো সরাসরিই ধরা খেয়েছি,,,
ছাদে দাড়িয়ে সিগেরেট টানছিলাম
আর পিছন ফিরে দেখি
ইয়া বড় চোখ নিয়ে
রাক্ষুসী টা দাড়িয়ে আছে,,,
আমি তো ভয়ে,,শেষ,
আল্লাহ জানে কি না কি করে,,,
আমার হাত থেকে সিগেরেট
টা নিয়ে নিছে ফেলে দিল,,
আর বলা শুরু করলো
আর জীবনে যদি আপনার
হাতে আমি সিগেরেট দেখি
তাহলে আমার একদিন কি
আপনার,,,একে বারে খুন করে
ফেলবো বলে দিলাম,,,সেই
ভয়ে আমি আর সিগেরেট ধরি
নাই,,আল্লাহ জানে কখন আবার
সামনে চলে আসে,,,
আজ শিওর আসবে নাহ,,তাই
খাচ্ছি ।।
নাহ আর বাহিরে থাকা যাবে নাহ
আট টা বেজে গেছে,,বাসায়
যেতে হবে,,,আরো এক প্যাকেট
সিগেরেট নিয়ে বাসায় গেলাম,,
যেয়ে দেখি আম্মু দরজার
সামনে দাড়ানো,,,
যেহেতু টিশার্ট সো কোন পকেট
নাই, এখন সিগেরেট এর
এই প্যাকেট লুকাই কোথায়,,
হাত পিছনে নিয়ে বাসায় ঢুকতে
যাচ্ছিলাম,,আর আম্মু বলে উঠলো
.....
_ কোথায় গিয়েছিস????
: এই একটু সামনে,,,
_ ওহ,,আচ্ছা ,,যা ঘরে
: হুম,,
_ দাড়া,,
: কি???
_ তোই হাত পিছনে রেখেছিস কেনো???
: ইয়ে মানে এমনি আম্মু
_ দেখি হাত সামনে আন...
: আরে আম্মু বলছি তো
কিছুনা,,,
_ তোকে আমি হাত সামনে
আনতে বলছি....
...
কি আর,,করার হাত সামনে নিলাম
আর শুরু হলো আম্মুর
তুই এখনো সিগেরেট খাস??
তোর এত্ত বড় সাহস তুই
সিগেরেট এর প্যাকেট বাসায়
এনেছিস,,তুই কি ভুলে গেছিস,
তোর মা এখনো বেচেঁ আছে,,,
মায়ের প্যাচাল এখন বন্ধ হবে নাহ,,
আম্মুর গলার আওয়াজ শুনে
আবির নিচে এলো, ,
ও না থাকলে আজকে আমি
শেষই হয়ে যেতাম,,,কোন মতে
ও আম্মুকে সামাল দিয়ে বললো
আন্টি আমি অভ্র কে আনতে বলছি
আমি জানতাম না এটা আনা
নিষেধ,,,তাহলে আমি কখনোই
বলতাম নাহ,,সরি আন্টি,,,
ওর কথা শুনে আম্মু আর আমাকে
কিছু বললো নাহ,,, শুধু বললো
ফ্রেস হয়ে নিতে,,,আর ছাদ থেকে
সবাই কে ডাকতে,,,নাস্তা খেয়ে
আবার কাজ করতে হবে
নাকি ওনাদের,,,,
যাই হোক নাস্তা টাস্তা খাওয়া দাওয়া
হলো,,,সবাই কাজ করছে
আর আমি ফেসবুক গুতাচ্ছি,,,
কিছুক্ষন পর সব বন্ধুরা এসে আমাকে
শেরোয়ানি পড়ালো,,,
রাক্ষসের হাতে তুলে দেওয়ার আগে
সাজানো হচ্ছে আমাকে
শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়েই
যাচ্ছে আর আটকানো হলো নাহ,,,
দুপুর ১২ টার দিকে আমাদের
বাসা থেকে সবাই রাক্ষুসী দের বাসায়
গেলো,,,ওমা গেটের কাছে
আসতে না আসতে কতগুলো
মেয়ে এসে হাজির হলো,,,
তাদের হাতে ট্রে ছিল,,,
আর ট্রেতে সরবত বিভিন্ন রকমের
কোন টা ঝাল,কোন টাতে লবন
কোন টা তিতো,,নাকি আছে,,আর
একটা ভাল,,,আমাকে এখন
এর থেকে একটা বেছে খেতে হবে
যদি ভাল সরবত খাই তাহলে
নাকি কিছু করবে নাহ,,আর
যদি খারাপ টা খাই তাহলে
১০ হাজার টাকা দিতে হবে ...
এটা আবার কোন নিয়ম
জীবনেও শুনি নাই,,যাই হোক বন্ধুরা
একেক জন একেক টা
খেতে বললো,,কোনটা যে
খাই কিছুই বুজিতেছি নাহ
যাই হোক শেষে একটা গ্লাস তুলে
দিলাম মুখে ওয়াক থু, ,
ও আল্লাহ রে এটা কি
নিম পাতার রস নাকি,,,
মেজাজ টাই গরম হয়ে গেল
আর আবির রে ইচ্ছে মত পিটাইতে
ইচ্ছে করছিল শালা আমাকে
এই গ্লাস নিতে বলেছে,,,,
ও আল্লাহ রে কি তিতা,,,বমি পাচ্ছে
আমার,,,মান সম্মানের ব্যাপার
তাই মুখ বুঝে সহ্য করছি
কিন্তু এই বিচ্ছু মেয়ে গুলা আমার
অবস্থা দেখে
হো হো হো করে হাসতেছে,
একে তো মুখের এই অবস্থা তার
উপর এখন ১০ হাজার টাকাও দিতে
হবে,,,কোন মতে বন্ধুরা জগড়া
করে সাঁত হাজার টাকা দিয়েছে,,,
এবার আমাকে আর বন্ধুদের
একটা যায়গায় নিয়ে বসালো,,,
কতক্ষন পর কিছু হুযুর আসলো
আর আমাকে কবুল বলতে
বললো,,,ইচ্ছে করছিল চিৎকার করে
বলি আমি কবুল বলবো নাহ
আমি রাক্ষুসী রে বিয়ে করবো
নাহ,,,কিন্তু সেই উপায় নাই,,,
শেষ মেষ কবুল বলে দিলাম,,,কবুল
আর সবাই বলে উঠলো
আলহামদুলিল্লাহ আর আমি
মনে মনে বললাম নাউজুবিল্লা
আর কিছুক্ষন পর আমি মরবো ।
হ্যা রাক্ষুসী টাও কবুল
বলে ফেলেছে,,,শেষ পর্যন্ত রাক্ষুসীর
হস্তে তুলে দেওয়া হলো
আমাকে ......
……………
চলবে…………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now