বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরনো_ভূত
#পর্ব_তেইশ
ডনের কাজ! চেঁচিয়ে উঠলো রবিন। পাঁচ গ্যালনের প্লাস্টিক জগে করে রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে এসেছিলো যে ডন, সেকথা জানালো। নিশ্চয় পেট্রল ট্যাংকে ঢেলে দিয়েছে। যাতে এঞ্জিন স্টার্ট না হয়। এমনভাবে ঢালছিলো, যে কেউই দেখলে ভাববে পেট্রোল ঢালছে।
তাহলে একাই রকে চলে গেলো! মুসা বললো সাগরের দিকে তাকিয়ে। এমন ব্যবস্থা করে গেছে, যাতে আর কেউ যেতে না পারে।
আর কোনো বোট নেই, স্যার? প্রিন্সিপ্যালকে জিজ্ঞেস করলো রবিন।
আমাদের যে ক'টা ছিলো, রেগে গিয়ে বললেন প্রিন্সিপ্যাল, সব নষ্ট করে দিয়ে গেছে। করছে যে কি ছেলেটা, কিছুই বুঝতে পারছি না।
সে-ই ভূত, মায়ানেকড়ে, সবকিছু, বলে দিলো মুসা।
হারানো সোনাগুলো খুঁজে পেয়েছে সে, বললো রবিন।
সোনা? বুঝতে পারলেন না প্রিন্সিপ্যাল।
হ্যাঁ, স্যার। কিশোর বুঝিয়ে দিলো। স্টার অভ পানামাকে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ওটার ক্যাপ্টেন। সোনাগুলো নিয়ে রেকার'স রকে উঠেছিলো হয়তো সে। এখন আমরা জানি অন্তত কিছুটা হলেও সোনা রয়ে গেছে দ্বীপে। হয়তো সবই রয়েছে, জানিনা। এবারে সেলিব্রেশনে গিয়ে সেগুলো কোনোভাবে বের করে ফেলেছিলো ডন। কাউকে ভাগ দিতে চায় নি। তাই ভয় দেখিয়ে সবাইকে তাড়াতে চেয়েছে।
কাল রাতে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিলো, রবিন বললো। আপনারা দু'জন আর আমাদেরকে বাদে আর সবাইকে তাড়িয়েছিলো। আজকে সব বোটগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছে যাতে দ্বীপে কেউ যেতে না পারেন।
বোধহয় দু'জন জেলেকে বাদে, মুসা বললো।
একটা বোট ভাড়া করতে পারি আমরা, প্রিন্সিপ্যাল বললেন।
তার দরকার হবে না, কিশোর বললো। আমার অনুমান সত্যি হলে ডন এখন রেকার'স রকে রয়েছে দু'জন ডেঞ্জারাস লোকের সঙ্গে, যারা আমাদের নেগেটিভ চুরি করেছে। আমাকে কিডন্যাপ করেছে। কি করে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে বন্দী করেছে, খুলে বললো কিশোর। সোনা ছাড়াও আরও কোনো কিছুতে জড়িয়ে রয়েছে ডন। সে জানে না, লোকগুলো কতটা খারাপ। পেশাদার চোর, কিডন্যাপার। যা-ই করুক, আমার ধারনা মারাত্মক বিপদে রয়েছে এখন সে। ক্যাপ্টেন ফ্লেচারকে জানানো দরকার, যেন পুলিশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসেন।
চীফের সাথে কথা বলা দরকার, ডাক্তার বললেন।
আমার গাড়িটা কাছেই, চলো, বললেন প্রিন্সিপ্যাল।
বোরিসকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো কিশোর। ওরা তিনজন আর ডাক্তার ইংমার মিলে পাঁচজন ঠাসাঠাসি করে বসলো প্রিন্সিপ্যালের গাড়িতে। থানায় চললো। ডেকে বসা সার্জেন্টকে বললেন ডেভিড, ক্যাপ্টেনকে খবর দিতে। ফ্লেচার নিচে এসে তাদেরকে অফিসে ডেকে নিয়ে গেলেন। দ্রুত তাকে সব কথা জানালো কিশোর।
ওই লোকগুলোর সাথে কিভাবে জড়ালো, দুঃখ করে ডাক্তার বললেন, বলতে পারবো না। ওদের কথায় বুঝলাম, ক্যাপ্টেন, এবার ভালো বিপদে জড়িয়েছে সে। জলদি চলুন
উঠে দাঁড়ালেন ক্যাপ্টেন। শুনে তো সেরকমই মনে হচ্ছে। লোকগুলোকে বোধহয় চিনতে পেরেছি। টার আর ডরিস হ্যাংম্যান। জেলে। আগেও কয়েকবার বেআইনী কাজ করে পুলিশের তাড়া খেয়েছে। বন্দরেই রয়েছে পুলিশের লঞ্চ। চলুন।
বন্দরে ফিরে এলেন প্রিন্সিপ্যাল। তার গাড়িতে করেই এলেন ইংমার আর তিন গোয়েন্দা। পুলিশের গাড়িতে করে এলেন ইয়ান ফ্লেচার আর তিন পুলিশ অফিসার। পুলিশের বোটে উঠলো সবাই। একটুও দেরি না করে ছেড়ে দিলো বোট।
সাতটা বেজে গেছে। দিগন্তের কাছাকাছি নেমে পড়েছে সূর্য। বোটের রেলিঙ-এ দাঁড়িয়ে রেকার'স রকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে কিশোর।
সময় মতো পৌঁছতে পারলেই হয় এখন, কিশোর বললো।
ডন বিপদের মধ্যে রয়েছে ভাবছ কেন? জিজ্ঞেস করলো ইংমার।
কেন বলতে পারবো না, মনে হচ্ছে, তাই। জবাব দিলো কিশোর। অন্ধকার হওয়ার পরপরই পৌঁছতে পারলে ভালো হতো।
সূর্যের দিকে তাকালেন চীফ। হুঁ, অন্ধকার হওয়ার আগে পারবোও না।
সেটাই ভালো হবে। ওদের অলক্ষ্যে নামতে পারবো দ্বীপে। দ্বীপের কাছাকাছি গিয়ে এঞ্জিন বন্ধ করে দিতে বলবেন। একটা আলোও যেন না জ্বলে।
বলবো।
রেকার'স রকে যখন বোটটা পৌঁছলো অন্ধকার জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে তখন। এঞ্জিন বন্ধ করে দেয়া হলো। ভেসে ভেসে চলছে এখন বোট। আপন গতিতে। সৈকতের ওপর অস্পষ্ট চোখে পড়ছে র্যাগনারসনদের তাঁবুগুলো।
অন্ধকার খাঁড়িতে নামলো বোট। লাইফবোট আর রাবারের দু'টো ভেলা নামিয়ে তাতে চড়ে বসলেন দুই র্যাগনারসন, তিন গোয়েন্দা, চীফ আর তার তিন অফিসার। নিঃশব্দে এসে তীরে ভীড়লো ওগুলো।
কিশোর, দেখো, ফিসফিসিয়ে বললো মুসা।
ডনের বোট, চিনতে পারলেন ইংমার।
সৈকতে টেনে তুলে রাখা হয়েছে ছোট বোটটা। আউটবোর্ড মোটরটা ওপর দিকে তোলা। খাঁড়িতে শুধুমাত্র ওই একটাই বোট, আর নেই।
আর তো নেই, কিশোর, শান্ত কণ্ঠে বললেন চীফ। সাগরের দিকে তাকালেন।
না, নেই, দ্বীপের ওপর ঘনায়মান অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বললো কিশোর। থাকার কথাও নয় এখানে। দ্বীপের অন্যপাশে গিয়ে দেখা দরকার। টিলাটার কাছে।
বেশ, চলো, রাজি হলেন ক্যাপ্টেন। ছড়িয়ে পড়তে হবে আমাদের। যাতে পুরো দ্বীপটাই কভার করা যায়।
অফিসারদের নির্দেশ দিলেন চীফ। কিশোরের নির্দেশে রবিন চলে গেলো উত্তরে। প্রিন্সিপ্যাল নিজের ইচ্ছেতেই চললেন দক্ষিণে নিচু চূড়াটার দিকে। এর মাঝামাঝি অংশে ছড়িয়ে পড়লো অন্যেরা। পশ্চিমের টিলার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চললো সবাই। একটা জায়গায় মিলিত হবে।
টিলার গোড়ায় জুনিপারের সারির কাছে পৌঁছে, মোড় নিয়ে, হলুদফুলওয়ালা গুল্ম জন্মে রয়েছে যে জায়গাটায় সেদিকে চললো কয়েকজন। অসমতল ভূমিতে ফেলে রাখা বাক্সটার গায়ে হোঁচট খেলো মুসা। সোনার মোহর আর তালগুলো পড়লো মাটিতে।
এখানেই কোথাও আছে ডন, বললো সে। বাক্সটা ফেলে গেছে কোনো কারণে।
কিন্তু ডনের ছায়াও দেখা গেল না কোথাও।
খুঁজতে হবে, চীফ বললেন।
ওকে বের করার আরও সহজ উপায় আছে, চীফ, বললো কিশোর।
(চলবে.....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now