বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাথায় কিছুই আসছে
না। পুতুল ফেলে দিয়ে
লাভ নেই। কারণ পুতুল
না থাকলেও নিনা
ভয় পেয়েছে। ভাইয়া
আমাদের ঘরে কী যেন
করছেন তাই আমরা
বসার ঘরে। চিন্তা
হচ্ছিল, পুতুলটা নিজে
থেকেই আমাদের ঘরে
এসেছে, কিন্তু কেন?
হঠাৎই ভাইয়ার
চিৎকার শুনে আমরা
ঘরে এলাম। ভাইয়া
ফ্যাকাশে মুখে
বিছানায় আর পুতুলটা
মেঝেতে। আমরা
যেতেই পুতুলটা
ধীরেধীরে অদৃশ্য হয়ে
গেল! চোখের সামনে!
এবার আমরা সত্যিই
ভয় পেলাম।
আমি: কী হয়েছিল?
ভাইয়া: ওটা কোন
পুতুল হতে পারে না।
আমি পরীক্ষা করতে
করতে যখন ওটার জুতা
খুলছিলাম তখন…
আমি: কী?
ভাইয়া: ওটার লাল
চোখ ধ্বক ধ্বক করে
জ্বলছিল। হাতে তীব্র
শক্ মারে ওটা। আমি
ফেলে দিয়ে চিৎকার
করে উঠি।
সত্যিই ভাইয়ার
হাতে পুড়ে যাওয়া
কালচে দাগ।
অবিশ্বাস্য হলেও
আমরা বিশ্বাস করতে
বাধ্য হলাম। তাহরীম
ভাইয়ার ক্ষতটা
দেখতে গিয়ে খাটের
কোণায় পড়ে থাকা
পুতুলের জুতাটা
দেখতে পায়। জুতার
তলাটা আশ্চর্যরকম
মোটা! তাহরীম
তলাটা নখ দিয়ে
খুঁটতেই একটা
স্টিকারের মত অংশ
উঠে এল। ভেতরে
একটা ভাঁজ করা
কাগজ। তাতে রক্ত
দিয়ে লিখা, “তৈরী
হ! ওর হৃৎপিণ্ড আমার
চাই।”
নিচে একটা তারিখ।
আর অদ্ভুত একটা চিহ্ন
আঁকা।
আমরা প্রচণ্ড ভয়
পেলাম। এই একুশ
শতাব্দীতেও এসব
সম্ভব? কাগজটা ভাল
করে দেখতে গিয়ে
মনে হল, এই চিহ্নটা
আমি চিনি। একমনে
ভাবতে লাগলাম,
কোথায় দেখেছি!
ঘরের কোণে আমাদের
লাগেজ পড়ে আছে।
নিনা আপাতত
ওটাতে বসার
চেষ্টায় মত্ত।
লাগেজটা পরিষ্কার
করা দরকার। শেষবার
গ্রামে গিয়ে…
কি? গ্রামে? হ্যাঁ!
গ্রামের জঙ্গলে
একটা গাছে আমি এই
চিহ্নটা দেখেছি!
তাহরীমদের সব খুলে
বলতেই…
ভাইয়া: আর দেরী
করা যাবে না।
গ্রামে চল।
আমি: আজই বেরিয়ে
পড়তে হবে।
ভাইয়া: হুম। রেডি হও
তোমরা।
বিকেল নাগাদ
বেরিয়ে পড়লাম।
কাগজের তারিখটা
কালকের!
গ্রামে পৌঁছতে
সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
সবাই ঘুমানোর
অপেক্ষা করতে
লাগলাম। সবাই
ঘুমোলে নিনাকে ওর
দাদির কাছে রেখে
বেড়িয়ে পড়লাম।
অন্ধকারে হারিকেন
আর তিনটা
মোবাইলের আলোও
কিছু করতে পারছে না।
মাকে সব বলার পর মা
জোর করেই এক পুরাতন
চাকরকে
পাঠিয়েছেন। গাছটা
খুঁজে বের করতে অনেক
সময় লাগল। মিলিয়ে
দেখি একই চিহ্ন!
আমরা আশেপাশে
খুঁজতে লাগলাম, কিছু
যদি পাওয়া যায়! কখন
যে রাত বারোটা
পার হয়ে গেছে কেউ
খেয়াল করেনি। হঠাৎ
জোরে বাতাস বওয়া
শুরু করল, ডালপালা
যেন ভেঙে পড়বে।
আমরা কী করব বুঝে
ওঠার আগেই একজন
বুড়ো এসে…
বুড়ো: কেন এসেছিস
এখানে? মধ্যপ্রহরের
পর এখানে আসতে
নেই জানিস না?
আমি আর পারলাম না।
হাউমাউ করে কেঁদে
উঠলাম
আমি: সন্তান
বাঁচাতে এসেছি!
আমার মেয়ে!
বুড়ো: কী বললি?
তোরই মেয়ে তাহলে
এটা?
বুড়ো হাত নাড়াতেই
সামনের পুকুরের জলে
নিনার প্রতিচ্ছবি
ভেসে উঠল। ভাইয়া
আর তাহরীমও
দেখেছে। ওরা ছুটে
এল।
বুড়ো: সারাজীবন
ধরে এই
প্রেতাত্মাকে ধ্বংস
করার সাধনা করেছি
আমি। আজ এই
শেষপ্রহরে তোরা
এলি?
তাহরীম: একি বলছেন
আপনি?
বুড়ো: কাল মাঝদুপুরে
তোদের মেয়েকে
নিয়ে আসবি। দেখি
বাঁচাতে পারি কি
না! মধ্যরাত পর্যন্ত
সময়। আর…
আমি: আর?
বুড়ো: মৃত্যুর প্রস্তুতি
নিয়ে আসবি।
ভাইয়া: কেন?
বুড়ো: কাউকে তো
মরতেই হবে। যার রক্ত
আহুতি দিয়ে রক্তকূপে
আগুন জ্বলবে, সেই
বাঁচাবে তোদের
বাচ্চাকে। আর ধ্বংস
করবে ওই পাপীকে।
তোর মেয়ের জন্ম
শুক্লালগ্নে! ৭৭৭
দিনের শুক্লালগ্নবতী
মেয়ের বলিই পারে
এই প্রেতাত্মাকে
অমরত্ব দিতে, কাল
সেই দিন! এখন যা!
বাড়ি ফিরে চুপ করে
রইলাম। পরের দিন
নিনাকে নিয়ে সবার
অলক্ষ্যে আমরা
তিনজন জঙ্গলে
পৌঁছে এদিক ওদিক
তাকাতেই দেখলাম
একটা সরু রক্তের দাগ
চলে গেছে দক্ষিণে।
কিছুদূর গিয়ে দেখি
একটা কালো দেয়াল,
একটা ফোকর দিয়ে
দাগ চলে গেছে।
ভেতরে ঢুকব কিনা
ভাবছিলাম। কিন্তু
নিনা কোনো কথা
না শুনেই ভেতরে
ঢুকে গেল। নিনার
চিৎকারে তাকিয়ে
দেখি ভেতরে কিছুই
নেই, অতল গহ্বর!
আমি চিৎকার দিতেই
সেই বুড়ো এসে
বললেন, ” একি করলি?
আমার অনুমতি ছাড়া
কেন এলি? এ যে ফাঁদ!
আর দেরী করা যাবে
না। আয় কে রক্ত
দিবি।”
আমরা একটু আগেই
এসেছিলাম, কারণ
কেউ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত
নই। বলতাম কোন পশু
দিয়ে হবে কি না!
এখন আর ভাবার সময়
নেই। আমি এগিয়ে
গেলাম। তাহরীম
চেঁচিয়ে উঠল, “কী
করছ, হৃদি? আমি
থাকতে তুমি কেন?”
আমরা তর্ক করতেই
ভাইয়া এগিয়ে গেল।
আমরা কিছু বলার
আগেই…
ভাইয়া: দেখ, আমি
বিয়ে করিনি, মা
বাবা কেউ নেই।
আমার জন্যে কারও
কিছু হবে না। তোমরা
না থাকলে নিনার
কী হবে? এই কয়দিনে
আমি ওকে অনেক
ভালোবেসে
ফেলেছি, আমাকে
যেতে দাও। দাদু,
আপনি রক্ত নেন।
বুড়ো: কী বললি? দাদু?
আমার নাতি হলি তুই?
সারাজীবন আমার
চলেই গেছে, আর আজ
নাতিকে মেরে
নিজে বাঁঁচব? আয়
তোরা।”
আমি : কিন্তু ভেতরে
তো শুধুই খাদ!
বুড়ো : ও তোদের
চোখের ভুল, আয়।
আমি এই মৃত্যু মানতে
পারছিলাম না। তবুও
গেলাম।দেখি খাদ
আছে, কিন্তু একটু দূরে।
নিনা সামান্য নিচে
পড়েছে। তাহরীম
তুলে আনতে গেলে
দাদু মানা করেন,
বলেন ওটাই নিরাপদ,
আগুন থেকে বাঁঁচবে।
যজ্ঞ শুরু হল, আমাদের
অলক্ষ্যেই তিনি বাম
হাতের রগ কেটে রক্ত
দিচ্ছিলেন,
ধীরেধীরে কমে
আসছিল তার
প্রাণশক্তি। আমরা
যেন ঘোরের মধ্যে
চলে গেছি। কিন্তু
শেষরক্ষা হল না।
তিনি মৃত্যুর কোলে
ঢলে পড়ার সময়
আমাদের হাতে একটা
অদ্ভুত দণ্ড দিয়ে
বললেন…
“আমার সময় শেষ,
কিছুক্ষণ পরে ও এই
কূপে দেখা দিলে এই
দণ্ড ওর হৃৎপিণ্ডে
বসিয়ে দিস। কিন্তু
সাবধান! যদি
হৃৎপিণ্ডে না বসাতে
পারিস তাহলে
সোজা নিচে পড়বি,
বাচ্চাসহ সবাই মারা
পড়বি।”
আমাদের ঘোর কেটে
গেল, আমি দাদুকে
ধরতেই দাদুর রক্ত
আমার কপালে লেগে
গেল। হঠাৎ চারদিক
অন্ধকার করে একটা
বিশালাকার মূর্তির
আবির্ভাব! মুখ সেই
ক্লাউনের মত! আমার
কী হল জানিনা, দণ্ড
হাতে নিয়ে কেউ
কিছু বোঝার আগেই
ঝাপিয়ে পড়লাম।
জ্ঞান ফিরল
হাসপাতালে। আমি
সফল হয়েছিলাম।
নিনা আমার পাশে
বসে খেলছে।
ভাইয়া: যা খেলটা
দেখালা বোন,
আমাদের আত্মারাম
খাঁচাছাড়া।
তাহরীম কেঁদে ফেলল,
“দুইদিন পর তোমার
জ্ঞান ফিরল।”
নিনা হাসছে…
হাসপাতালের
জানালার বাইরে
কার যেন মুখ! দাদু!
আমি তাকাতেই চলে
গেলেন। দাদু, আপনি
যেখানেই থাকুন,
ভালো থাকুন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now