বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আকাশ আর বৃষ্টি পলাশ পুর গ্রামের ক্লাস ৩তে পরে।
খুব ভালো বন্ধুত্ব দুই জনের মাঝে।
তাই বলে যে তাদের ঝগড়া হয়না এমন কথা নাই। সেই ক্লাসে,স্কুলের বারান্দায় আর পুতুল খেলার সময়।
সব সময় তাদের একটুতেই ঝগড়া হত আবার একটু পর মিশে যেত।
একজন আর একজন এর সাথে কথা না বলে থাকতে পারত না।
ছোট বেলায় হয়ত ভালোবাসা জিনিষ টা বুঝত না,কিন্তু কেউ কাউকে কিছু না দিয়ে কিছুই খেত না।
"
"
"
" চেয়ারম্যান বাড়ির গাছের পেয়ারা। জামালদের গাছের আম, রহিমা দের গাছের কুল,প্রতিদিন কিছু না কিছু আকাশ নিয়ে আসত বৃষ্টির জন্য।
স্কুলের বারান্দায় বসে বা সান বাধানো পুকুর ঘাটে বসে হালকা নুন আর মরিচ দিয়ে খুব মজা করেই খেত অরুনা মাসি দের গাছের তেতুল।
এমনি করে খুব ভাল যাচ্ছিল তাদের দিন গুলি। এমন করলেও পরা লেখায় ২জনই ছিল সমান।
আকাশ এর থেকে বৃষ্টি একটু ভাল ছাত্রী থাকলেও হয় একবার সে প্রথম হত ক্লাসে না হয় আকাশ হত।
"
"
"
" দেখতে দেখে ২টা বছর কেটে গেলো।
তারা যখন ক্লাস ফাইবে পড়ে তখন ফাইনাল পরিক্ষার পরে যেমন খুশি তেমন সাজ প্রতিযোগিতায় তারা বর-বউ সাজল।
তাদের এত সুন্দর মানিয়েছিল যে বিচারকররা তাদের প্রথম প্রাইজটা দিতে বাধ্য হল।
সেই থেকে তারা স্কুলে বর-বউ নামে পরিচিত হয়ে গেল।
সবাই এই নামে একটু মসকারা করলেও বৃষ্টির রাগ হত না।
কিন্তু আকাশ খুব রাগ করত।
কেননা বৃষ্টি এবার সিক্সে উঠবে একটু একটু ভালবাসা জিনিষটা বুজলেও আকাশ বৃষ্টি কে নিয়ে হয়ত এমন কিছু ভাবছে না।
"
"
"
" ক্লাস সিক্সে তারা এখন আলাদা আলাদা বসে।
এখন আর আকাশের পাশে বসা হয়না বৃষ্টির কিন্তু তবু তাদের সম্পর্ক আগের মত আছে।
বৃষ্টি ফ্রগ রেখে এখন ওরনা সহ জামা পরছে।
আকাশের ও তাকে এখন দেখতে ভাল লাগে।একটু মেয়ে মেয়ে লাগে।
মাঝে মাঝে আকাশ মজা করেই বলে তোরে তো কয়দিন পর বিয়ে দিয়ে দিবে কি করবি তুই?
বৃষ্টি তখন ভাবে কি করে বলবে আকশ কে সে ভালবাসে?
হয়ত এখন ও তাদের ভালোবাসা টা তেমন না তবুও বৃষ্টির মনে আকাশের জন্য অনেক বড় একটা যায়গা রেখে দিছে।যেখানে সে আর কাউকে বসাতে পারবে না।
ক্লাস নাইনে পরা কালীন বৃষ্টির জন্য বিয়ের কথা চলে।
বৃষ্টি বিয়ে করবে না জানিয়ে দেয়।
বলে সে পড়া লেখা করবে কিন্তু গ্রামের মেয়ের কথার কি দাম বাবা-মা,মুরুব্বীরা যা বলবেন তাই।
"
"
"
" বিয়ে ঠিক হল ৪৯ এর চাইতে বেশি বয়স্ক এক লোকের সাথে।কিন্তু যৌতুক দিতে হবে নগদ ৫০হাজার টাকা আর গয়না সাথে একটা বাইসাইকেল আর টেন্ডেস্টার(মানে রেডিও)
বৃষ্টির বাবা ভাবল হয়ত কিছু টাকা পরে দিয়ে পারবে।বিয়ে ঠিক করুক এত ভাল ছেলে,পাঁচ পাঁচ টা মহিষের হাল আছে, ২০ বিঘার উপরে জমি আছে আর গরু আছে অনেক।
বৃষ্টি সুখেই থাকবে।হয়ত লোকটার আগের বউ মারা গেছে কি হইছে তাতে। এইটা টার ৩নাম্বার বিয়ে।
প্রথম বউ চলে গেছে। পরের বউ মরে গেছে আর ৩নাম্বার এ বৃষ্টি কে বিয়ে করতে যাচ্ছে।
"
"
"
" বিয়ের দিন সব ঠিকঠাক কিন্তু বৃষ্টির খুব কান্না পাচ্ছে।কাঁদতে গিয়েও পারছে না। ওদিকে যেই আকাশ কে বৃষ্টি ভালবাসে সে সব কাজ করছে কিন্তু বৃষ্টি যে তাকে ভালোবাসে তা আকাশ জানে না।
বর-যাত্রী চলে আসল,কাজী সাহেব বিয়ে পরাচ্ছেন কিন্তু পাত্র হাতে যৌতুক এর টাকা না পেয়ে বিয়ে করবেন না।
বৃষ্টির বাবা কিছুদিন সময় চাইল আর নগদ ২০০০০হাজার টাকা দিতে চাইল।
কিন্তু না সে বিয়ে করবে না। সবাই অনেক বুঝানোর পর কাজ হল না।
ভেঙে গেল বৃষ্টির বিয়ে।
বৃষ্টির বাবা বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।
কারন গ্রামে একটা মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেলে আর সহজে কেউ বিয়ে করতে চায় না।
"
"
"
" বৃষ্টির বিয়ে ভেঙে গেলেও তাতে বৃষ্টি অনেক খুশি হল।
সবাই যখন মন খারাপ তখন বৃষ্টি আকাশ কে নিয়ে পূর্ব দিকের জাম গাছটার কাছে গেল।
আকাশ কে সব বলল বৃষ্টি নিজেই।
আকাশ কি বলবে বুজাতাছে না।
কিছু বলছে না দেখে বৃষ্টি নিজেই কাঁদতে লাগল।
বৃষ্টির কাঁদা দেখে আকাশ বৃষ্টিকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিল।
আর বলতে লাগল হুম আমি ও তোরে ভালোবাসি।
সেই থেকে তাদের ভালবাসার পথ চলা।
এখন আর বৃষ্টির জন্য বিয়ের কথা হয়না।সবাই বলে মেয়েটা অপয়া, কপাল খারাপ ইত্যাদি।
কিন্তু এতে বৃষ্টি আর আকাশ ভাল ভাবেই প্রেম করছে।
"
"
"
" দেখতে দেখতে এস,এস,সি পরিক্ষা চলে আসল।
দুই জনে পরিক্ষা দিয়ে পাশ ও করল কিন্তু আকাশ এইবার কলেজে পড়ার জন্য শহরে যাবে। কিন্তু এখন বৃষ্টির কি হবে?
তার বাবা মা তো যেতে দিবে না তাকে।
যে গ্রামের কলেজে পরতে হবে।
আকাশ ও যেতে চায়নি।কিন্তু আকাশের মামা শহরে থাকে সেই তাকে নিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টি তাকে দেখা করতে বলল।
দেখা করে অনেক কাঁন্না কিন্তু আকাশের বা কি করার আছে।এর পর অনেক বুঝিয়ে আকাশ যাবার অনুমুতি পেল।
শহরে যেদিন যাবে আকাশ বলল সে নিয়মিত চিঠি দিবে।তুমি চিঠির উত্তর দিও।
"
"
"
" চলে গেল আকাশ বৃষ্টি কে রেখে।
বৃষ্টি আকাশের জন্য ৩দিন না খেয়ে ছিল।কিন্তু যখন ৩দিন পর চিঠি আসল আকাশের,তখন বৃষ্টি একটু ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করত।
নিয়মিত তারা চিঠি দিত। ভালই যাচ্ছিল দিন গুলি।
কিন্তু ৩/৪ মাস যাবার পর বৃষ্টিকে তেমন চিঠি দিত না। মাসের মধ্যে ২/৩টা বা তার কম। কিন্তু বৃষ্টি অনেক চিঠি দিত।
উত্তর পেত না।
আকাশ শহরে বন্ধুবান্ধব পেয়ে ভুলে যাচ্ছে বৃষ্টি কে।কিন্তু বৃষ্টি দেখতে শুনতে শহুরে মেয়েদের চেয়ে খারাপ না।
আকাশ ওদিকে শহরে ফ্রেন্ড দের সাথে মিসে নেশা করা শুরু করল।
খারাপ যায়গায় যেতে শুরু করল।
এক সময় তার কাজ গুলি নেশায় পরিনিত হয়ে গেল।
একদিন নেশা না করলেও তার চলত কিন্তু তার মেয়েদের সাথে টাকার বিনিময়ে খারাপ কাজ না করলে চলত না।
"
"
"
" অনেক মাস পর আকাশ গ্রামে আসে।
তখন বৃষ্টিকে দেখে তার মনের খারাপ ইচ্ছা যাগে।অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে বৃষ্টিকে বিয়ের কথা বলে খারাপ কিছু করে।
এর পর প্রায় আকাশ আসত আর খারাপ কিছু করে কয়দিন পর চলে যেত।
কয়মাস যাবার পর বৃষ্টি অসুস্থ হয়ে পরে।
কিন্তু যখন তাকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয় জানা যায় সে মা হতে চলেছে।
কিন্তু সেই সাথে ডাক্তার বলে তার কিছু লক্ষন খুব খারাপ তাকে (H.I.V) এইডস এর পরিক্ষা করাতে শহরে নিয়ে যেতে।
শহরে নিয়ে পরিক্ষার পর জানা যায় তার সত্যি সত্যি এইডস (H.I.V) হয়েছে।
পরে আকশের সাথে অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়না।
"
"
"
" কিন্তু বৃষ্টির গ্রামে এই কথা খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পরে।
সবাই বৃষ্টিকে গালি দিতে থাকে।
তাকে পুড়িয়ে মারার কথা বলে।
এক রাতে বৃষ্টি আর সহ্য করতে না পেরে সে জাম গাছের ডালে নিজের ওড়না ফাস দিয়ে মারা যায়।
নিজের সাথে শেষ করে দিয়ে যায় দুনিয়ার আলো দেখার আগে কোন অবুঝ শিশু কে।
তার কি দোষ ছিল।কি পাপ সে করছে?
"
"
"
" কয়েক মাস পর এক দিন পলাশ পুর গ্রামে একটা লাশ নিয়ে আসে পুলিশ।
জানা যায় এই ছেলে এইডস এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
পরে বৃষ্টির কবরের পাশে তাকে ও দাফন করা হয়।
এখনও পুব দিকের জাম গাছের নিচে কেউ হয়ত প্রেম করে কিন্তু কে জানে তাদের ভাগ্যের পরিনতি কি?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now