বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মা:আমির এই আমির, বাবা তাড়াতাড়ি উঠ।
আমি:উমমমমমম মা যাও তো ঘুমাতে দেও।
মা:এই কয়টা বাজে খবর আছে হারামজাদা।তোর না আজ কলেজের প্রথম ক্লাস সাড়ে নয়টা বেজে গেছে যাবি কখন শুনি।
আমি:কিহহহহহ সাড়ে নয়টা বাজে তুমি আমাকে আরো আগে ডাক দিবা না(বিছানার থেকে লাফ দিয়ে উঠে)
মা:তোকে আমি সকাল আটটার থেকে ডাকা শুরু করছি।কিন্তু তোর উঠার কোন নাম গন্ধই নেই(রাগে ????????)
তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয় আমি তোর জন্য টেবিলে খাবার রাখছি।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৯:২০মিনিট বাজে।
ওওও আপনাদের তো আমার পরিচয়টা দেওয়া হয় নাই।সম্যাসা নাই ফ্রেশ হতে হতে আমার পরিচয়টি দিয়া ফালাই আমার নাম আমির হোসেন।এতক্ষণ যার সাথে কথা বলছিলাম উনি আমার সুইট আম্মু।আমি এবার অনার্স ১ম বর্ষে উঠলাম।
আজকে আমার কলেজের প্রথম ক্লাস তাই আম্মুকে বলে রাখছিলাম সকালে ডেকে দিতে।
ওপসস আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে আমার কলেজে লেট হয়ে যাচ্ছে।যাই এখন হালকা ব্রেকফাস্ট করে নিই।না হলে আবার আম্মু বকা দিবে।
হালকা ব্রেকফাস্ট করে স্কুলের ব্যাগটি কাধে ঝুলিয়ে বের হওয়ার সময় আম্মু আমাকে ডেকে হাতে পাঁচশ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বল্ল যা মন যাবে তা যেন খাই।
আমি পাঁচশ টাকা পেয়ে নাচতে নাচতে কলেজে চলে গেলাম।
কলেজে গেইট দিয়ে টুকার সময় হঠাৎ আচমকা কিসের সাথে জানি ধাক্কা লাগে।
আমি:কোন হারামজাদা রে আমারে ধাক্কা মারছে।
সামনে তাকিয়ে দেখি একজন সুদর্শন রমনী আমার থেকে তিনহাত দূরে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে।মনে হয় কোনো পরী ভূলে ধরনীতে চলে এসেছে।
টানা টানা কাজল কালো চোখ,দুধের আলতা গায়ে রঙ।
দেখার সাথে এক গাট্টি ক্রাস খাইলাম।
মেয়েটা উঠে এসে আমাকে বলল
মেয়েটি:ওই মিয়া চোখে দেখেন না।চোখ কোথায় রেখে হাটেন।নাকি সুন্দরি মেয়ে দেখলেই ধাক্কা খেতে মন চায়।(রাগে এটম বোম হয়ে)
আমি:ওই হ্যালো ম্যাম আপনি চোখে দেখেন না।নাকি চোখ বাসায় রেখে আসছেন কোনটা।আর আপনি সুন্দরি হা হা হা হাসাইলেন ম্যাম।আপনার চেহারা তো একদম কটকটির মতো।
মেয়ে:কিহহহ আমার চেহারা কটিকটির মতো(রাগে ফায়ার হয়ে।)
তবে রে তরে আমি কি আজকে কি যে করমু।
মনে মনে ভাবছি এখানে থাকাটা সুবিধার হবে না।যেকোনো মুহুর্ত্বে বম বাস্ট হয়ে যেতে পারে।যে লেভেলের মাইয়াটার রাগ উঠছে।চাচা আপন প্রান বাচা।
মেয়ে:ওই কুওা,বিলাই,হনুমান হারামজাদা,ব্লা ব্লা ব্লা কই যাস দাড়া তুই।
আমি:মে আই কামিং স্যার।
স্যার:ইয়েস কামিং।আমির এতো লেট হয়েছে কেন?
আমি:রাস্তায় প্রচুর যানজট স্যার তাই একটু দেরি হয়ে গেছে।
স্যার :আচ্ছা যাও তোমার সিটে গিয়ে বস।
ক্লাসের চারদিকে তাকিয়ে দেখি পিছনের একটা সিট বাদে সমস্ত সীট বুক হয়ে গেছে।কি আর করার পিছনের সীটে গিয়ে বসতে হল।
ক্লাস চলছে হঠাৎ করে একটা মেয়ে স্যারকে উদ্দেশ্য করে বল্ল।
মেয়ে:স্যার আসতে পাড়ি।
স্যার :আরে মিম যে আস আস।তা আসতে তোমার এত দেরি হল কেন।
আমি মনে মনে ভাবছি আরেব্বাস এই মাইয়া আমাদের ক্লাসে কেন।
মিম:স্যার আর বলবেন না আসার সময় একটা বজ্জাত পোলার সাথে ধাক্কা খাওয়ার কারনে আসতে দেরি হয়েছে।
স্যার:তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই ও হল মাইশা আক্তার মিম।ওর আব্বু এখানে ট্রান্সফার হওয়ার কারনে এই কলেজে ভর্তি হয়েছে।মিম তোমাদের ক্লাসমেট।
মিম যাও তোমার সিটে গিয়ে বস।
আমি মনে মনে ভাবছি যেমন চেহার তেমন তার নাম আহহ।
মিম ক্লাসের চারদিকে তাকাচ্ছে সীট খুজার জন্যে।
আমাকে এই ক্লাসে দেখে রাগী লুক নিয়ে আমার দিকে তাকলো।আমি আবারও তার রাগী চেহারায় ক্রাস খাইলাম।ক্লাসে একটাও সীট খালি না থাকার কারনে আমার পাশে এসে বসল।
আমি স্যারের লেকচার না শুনে বার বার মিমের দিকে তাকাচ্ছিলাম।ওর দিকে তাকানোর কারনে আমার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকায়।
কলেজ ছুটি দেওয়ার পর যখন বাড়ির দিকে রওনা দিব ঠিক তখনই মিম আমার পিছনের শার্টের কলার ধরল।
মিম:ওই তুই ওই সময় আমাকে কি বলছিলি।আর ক্লাসে আমার দিকে এমন করে তাকিয়ে ছিলি কে।(রাগে কথাটি বল্ল)
আমি:ককককই আআআমি আপনননার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।আমি তো জানালার দিকে তাকিয়ে ছিলাম
(তোতলাতে তোতলাতে)
মিম:ওই মিথ্যা কথা বলবি না বলতাছি(শার্টের কলার ধরে)
আমি:না সত্যি আমি আপনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম না) ডাহা মিথ্যা কথা)
মিম:এবার কার মতো ছেড়ে দিলাম।আর কোনো দিন যদি আমার সাথে পাঙ্কা নিতে আসিস তাহলে টেঙ্গ ভেঙ্গে হাতে ধরিয়ে দিব।
আমি:আমি মনে মনে বলছি কি গুন্ডি মেয়েরে মাইরি।একদম ধানি লঙ্কা।
মিম:ওই কিছু বললি তুই।
আমি:না না কিছু বলি নাই হি হি হি।
মিম:ওই মুখ বন্ধ কর।এখন যা তুই।
আমি:আচ্ছা
কি আজব ক্যারাক্টার মাইরি।মাইয়া তো না যেন আগুনেরই গুলা।কিন্তু চেহারা হেব্বি মাইরি।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে খাবার টেবিলে চলে গেলাম।হঠাৎ আব্বু প্রশ্ন করে বসল,,,,,
আব্বু:আজকে কলেজের প্রথম ক্লাস কেমন কাটল।
আমি:জ্বি আব্বু খুব ভালো কেটেছে।
আমি খাবার খেয়ে রেস্ট নেওয়ার জন্য ঘুমিয়ে গেলাম।
বিকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙ্গে।ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়তে চলে গেলাম।
নামাজ পড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া জন্য মাঠে চলে গেলাম।
আশিক:আরে মাম্মা কেমন আছ?বস বস।
আমি:ওই আলগার ঘরের আলগা, পাঠা ঘরের পাঠা তরে না কইছি আমারে মাম্মা ডাকবি না।কানে যায় না কথা।নাকি কানের নিচে তবলা বাজামু।
আশিক:আরে মাম্মা চেতো কে।
আমি:তবেরে ফইন্নি ঘরের ফইন্নি তরে আমি খাইছি আজকে(মারতে মারতে)
রাজু:আহ তোরা প্রতিদিন এইসব কি শুরু করস।থাম তোরা।
আসলে প্রতিদিন আমি এই বিষয় নিয়া ঝগড়া করি।বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে যখন বাসায় রওনা দিব ঠিক তখনই কারোও সাথে ধাক্কা লাগে।সামনে তাকিয়ে দেখি এটা আর কেউ না সেই গুন্ডি মেয়েটা।মানে বুঝলেন না মিম।
মিম উঠেই আমার শার্টের কলার ধরে বল্ল
মিম:এই কুত্তা বিলাই হনুমান বান্দর ব্লা ব্লা ব্লা তুই আবারো আমাকে ধাক্কা দিসছ।তর ঘরে কি মা বোন নাই।যতসব থার্ট ক্লাস পোলাপাইন।
আমি:ওহে এই যে মিম আমি আপনাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দেই নাই হুমম।আপনি তো আমার সামনে এসে পড়েছেন।
মিম:তর মতো পোলাপাইনদের আমার খুব ভালো করে চিনা আছে।যতসব ফালতু পোলাপাইন।(ভন ভন ভন করে থুক্কু হন হন করে চলে গেল।
আমি:বালিকার অমূ্ল্য বানীতে আমার পাছা দিয়া ধোয়া থুক্কু নাক দিয়া ধোয়া থেত্তেরি কান দিয়া ধোয়া বের হচ্ছে।কিন্তু কিছু করার নাই বালিকা চলে গিয়েছে।
কিছু বলতে না পারায় বিদায় এক বালতি আফসুস নিয়া বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসলাম।আমি যতই বাদরামি করি না কেন আমি ঠিক সময় পড়ালেখা করি।
পড়তে পড়তে আম্মুর ডাক পড়ল ডিনার করার জন্য।বই রেখে রাতের খাবার ঘুমোতে চলে গেলাম।শুয়ে শুয়ে মেয়েটার কথা ভাবতে লাগলাম।ভাবতে ভাবতে ঘুমের দেশে হারিয়ে যাই।
সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙ্গল।ফ্রেশ হয়ে হালকা ব্রেকফাস্ট করে কলেজে যাওয়ার জন্য রিক্সা করে রওনা দিলাম।কিছু দূর যাওয়ার পরে দেখলাম রাস্তার পাশে মানুষের একটা জট পেকে রয়েছে।
ব্যাপারটা দেখার জন্য রিক্সাওয়ালা মামাকে থামতে বল্লাম।
ব্যাপারটা দেখার জন্য সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখি মিম এক্সিডেন্ট করে রাস্তার পাশে পড়ে আছে।এটা দেখার সাথে সাথে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।
মিমকে সাথে নিয়ে রিক্সা করে হাসপাতালে রওনা দিলাম।মিমের সারা শরীরে রক্তের মাখামাখি।
মিমকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিলাম।
মিমকে অপারেশন থিয়েটারে ভর্তি করিয়ে দিলাম।
ডাক্তার অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হওয়ার সাথে আমি বল্লাম ডাক্তার বাবু মিমের এখন কি অবস্থা।
ডাক্তার:দেখেন রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ।প্রচুর ব্লাডিং হওয়ার কারনে মৃত্যুর সম্ভবনা রয়েছে।এখনই ও পজেটিপ রক্ত ব্যবস্তা করতে হবে।না হল রোগীকে বাচানো যাবে না।
আমি:ডাক্তার সাব আমি দিব রক্ত।আমার রক্তের গ্রুপ ও পজেটিভ।
ডাক্তার:তাহলে এখনই আমার সাথে চলুন।
আমি:ডাক্তার সাব মিমের জ্ঞান কখন ফিরবে।
ডাক্তার:দেখুন এখন কিছু বলা যাচ্ছে না আগামীকাল না আসা পর্যন্ত। এতক্ষণ আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।
এতক্ষণে অলরেডি মিমের আম্মু চলে এসেছে।কারন আমি মিমের আম্মুকে ফোন দিয়ে মিমের এক্সিডেন্টের কথা বললাম।
মিমের আম্মু:আমার মিম কেমন আছে বাবা(কাদতে কাদতে)
আমি:আন্টি কাদবেন না।মিম এখন বিপদ মুক্ত।ডাক্তার বলেছে আগামীকালের মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে।
আন্টি:তোমাকে কিভাবে ধন্যবাদ দিব বাবা আমার জানা নাই।
আমি:না আন্টি এভাবে বলবেন না।আমি আপনার ছেলের মতো।মিম আমার ক্লাসমেট আমার তার এইটুকু করার কর্তব্য রয়েছে।
তাহলে আন্টি আমি এখন আসি।আমার মা চিন্তা করবে।আমি আবার কাল সকালে আসব।
আন্টি:আচ্ছা সাবধানে যাও বাবা।
বাসায় পৌছাতে পৌছাতে রাত হয়ে যায়।
আম্মু:কিরে এতক্ষণ কোথায় ছিলি।
আমি:আম্মু আমার এক বন্ধু এক্সিডেন্ট করেছে ওখানেই ছিলাম।
আম্মু:আচ্ছা আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি ফ্রেশ হয়ে আয়।
ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমোতে চলে গেলাম।আজকে অনেক ধকল যাওয়ার কারনে শুয়ার সাথে সাথে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।
সকালে পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুমটি ভেঙ্গে যায়।
ফ্রেশ হয়ে হালকা ব্রেকফাস্ট করে হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।
হাসপাতালে যেয়ে দেখি মিমের আম্মু মিমকে হাতে তুলে খাওয়াচ্ছে।
আন্টি:বাবা তুমি এসেছ বস বস।মিম এই যে এই ছেলেটি তোকে রক্ত দিয়ে বাচিয়েছে।(আমাকে উদ্দেশ্য করে)
আন্টির এই কথা মিম অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
আমি:মিম এখন শরীরের কি অবস্থা তোমার।
মিম:ভালো তুমি কেমন আছ?
আমি:ভালো।ডাক্তার কখন ডিসকাস করবে বলল।
মিম:আজকে বিকালে ছেড়ে দিবে বল্ল।
আমি:আন্টি আজ তাহলে আমি আসি।
আন্টি:কি বল এখনই চলে যাবে।
আমি:জ্বি আন্টি আমার ইমপোটেন্ট ক্লাস আছে।
আন্টি:আচ্ছা যাও।
আসার সময় মিম আমার কেমন করে জানি তাকিয়ে ছিল।
হাসপাতাল থেকে এসে বাড়িতে চলে গেলাম।
দুই দিন পর.......
আজ কলেজে যাচ্ছি।এই দুই দিন মিম কলেজে আসেনি।
ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় হঠাৎ একটা ছোট ছেলে আমাকে উদ্দশ্যে করে বল্ল ভাইয়া আপনাকে একটা আপু ডাকছে।ওই গাছের নিচে আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে।
আমি:ওই তোরা বস তো দেখি কে আমাকে ডাকে।
গাছের কাছে গিয়ে দেখি মিম চেয়ারে বসে আছে।
আমি: কেমন আছ মিম।আন্টি কেমন আছে।
মিম:ভালো আম্মুও ভালো আছে।তুমি কেমন আছ?
আমি:ভালো।
মিম:তুমি আমাকে ক্ষমা করে দেও আমির।তোমাকে আমি ভূল বুঝে অনেক অপমান করেছি।(অনুনয় সুরে)
আমি:না আমি কিছু মনে করি নি।
মিম:ধন্যবাদ।আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি।(হাত বাড়িয়ে দিয়ে)
আমি:হুমম অবশ্যই।
শুরু হল আমাদের বন্ধুত্বের পথচলা।শেয়ারিং কেয়ারিং করা। ক্লাস ফাকি দিয়ে ঘুরতে যাওয়া।হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া ইত্যাদি।
দেখতে দেখতে আমাদের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ।এর পাশাপাশি মিমের প্রতি আমি অনেকটা দূর্বল হয়ে গেছি।কিন্তু বন্ধুর্ত্বের হারানে ভয়ে মিমকে ভালোবাসার কথা বলতে পারিনা।
আজ যেভাবে হওক মিমকে আমার ভালোবাসার কথা বলতে হবে।আজ মিমকে পার্কে আসতে বলেছি।আমি পার্কে মিমের অপেক্ষায় বসে আছি।দূর থেকে তাকিয়ে দেখি কালো শাড়ি পড়া একটা অপ্সরী আসছে।এটা আর কেউ না মিম।
মিম:হঠাৎ পার্কে আসতে বললে কেন??
আমি:মিম তোমার সাথে আমার একটা গুরুত্বপূর্ন কথা আছে।
মিম:কি কথা বল?
আমি সাথে সাথে মিমের সামনে হাটু গেড়ে বসে বলতে লাগলাম,,
তুমি কি আমার কিউট বাবুনির প্রেত্নী আম্মু হবা।কথা দিচ্ছি তোমাকে কিছু না দিতে পারলেও এই বুকের মাঝে তোমাকে আগলে রাখব।
সাথে সাথে মিম আমার গালে থাপ্পর মারল।আচমকা থাপ্পর মারার কারনে আমি হ্যাবলাকান্ত মতো দাড়িয়ে রইলাম
হঠাৎ মিম আমাকে জরিয়ে ধরে বলতে লাগল
আমি:আমিও তোমাকে অনেক আগের থেকে ভালোবাসি।কিন্তু তুৃমি জানো না মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফাটে না।তুমি আমাকে দেরি করে প্রপোজ করার কারনে থাপ্পরটা মারলাম(কাদতে কাদতে কথাগুলো বল্ল)
আমি:তাহলে তুমি রাজি(খুশি হয়ে)
মিম:হুমম।
উম্মাহহহহহ।
মিম:এটা কি হল(রাগী লুকে)
আমি:কি হল(না জানার বান করে।আসলে মিমকে গালে কিস করছি।)
মিম:তুমি আমাকে কিস করলে কেন?(????????)
আমি:সরি এবারের মতো মাফ করে দেও।
মিম:যাও এবারের মতো মাফ করে দিলাম।দ্বিতীয় বার এই ভূল আর করবে না।
আমি:আচ্ছা।
আমরা সারাদিন ঘোরাফেরা করে সন্ধ্যার সময় মিমকে পৌছে দিয়ে আমার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
কলিংবেল টিপার সাথে সাথে আম্মু দরজা খুলে দিল।
যখন নিজের ঘরে চলে যাব।ঠিক তখনই আব্বুর ডাক পড়ল।
আমি:আব্বু আমাকে ডেকেছেন।
আব্বু:আমি তোমাকে ভালো ছেলে মনে করেছিলাম।আর তুমি আমার মান সম্মান সব বঙ্গপোসাগরে ডুবিয়ে দিলে।
আমি:আব্বু তুমি কি বলছ আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা।
আব্বু:আজকে বিকালে তোমার সাথে একটা মেয়ে দেখেছিলাম সে কে??
আমি:আরেব্বাস আব্বু দেখল কিভাবে(মনে মনে বললাম)
আব্বু মেয়েটার নাম হল মিম।আমার ক্লাসমেট।আমি ওকে খুব ভালোবাসি(ভয়ে ভয়ে)
আব্বু:শুনছ আমিরের মা তোমার ছেলে প্রেমে পড়ছে।
আম্মু:শুনলাম তো।এখন এদের বিয়া দিতে হবে।না হলে বাহিরের লোকেরা খারাপ ভাববে।
এই দিক দিয়ে ওনাদের কথা লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম।
আব্বু:আজ রাতে তোমাদের বিয়া দেওয়া হবে।
আমি:জ্বি আব্বু।(খুশিতে আমার লাড্ডু ফুটল।আহ ভালোবাসার মানুষকে সারাজিবনের জন্য কাছে পাব)
পরে জানতে পারলাম আমার আব্বু ও মিমের আব্বু বন্ধু ছিল।তারা ছোটকাল থেকেই বিয়া ঠিক করে রেখেছিল।
বিবাহর সমস্ত ঝামেলর উপেক্ষা করে বাসর ঘরের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি।ভেতরে টুকতে খুবই ভয় করছে।বন্ধুরা জোর করে বাসর ঘরে টুকালো।
সামনে তাকিয়ে জান্নাতের হুর ঘাটের মাঝখানে বসে আছে।
আমার আসার শব্দ শুনে মিম নিচে নেমে আমাকে সালাম করল।
আমিও মজা করে বল্লাম বেচেঁ থাক মা বেচেঁ থাক স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে সংসার কর।
মিম আমার কলার ধরে বল্ল
মিম:ওই তুই আমারে কি বল্লি(রাগে ফায়ার হয়ে)
আমি সাথে সাথে আমার ঠোট দ্বারা মিমের কথা বন্ধ করে দিলাম।ফলে পরিস্থিতি শান্ত হল।মিম লজ্জা পেয়ে আমার বুকে মাথা রাখল।
মিম:এই শুনোনা আমার কিন্তু একটা বাবু লাগবে(লজ্জা লাল হয়ে)
তাহলে চল আমরা বংশবৃদ্ধির কাজ শুরু করে ফেলি।
মিম:যা দুষ্টু আমার লজ্জা করে (লজ্জায় আমার বুকে মুখ লুকালো)
ওই মিয়া আপনারা যান আমরা এখন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার টিম গঠন করব হি হি হি হি।
স.....মা.......প্ত
/
গল্পটি কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু সবাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now