বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.___^____^^______
--------------
জেনিয়া আমাকে ঝরিয়ে ধরে রেখেছে।
কিছুই বলছে না!
এমন সময় হঠাৎ
করেই ফোনটা বেজে ওঠলো।
ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি আম্মুর নাম্বার।
.
-হ্যালো আম্মু।[আমি]
.
-সর্বনাশ হয়ে গেছেরে পাভেল।
জেনিয়া কার সাথে জানি বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে।[আম্মু]
.
-ও তা ভালোই
করেছে!
পালিয়ে বিয়ে করাটা কি অপরাধ বলো?[না জানার ভান করে]
.
-ঐ কি বলছিস এসব।
তোর সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো আজ।
তোকে মিথ্যা বলে এখানে এনেছিলাম।
বিয়েটা মূলত তোর সাথেই হতো। [হাতাশ কন্ঠে]
.
হায় হায় নিজের কপালে নিজেই
কুড়াল মারলাম।
কি দরকার ছিলো এতো কষ্ট করার?
বিয়েটা তো আমার সাথেই হওয়ার কথা ছিলো!
.
জেনিয়াকে সব খুলে বললাম।
কিন্তু একি জেনিয়া হাঁসছে কেনো?
.
-ঐ তুমি এভাবে হাঁসছো কেনো।[রাগ দেখিয়ে]
.
-আমি জানতাম যে
তোমার সাথে আমার বিয়ে।
তবুও কিছু বলিনি।
আমাকে কষ্ট দেয়ার মজা এবার বুঝো।[হাঁসতে হাঁসতে]
.
হায় আল্লা এই মেয়ে বলে কি?
এখন কি করবো।
আম্মু যদি জানতে পারে ওকে নিয়ে পালিয়েছি তো আমার
হাত পা ভেঙ্গে ঘরে বসিয়ে রাখবে।
দিপুকে দিয়ে একটা প্যান তৈরি করতে হবে।
যাতে আমাকে
কেউ সন্দেহ না করতে পারে।
.
-হ্যাঁ দিপু কই তুই?
একটা বিপদে পড়েছি
দোস।
একটু সাহায্য করনা।[আমি]
.
-কি বিপদ বল।[দিপু]
.
তালপর দিপুকে সব খুলে বললাম।
এবং আমার প্ল্যানের কথা বললাম।
.
-ও এই কথা।
চিন্তা করিসনা এটা আমার বা হাতের খেল।[হাসি দিয়ে]
.
-ধন্যবাদ দোস।
এখন বাই।
তুই রেডি থাকিস।[আমি]
.
জেনিয়াকেও প্ল্যানের কথা বললাম।
জেনিয়া কিছু শর্তের বিনিময়ে রাজি হলো।
.
তারপর জেনিয়াকে
বাসায় বসিয়ে রেখে বিয়ে বাড়িতে গেলাম।
.
-কিরে কোথায় ছিলি এতোক্ষন।[মা]
.
-এইতো সামনে হাঁটতে গেছিলাম।
আমি একটু টয়লেট থেকে আসছি!
তুমি আমার ফোনটা ধরো তো।[আম্মুর হাতে ফোনটা দিয়ে]
.
-ঠিক আছে যা।[আম্মু]
.
এইতো কাজের কাজ যা করার করে ফেলেছি
এখন শুধু বসে নাটক দেখবো।
.
-পাভেল ঐ পাভেল।
সর্বনাশ হয়ে গেছে।
তাড়াতাড়ি এদিকে আয় বাবা।[আম্মু]
.
ঐইতো কাজ হয়েছে।
এখন আমার এ্যাকটিংটা বাকি আছে শুধু।
.
-কি হয়েছে।
এতো জোরে ডাকছো কেনো?[আমি]
.
-জেনিয়াকে কিডন্যাপাররা তুলে নিয়ে গেছে।
তোর ফোনো এই মাএ ফোন দিয়ছিলো।
তারা বলছে তূই গেলেই নাকি ছাড়বে।
নয়তো ছাড়বে না।[আম্মু]
.
-কি বলো এসব?
যাইহোক আমি যেতে পারবো না।[একটু ভাব নিয়ে]
.
-না বাবা তোমাকে যেতেই হবে।
এই নাও ২ লাখ টাকা।
দরকার হলে দিয়ে দিও।[জেনিয়ার বাবা]
.-না বাবা ও সরি আঙ্খেল টাকা দরকার হবেনা।
আর দরকার
হলে ফোন দিয়ে জানাবো আপনাকে।
[আমি]
.
-ঠিক আছে বাবা সাবধানে যেও।
এই নাও গাড়ির চাবি।[চাবিটা হাতে দিয়ে]
.
চাবিটা নিয়ে একটা লুঙ্গি ডান্স দিতে
ইচ্ছে করছে।
কিন্তু এখানে লুঙ্গি ডান্স দিলে প্ল্যানের বারোটা বেজে
যাবে।
.
তাড়াতাড়ি গাড়ি স্টাট করেই বাড়ির দিকে
রওনা দিলাম।
বাড়িতে আস্তে আস্তে গিয়ে ঢুকলাম জেনিয়াকে ভয়
দেখাবো বলে।
কিন্তু একি ও দেখি বসে বসে কি যেন খাচ্ছে।
.
-এইযে ম্যাডাম। প্ল্যান সফল হয়েছে।
এবার চলুন আপনাকে গিয়ে দিয়ে আসি।[রাগানোর জন্য]
.
-দিয়ে আসি মানে?
আমি এখান থেকে এক পাও নড়বো না।[কোমড়ে হাত দিয়ে]
.
এই খাইছে।
এখন এইভাবে রাগ করলে আমারি বারোটা বাজবে।
তার থেকে
ওকে একটু খুশি করে কোনো মতে
বাড়ি পযন্ত নিয়ে যেতে পারলেই হলো।
.
-চলো না
একটু লুঙ্গি ডান্স করি।[খুশি করার জন্য]
.
-আমার তো লুঙ্গি নেই!
কি দিয়ে করবো।[মন খারাপ করে]
.
-যা আছে তা দিয়েই চালিয়ে দাও।
তোমার তো বোকরা।
এটা হবে লুঙ্গির পরিবর্তে বোকরা ডান্স।[ফাজলামো করে]
.
-ঐ ফাজলামো করবে না একদম।
চলো এভাবেই ডান্স করবো।[জেনিয়া]
.
-দাড়াও রেডিও টা অন করে নেয়।
.
"লুঙ্গি ডান্স" "লুঙ্গি ডান্স" মাঝে মাঝে
বোকরা ডান্স।
.
এটা কেমন শিল্পী?
লুঙ্গির সাথে বোকরা ডান্সও বলে।
যাইহোক গানের তালে তালে ধুম নাচানাচি শুরু করছি বিচানার ওপর।
জেনিয়া আমার থেকেও বেশি ডান্স করছে।
.
-ঐ যেই ভাবে ডান্স করছো
আমার বিচানার তো ১২টা বেজে যাচ্ছে।[জেনিয়ার হাত ধরে]
.
-কোনো কথা হবেনা শুধু ডান্স হবে।
তোমার বিচানা
যদি ভেঙ্গেও যায় তাহলেও ডান্স থামবে না![আরো বেশি ডান্স
করতে করতে]
.
এ বলে কি?
হঠাৎ করেই ওর কি হয়ে গেলো।
না কিছু বলা যাবেনা তাহলে আরও বেশি রাগ করতে পারে।
.
চোঁখ বন্ধ করে
ডান্স করছি।
হঠাৎ করেই মনে হলো কেউ পাশে দাড়িয়ে আছে।
চোঁখ খুলে
তো পুরাই "ত"হয়ে গেলাম।
আব্বু,আম্মু,শ্বশুর, শ্বাশুরি সবাই দেখি
আমাদের দেখে মিটিমিটি হাসছে।
.
-কি হলো বাবা পাভেল ডান্স তো ভালোই করছিলি তা মাঝপথে
থামিয়ে দিলি কেন বাবা[আম্মু]
.
-না মানে ইয়ে মানে[মাথা নিচু করে]
.
-আর মানে মানে করতে হবেনা।
সব বুঝে গেছি।
এবার চল
জেনিয়াকে তোর গলায় ঝুলিয়ে দেয়।[কান ধরে]
.
আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলাম।
কয়েকটা হারামী এসে জোর করেই গাড়িতে বসিয়ে দিলো।
.
দেখতে দেখতে অবশেষে বিয়েটা
করেই ফেললাম।
.
রাত ১২টা বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষ করে বাসরঘরে ঢুকলাম।
.
জেনিয়া বিচানা থেকে নেমে আমার পা ছুয়ে সালাম করলো।
ওকে একহাত দিয়ে ওপরে তুলে
কপালে আলতো করে একটা চুমু খেলাম।
.
-দেখো তোমাকে আমি কিছু বলতে চায়!
যদি তুমি
তা পালন করো তাহলে বলবো।[জেনিয়া]
.
-হুম বলো ইনশাআল্লা পালন করতে চেষ্টা
করবো।[আমি]
.
-আজ থেকে পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়বা
আর ইসলামী বিধি বিধান মেনে চলবা।
আমার হক আদায় করবা।
এটাই আমার তোমার কাছে চাওয়া।[জেনিয়া]
.
-হুম পাগলি করবো।
দুষ্টু জেনিয়াটা আজকে কেমন জানি অন্যরকম হয়ে গেছে।
যার মধ্যে একটি অন্যরকম দায়িত্ববোধ প্রকাশ পাচ্ছে।
.
-কি হলো কি ভাবছো।
শরীর খারাপ করেছে।[জেনিয়া]
.
-না তবে ভাবছি খুব গভীর ভাবে ভাবছি।
.
-কি এমন ভাবছো এতো গভীর ভাবে[জেনিয়া]
.
-আসার সময় বন্ধুরা বলেছে বিড়াল মারতে কিন্তু বিড়ালি তো
দেখছি না।[আমি]
.
-তাই বুঝি পাভেল সাহেব।ওকে দাড়াও
আমি দেখাচ্ছি বিড়াল কোথায়।
.
-এ এ এ ঐই কি করছো কি?
.
কি করছি সেটা এখন বলা যাবেনা।
বিয়ের পর বউয়ের কাছ থেকে জেনে নিয়েন।
.
বলবেন যে
পাভেল ভাই
বলছে বাসর রাতে বিড়াল মারতে হয়।
এখন কি ভাবে মারতে হয় একটু দেখাও তো।
ব্যস দেখবেন
ভাবির চার ছক্কা ডিসুম ডাসুম
এ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now