বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"এই দাদা প্রিন্ট আউট টা করে দে না রে।পরশুই আমার প্রোজেক্ট জমা দেওয়ার শেষদিন।না শেষ করতে পারলে ২০ নম্বর হাত থেকে ফসকে যাবে।দে না রে,প্লীজ...."
.."দিতে পারি,কিন্তু একটা শর্ত আছে।আমি যা বলব তোকে তাই করতে হবে।রাজি??"
"হ্যাঁ,রাজি।তুই বলেই দেখ না।"
"আজ রাতে তোর ভাগের হাঁসের ডিম টা আমায় দিতে হবে।বল,রাজি??"
"না না না....ওসব আমি পারব না।তুই তো জানিস বল,আমি হাঁসের ডিম খেতে কত্ত ভালোবাসি...অন্য কিছু বল.."
"না।আমার ওটাই চাই।কিছু পেতে গেলে কিছু তো হারাতেই হবে।তাই না?"
"মা....দেখেছ তো... দাদা প্রিন্ট আউট টা দিচ্ছে না.."
"ছিঁচকাঁদুনী কোথাকার..কিছু বললেই কেঁদে ফেলে।দাঁড়া তোকে মজা দেখাচ্ছি.."
"আ আ আ আ...মা দেখো দাদা চুল টানল......"
হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় রোহিণীর।বিছানার উপর উঠে বসে সে,টেবিল ল্যাম্প টা জ্বালিয়ে দেখে মা পাশে ঘুমোচ্ছে।আজ সকাল থেকেই ওর বিতানের কথা খুব মনে পরছে।বিতান,ওর দাদা।ছোটবেলা কত্ত মজা করেই না কেটেছে।বিতান তার থেকে নয় বছরের বড়ো,তাই ভয়ও সে কম পেত না দাদা কে।তবুও চলতো লেগ পুলিং।আর একটা কথা,মূলত যেটা শুনলেই ঘর হয়ে উঠত রণভূমি,বিতান যখন ই তাকে বলত,"মা তোর থেকে বেশি আমায় ভালোবাসে"..ব্যাস!!!! শুরু হত দক্ষযজ্ঞ।সত্যি..সে একটা সময় ছিল..
এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে রোহিণী বিছানা ছেড়ে পর্দা সরিয়ে জানলার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে নিজেও বুঝতে পারেনি।নিশ্ছিদ্র অন্ধকার চারিদিকে..এমনই ঘন কালো অন্ধকার তার জীবনেও নেমে এসেছিল প্রথম প্রেমের রূপ ধরে।তিমির,তার প্রথম প্রেম,শেষ ও বলা চলে।প্রেমের ঔদ্ধত্যে চিঁড় ধরতে লাগলো সব সম্পর্কে।বিতান তো পরিত্যাগই করেছিল তাকে।বছর কয়েক পর বিতানের বিয়ে হল।শীতল আস্তরণ আরো পুরু হতে লাগলো।বিয়ের পর রোহিণী পরমাদরে তার বৌদিকে দিদির স্থানে বসিয়েছিল।তখনো রোহিণীরা বুঝতে পারেনি বিতানের বৌ ঝড় হয়ে এসেছে তাদের সংসারে সব ধূলিসাৎ করবে বলে।
হঠাৎ ই মায়ের ডাকে ঘোর ভাঙলো রোহিণীর।
"কিরে,এত রাতে আলো জ্বেলে জানলার ধারে কি করছিস?শুবি আয়,কাল তো পরীক্ষার গার্ড আছে.."
"হ্যাঁ আছে তো।আসলে জল তেষ্টা পেয়েছিল তাই উঠেছিলাম।"
"হয়ে গেলে আলো নিভিয়ে শুয়ে পর।"
আগে দাদা যখন বলত মা ওকে বেশি ভালোবাসে তখন রাগ হত রোহিণীর,আর এখন কষ্ট হয়।আচ্ছা মা যখন আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিল তখন দাদা একবার ও কেন বাঁধা দিল না? মায়ের অভিমান টা একবারের জন্য বোঝার চেষ্টা করল না।ও কি মায়ের হাসির ফাঁকে কুঁকিয়ে ওঠা কান্না টা দেখতে পেল না?? আসলে দেখতে চাইনি হয়ত..
মা সেদিন খুব কেঁদেছিল।রোহিণীর হাত ধরে সেদিন বেড়িয়ে এসে আজকের রোহিণীর এই যোগ্যতা তৈরি করেছে তার মা।সেদিনের জন্য রোহিণী আজও ক্ষমা করতে পারেনি বিতান কে।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে তার জল তার গাল বেয়ে বুকের কাছের কাপড় টা ভিজিয়ে দিয়েছে টেরই পায়নি সে।চোখ টা মুছে বিছানায় এসে বসল,টেবিল থেকে মোবাইল ফোন টা নিয়ে ছোট বেলার ছবি গুলি দেখতে লাগল।হঠাৎ ই একটা ছবিতে এসে চোখ টা আটকে গেল,তাদের প্রথম রাখি পূর্ণিমার ছবি।দুটো স্বতঃস্ফূর্ত মন..যা চিরন্তন..।রোহিণীর কি মন গেলো সে মোবাইল থেকে ক্যালেন্ডার টা বের করে দেখল আজ ২৮ তারিখ..কাল ২৯.. কাল রাখি পূর্ণিমা..এবছরেও ফোন করে ডাকলে নানা কাজের অজুহাত দেখিয়ে কুরিয়ার করে দিতে বলবে হয়ত...ছবি টার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলতে লাগল রোহিণী..তবুও আমি অপেক্ষায় থাকব রে দাদা..কখন তুই মেসেজ করে বলবি,"আমি পরে নিয়েছি,তুই জল খেয়ে নে"...
রোহিণীর চোখের জল বাঁধ মানে না আর...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now