বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই নিয়ে
তিনবার বাসা
বদলাতে হলো।
অজানা শহরে
মাত্র দুইমাসের
মধ্যে তিনবার
বাসা বদলাতে
ভালো লাগে?
কী আর করা!
নিনা কিছুতেই
মানিয়ে নিতে
পারছে না। রাত
নেই, দিন নেই, শুধু
কান্না!
কোনরকমে
কান্না
থামালেই বলে,
“আম্মাম,
কার্তুুনটা
এখানেও এসে
গেছে। আমাকে
শুধু নিয়ে যাবে
বলে।”
আমি হৃদি। নিনা
আমার দুই বছরের
মেয়ে। নিনার
বাবা
তাহরীমের
কাজের জন্য
এখানে বাসা
নেওয়া। কিন্তু
নিনার অদ্ভুত সব
সমস্যা হচ্ছে।
ডক্টর বললেন নতুন
পরিবেশে
এরকমটা হয়। প্রথম
বাসাটা ফাঁকা
এলাকায় বলে
তিনি সদরে
বাসা নিতে
বললেন, দীর্ঘক্ষণ
চুপচাপ জায়গায়
এমনিতেই
মস্তিষ্কে চাপ
পড়ে। দ্বিতীয়
বাসাটায়
আমাদের টপ
ফ্লোরে ফ্লাট।
ছাদে অনেক শব্দ
হত, নিনার ঘুমের
সমস্যা হচ্ছিল।
তাছাড়া ওই
কার্টুনের ভয় তো
আছেই। আবারো
বাসা বদলানো
হলো। কোনো
পরিবর্তন নেই!
নিনার কান্না
আর আবোল
তাবোল কথা
সমানে বাড়ছে।
শেষমেশ আমার
আপু তার এক
সাইক্রিয়াট্রিস্
ট বন্ধুর কথা বলল,
বাচ্চাদের নিয়ে
কাজ করার
অভিজ্ঞতা
আছে। নাম
সায়েম বিন
রাহাত। তিনি
সবটা শুনে দেখা
করতে চাইলেন।
আজই আসছেন
তিনি।
বড়ই মিশুক
ভদ্রলোক।
সবাইকে সহজেই
আপন করে
নিলেন। অদ্ভুত
হলো এই ক’দিনে
নিনা তেমন
কান্নাকাটি
করেনি। বোঝাই
যাচ্ছে না
নিনার কোনো
সমস্যা আছে।
রাতে নিনা
ঘুমিয়ে পড়লে
তাহরীম কথা
তোলে।
: আচ্ছা খেয়াল
করেছো? নিনা
আর কান্নাকাটি
করছে না।
: হুম। আমার মনে
হয় নিনা একা
থাকতে ভয় পায়।
এখন ডক্টর ওকে
কম্প্যানি
দিচ্ছেন।
: তাহলে একটা
কাজের লোকের
ব্যবস্থা…
: কিন্তু ওরকম হলে
কার্টুনের কথা
কেন বলবে?
: ছোট মানুষ!
: না তাহরীম।
নিনা কখনই
উল্টাপাল্টা
কিছু বলে না।
এমন সময়
আমাদের
বেডরুমের দরজায়
ঠক্ ঠক্!
খুলে দেখি
সায়েম ভাইয়া
কী কথা আছে
বলে আমাদের
বাইরে যেতে
বললেন। নিনাকে
ভালো করে
শুইয়ে যখন বসার
ঘরে গেলাম,
তাহরীমের
মুখটাদেখে
ভালো বোধ
হলো না। কাছে
যেতেই তাহরীম
বলল,”হৃদি এটাই
বলছিল যে নিনা
কখনো
উল্টাপাল্টা
কিছু বলে না…”
ভাইয়া: আমারও
তাই মনে হয়েছে।
নিনা ছোট
হলেও বুদ্ধিমতী।
না দেখে কোনো
কথা বলার মতো
মেয়ে না।
আমি: আপনি
আসার পর ও কিন্তু
আর কান্নাকাটি
করছে না,
এমনিতে আমি
রান্না করার
সময়টা ওর একা
থাকতে হয়। এখন
আপনি
থাকাতে…
সায়েম: এমন তো
নয় যে ও কোন
কিছু দেখে ভয়
পেয়ছে, একা
থাকলে সেটা
মনে পড়ে ভয়
পায়।
হ্যালুসিনেশন?
তাহরীম: কিন্তু
তাহলে তো বলত
আমাদের। নিনা
সবকিছু স্পষ্ট করে
বলে।
সায়েম: তাহলে
নিশ্চয় ও এমন কিছু
দেখেছে বা
দেখছে, যেটা
আমরা পাচ্ছি
না।
আমি : তা
কিভাবে সম্ভব?
সায়েম: সেই
উত্তর তো আমিও
খুঁজছি।
তখনই ঘর থেকে
নিনার কান্নার
আওয়াজ ভেসে
এল। আমরা
তাড়াতাড়ি ঘরে
গিয়ে দেখি
নিনা বিছানার
একদম ধার ঘেঁষে
বসে কাঁদছে।
আরেকটু হলে
পড়েই যেত।
সায়েম ভাই
চুপচাপ দাঁড়িয়ে
দেখছিলেন। এর
আগে তিনি
নিনার এই
কান্না
দেখেননি।
অনেকটা সময়
লাগল নিনাকে
থামাতে।
ভাইয়া চিন্তিত
মুখে আমাদের
গুডনাইট বলে
চলে গেলেন।
সকালে ভাইয়া
আমাদের ঘরটা
ভালো করে
দেখে যা বললেন
তাতে আমরা
খানিকটা অবাক
হলাম, কিছুটা
ভয়ও পেলাম।
কারণ ভাইয়া যা
ভাবছেন তা হলে
বিষয়টা খুব একটা
ভালো হচ্ছে না।
আমাদের ঘরে
একটা বড়
জানালা আছে।
চোর ডাকাতের
উৎপাত না
থাকায় দোতলার
এই জানালা
খোলাই থাকে।
ভাইয়া বললেন
কেউ একজন
আমাদের আসার
আগে এই
জানালায় ছিল,
যাকে নিনা
দেখেছে।
নিনাকে
জিনিসটা আজ
খুব ভালোভাবে
জিজ্ঞেস
করলেন ভাইয়া।
নিনা প্রথমে
কিছু না বললেও
পরে বলল, “কার্তুন
আসে, লালচুল
কার্তুন আসে।
আমাকে নিয়ে
যাবে বলে।”
ভাইয়া আমাদের
পুরো বাসা খুঁজে
লাল
মাথাওয়ালা
অনেক কিছু বের
করলেন। আমার
চোখ পড়ল একটা
পুতুলের ওপর, লাল
চুলওয়ালা, সাদা
ফ্রক পরা, কিন্তু
মুখটা ঠিক
পুতুলের মত না,
একটা ক্লাউনের
মত।
ওটা তুলে
নিলাম।
এমন সময় নিনা এ
ঘরে এল।
নিনা: আম্মাম
ওতা ফেলে দাও।
ওতা পঁচা। ওতা
ভয়।
ভাইয়া: কেন
নিনামনি? ওটা
নিয়ে খেলবে না
তুমি?
নিনা দৌড়ে
আমাকে জড়িয়ে
ধরে
কান্নাজড়ানো
কণ্ঠে বলল,
“কক্ষনো না। ওতা
ভয়, ওতা ফেলে
দাও না!”
ভাইয়া: পুতুলটা
কোথায় কেনা?
আমি: এখানে
সবকিছুই একটা বড়
শপে কেনা,
ওখানেই হবে।
ভাইয়া: যাওয়া
দরকার, দেখি এর
উৎস কোথায়!
তাহরীম আর
ভাইয়া ওই
দোকানে পুতুলটা
নিয়ে গেছেন।
আমি নিনাকে
ঘুম পাড়িয়ে
দিলেও কিছুক্ষণ
পরে নিনা আবার
ভয় পেয়ে কেঁদে
উঠল।
পুতুলটা তো
বাড়িতেই নেই!
নিনা ভয় পেল
কেন?
ওরা ফিরে আসার
পর বলল এরকম কোন
পুতুল নাকি
দোকানে
আসেইনি। অথচ
আমরা নিশ্চিত
ওই দোকানেই
কিনেছি।
তাড়াতাড়ি
রিসিপ্ট বের
করলাম।
রিসিপ্ট দেখে
আমাদের নিজের
চোখকেই
বিশ্বাস হল না।
ওখানে কোন
পুতুলের উল্লেখ
নেই! সেদিন
খেয়াল হয়নি।
অথচ ওই
দোকানেই
কেনা হয়েছে
ওটা!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now