বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরনো_ভূত
#পর্ব_সতের
সাঁই করে হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে দিলো কিশোর। সাইকেল নিয়েই ঢুকে পড়লো ঝোপের মধ্যে। ড্রাইভওয়ে থেকে বেরিয়ে এলো ডন।
গিরিপথে শোনা যাচ্ছে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের গর্জন। কিশোরের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল, দেখলো না তাকে। ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল শব্দ। তারপর নীরবতা।
উঠলো কিশোর। তুলে নিলো মাটিতে শুইয়ে রাখা সাইকেলটা। হ্যান্ডেল ধরে ঠেলে।নিয়ে বেরিয়ে এলো ঝোপ থেকে। সাইকেলে চড়ে ঢালু পথটা পেরোলো। ড্রাইভওয়েটা খাড়া উঠে গেছে। সাইকেল চালিয়ে ওঠার চেয়ে ঠেলে নিয়ে ওঠা সহজ। নেমে ঠেলেই উঠতে লাগলো।
বাড়ির গায়ে সাইকেলটা ঠেস দিয়ে রেখে সামনের দরজায় টোকা দিলো সে। খুলে দিলো লম্বা, ভারিক্কি চেহারার একজন মানুষ। গাঢ় রঙের স্যুট আর টাই পরনে।
মিসেস বোরিন্সের সঙ্গে দেখা হবে? ভদ্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো কিশোর।
রান্নাঘরে আছে। কফি বানাচ্ছে। এসো।
লিভিং রুমে এনে কিশোরকে বসালো লোকটা। তার দিকে তাকিয়ে বিষন্ন হাসি হাসলো। ঘড়ি দেখলো এমন ভঙ্গিতে যেন বহুক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে।
অন্য লোকটাও কি তার সাথে দেখা করতেই এসেছিলো? জানতে চাইলো কিশোর।
অন্য লোক?
ডন র্যাগনারসন। এইমাত্র তাকে বেরিয়ে যেতে দেখলাম।
কই, আর কাউকে দেখিনি এখানে।
বসে বসে দেখতে লাগলো কিশোর। দামী আসবাবপত্র। দেয়ালে ঝোলানো আধুনিক পেইন্টিং। বাইরের দৃশ্য ভালোভাবে দেখার মতো করে তৈরি হয়েছে জানালাগুলো। পর্বত দেখা যায়। লম্বা লিভিং রুমের শেষ প্রান্ত থেকে দূরে সাগর চোখে পড়ে। একটা টেবিলে রাখা বাঁধাই করা একটা ফটোগ্রাফ। খাটো, মোটা, মাঝবয়সী একজন লোকের। দাঁড়ানো অবস্থায় তোলা হয়েছে ছবিটা। বড় একটা সাইনবোর্ডের সামনে। তাতে লেখেঃ বোরিনস মোটরস, জাগুয়ার অ্যান্ড টয়োটা।
সরি, নিকোলাস.....আরে?
দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মিসেস বোরিনস। অ্যাপ্রনে হাত মুছছে। সাধারণ একটা কালো পোশাক পরেছে মহিলা। রোগা হয়েছে। চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে। ক্লান্ত নীল চোখ জোড়া কিশোরকে দেখছে। তোমাকে চেনা চেনা লাগছে!
হ্যাঁ, ম্যাম, সেদিন ডকে দেখা হয়েছিলো। আপনার স্বামীর বোটটা আমরাই পেয়েছিলাম।
কঠোর হয়ে গেল মহিলার দৃষ্টি। যেন সেই দিনটার কথা মনে করতে চায় না। জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেললো। হ্যাঁ, চিনেছি। তুমি....
কিশোর পাশা।
হ্যাঁ। মাথা ঝাঁকালো মহিলা। নামটা যেন তার কাছে বিশেষ গুরুত্ববহ এমন একটা ভাব করলো। লম্বা লোকটার দিকে তাকিয়ে বললো, নিকোলাস, এই ছেলেটা আর তার দুই বন্ধু ডেনির বোটটা পেয়েছিলো। আবার কিশোরের দিকে ফিরলো সে। নিকোলাসের পরিচয় দিলো, ও আমার দেবর। তোমাদের কাছে সে ও আমার মতোই কৃতজ্ঞ। তোমরা এতো কষ্ট করলে, অথচ দেখ, সামান্য ধন্যবাদ দেয়ার কথাও মনে হয়নি সেদিন। তোমরা না থাকলে কোনোদিনই....কোনোদিন জানতে পারতাম না ডেনির কি হয়েছে।
হঠাৎ কিশোরের মনে হলো, যা জানাতে এসেছে সেটা মিসেস বোরিন্সকে বলা খুব কঠিন হয়ে যাবে তার পক্ষে। তবু বললো, ইয়ে একটা কথা জানাতে এলাম। কাল রাতে আমরা রেকার'স রকে গিয়েছিলাম। একটা জিনিস পেয়েছি। মনে হলো, আপনার স্বামীর হতে পারে।
কিশোরের মুখের ওপর যেন আটকে গেল মিসেস বোরিন্সের দৃষ্টি।
একটা ভারি ক্যানভাসের জ্যাকেট, কিশোর বললো। হাতায় রিফ্লেক্টর স্ট্রিপ লাগানো। পকেটে একটা সিগারেট লাইটার পাওয়া গেছে, জাগুয়ার কোম্পানির নাম লেখা।
ডেনির! চিৎকার দিয়ে উঠলো মহিলা। দেখি, দেখি!
সরি, আনতে পারিনি। পুলিশের কাছে। আপনি গিয়ে দেখতে চাইলে নিশ্চয়ই দেখাবে।অ্যাঁ....ওকে। দ্বিধায় জড়ানো মহিলার কণ্ঠ। আমি...ডেনির জ্যাকেটটা আস্ত আছে?
মিসেস বোরিন্সের চোখে চোখে তাকাতে পারলো না কিশোর। নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, না। ছেঁড়া। কালচে দাগ লেগে রয়েছে।
ব্যথায় কালো হয়ে গেল মহিলার মুখ।
হাঙর, বিষন্ন নিকোলাসের কণ্ঠ। ঈশ্বর! না জানলেই ভালো হত! আর কোনো আশা থাকলো না!
আর দাঁড়াতে পারলো না মিসেস বোরিনস। সাদা একটা কাউচে বসে কাঁদতে লাগলো। নাক মুখ চাপা দিয়েছে রুমাল দিয়ে। উঠে গিয়ে তার বাহুতে হাত রাখলো নিকোলাস বোরিনস।
শারলি, বললো সে, আমি থানায় যাচ্ছি। জ্যাকেটটা দেখবো। বিকেলে নাগাদ চলে আসবো আবার। একটা ব্যাপার শিওর হওয়া গেল, ভাই আর নেই। ইনশিওরেন্স কোম্পানিকে জানাতে হবে সেটা। লাইফ ইনশিওরেন্স যখন করিয়েছেই...তুমি একা থাকতে পারবে?
ফোঁপাতে ফোঁপাতেই মাথা কাত করলো মিসেস বোরিনস। সকালের রোদ এসে পড়েছে ঘরে। চকচক করছে তার চুল।
দেখো, কেঁদে আর কোনো লাভ নেই। যে যাবার সে তো চলেই গেছে। তার জন্যে ঈশ্বরের কাছে দোয়া করো। অনেক দিয়ে গেছে তোমাকে সে। তোমার নামে নমিনি। বিমার টাকাটা ও তুমিই পাবে। মনে মনে ধন্যবাদ দাও তাকে।
কিশোরের দিকে তাকিয়ে সামান্য মাথা নুইয়ে চলে গেল নিকোলাস। এঞ্জিন স্টার্ট নিলো। ড্রাইভওয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল গাড়িটা।
মিসেস বোরিনস? সহানুভূতির সুরে বললো কিশোর।
মুখ তুললো না মহিলা। রুমালে নাক গুঁজে কেঁদেই চললো।
পা নাড়লো কিশোর। কাশলো। তারপর বললো, ইয়ে, আপনার সাথে কয়েকটা কথা ছিলো। কিছু প্রশ্ন।
জোরে একবার নাক টানলো মিসেস বোরিনস। মুখ তুললো। চোখ মুছে নিয়ে তাকালো তার দিকে। সরি, কিশোর। খবরটা শুনে আর ঠিক থাকতে পারিনি। তবু, বেঁচে তো থাকতে হবে। শক্ত করতে হবে নিজেকে, বুঝি। পারছি না।....তুমি কি জানতে চাও?
আমি আসার সময় একটা লোককে দেখলাম চলে যাচ্ছে। আপনার ড্রাইভওয়ে থেকেই বেরোলো। এখানে কি জন্যে এসেছিলো বলতে পারবেন?
লোক?
হ্যাঁ, মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলো।
মোটরসাইকেল? কই, এঞ্জিনের শব্দ তো শুনি নি? মাথা নাড়লো মিসেস বোরিনস। কি বলছো, বুঝতে পারছি না। কোনো লোককেই দেখিনি।
ওর নাম ডন র্যাগনারসন। নামটা শুনেছেন?
আবার মাথা নাড়লো মহিলা। না।
আপনার স্বামীর পরিচিত হয়তো?
ভ্রুকুটি করলো মিসেস বোরিনস। রুমাল দিয়ে নাক মুছলো। আমার মনে হয় না। র্যাগনারসনের নাম কখনো তাকে বলতে শুনিনি।
একটু আগে তাহলে কেন মোটরসাইকেলওলা লোকের সাথে কথা বলেন নি?
না। এখানে এসেছে যে তা-ই জানি না। কি করছিলো বলোতো? কি চেয়েছে? নিকোলাসের সাথে কথা বলতে নয়তো?
এবার মাথা নাড়লো কিশোর। না, ম্যা'ম। আপনার দেবরও বলেছেন, তিনি তাকে দেখেননি।
তাহলে তো মিটেই গেলো। কেন এসেছিলো লোকটা, কি করছিলো, কিছুই বলতে পারবো না।
কিশোর ওঠার পরও বসেই রইলেন মিসেস বোরিনস। তাকে ওভাবেই রেখে বেরিয়ে এলো সে। বাড়িটে ঘুরে এগিয়ে এলো তার সাইকেলের দিকে।
লিভিং রুম থেকে দেখা যায় না এরকম একটা জায়গায় এসে আবার ফিরে চললো কিশোর। সাইকেলটা ঠেলে নিয়ে চলে ওলো বাড়ির পেছনে, গ্যারেজের কাছে। অনেক বড় গ্যারেজ, কমপক্ষে তিনটে গাড়ির জায়গা হবে। মাটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। পেছনের সিঁড়ির কাছে আসার আগে কিছু চোখে পড়লো না।
রান্নাঘরে উঠে গেছে সিঁড়িটা। সিঁড়ির পাশে ফুল গাছের সারি দিয়ে বর্ডার করা। ওখানেই মাটিতে দেখতে পেলো দাগটা। কোনো সন্দেহ নেই, মোটরসাইকেলের টায়ারের ছাপ। সিঁড়িতে, রান্নাঘরের দরজার কাছে মাটি লাগে রয়েছে। ফুল গাছের কিনারে যেরকম মাটি, সেরকম। এখনও শুকায়নি। ভেজা ভেজাই রয়ে গেছে।
কিশোর যখন এসেছে, তখন রান্নাঘরে ছিলো মিসেস বোরিনস। আর ডন র্যাগনারসন ছিলো ঘরের দরজায়। নাকি দু'জনে একই সাথে ছিলো দরজায়? কি করছিলো? এই জন্যেই কি কফি বানাতে এতো দেরি হয়েছে মিসেস বোরিন্সের?
এতোই মগ্ন হয়ে ভাবছে কিশোর, পেছন থেকে যে দু'জন লোক আসছে, টেরই পেলো না।
দু'জনের মুখেই স্কি মাস্ক। একজনের খোলা বাহুতে ট্যাটু দিয়ে মারমেইড আঁকা। যখন দেখলো সে, অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবু পালানোর চেষ্টা করলো। পারলো না। ধরে ফেলা হল তাকে। যাতে চিৎকার করতে না পারে, সে-জন্যে মুখ চেপে ধরলো কঠিন আঙুল।
(চলবে.....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now