বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#পুরনো_ভূত
#পর্ব_ষোল
সৈকতের ধার দিয়ে চলে যাওয়া পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে সাবধানে পুরো রাস্তাটায় চোখ বোলালো রবিন। রোদের মধ্যে যেন চুপটি করে বসে রয়েছে ডন র্যাগনারসনের ভাঙাচোরা কটেজটা। নির্জন পথে হাঁটছে না কোনো পথিক।
চলো, আরও কাছে যাই। মুসা বললো।
একটা রেলিঙের সঙ্গে শেকল দিয়ে সাইকেল দুটোকে বেঁধে রেখে রাস্তা ধরে হেঁটে রওয়ানা হলো ওরা। গাছাপালায় ঘেরা কটেজের কাছাকাছি এসে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো মুসা, গ্যারেজটা খোলা!
সাবধানে গাছগাছড়ার ভেতর দিয়ে সেদিকে এগোলো দু'জনে। গ্যারেজের একটা দরজা খোলা। কটেজের এক কোণে দাঁড়িয়েই ভেতরটা চোখে পড়ে। বাদামী পিকআপটা রয়েছে। কোনো মোটরসাইকেল দেখা গেলো না।
মনে হয় বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেছে, অনুমান করলো মুসা।
এইই সুযোগ, রবিন বললো। কটেজের ভেতরটা দেখে ফেলি! আজকেও ক্যাপ্টেন কুলটার আছে কি না কে জানে!
যদি ভূতটা বাস করে এখানে? আমি বাপু ভেতরে ঢুকছি না। সাহস থাকলে ঢোকোগে। আমি এখানেই থাকি।
ভূতফূত কিছু নেই, মুসা। কস্টিউম। আমার বিশ্বাস, পোশাকটা পরে ক্যাপ্টেন কুলটার সেজেছিলো ডন।
তার দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলো মুসা। তুমি বলতে চাও পয়লা দিন এসে ডনকেই দেখেছি আমরা? কুলটার মনে করেছি?
সেই সম্ভাবনাই বেশি। কিশোরও নিশ্চয়ই তাই মনে করে। এখন শুধু প্রমাণ দরকার। বাড়িটার খোঁজ করলে কিছু পেয়ে যেতে পারি।
মুসার চোখে সন্দেহ। কিশোর বলে দিয়েছে ডনের জন্যে অপেক্ষা করতে। আর কিছু করতে বলেনি।
কিন্তু এটা আমাদের সুযোগ। ডন কি করছে জানতে হলে ভেতরে ঢুকতেই হবে। সব সময়ই সব কিছু বলে দিতে পারবে না আমাদেরকে কিশোর। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা আমাদেরকেই করতে হবে। নইলে কিসের গোয়েন্দা হলাম?
বেশ.....,দ্বিধা কাটছে না মুসার। বলছো যখন, চলো যাই।
এসো। ঘুরে সামনের দিকে চলে যাবো।
খুব সতর্ক হয়ে, পা টিপে টিপে, রঙচটা কটেজের পাশ দিয়ে ঘুরে এসে সামনে বারান্দায় উঠলো দু'জনে। জানালার ময়লা কাঁচের মধ্যে দিয়ে ভেতরে তাকালো। পর্দাগুলো খুলে ফেলা হয়েছে। ভেতরে কেউ নেই। কিছুই নড়ছে না। জানালায় ঠেলা দিয়ে দেখলো মুসা। আটকানো।
পাশের জানালা দিয়ে চেষ্টা করা উচিৎ, সে বললো। ডন এতোটা সতর্ক মানুষ নয় যে সব জানালাই আটকে রেখে যাবে।
সামনের দরজাটাই বা দেখি না কেন? বলতে বলতে গিয়ে নব ধরে মোচড় দিলো রবিন।
খোলা!
জোরে নিঃশ্বাস ফেললো মুসা। বাহ, চমৎকার। কষ্ট আর করতে হলো না। তবে মজাটাই মাটি।
লিভিং রুমের ভেতরে রাজ্যের জঞ্জাল। খাবারের টিন, সোডার ক্যান আর ধূলো। ময়লা কাপড়-চোপড় স্তূপ হয়ে রয়েছে মেঝেতে। গড়াগড়ি খাচ্ছে ভাঙা আসবাবপত্র। হাঁ হয়ে খুলে রয়েছে একটা টেবিল আর সাইনবোর্ডের ড্রয়ার, ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা বাতিল জিনিসপত্র।
ওই একটা ঘর দেখেই ডনের ওপর বিরক্তি জন্মে যাওয়া স্বাভাবিক, মুসার মনে হলো। এতোটা নোংরা হতে পারে মানুষ, ভাবতে পারে না সে।
বেডরুম আছে দু'টো। একটাতে শোবার কোনো ব্যবস্থা নেই। নানা রকম জিনিস পড়ে রয়েছে। বেশির ভাগই মোটরগাড়ির। পুরনো টায়ার, সাইড এবং রিভারভিউ মিরর, হুইল কভার, দরজার হাতল, সীট কভার আরও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যা বিক্রি করা যাবে। আরও রয়েছে সুপারমার্কেটের শপিং ট্রলি, দরজার জন্যে তামার ফিটিংস, আর কিছু পুরনো দরজা।
নিশ্চয়ই চুরি করে নিয়ে এসেছে, মুসা বললো। বিক্রি করার জন্যে।
হবে হয়তো। কিন্তু রেকার'স রকে গিয়ে কি করেছে, সেটা কিছুই বোঝা যায় না এসব দেখে।
দ্বিতীয় শোবার ঘরটায় বিছানা আছে একটা, তবে তাতে মানুষ শু'তে পারে ভাবা যায় না। অগোছালো। চাদর-টাদরগুলো কতদিন ধোয়া হয়না কে জানে! দূর্গন্ধ হয়ে আছে। একটা আলমারি আছে। আর একটা ক্লজিট।
এখানে কিছুই নেই, ক্লোজিটের ভেতর থেকে জানালো মুসা।
শেষ ঘরটা হলো রান্নাঘর। যেখানে ক্যাপ্টেন কুলটারকে দেখেছিলো ওরা। অন্য ঘরগুলোর মতোই এটাও ভীষণ নোংরা। তাকগুলো প্রায় শূণ্য। রেফ্রিজারেটরটার অবস্থা কাহিল।
হয়েছে, হতাশ হয়ে হাত ঝাড়তে লাগলো রবিন। কিছুই নেই।
গ্যারেজে দেখে বাকি এখনো।
ঠিক, চলো।
কাত হয়ে থাকা গ্যারেজের ভেতর এসে ঢুকলো দু'জনে। তক্তা খসে পড়েছে জায়গায় জায়গায়। বড় বড় ফাঁক দেয়ালে। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার হুমকি দিচ্ছে যেন। মাটিতে একটা জায়গা দেখালো মুসা। তেল পড়ে আছে। মোটরসাইকেল ছিলো ওখানটায়। মায়হা ঝাঁকালো রবিন। তারপর পেছনের দরজাটা চোখে পড়লো দু'জনেরই।
মনে হয় স্টোররুম, রবিন বললো।
দরজার পাল্লায় তালা দেয়া নেই, শুধু ভেজানো। ওপাশে ছোট আরেকটা ঘর। তাতে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছে মাছ ধরার সরঞ্জাম, সার্ফবোর্ডস, সাইকেলের যন্ত্রাংশ, একটা স্কেচবোর্ডের খানিকটা, আর বড় একটা হ্যাং গ্লাইডারের অংশ, দেখে অন্তত সেরকমই লাগছে। ছোট একটা জানালা দিয়ে মৃদু আলো আসছে। তবে তাতে জিনিসপত্রগুলো দেখা যায়। একধারে একটা ওয়ার্কবেঞ্চ রাখা।
ওই যে, চেঁচিয়ে বললো মুসা, ডনের ভাইকিং কস্টিউম।!
দেয়ালের একটা পেরেকে ঝোলানো রয়েছে জলদস্যুর পোশাকটা। বেঞ্চের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে হেলমেট, আর চামড়ার অন্যান্য জিনিস, যেগুলো হাতে আর পায়ে বাঁধা হয়। বর্ম, তলোয়ার আর একটা ড্যাফেল ব্যাগ ফেলে রাখা হয়েছে মেঝেতে। ব্যাগটা খুললো মুসা। এক নজর দেখেই মুখ তুলে তাকালো রবিনের দিকে, এই যে আমাদের ভূত!
ব্যাগের মধ্যে রয়েছে কুলটারের সুতোর কাজ করা নীল ক্যাপ। লম্বা ঝুলওয়ালা নীল ওভারকোট, তাতে পিতলের বোতাম লাগানো। আঁটো প্যান্ট। পুরনো ডিজাইনের তৈরি নাবিকদের বুট। আর একটা টেলিস্কোপ। ভোজালিটা নেই। নাবিকের ছেঁড়া পোশাকও রয়েছে এক সেট, তাতে শ্যাওলা লেগে রয়েছে। র্যাগনারসনদের দেখা আরেকটি 'ভূত'।
সেটা দেখে চেঁচিয়ে উঠলো মুসা, খাইছে!
ডনই তাহলে ভূত, যা ভেবেছিলাম! এগিয়ে এলো রবিন। বলেছি না, ওই ব্যাটাই সেদিন কুলটারের পোশাক পরে ছিল।
কণ্ঠস্বরও নকল করে ফেলেছিলো, মুসা বললো। নাবিকদের ভাষা। তখন অবশ্য ডনকে চিনতাম না, তার চেহারা কেমন জানতাম না।
না, একমত হলো রবিন। ও নিশ্চয়ই তখন ভূত হওয়া প্র্যাকটিস করছিলো। আমরা এসে তাকে ডিস্টার্ব করেছিলাম। নানারকম পোজ নিয়ে, জানালার কাঁচকে আয়না বানিয়ে দেখছিলো সে।
দেখা যাক, আর কি পাওয়া যায়।
ছোট স্টোররুমের মেঝেতে পড়ে থাকা জিনিসপত্রের মধ্যে ঘাটতে লাগলো মুসা। রবিন দেখতে লাগলো ওয়ার্কবেঞ্চটা। কোণগুলোতে হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াতে লাগলো মুসা। খুব কাছ থেকে দেখছে সবকিছু। যাতে কিছুই নজর এড়াতে না পারে। মই বেয়ে ঘরের চালের আড়ায় উঠে গেলো রবিন। কয়েকটা তক্তার ওপরে রাখা বাক্সটা চোখে পড়লো তার। সেকথা জানালো মুসাকে।
বাক্সটা নামিয়ে আনলো ওরা।
কি আছে এটাতে? বাক্সের দিকে তাকিয়ে বললো মুসা।
হয়তো সমস্ত প্রশ্নের জবাব! কেন রেকার'স রক থেকে সবাইকে তাড়াতে চেয়েছে ডন, জানা যাবে হয়তো এটা খুললে।
তাহলে খোলো।
বাক্সের ভাতরে পাওয়া গেল পাঁচটি বড় আকারের মুদ্রা। চকচকে, সোনার। আর কিছু সোনার তাল রয়েছে।
একটা মুদ্রা তুলে নিলো রবিন। পড়লো, আঠারোশো সাতচল্লিশ।
পস্পরের দিকে তাকালো দু'জনে।
নরম শিস দিয়ে উঠলো মুসা। দ্যা স্টার অভ পানামার হারানো স্বর্ণ!
নিশ্চয়ই দ্বীপে খুঁজে পেয়েছে এগুলো ডন।
এবং সে-জন্যেই ওখান থেকে সবাইকে তাড়াতে চেয়েছে।, যাতে আরও ভালোমতো খুঁজে বাকিগুলোও বের করতে পারে।
বাইরে শোনা গেলো মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ। পাথরের মূর্তি হয়ে গেল যেন দু'জনে।
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now