বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’ -২

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X ভারতবর্ষ- ‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’ -২ মাজহারুল মোর্শেদ রাতের অন্ধকার ক্রমশঃ কেটে যাচ্ছে পূর্বাকাশে দেখা যাচ্ছে আলোর ঝলকানী, বাহিরে তাকিয়ে দেখি সকাল হয়ে গেছে। আর আমরাও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা পেরিয়ে একটা নতুন দিনে দেখা পেলাম পার্শ্ববর্তী ওড়িশা রাজ্যে। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো সেই বাঙলা, বিহার, ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতায় চিরদিনের জন্য অস্তমিত হয়ে যায় বাঙলার স্বাধীনতার সূর্য। মোহাম্মদি বেগের ধারালো তলোয়ারের আঘাতে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রক্তে লাল হয়ে যায় এই বাঙলা, বিহার, ওড়িশার মাটি। হয়তো এখনো সেই করুণ ট্রাজেডির রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ছে প্রত্যুষের আলোয়। আমার বুকের ভেতরটা কেমন তোলপার করে ওঠে। ট্রেন চলছে তার নিজেস্ব গতিতে আর আমার অশ্রæভেজা চোখ কেবলি তাকিয়ে আছে উড়িশার রক্তলাল দিগন্তের দিকে। কখন যে কটক ও ভূবনেশ্বর স্টেশর পার হয়ে আমরা পৌছে গেলাম উড়িশার খুরদা রোড রেইলওয়ে জংশনে সেটা টেড়ই পেলাম না। খুরদা রোড জংশন ওড়িশার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যতম ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন, যা পূর্ব উপকূল রেলওয়ে জোনের অধীনে অবস্থিত। এটি যটনী শহরে অবস্থিত এবং হাওড়া-চেন্নাই প্রধান লাইনের একটি প্রধান সংযোগস্থল। এখানে মিনিট দশেক সময় পেলাম নিচে নামার। অর্ণবও নেমে এসেছে আমার সাথে পাশের একটি টি স্টল থেকে গরম চা-বিস্কুট খেয়ে পুরো স্টেশনটাকে ক্যামেরাবন্দি করে আবার গিয়ে সিটে বসে পড়লাম। জানালার বাইরে সূর্যটা তখন বেশ উপরে উঠে গেছে। কিন্তু খুরদা রোড জংশন পার হওয়ার পরে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্যটা একেবারে পাল্টে গেলো। হঠাৎ লালচে মাটি, হালকা গরম বাতাস আর উদাস করা প্রকৃতি। চারিদিকে ছোট ছোট গাছপালা ও ঝোপঝাড়। দূর থেকে গোটা প্রকৃতিটা অনেকটা মরুভূমির মতো লাগছে। জানালার কাছ থেকে চোখকে কোন ভাবেই সরানো যাচ্ছে না। ওড়িশার গোটা অঞ্চলজুড়ে যতোদূর দেখা যায় শুধুই চোখে পড়ে নদী-পাহাড় আর ছোট ছোট ঝার-জঙ্গল। ইতিহাস থেকে জানা যায় প্রায় চার মিলিয়ন বছর আগের প্রাচীনতম শীলাস্তর এই ওড়িশার এই অঞ্চলে পাওয়া যায়। চলমান ট্রেনের জানালা দিয়ে প্রাচীনতম এই পাথরগুলোকে দেখার যে অনুভূতি সেটা সত্যি অসাধারণ। রুক্ষ-শুস্ক ধুসর লালমাটি, দূরে দূরে ছোট ছোট পাহাড়, জনবসতিহীন ধুধু প্রন্তর, আর সারি সারি তালগাছ যেন চোখ জুড়ে যায়। তবে আর কতোক্ষণ এভাবে জানালার বাইরে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা যায়। কখন যে দু’চোখ নিজের অজান্তেই শান্ত হয়ে ঝিমিয়ে পড়ে সেটা বুঝতে পারিনাই। হঠাৎ টেনের লম্বা সাইরেনের শব্দে ঝিমানি কাটিয়ে মস্তিষ্ক আবার সজাগ হয়ে ওঠলো। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি স্টেশনের নাম বালুগাঁও তবে এখানে ট্রেন দাঁড়ালো না। কোলকাতার বন্ধু অর্ণব বলেছিলো যে, এই বালুগাঁও স্টেশন পার হয়ে চিলিকা লেক (ঈযরষরশধ খধশব) দেখতে পাওয়ায়। নদী আর পাহাড়ের দুর্বলতা আমার একটি চিনস্থায়ী রোগ বলতে পারেন। আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছি কখন সেই চিলিকা লেক দেখতে পাই। অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষণ চলে এলো, ট্রেনটি এখন চিলিকা লেকের গা ঘেসে ঝিকঝিক করে এগিয়ে চলছে। আমি মনে মনে ট্রেনের ড্রাইভারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এ কারণে যে, চিলিকা লেক অতিক্রম করার সময় ট্রেনের গতি খানিকটা কম। দূরত্বটা খুব বেশি নয় বলে লেকের সবকিছুই একেবারে চকচক করে দেখা যাচ্ছে। গুগলের সাহায্যে জানতে পারলাম যে, এই লেকে নৌকায় ভেসে বেড়ানোর সময় দু’চারটা ডলফিন নাকি মাথা চাড়া দিয়ে আপনাকে অভিবাদন জানাতে পারে। আর এটাই এই লেকের প্রধান আকর্ষণ। এই চিলিকা লেক ভারতের পূর্বউপকূলে বঙ্গোপসাগরের পাশে পুরী, খুরদা এবং গঞ্জাম জেলা জুড়েবিস্তৃত একটি বিশাল নোনাজলের উপহ্রদ (খধমড়ড়হ)। এটি এমিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বেও দ্বিতীয় বৃহত্তম উপকূলীয় লেক। দেখতে দেখতে আমরা চিলকা স্টেশন এসে গেলাম। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত প্রায় জনহীন একেবারে শান্ত-শিষ্ট সুদীর্ঘ এ স্টেশনের চারপাশ গাছ-গাছালেিত ভরা। স্টেশনের প্লাটফমটি ছবির মতো একটি নান্দনিক রূপে সাজানো গোছানো। চিলকা স্টেশন পেরিয়ে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে চোখে পড়লো রেললাইনের দু’ধারে পাহাড় আর তারই মাঝখান দিয়ে একেবাবে দানব গতিতে ছুটে চলেছে আমাদের ট্রেন। হঠাৎ ট্রেনের শব্দটা কেমন বদলে যায় আমি সজাগ হয়ে দেখি নদীর একটি সুদর্শণ ব্রিজের উপর দিয়ে চলছে আমাদের ট্রেন। অর্ণবকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি এটি ঋষিকুল্যা (জঁংযরশঁষুধ জরাবৎ) নদী। ওড়িশা রাজ্যের দক্ষিণাংশের একটি অন্যতম প্রধান নদী। এটি পূর্বঘাট পর্বতমালার দারিংবাড়ি পাহাড়ের (উধৎরহমনধৎর যরষষং) প্রায় ১০০০ মিটার উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হয়ে কান্ধামাল ও গঞ্জাম জেলার উপন দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুরুনা বান্ধা নামক স্থানে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। দারিংবাড়ি পর্বতমালাকে ওড়িশার কাশ্মীর বলা হয়। এভাবে দেখতে দেখতে আর চলতে চলতে ওড়িশা পেরিয়ে এবার আমারা পৌছে গেলাম অন্ধ্রপ্রদেশের প্রথম স্টেশন পলাশায়। এখন বাজে এগারোটা। নিচে নামার কোন সুযোগ নেই। শুষ্ক নদীর উপর জড়াজীর্ণ ব্রিজ, পাহাড়ি উপত্যকা, অগোছালো কিছু ঝোপঝাড়, নিঃসঙ্গ একাকী বনস্পতি আর তারই মাঝে অজানা, অচেনা সুদীর্ঘ যাত্রা পথে দিবা রাত্রির লুকোচুরি খেলা। বিরতিহীনভাবে ছুটে চলছে আমাদের ট্রেন- স্টেশন আসে, স্টেশন যায়-দৃষ্টি হারায় সীমানায়। ক্লান্ত পথিক উদাস মনে অপলক চেয়ে থাকে ওই দূর আকাশের নীলিমায়। শুধ্ইু রয়ে যায় ঝাপসা-ময়লা আনন্দ বেদনার দৃশ্যমান কিছু স্মৃতি। এভাবে চলমান সময়ের হাত ধরে আলো আঁধারের লুকোচুরিতে কেটে যায় দিন-রাত। চলমান----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’ -২
→ ‘প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’ ভারতবর্ষ-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now