বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#দ্যা এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো ????
#ফ্যান্টাসি
#৩য় গল্পঃকারাজানের কালো ঘোড়া
#৮ম পর্ব
#জাকিউল অন্তু
আমি দ্রুতবেগে গাছপালা পেরিয়ে ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছি ।তন্ময় যেন নীচ থেকে আমায় একবার ডাকলো। কিন্তু এখন আর ওর ডাক শোনার সময় নেই। তাড়াতাড়ি ঘোড়াগুলো কে সুস্থ করতে পারলে বাঁচি।কিন্তু একি ?ঘোড়াগুলো গেলো কোথায়?
এইমাত্র যাদের আকাশে ভাসতে দেখেছি তারা হঠাৎ হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো কিভাবে ?ঘোড়াগুলোর যা আকার তাতে তারা ভেসে ভেসে অনেক দূরে চলে গেলেও স্পষ্ট দেখা যাবে এখান থেকে। খোলা আকাশে ওরা হারিয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। তাহলে হলোটা কি?কোন কারনে ওরা আবার নোভ্যালীতে নামেনি তো?হয়তো যে ফল খেয়ে তারা শুন্যে ভাসছিলো সে ফলের কার্যকারীতা শেষ!কারন তন্ময় কেও আর ওপরে ভেসে উঠতে দেখছিনা।
এসব ভাবছি ।হঠাৎ একটা বিকট চিঁহি শব্দ কানে এলো আর মারাত্মক ধাক্কা লাগলো শরীরে !আমি টাল সামলাতে না পেরে হুড়মুড় করে নিচে পড়ে যেতে লাগলাম। হাতের তলোয়ার টা প্রানপনে আকড়ে ধরে আছি। ওটা হাতছাড়া হলেও সমস্যা ।প্রবল বেগে ডানা ঝাপটে কোন কাজ হচ্ছেনা। আর ভেসে থাকতে পারছিনা। কিন্তু আমি পড়ছি তো পড়ছিই। যেন অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি ।আকাশ থেকে নোভ্যালীর মাটির মধ্যকার দূরত্ব খুব বেশী নয়। এতক্ষনে আমার মাটিতে ধাক্কা খাওয়ার কথা। কারন কারাজানের ঘোড়াগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় আকারে বড় হলেও নোভ্যালীর ফলের গাছগুলো স্বাভাবিক ফলের গাছের মতই উঁচু। ফলে মাটির নাগাল পাওয়া সহজ। তবুও কেন জানি আমার ভূমিতে পৌঁছুতে অস্বাভাবিক দেরী লাগছে।
কিন্তু আমায় ধাক্কা দিলো কে?ঘোড়া?
ওদেরকে দেখতে পেলামনা কেন?বড় ঘোড়াগুলো হঠাৎ অদৃশ্য হলো কিভাবে?কিছুই মাথায় ঢুকছেনা।
বহমান সময় যেন আচমকা থমকে গেছে। আর আমি পড়ে গেছি সেই আবদ্ধ সময়ের ফাঁদে!পিঠের ডানাগুলো সমানে ঝাপটাচ্ছি কিন্তু সোজা হতে পারছিনা। আমার পিঠ নোভ্যালীর মাটি বরাবর আর মুখ আকাশমুখী। অর্থাৎ ভূমি স্পর্শ করামাত্র আমার ডানাদুটো তুলনামূলক আগে আঘাতপ্রাপ্ত হবে। এখনো কেন মাটির সংস্পর্শে আসিনি তা বারবার ভাবতে লাগলাম। এই অনন্তকালের পতন আমার চিন্তাশক্তিকে স্তিমিত করে দিচ্ছে। ধীরেধীরে অবশ হয়ে আসছে শরীর। বা হাতের কব্জির বাঁধন থেকে আলগা হচ্ছে তলোয়ার। মাথা ঘুরছে।
সমুদ্রের তীরের অগভীর জলে যেমন অত্যন্ত গভীর লুকানো খাল থাকে তেমনি নোভ্যালীর মাটিতে নিশ্চয় লুকানো খাদ আছে। আর আমি সেই খাদেই পড়ে গেছি বোধহয়। ডুবন্ত মানুষ যেমন খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে। আমিও তেমনি আশেপাশের গাছগুলোর ডালপালা ধরে পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুতেই সফল হতে পারছিনা। একবার ভাবলাম হাতের তলোয়ার কোন একটা গাছে বিঁধিয়ে দিলে হয়তো নিচে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবো। চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু ফল হয়েছে উলটো।তলোয়ারটা একটা ধারেকাছের একটা গাছে আটকাতেই কিছুক্ষনের জন্য দোদুল্যমান অবস্থায় ঝুলছিলাম গাছে থেকে।
কিন্তু মিনিটখানেক পরেই ধারালো তলোয়ারের আঘাতে গাছটার বুক চিরে দু টুকরো হয়ে যেতে লাগলো আর আমি আবার নিচের দিকে পড়তে লাগলাম। কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। হুট করে এমন ঝামেলায় পড়বো তা বুঝিনি। নোভ্যালীর মাটি কি কোন রহস্যময় কারনে অনেক দূরে চলে গিয়েছে?
এমনটা হলে তার পেছনে একটাই কারন আছে।সেটা হলো নোভ্যালীর ফলের গাছগুলোর উচ্চতা!হঠাৎ করেই তারা স্বাভাবিক গাছের বদলে দীর্ঘাকার গাছে পরিনত হয়েছে। ফলে তাদের উচ্চতা বেড়েছে। কতটুকু বেড়েছে তা আন্দাজ করতেই আমার গা ঘামতে শুরু দিলো। নিচে তন্ময় আছে। ও এর আগেও কিছু অদ্ভুত ঘটনার সসম্মুখীন হয়েছে বটে,কিন্তু সাধারণ ফলের গাছকে হঠাৎ দৈত্যাকৃতি হতে দেখেনি নিশ্চয়।এতক্ষনে একা একা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মনে হয়।
একটা ব্যপারে খটকা লাগছে। গাছগুলোর উচ্চতা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু আগার দিকে নয় গোড়ার দিক থেকে। অর্থাৎ কোন কারনে গাছের বর্ধিষ্ণু উচ্চতা মাটিকে নিচের দিকে ঠেলে নেমে গেছে।আমার চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে। গাছে গাছে যে জ্বলজ্বলে ফলগুলো আলো ছড়াচ্ছিলো সেগুলো নিভে গেছে। আমি তলিয়ে যাচ্ছি অতল অন্ধকারে। নিজের চেয়ে বেশী চিন্তা হচ্ছে তন্ময়ের জন্য। তন্ময় এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে আছে নিচে কোথাও।
সমগ্র নোভ্যালী বাগানটা যেন গাছসমেত জেগে উঠেছে। নিচ থেকে ভেসে আসছে ভয়ানক কিছু শব্দ। আমার চারদিকে যেন ঘুরছে অসংখ্য অশরীরী আত্মা। তারা শোরগোল করছে ঠিক আমার কানের কাছে। আমি এই বাগানে প্রবেশ করি সেটা যেন তারা চায়নি। তাই দুর্বল অথচ তীক্ষ্ণ কন্ঠে আমায় অভিশাপ দিচ্ছে, তিরস্কারে মেতে উঠেছে। একটা আবছা আলোর বলয় আমায় ঘিরে চক্রাকারে ঘুরছে যেন। কি ওটা? একটা প্রানীর গলা থেকে বেরুনো ঘড়ঘড়ে গর্জন কানে এলো আচমকা। অশরীরী অথবা শরীরী অনেকগুলো প্রানী আমায় ঘিরে আমার সাথেই নিচে পড়ছে বলে মনে হলো। তারা হয়তো আমার নিচে পড়ার জন্য অপেক্ষা করছে। তারপর নোভ্যালীতে অনুপ্রবেশের দায়ে আমায় শাস্তি দেবে। এসব দেখতে দেখতেই একসময় হাতের কাছে সাপের মত কিছু একটা ঠেকলো। দ্রুত হাতটা নাড়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু তার আগেই সেটা আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে লাগলো।তারপর পা উপরে মাথা নিচে দিয়ে ঝুলতে থাকলাম। বুঝলাম বিশাল কোন সাপ আমায় আক্রমণ করেছে। অন্ধকারের মধ্যে তার ফোঁসফোঁস আওয়াজ পেলাম। দুটো লাল চোখ দৃশ্যমান হলো চোখের সামনে। তারপর একটা নয় জোড়ায় জোড়ায় লাল, নীল, সবুজ হরেক রকমের চোখে পড়তে লাগলো। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই হিংস্র চোখের লোলুপ দৃষ্টি আমার দেহকে আরো দুর্বল করে দিচ্ছে। একদল ভয়ানক প্রানীর হাতে কিছুক্ষনের মধ্যেই মরতে হবে আমাকে। বন্ধু তন্ময়ের সাথে শেষ দেখাটাও আর হবেনা।কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
হাতের ভায়োলেট হিলিং টাচ অনেক আগেই আপনা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ওটা থাকলে তার অল্প আলোয় অন্তত আমার মৃত্যুদূতদের শেষবারের মত দেখে নিতে পারতাম। সেটা আর সম্ভব নয়। চারদিকে যেন প্রানীদের ভীড় বাড়ছে। নানারকম অদ্ভুত আর হাড় হিম করা শব্দ ভেসে আসছে চারদিক থেকে।কিন্তু এ জঙ্গলে তো কোন প্রানী ছিলোনা। থাকলে ওডিলি আমায় সাবধান করে দিতো। অবশ্য ঐ অল্প একটু সময়ে এতবড় জঙ্গলের কতটাই বা আমরা দেখেছি?
এখন আমাকে মরতে হবে অজ্ঞাত একদল প্রানীর হাতে।কিন্তু বেশকিছু সময় কেটে যাবার পরেও তেমন কিছু ঘটছে না।শুধু শব্দ আগের মতই চলছে।
এবার শব্দের ধরন খানিকটা পাল্টালো। এখন শুনতে পাচ্ছি গাছের ভেঙে পড়ার মটমট শব্দ। নোভ্যালীর সব গাছের গোড়া যেন একসাথে কেটে দেয়া হয়েছে। সব গাছ একটা আরেকটার ওপর ভেঙে পড়ছে। হিংস্র প্রানীদের গলা থেকে বেরুনো শব্দ আর গাছপালার মড়মড় শব্দ কানে তালা লাগিয়ে দিচ্ছে। তার ওপর আমি ঝুলছি উলটো হয়ে। মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে এটা ভেবে যে তন্ময় যদি গাছপালার নিচে পড়ে যায় অথবা আমার মতই হিংস্র প্রানীর কবলে পড়ে তাহলে অন্তিম সময়ে আমায় ক্ষমা করতে পারবে তো?
এভাবে আর কতক্ষণ? ওডিলি এতকিছুর পরেও যোগাযোগ করেনি আমার সাথে। করবে কিনা তাও নিশ্চিত না। এখন আমাকেই কিছু একটা করতে হবে। ভাগ্য ভালো যে এত ঝামেলার পরেও তলোয়ারটা হাতছাড়া হয়নি।আমার মুঠোর মধ্যেই আছে। শুধু ওর চারপাশের সবুজ আলোকিত রেখাটি নেই বলে অন্ধকারে হাতড়ে অনুমান করতে হচ্ছে। কিন্তু এমনভাবে পেঁচিয়ে আছি যে তললোয়ারটা বিন্দুমাত্র নাড়াতে পারছিনা।বামপায়ের হাটুর ওপর তলোয়ারের ধারালো ফলাটা একপাশ হয়ে পড়ে আছে। আমি যদি বেশী নাড়াচাড়া করি তাহলে বাম হাটু তলোয়ারের আঘাতে কেটে যাবে।
আমি বামহাতের মুঠো দিয়ে তলোয়ার টা আরো শক্ত করে ধরলাম।তারপর শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেটা নাড়াতে চেষ্টা করলাম। হাটু একটু কাটলে কাটবে। নাহ!তবুও লাভ হচ্ছেনা। আমি যত নড়ছি আমার শরীরে তত পেঁচিয়ে যাচ্ছে সাপের মত প্রানীটি।
হাল ছেড়ে দেবার মত অবস্থা হলো। এভাবে উল্টোভাবে ঝুলতে থাকলে এমনিতেই মরে যাবো। কেউ আক্রমন করার দরকার নেই।
বাঁচার আশা যখন প্রায় ছেড়ে দিয়েছি তখন একটা ডাক আমাকে আবার আশান্বিত করে তুললো। হ্যা!তন্ময় চিৎকার করে ডাকছে আমায়।
"অন্তুউউউউ! কোথায় তুই? এই অন্ধকারে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমায় বাঁচা।অন্তুউউউ!" বলে কাঁদতে লাগলো তন্ময়।
আমি ভাবলাম ওকে সাহায্য করতে না পারি অন্তত কথা বলে সান্তনা তো দিতে পারি।
তাই শুরু করলাম।
"আমি আছি তন্ময়। তোর খুব কাছেই আছি। তুই ভাবিস না।আমি আসছি তোর কাছে। "
তন্ময় একটু সাহস পেলো। যেখানে আমিই ভয় পাচ্ছি সেখানে তন্ময়ে ভয় পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
তন্ময় কান্না থামিয়ে ভারী গলায় বললো "কোথায় তুই? আমাকে এই অন্ধকার থেকে দূরে নিয়ে চল। আর পারছিনা!"
"তুই ভয় পাসনা বন্ধু। একটু ধৈর্য ধর। "
এবার আমার শেষ চেষ্টার পালা। প্রানপনে তলোয়ার টা একহাতে চেপে ধরে নাড়াতে চেষ্টা করলাম। অনেক চেষ্টার পর একটু নাড়াতে পারলাম। শরীরের বাঁধন সামান্য আলগা হয়েছে। এই সুযোগে তলোয়ারের ধারালো অংশটা শরীরে পেচানো বস্তুতে আঘাত হানলো। ঘ্যাচঘ্যাচ শব্দে কেটে যাচ্ছে বাঁধন।উষ্ণ আঠালো তরল বেরিয়ে আসছে লতানো যায়গা থেকে। ওটা নিশ্চয় প্রানীটার রক্ত। বামহাত ভিজে গেছে সেই তরল নিঃসরনে।পেচানো বস্তগুলো কাটতে কাটতে তৃতীবারের মত আরেকটা শব্দ কানে এলো। সেটা জলের ছপছপ শব্দ। তারসাথে সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জনের মত গর্জন! আচমকা বিদ্যুৎ চমকে উঠলো নোভ্যালীতে। সেই অল্প আলোয় দেখলাম এক অদ্ভুত দৃশ্য। তন্ময় আমার থেকে অনেক দূরে মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে।ওর চারপাশে জল কলকল করে জল বাড়ছে। আসার সময় দেখেছি নোভ্যালী থেকে খুব বেশী দূরে নয় সমুদ্র।সেই সমুদ্রে জোয়ার এসেছে বোধহয়। সেই জোয়ারের জলে ভেসে যাচ্ছে নোভ্যালী!এমন ও হতে পারে জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে সমুদ্রে। সমুদ্র ফুঁসে উঠে তার ঢেউয়ের তোড়ে জল ঢুকিয়ে দিচ্ছে বাগানে। তন্ময়ের বিপদ বেড়ে গেছে শতগুনে। কারন ও সাতার জানেনা। জল যত বাড়বে ওর বিপদ তত বেশী।
আমি উপরের দিকে তাকালাম। আবার বিদ্যুৎ চমকালো।কিছুক্ষন পরপর অন্ধকার আকাশ বিদ্যুতের আলোয় ঝলসে উঠছে। সেই আলোয় আরেকটা অবাক করা দৃশ্য আমায় চমকে দিলো। এতক্ষন যে জিনিসটাকে সাপ মনে করে এসেছি সেটা আসলে গাছের লতা।আর আশেপাশের অন্ধকারে জাজ্বল্যমান চোখগুলি আসলে গাছপালার কোটর নির্গত আলো। প্রশ্ন হচ্ছে ভয়াল শব্দগুলোর উৎস কি?গাছগুলোই কি এতক্ষণ ভয়ের মোহে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো আমাকে?কি অসাধারণ সম্মোহনী ক্ষমতা ওদের।
এখন সেটা ভাবার সময় নয়। দ্রুত লতাটা কেটে সেটা ধরেই গাছ বেয়ে নিচে নামতে লাগলাম। আধো আলো আধো অন্ধকারে নিচে তাকিয়ে দেখি জলের উচ্চতা বাড়ছে ।তন্ময়ের গলার কাছাকাছি চলে এসেছে জল।ও ভয়ে জমে গেছে। চিৎকার পর্যন্ত করতে পারছেনা বেচারা। আমি নামার গতি বাড়িয়ে দিলাম। কিন্তু ততক্ষনে জলের তলায় চলে গেছে তন্ময়।নিচে জল আছে তাই তন্ময়কে বাঁচাতে গাছ থেকেই লাফ দিলাম জলে।জলের তলায় গাঢ় অন্ধকার। কিছুই দেখা যায়না স্পষ্ট করে। ঠিক এইমূহুর্তে আমার তলোয়ার আমাকে সহায়তা করলো। সবুজ আলোসহ বাতির মত জ্বলে উঠলো ওটা ।তার আলোয় তন্ময়কে দেখতে পেলাম ।একটু দূরে হাচড়পাচড় করে ডুবে যাচ্ছে ও। আমিও হাত পা নেড়ে এগিয়ে গেলাম ওদিকে ।তন্ময়ের মাথাটা তুলে ধরলাম জলের ওপরে।ও কাশতে লাগলো। নাকে মুখে পানি ঢুকে বেশ নাজেহাল অবস্থা হয়েছে ওর ।এখনো বিপদ কাটেনি। বিশাল বনভূমির মাটির ওপর জলের উদ্ভব হয়েছে। সেই জলে হয়রান অবস্থায় তন্ময় কে নিয়ে ভাসছি আমি।ওদিকে আমার দম ও ফুরিয়ে এসেছে ।আর কতক্ষণ সাঁতরাতে পারবো জানিনা।
তন্ময় আমায় পেয়ে খুশি হয়েছে। এই অন্ধকারেও ওর মুখে আশান্বিত হাসি দেখতে পেয়েছি।
এখন এই ভয়াল বন থেকে বেরুবার পালা। জলের উপরিভাগে ভেসে ডানাগুলো ঝাপটাতে থাকলাম ।ডানা ছাড়া এই বাগান ত্যাগ করা অসম্ভব। ছপছপ আওয়াজ করে ডানাগুলো ঝাপটে যাচ্ছে কিন্তু উপরে উঠতে পারছিনা। বহু চেষ্টার পরেও কাজ হচ্ছেনা।এদিকে জল বেড়ে যাচ্ছে। মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে।তলোয়ার টা মাথার কাছের একটা গাছে শক্ত করে বিঁধিয়ে দিয়ে ওটার ওপর তন্ময়কে নিয়ে খুব সাবধানে দাঁড়ালাম। পা রাখার জায়গা হচ্ছেনা।
তবুও ডানাদুটো নাড়ানোর জন্য ফাঁকা জায়গার প্রয়োজন। এবার ডানা ঝাপটাতেই কাজ হলো।উড়তে পারছি। তলোয়ার টা টান দিয়ে খুলে নিলাম গাছ থেকে। তারপর একহাতে তলোয়ার অন্যহাতে তন্ময়কে নিয়ে উড়াল দিলাম আকাশে। তারপর সমুদ্রের দিকে চোখ পড়তেই নোভ্যালীতে জল বাড়ার কারন বুঝতে পারলাম। জোয়ার চলছে সমুদ্রে। সেই জোয়ারের জলের ঢেউকে আরো উত্তাল করে দিয়েছে কারাজানের কালো ঘোড়ার দল। তারা লড়াই করছে তীরের কাছের জলে। ভারী শরীর নিয়ে একজন আরেকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এগিয়ে যেতে যেতে দেখলাম ধারালো দাঁত দিয়ে নিরীহ একটা ঘোড়াকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাচ্ছে একটা হিংস্র ঘোড়া!
আর দেরী না করে এখুনি ওদের সুস্থ করে তুলতে হবে। কিন্তু তার জন্য ফল দরকার। পকেটে হাত দিয়ে আৎকে উঠলাম। প্রতিষেধক ফলটি নেই। দুই পকেটের একটাতেও নেই। তন্ময়কে বলাতে ও ঘাবড়ে গেলো।
"এখন উপায়? "বলেই ও আমার ডানার একটা অংশের দিকে হাত দিয়ে বললো "ওটা কি? "
আমি ডানা বললাম "কোনটা"?
তন্ময় হাত দিয়ে জিনিসটা ডানা থেকে তুলে দেখালো। দেখলাম প্রতিষেধক ফলের একটা থেতলে যাওয়া অংশ ওটা।ফলের এই সামান্য অংশ দিয়ে কি ঘোড়াদের সুস্থ করা যাবে নাকি আবার নোভ্যালীতে ফিরে গিয়ে নতুন ফল সংগ্রহ করতে হবে?নোভ্যালীতে আবার ফেরার কথা আমরা চিন্তাই করতে পারছিনা।
(চলবে)
(গল্পের খাতিরে একটা পর্ব বাড়ানো হলো)
(অন্তিম পর্ব আগামীকাল)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now