বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরনো_ভূত
#পর্ব_ঊনিশ
তেরপলের তলায় ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে রবিন। ছুটে চলেছে ট্রাক। আর্তনাদ করে উঠছে টায়ার, গতি না কমিয়েই মোড় ঘোরানোতে। আপন মনেই হা হা করে হেসে উঠছে ডন, অহেতুক হর্ন বাজাচ্ছে। যা-ই ঘটিয়ে থাকুক, মেজাজ খুবই ভালো রয়েছে তার।
একবার থামলো ট্রাক। নেমে কারো সাথে কথা বললো ডন। তেরপল উঠিয়ে দেখার চেষ্টা করলো রবিন। কিন্তু দেখতে পেল না কিছু। সামনের দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছে দু'জনে। ডক্টর ইংমারের অফিস চোখে পড়লো রবিনের।
আবার ট্রাকে উঠলো ডন। ঝাঁকুনি খেতে খেতে চললো পুরনো গাড়ি। শেষবারের মতো থামলে লোনা গন্ধ এসে লাগলো রবিনের নাকে। সাগরের কাছে চলে এসেছে। বন্দরের হট্টগোল শোনা যাচ্ছে। কেবিন থেকে নেমে এসে ট্রাকের পেছনে উঠলো ডন। রবিনের পাশেই রয়েছে জগটা। ওটা নিতে আসেনি তো?
দুরুদুরু করতে লাগলো তার বুক। যদি টান দিয়ে তেরপল তুলে ফেলে? এখন আর কিছু করার নেই। দম বন্ধ করে পড়ে রইলো রবিন। যা হয় হবে।
একটা হাত ঢুকে গেলো তেরপলের নিচে। হাতড়াতে শুরু করলো। জগটা লাগলো না।
ভুলে ছোট একটা বেলচা ঠেকলো হাতে। নিচু গলায় গাল দিয়ে উঠলো ডন। রেগেমেগে এখনই হয়তো টান দিয়ে তেরপল তুলবে। জগটা পেলে সাহায্য করবে নাকি? রবিনের পায়ের কাছেই রয়েছে ওটা। কাছেই হাতটা নড়াচড়া করছে। ঝুঁকিটা নিলো সে। লম্বা দম নিয়ে আস্তে পা ঠেকালো জগের গায়ে। ঠেলে দিলো এক ইঞ্চি। তারপর আরেক ইঞ্চি।
জগ হাতে ঠেকলো ডনের। টেনে ওটা বের করে নিয়ে লাফিয়ে নেমে গেল ট্রাক থেকে, টের পেলো রবিন। কংক্রিটের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ডন, শব্দ হচ্ছে জুতোয়। গিয়ে নামলো কাঠের পিয়ারে।
সাবধানে তেরপল ফাঁক করে উঁকি দিলো রবিন। বন্দরের বিল্ডিংগুলো চোখে পড়লো। কোস্ট হাইওয়ে থেকে শোনা যাচ্ছে যানবাহনের শব্দ। তেরপলের তলা থেকে বেরিয়ে এলো সে। ট্রাকের কিনারে দাঁড়িয়ে পানিতে তাকালো। পিয়ারে বাঁধা রয়েছে র্যাগনারসনদের বোটগুলো। ডেভিড র্যাগনারসনের বোটের ওপর ঝুঁকে রয়েছে ডন।
লাফিয়ে নেমে পড়লো রবিন। লুকালো গিয়ে পেছনের চাকার আড়ালে। ওখান থেকে চোখ রাখলো। আরেকটা বোটের কাছে সরে গেল ডন। প্লাস্টিকের জগটা রয়েছে তার পায়ের কাছে।
লুকানোর আর ভালো কোনো জায়গায় জন্যে আশেপাশে তাকালো রবিন। প্রথম পিয়ারটার কাছেই দেখা গেল একটা আউটসাইড রেস্টুরেন্ট। বাইরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে চেয়ার-টেবিল। দ্রুত হাঁটা দিলো রবিন। চলে এল একটা টেবলের কাছে। টবে জন্মানো একটা পাম গাছের আড়ালে বসে পড়লো। দেখতে লাগলো, এক বোট থেকে আরেক বোটের কাছে সরে চলেছে ডন। আচমকা নিজের বোটে লাফিয়ে উঠে পড়লো ডন। এঞ্জিন স্টার্ট দিলো। উঠে দাঁড়ালো রবিন। ততোক্ষণে চলতে শুরু করেছে বোট। সরে যাচ্ছে পিয়ারের কাছ থেকে। নাক ঘোরালো ওটা। এগিয়ে চললো বন্দরের অন্য প্রান্তের বড় আরেকটা পিয়ারের দিকে।
সেই পিয়ারটার দিকে দৌঁড় দিলো রবিন।
পাহাড়ী পথ ধরে রকি বীচে ফিরে চলেছে মুসা।চোখ রেখেছে পাথরের পাশের থাম আর গাছপালার দিকে। আরও কোনো চিহ্ন যদি রেখে গিয়ে থাকে কিশোর, সেই আশায়। একটা চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছালো সে। এবার কোন দিকে যাবে?
কমলা রঙের একটুকরো গোল কর্ক পড়ে রয়েছে পথের ওপর। শহরের দিকে গেছে রাস্তাটা। সাদা চক দিকে কর্কে একটা আশ্চর্যবোধক আঁকা। হাসলো মুসা। চিহ্ন রেখে যাওয়ার কিছু না কিছু পেয়েই যায় কিশোর পাশা। আর সেটা কাজে লাগাতেও দেরি করে না।
চলতে চলতে আরও কিছু চিহ্নের জন্যে চোখ রাখলো মুসা। কিন্তু পরের চৌরাস্তার মোড়ে আসার আগে কিছু পেলো না। এখানে পেলো একইরকম আরেকটি কর্ক। কোনদিকে যেতে হবে বোঝানো হয়েছে।
দ্রুত প্যাডেল করে একটা তে-রাস্তার মাথায় চলে এলো সে। চিহ্ন খুঁজলো। নেই। কোনো কিছুতেই আঁকা নেই সাদা আশ্চর্যবোধক।
পারলে চিহ্ন রেখে যাবেই কিশোর। মুসা জানে। মোড়ের কাছে নেই, তার মানে এখানে কিছু রেখে যাওয়ার সুযোগ পায় নি। একটা কাজই করতে পারে এখন সে। কোনো একটা পথ ধরে এগোবে। কোথাও কোনো চিহ্ন দেখলে ভালো, না পেলে ফিরে এসে দ্বিতীয় পথ ধরবে। কোনোটাতেই যদি না পায়? সেটা তখন দেখা যাবে, ভেবে প্রথমে ডানের পথটা ধরলো সে।
শহরতলীর দিকে গেছে ওই পথ, এরপর সাগরের পাড়ে। ঠিক পথই ধরেছে সে। আধ মাইল যেতে না যেতে পেয়ে গেলো চিহ্ন। পথের ঠিক মাঝখানে পড়ে রয়েছে এক টুকরো কাঠ, তাতে চিহ্ন আঁকা।
বন্দরের দিকে গেছে পথটা। সামনে দিয়ে চলে গেছে কোস্ট হাইওয়ে। বন্দরের পাশ দিয়ে। চোখে পড়ছে কয়েকটা পিয়ার। কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিশোরকে? ওসব পিয়ারে বাঁধা কেন বোট? হতাশা চেপে ধরলো মুসাকে। কি করবে এখন? ভাবতে লাগলো। কমলা কর্কগুলো কোথায় পেলো কিশোর? ওগুলো কিসের, জানে মুসা। জেলেদের জালের। জাল ভাসিয়ে রাখার জন্যে কিনারে বেঁধে নেয় জেলেরা। হয়তো কোনো জেলের ট্রাকে করেই কিশোরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাছ ধরার জাহাজ কিংবা বোটে। তাহলে এখন মুসার কাজ? পিয়ারের বোটগুলোতে খোঁজ করা।
ধীরে সাইকেল চালিয়ে পিয়ারের কাছে চলে এলো সে। আরেকটা টেলিগ্রাফের থামে সাদা চকের চিহ্ন চোখে পড়লো। কোস্ট হাইওয়ে থেকে একটা গাড়িপথ নেমে এসেছে, তার মাথায়ই রয়েছে থামটা। পথটা চলে গেছে একটা প্রাইভেট কমার্শিয়াল পিয়ারের কার পার্কে। বেশ কিছু বিল্ডিং আছে সেখানে। একটা সাইকেল র্যাকে সাইকেল বেঁধে রেখে পায়ে হেঁটে কার পার্কে এসে ঢুকলো সে।
আরেকটা চিহ্ন দেখতে পেলো এখানে। সাদা, ঝরঝরে একটা পিকআপের টায়ারে আঁকা রয়েছে আশ্চর্যবোধক, ক্যালিফোর্নিয়ার নাম্বারপ্লেট। শুরু হয়েছে ৫৬ দিয়ে। এটা সেই ট্রাক, বুঝতে অসুবিধে হলো না তার, যেটা রবিনের পিছু নিয়েছিলো। যেটা দিয়ে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেয়া হয়েছিলো রবিনকে।
এদিক-ওদিক তাকালো মুসা। কোথায় বন্দী করে রাখা যেতে পারে কিশোরকে, খুঁজছে। কমার্শিয়াল পিয়ারের একটা বিল্ডিং-এ....সম্ভব।
দ্রুত কার পার্ক পেরিয়ে এলো সে। দেখতে লাগলো বিল্ডিংগুলো। নানারকম ঘর রয়েছে ওখানে। ওয়্যারহাউজ, স্টোরহাউস, সবই পেশাদার জেলেদে উপযোগী। পিপে, জাল, দড়ি ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্র। কাউকে চোখে পড়লো না। বিকেল হয়ে গেছে। বন্দরের শ্রমিকদের ছুটি হয়ে গেছে। উইকএন্ডে চলে গেছে যে যার মতো। লোকজন নেই সে কারণেই। কিশোরকে খুঁজতে শুরু করলো সে। কোথায় আছে? ধূলো পরা নোংরা জানালা গুলোর দিকে তাকালো সে তালা দেয়া দরজা দেখলো, দেয়াল দেখলো। কোথা যদি আকা থাকে আশ্চর্যবোধক। নেই। কোথাও নেই।
পিয়ারের শেষ মাথায় একটা এক মাস্তুলের ট্রলার দেখা যাচ্ছে। মাস্তুল আর বুম থেকে জাল ঝুলছে। জালের কিনারে আটকানো কমলা রঙের কর্ক।
সারির শেষ বাড়িটার কাছে পিয়ারে বাধা রয়েছে ট্রলারটা।
শেষের দুটো বাড়ির মাঝখানের ছায়ায় নড়ে উঠলো একটা ছায়া।
দ্রুত সেদিকে এগোলো মুসা। এমনভাবে সরে গেলো ছায়াটা, মনে হলো লুকিয়ে পড়লো। তারপর যেন মুসার শব্দ পেয়েই ঘুরে তাকালো।
মুসা!
রবিন?
একজন আরেকজনের দিকে ছুটে এলো।
তুমি এখানে কি করছো? কণ্ঠস্বর খাদে নামিয়ে জিজ্ঞেস করলো মুসা। তোমার তো ডন র্যাগনারসনের ওপর চোখ রাখার কথা।
তাই তো রাখছিলাম। এই শেষ বাড়িটার কাছে এসে ভেতরে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে তার বোটে উঠে চলে গেল। পানিতে তাকে অনুসরণ করতে পারলাম না। তুমি এখানে কি করছি? কিশোর কোথায়?
বোরিন্সদের বাড়ি থেকে কি করে কিশোরের চিহ্ন ধরে ধরে এখানে এসেছে জানালো মুসা। বললো, নিশ্চয় বিপদে পড়েছে ও। নইলে পথের পাশের প্রতিটি থামেই চিহ্ন এঁকে এঁকে আসতো।
মাথা ঝাঁকালো রবিন। মুসার সঙ্গে একমত। তাহলে এখানেই কোথাও আছে। কিন্তু কোথায়?
বন্দরের কিনারে সারি সারি নীরব বাড়িগুলোর দিকে তাকালো দু'জনে। কাউকে চোখে পড়লো না। কিশোরকে তো নয়ই। যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে, কিংবা বাষ্প হয়ে উড়ে গেছে গোয়েন্দাপ্রধান।
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now