বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো_ভূত #পর্ব_তিন

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #তিন_গোয়েন্দা #পুরনো_ভূত #পর্ব_তিন ডকের একটা বেঞ্চে মহিলাকে শুইয়ে দিলেন ফ্লেচার। বেঞ্চটা ঘিরে দাঁড়িয়েছে তিন গোয়েন্দা। সরো তো, বাতাস লাগুক, চীফ বললেন। 'বোটটা কোথায় পেলে?' খুলে বললো রবিন আর মুসা। ওরা চুপ করতেই চোখ মেললেন মহিলা। উঠে বসে বললেন, 'আমি যাবো ওখানে!' তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন ফ্লেচার। শান্ত হোন মিসেস বোরিনস। বিশ মিনটের মধ্যেই হেলিকপ্টার নিয়ে রওয়ানা হবো আমরা, মহিলার দিকে তাকিয়ে হাসলেন তিনি। আবার শুয়ে পড়লেন মিসেস বোরনস। নীল চোখের দৃষ্টি চঞ্চল হয়ে ঘুরছে সবার মুখের ওপর। ছেলেদেরকে জানালেন চীফ, ' কাল রাতে মাছ ধরতে বেড়িয়েছিলেন মিস্টার বোরিনস। সকাল সাড়ে আটটায় ফিরে আসার কথা। মাঝে মাঝেই ওরকম রাতে মাছ ধরতে যান তিনি। সাথে করে টর্চ নিয়ে যান, রেডিও নিয়ে যান, তীর থেকে বেশি দূরে যাননা। ঠিক সময়ে ফিরে আসেন। কিন্তু আজ সকালে আসেননি। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে পুলিশকে খবর দিয়েছেন মিসেস বোরিনস। আমরা এখানে এসে দেখলাম মিস্টার বোরিনসের গাড়িটা জায়গা মতোই আছে, তালা দেয়া। তার কোনো চিহ্ন নেই। কাল রাতের পর তার বোটটাকেও কেউ দেখেনি। ডকে বাঁধা শূন্য বোটটা পরীক্ষা করে গম্ভীর হয়ে গেলেন তিনি। তিন গোয়েন্দার দিকে তাকিয়ে চোখ মিটমিট করতে লাগলেন মিসেস বোরিনস। দ্বিধান্বিত। ডেনি ওখানে কি করছিলো? একা এতদূরে কখনো যেতো না। সাঁতার জানতো না। সে-জন্যেই সব সময় সাথে করে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যায়। এত দূরে গিয়েছেন কিনা, জানি না মিসেস বোরিনস, চীফ বললেন।' 'র‍্যাগনারসন রকের দিকে জোরালো স্রোত বয়ে যায় প্রায়ই। হয়তো তাতে করেই ভেসে গিয়েছিলো নৌকাটা। 'তাহলে ডেনি কোথায়?' মহিলার প্রশ্ন। চুপ হয়ে গেলো সবাই। জবাব নেই। সেটাই বের করবো আমরা, দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করলেন অবশেষে চীফ। সহজ কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে এর। হয়তো তীরে চলে এসেছেন তিনি। তারপর কোনোভাবে দড়ি ছিঁড়ে ভেসে চলে যায় ওটা। তাহলে বাড়ি ফিরলো না কেন সে? গাড়িটাই বা নিলো না কেন? সেটাও জানার চেষ্টা করবো। কোস্ট গার্ডকে জানিয়ে দিয়েছি, এতোক্ষণে হয়তো খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে। পুলিশও খুঁজবে।তবে তার আগেই হয়তো ফিরে আসবেন তিনি। 'হয়তো? হয়তো কেনো?' তিনজন পুলিশের দিক থেকে ছেলেদের দিকে ফিরলেন মহিলা, তারপর আবার তাকালেন চীফের দিকে। গোয়েন্দাদের মনে হলো আবার বেহুঁশ হয়ে যাবেন তিনি। তারমানে আপনি শিওর হতে পারছেন না। হ্যাটের দাগটা রক্তের, তাইনা? স্বীকার করলেন চীফ, 'হ্যাঁ।' আর বোটে যে লেগে রয়েছে পিয়ারে বাঁধা শূন্য বোটটার দিকে তাকিয়ে বললেন মিসেস বোরিনস। 'সেটাও রক্ত!' মাথা নাড়লেন তিনি। নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছে...! আমি জানি কি ঘটেছে! ডেনি আর কোনোদিন ফিরবে না! কাঁদতে শুরু করেলেন শারলি বোরিন্স। চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে পুলিশ আর ছেলেরা। আশা ছাড়তে নেই মিসেস বোরিনস, শান্ত কন্ঠে কিশোর বললো। তার জ্যাকেটটা বোটে রয়েছে। তার মানে পরেননি। আর যেহেতু পরেননি, ধরে নিতে পারি কোনো কারণে বোট রেখে ডাঙায় নেমেছিলেন। 'ঠিক,' একমত হয়ে মাথা দোলালো মুসা। ওরকম একটা বেঢপ জিনিস পরে তীরে নামতে চায় না কেউ। আর বড়শিটা নিশ্চয় চুরি হয়ে গেছে, রবিন যোগ করলো। উঠে বসে বিষন্ন হাসি হাসলেন শারলি। মাথা নাড়লেন। সাঁতার জানতো না বটে, কিন্তু মাছ ধরার সময়ও নৌকাতে জ্যাকেট পরতে চাইতো না সে। পারতপক্ষে। ওই হাতের কাছে রাখতো শুধু, ব্যস। মাছ ধরার সময় রেডিও শুনতো। টু-ওয়ে-রেডিও। জ্যাকেটের পকেটে রাখতো ওটা। পাওনি, তাই না? ঢোক গিললো মুসা। 'ইয়ে..ইয়ে...' মাথা নাড়তে নাড়তে শারলি বললেন, যা বলেছি। ডেনি আর কখনও ফিরবে না আমার কাছে। কিছু একটা ঘটেছে। পড়ে গিয়ে মাথায় চোট লেগেছলো। তারপর ডুবে গেছে পানিতে। উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে সবার মুখের দিকে তাকালেন একবার করে। কতবার যে বলেছি, সবসময় জ্যাকেটটা পরে থাকতে। শোনেনি। এখন গেছে! আবার নীরবতা। কাশি দিলেন ফ্লেচার। আপনি যা-ই বলুন, মিসেস বোরিন্স, আমি আশা ছাড়তে পারছি না। 'হতে পারে,' কিশোর বললো, 'কোনো বোট তাকে তুলে নিয়েছে। ওটাতে রেডিও নেই। জেটিতে এলেই খবর মিলবে।' র‍্যাগনারসন রকেই নেমে রয়েছেন কি না কে জানে! রবিন বললো। উঠে দাঁড়ালেন শারলি। ডলে সমান করলেন পোশাকের ভাঁজ। পাতলা হাসি ফুটলো ঠোঁটে। ' অনেক ধন্যবাদ, সবাইকে। অযথা সান্ত্বনা দিয়ে লাভ নেই। আমি জানি, ডেনি আর ফিরে আসবে না। বেশি দূরে যেত না সে। বলতো, লাইফ জ্যাকেট পরা থাকলে বড়জোর এক মাইল দূর থেকে ভাসিয়ে আনতে পারে ঢেউ। নাহ্, সে আর ফিরবে না। চীফ, গাড়িটা নিয়ে যাচ্ছি আমি। বাড়িতেই থাকবো। লাশটা পেলে দয়া করে জানাবেন। ধীরে হেঁটে গাড়িটার কাছে এগোলেন শারলি। তার সঙ্গে যাওয়ার জন্যে সহকারীদেরকে ইশারা করলেন চীফ। তারপর ছেলেদের দিকে ফিরলেন। বোটটা টেনে এনে খুব ভালো করেছো। কি মনে হয়, স্যার? মুসা জিজ্ঞেস করলো। 'কোনো চান্স আছে?' মনে হয় মাথায় বাড়ি খেয়ে পানিতেই পড়ে গেছে, ফ্লেচার বললেন। 'বোটে একা ছিলো। রাতের বেলা...' কথাটা শেষ করলেন না তিনি। তবে খোঁজা বাদ দেবোনা আমরা। তোমরা কিছু দেখেছো? বোরিনসের কি হয়েছে বুঝতে পেরেছো? 'কিছুই না।' 'হুঁ, কিছু জানলে জানাবে।' মাথা নেড়ে সায় দিলো তিন গোয়েন্দা।গাড়ির দিকে এগোলেন চীফ। শারলি আর পুলিশ চলে যাওয়ার পর নিজেদের বোটটাকে শক্ত করে বেঁধে সাইকেল নিতে চললো তিন গোয়েন্দা। বন্দরের বাইক র‍্যাকে বাঁধা রয়েছে ওগুলো। 'এই! এই ছেলেরা!' ডাক শোনা গেলো। ছোট একটা মোটরবোট এসে ভিড়েছে ডকে। হাত নেড়ে ডাকছে র‍্যাগনারসন রকের একজন ভাইকিং। 'শোনো, কথা আছে।' বোট বেঁধে তীরে নেমে এলো লোকটা। বেশি লম্বা নয়। মোটা রোমশ টিউনিকে অনেক বেশি মোটা লাগছে তাকে। হলুদ রঙের নকল দাড়ি। মাথায় শিংওয়ালা হেলমেট। লম্বা নোজ গার্ডে মুখের বেশির ভাগটাই ঢাকা পড়েছে। শুধু দেখা যাচ্ছে নীল চোখ। 'তোমরাই ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিলে না?' 'কেন? কিছু হয়েছে?' পাল্টা প্রশ্ন করলো রবিন। শীতল কণ্ঠে কিশোর বললো, 'ছবি তোলার অধিকার সবারই রয়েছে।' 'আরা, আরে, রেগে যাচ্ছ কেনো? আমি ওগুলো কিনতে চাই। যতগুলো তুলেছো, সব।' এখনও ডেভেলপই করা হয় নি, রবিন বললো। তাছাড়া বাবা বলে দিয়েছেন তোলার জন্যে। তার কাছেই বেচবো। ঠিক আছে। তোমাদের সঙ্গে যাবো। ডেভেলপ করো। আসলে মাত্র দুটো ছবি আমার দরকার। ওই দুটোই বেছে নেবো। রবিনের। আব্বা রাজি হবেন বলে মনে হয় না, কিশোর বললো। পত্রিকার লোক তিনি। ছাপার আগেই ওগুলো কারো হাতে পড়ুক এটা পছন্দ করবেন না তিনি। তবে তিনি কোনো ছবি বাতিল করলে তখন দিতে পারবো আপনাকে। 'হ্যাঁ,' রবিন বললো। কাল আসবেন। দেখি, কি করতে পারি। আপনার নাম? 'ডন র‍্যাগনারসন,' জানালো লোকটা। ভালো দাম দেবো। দিয়ে দাও ছবি গুলো। 'সরি, মিস্টার র‍্যাগনারসন। কাল আসবেন।' জ্বলে উঠলো লোকটার চোখ। হুমকির ভঙ্গিতে এক পা এগোলো। 'এখুনি দরকার আমার'! কর্কশ হয়ে উঠেছে কণ্ঠস্বর। 'ভালোয় ভালোয় দিয়ে দাও, নইলে...' পিছাতে শুরু করলো ছেলেরা। টায়ার ঘষার শব্দ হলো। ডেকে বললো একটা কণ্ঠ, 'এই কিশোর, একটা কথা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম। বোটের কোনো জিনিসে হাত দাওনি তো?' গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে কথা বলছেন চীফ ফ্লেচার। ফিরে এসেছেন। 'শুধু হ্যাটটা, স্যার,' দ্রুত পুলিশের গাড়ির কাছে চলে এলো কিশোর। তার সাথে সাথে এলো রবিন আর মুসা। কি কি জিনিস ছিলো বোটে, আর একবার বললো ওরা। মাথা ঝাঁকিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেলেন চীফ। ফিরে তাকালো ওরা। ডন র‍্যাগনারসনকে দেখা যাচ্ছা না। এমনকি ওর বোটটাও নেই। তাড়াতাড়ি সাইকেলের দিকে চললো তিন গোয়েন্দা, আবার কোনো বাধা আসার আগেই। 'পুলিশকে পছন্দ করে না,' মুসা বললো। 'তাই!' যোগ করলো রবিন। লোকটা আমাদের ঠিকানাটা ও নেয়ার জন্যে দাঁড়ালো না। ছবি নেবে কি করে? 'ফিল্মগুলো হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাবো আমি,' কিশোর বললো। কাল সকাল সকাল এসে ডেভেলপ করে নেবে। এক মুহূর্ত চুপ থেকে বললো, 'রেডিওটা খোলা রাখবে। মিস্টার বোরিনসের কোনো খোঁজ পেলে খবরে বলতে পারে।' (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now