বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বয়স চব্বিশ, লম্বা, রোগাটে।হাত-পা রোগা, মুখখানা শীর্ণ, পকেটের অবস্থা আরও কাহিল।লোকটি একজন শিল্পী।
গল্পের সূচনায় তাকে তেপায়া একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে।যেভাবে বসে আছে, তাতে মনে হয়, নড়াচড়া করার উদ্দ্যমটুকু পর্যন্ত নেই।ঠোঁট থেকে খুব বিপজ্জনকভাবে ঝুলছে একটা আধখাওয়া সিগারেট।হাত একখানা বই।লোকটার তাবৎ মনোযোগ মনে হচ্ছে ওই বইখানাতেই নিবদ্ধ।
এই যে দৃশ্য ,এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু কারও চোখে পড়বে না। একটু নজর করে দেখলে অবশ্য ভিন্ন কথা।তখন যা দেখা যাবে তার কোন ব্যাখ্যা নেই।বইখানা উল্টো করে ধরা।
এইভাবে কি বই পড়া যায় নাকি? কি ব্যাখ্যা এর?ব্যাখ্যা আর কিছুই না,লোকটি অদৌ পড়ছে না।এমনকি বইয়ের দিকে চোখই নেই তার।আসলে যাকে মাঝামাঝি দুরত্ব বলা যায় ,সেইরকম একটা ব্যবধানে থেকে লোকটি ওই বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে মাত্র।চোখের দৃষ্টি শূন্য।তার মানে লোকটি কিছু ভাবছে।সত্যি তা-ই।ওর মাথায় রয়েছে একটা প্রদর্শনীর চিন্তা।
আজ সকালেই বেরিয়েছে এই প্রদর্শনীর খবর।এবারকার চারুকলা প্রদর্শনী নাকি এতবড় আকারে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, আর মিডিয়াম বা মাধ্যম ব্যবহারের ব্যাপারেও কোন বিবধিনিষেধ নেই, শিল্পী ওটা বেছে নিতে পারবেন তাঁর আপন ইচ্ছা অনুযায়ী।এই প্রদর্শনীর এ-দুটোই হচ্ছে মস্ত বৈশিষ্ট্য।এর ফলে শিল্পীরা তাঁদের প্রতিভার পরিচয় একেবারে অবাধে দিতে পারবেন।
প্রদর্শনীর এই যে বিজ্ঞপ্তি, এটা নিয়েই ভাবছে আমাদের শিল্পী।ছাপার অক্ষরে যা কিনা একেবারেই ঠান্ডা ও নেহাতই একটা খবর মাত্র, তা-ই তাকে আলোড়িত, উত্তেজিত করে তুলেছে।দীর্ঘদিন যাবৎ সে তো ধৈর্য ধরে এইরকম একটা সুযোগের প্রতীক্ষায় ছিল।তুলির ব্যবহারে তার দক্ষতা যে কতখানি , সে চাইছিল যে লোকে তা জানুক, তাকে কিছুটা স্বীকৃতি দিক।সেই স্বীকৃতি পাওয়ার এই হচ্ছে একমাত্র সুযোগ।
নিজের প্রতিভা সম্পর্কে কোনোও অলীক ধারণা তার একেবারেই নেই।প্রদর্শনীতে বেশ মোটা অঙ্কের যেসব নগদ পুরষ্কার দেয়া হবে,সেসবের কোনও টাই যে সে পাবে ,এমন কথা সে কল্পনাও করেনা; তার কাজের জন্য উদ্যোক্তাদের একটা প্রশংসাপত্র পেলেই সে খুশি হয়ে যায়।তাও যে পাবে, এমন ভরসা তার নেই। কিন্তু তবু সে চাইছে যে ,প্রদর্শনীতে তার ছবি টাঙানো হোক, লোকে তার কাজ দেখুক।
তা ছাড়া ভিতরে ভিতরে যে একটা আশা যে নেঝই তাও হয়তো না।বলা তো যায় না, শিল্প প্রদর্শনী নিয়ে কাগজে কাগজে যেসব লেখা বেরোয় ,তাতে তার কাজের একটা উল্লেখ হয়তো থাকতেও পারে।কোনও সমালোচক হয়তো লিখতেও পারেন, "শ্রী-এর 'আ ফ্যামিলি গ্রুপ' চিত্র খানির আবেদনও কম নয়।তাঁর কম্পোজিশন চিত্তাকর্ষক , রঙের নির্বাচনেও বেশ মুনশিয়ানার ছাপ রয়েছে।" ইত্যাদি ইত্যাদি।
শরীরে আলস্য , হাতের মধ্যে উলটে- ধরা বই, লোকটি এখন চিন্তামগ্ন।কী হবে তার ছবির বিষয়বস্তু, তাই নিয়ে সে ভাবছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now