বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরনো_ভূত
#পর্ব_সাত
ঘাড় ডলতে ডলতে সাপ্তাহিক 'রকি বীচ নিউজ '-এর অফিস থেকে বেরোলো মুসা। সারাটা বিকেল কাটিয়েছে এখানে। ঘরে বসে এসব কাজ করতে একটুও ভালো লাগে না তার। নাক উঁচু করে বুক ভরে টেনে নিলো সাগর থেকে আসা বিশুদ্ধ বাতাস।
স্যালভিজ ইয়ার্ডের ওয়ার্কসশপে এসে শুধু কিশরের সাইকেলটা দেখতে পেলো সে। দুই সুড়ঙ্গ দিয়ে ট্রেলারে ঢুকলো সে।
'রবিন আসেনি?'
না। পড়ার মতো কিছু পেয়ে গেছে হয়তো। তুমি কিছু পেলে?
অনেক কিছুই পেয়েছি। শহরতলীর সবচেয়ে বড় হার্ডওয়্যার দোকানটার মালিক জর্জ র্যাগনারসন। মিস্টার ডেভিড র্যাগনারসন আমাদের স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল। ডক্টর ইংমার র্যাগনারসন দাঁতের ডাক্তার, এ-শহরেই থাকেন। ডন র্যাগনারসন তার ছেলে। আরও তিনজন র্যাগনারসন রয়েছে, দু'জন এঞ্জিনিয়ার। লস এঞ্জেলেসে থাকে। আরেকজন একাউন্টেন্ট, ভেনচুরায় কাজ করে। আরও কিছু র্যাগনারসন আছে, আশপাশের শহরগুলিতে। লড়াইয়ের সময় সাবাই এসে জড়ো হয় এখানে। রকি বীচে যারা থাকে তাদের সবার ঠিকানা নিয়ে এসেছি। যাকেই জিজ্ঞেস করেছি, সবাই বলেছে র্যাগনারসনরা ভালো লোক। শুধু ডন বাদে।
'কেনো?'
পরিবারের কুসন্তান সে। লেখাপড়া করেনি। স্কুল ছেড়ে দিয়ে পান্ডামি-গুন্ডামি শুরু করেছে। বয়স বাইশ। চাকরি-বাকরি করতে পারে না। অসৎ পথে টাকা কামানোর চেষ্টায় থাকে সবসময়। জেল খেটেছে একবার।
হুঁ। অনেক কিছুই জেনেছো। আমি নতুন কিছু আর জানতে পারিনি তেমন। সবই বলে দিয়েছেম রবিনের বাবা। আঠারোশো ঊনপঞ্চাশ সালে জুতোর ব্যবসা করতে ইলিয়ন থেকে এসেছিলো নাট র্যাগনারসন। পরিবারকে আনতে যাওয়ার জন্যে চড়েছিলো দ্য স্টার অভ পানামা জাহাজে। গন্তব্য ছিলো পানামা। ক্যাপ্টেনের নাম ছিলো হেনরি কুলটার। সোনার মোহর, গুঁড়ো আর সোনার তাল নিয়ে চলেছিলো জাহাজটা। রকি বীচ ছাড়ানোর পর পরই ওটার সী কক খুলে দিয়ে সোনাগুলো নিয়ে লংবোটে করে পালায় ক্যাপ্টেন।
ব্যাটা একটা আস্ত শয়তান ছিলো। চোরতো বটেই, খুনীও। এতোগুলো লোককে পানিতে ডুবিয়ে মারলো! জাহাজটা ডোবালো কেনো?
বোঝানোর জন্যে যে সোনাগুলো সহই ওটা ডুবেছে। ক্যাপ্টেন একা পালায়নি। নাবিকদের সঙ্গে নিয়েছিলো। যাত্রীরা তখন ঘুমিয়ে।। একটা লোক শুধু বেঁচে গেলো। নাট র্যাগনারসন।
ভাগ্যবান লোক।
মাথা ঝাঁকালো কিশোর।
ক্যাপ্টেন কুলটার আর তার নাবিকদের কি হলো?
বলতে পারবো না। সে সম্পর্কে জানতে পারিনি কিছু। তবে আরেকটি কথা জেনেছি পঁয়ত্রিশ বছর আগে নাটের নাতি এসভিন, উত্তরে বাস করে। সে ঠিক করলো পাঁচ বছর পরপর সেলিব্রেট করবে গিয়ে দ্বীপে। তারপর থেকেই....
ট্যাপডোর খোলার শব্দে থেমে গেলো কিশোর। রবিন এসেছে। হাসিমুখে ট্রেলারে ঢুকলো সে।
দেরি সহ্য হলো না কিশোরের। রবিন বসার আগেই জিজ্ঞেস করলো, কুলটারের খবর জেনেছো?
না। তাকে কেউ দেখেনি। তার নাবিকদেরও না। সোনাগুলোর খোঁজ নেই। হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়াম থেকে জেনে আসা তথ্যগুলো জানালো রবিন, একেবারে গায়েব। নাট র্যাগনারসন তীরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেলো ক্যাপ্টেন আর তার নাবিকেরা, সোনাসহ। তারপর কেউ আর তাদেরকে দেখেনি। সাগরে পথটথ হারিয়েছে ভেবে অপেক্ষা করতে লাগলো পুলিশ। ভাবলো, অন্য কোনো জাহাজ ওদের তুলে নিয়ে আসবে। এমনকি তাদের ধারণা হলো, ঘুরেঘারে এসে সেই দ্বীপটাতেই উঠেছে কুলটারও। তারপর ধ্বংস হয়েছে। সে জন্যে দ্বীপটার আরেক নাম হয়েছেঃ রেকার'স রক।
মন দিয়ে শুনছিলো কিশোর। বললো, কি মনে হয় তোমার? একসাথে দ্বীপটাতে ওঠেনি তো কুলটার আর নাট?
কেউ কেউ অবশ্য ভেবেছে কথাটা।
তাহলে, আরেকটা ব্যাপার হতেও বাধা নেই। একজনের গোপনীয়তা হয়তো আরেকজন জেনে ফেলেছিলো। যাই হোক, আর কিছু জেনেছো?
জ্যাকেটের পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে ভাঁজ খুললো রবিন। 'আরেকটা জিনিস পেয়েছি। ফটোকপি করে নিয়ে এসেছি।'
কাগজটা বাড়িয়ে ধরলো সে। একটা লোকের ছবি। লম্বা। যেনো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ছবি তোলার সময়। একে বলে ডগোয়েরিওটাইপ। তোলার সময় অনেকক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
তার কথাটা অন্য দু'জনের কানে ঢুকলো বলে মনে হলো না। ছবিটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। লম্বা, পাতলা একজন মানুষ। উঁচু কলারওয়ালা, হাঁটু পর্যন্ত ঝুল, গাঢ় রঙের কোট, পিতলের বোতাম। ধবধবে সাদা গোঁফ। ফ্যাকাসে চোখ। ছোট একটা নেভি ক্যাপ মাথায়, তাতে সোনালী কাজ করা। পরনে আঁটো প্যান্ট। পায়ে গোড়ালি ঢাকা বুট। হাতে সাদা দস্তানা, আর একটা পিতলের টেলিস্কোপ।
'এ-তো সেই লোক....'
শুরু করলো মুসা, শেষ করলো কিশোর, 'ডন র্যাগনারসন!'
'হ্যাঁ,' হাসলো রবিন। সেই লোক, তবে ডন নয়। দ্য স্টার অভ পানামা জাহাজের ক্যাপ্টেন হেনরি কুলটার।
'পা-পা-পানামা জাহাজের ক্যাপ্টেন! ' অবাক হয়ে গেলো মুসা।
রবিনের দিকে তাকালো কিশোর। ছবিটা পেলে কোথায়?
একটা বইতে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘটেছে এরকম কিছু অমীমাংসিত অপরাধের ওপর লেখা। দ্য স্টার অভ পানামার কাহিনী সবিস্তারে লেখা রয়েছে এটাতে। ক্যাপ্টেন কুলটারের ছবিও রয়েছে তাতে। জাহাজ থেকে পালানোর পর তার আর তার নাবিকদের কি হয়েছে কেউ জানেনা।
কিন্তু ঘটনাটা ঘটেছে একশোর ও বেশি বছর আগে, কণ্ঠস্বর খাদে নামিয়ে ফেলেছে মুসা। অস্বস্তি বোধ করছে বোঝাই যায়। 'এখন ক্যাপ্টেনের বয়স....'
'কম করে হলেও পৌনে দুশো বছর হবে,' হিসেব করে বললো কিশোর। যদি বেঁচে থাকে। কারণ তখনকার দিনে অন্তত তিরিশ বছরের কমে কেউ জাহাজের ক্যাপ্টেন হতে পারতো না।
'পৌনে দুশো বছর কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না,' মাথা নাড়লো মুসা। অসম্ভব। তার মানে যাকে দেখে এসেছি আমরা সে ক্যাপ্টেন কুলটার নয়।
'জ্যান্ত কুলটার নয়,' রবিন বললো।
গুঙিয়ে উঠলো মুসা। থাক! হাত নাড়লো সে। বাকিটা আর শোনার দরকার নেই!
'জ্যান্ত হতেই পারে না,' আনমনে বললো কিশোর। 'এর তিনটে ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে। এক, যাকে দেখেছি তার সঙ্গে ছবির এই লোকটার অসাধারণ মিল। দুই, ওই লোকটা এই লোকটার ছদ্মবেশ নিয়েছিলো। আর তিন নম্বর হলো, লোকটা মানুষ নয়, ভূত।
'বললাম না, আর কিছু শুনতে চাই না আমি!' জোরে জোরে এবার দু'হাত নাড়লো মুসা।
তার কথা কানে তুললো না কেউ।
'ছবির লোকটা আর কটেজের লোকটা এক হতেই পারে না,' রবিন বললো। 'কারণ আজকাল এরকম পোশাক কেউ পরে না। অথচ চেহারার সঙ্গে আশ্চর্য মিল রয়েছে। কাকতালীয় বললে খুব বেশি কাকতালীয় হয়ে যায়।
তাহলে ক্যাপ্টেন-ছদ্মবেশ নিয়েছে, কিশোর বললো।
অথবা সত্যি ভূত।
ঠিক, জোর দিয়ে বললো মুসা। ভূতের ছবিই তুলে এনেছো তুমি। সে জন্যেই ডন র্যাগনারসন আমাদের নেগেটিভগুলো নিয়ে গেছে। ওগুলো তার দরকার। দ্বীপে তার ওপর আসর করেছিলো ভূতটা। তাকে দিয়েই এসমস্ত অসৎ কাজ করিয়ে নিচ্ছে।
আরে দূর, অধৈর্য্য ভঙ্গিতে হাত নাড়লো কিশোর। কি সব আবোল তাবোল কথা। ভূতের ছবি তোলা যায় না। কারণ ওসব নেই। একটাই ব্যাপার ঘটেছে। ক্যাপ্টেনের ছদ্মবেশ নিয়েছে কেউ।
ভূতের ছবি তোলা যায় না, মুসা বললো। ঠিক, কারণ ওরা অশরীরী। কিন্তু নেই, একথা বলতে পারবে না। আমি মানি না। আছে, আবশ্যই। অদৃশ্য থাকে আর কি।
নিরাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়তে লাগলো কিশোর। অটো সাজেশন নিয়ে নিয়ে আরও অবনতি হয়েছে তোমার। আগের চেয়ে বিশ্বাস আরও জোরদার হয়েছে।
কিশোর, রবিন প্রশ্ন করলো। কেন ক্যাপ্টেনের ছদ্মবেশ নিতে যাবে?
মাথা নাড়লো কিশোর। জানি না। তবে এটা কাকতালীয় ব্যাপার নয়, এটুকু বলতে পারি।
তাহলে ডন হয়তো ছবিগুলো চুরি করেনি। করেছে এই ছদ্মবেশী লোকটাই।
ডনও কুলটারের ছদ্মবেশ নিয়ে থাকতে পারে। তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে। ডন আর অন্য র্যাগনারসনদের ব্যাপারে আরও খোঁজ-খবর নিতে হবে আমাদের।
কিভাবে? জানতে চাইলো রবিন।
কাল র্যাগনারসনদের সঙ্গে দেখা করবো আমরা।
ওরা খারাপ কিছু করেছে বলে মনে হয় তোমার?
একজনের ব্যাপারে বলতে পারি, করেছে। ডন। ছবিগুলো কেড়ে নিতে চেয়েছে আমাদের কাছ থেকে, হুমকি দিয়েছে। তারপর দু'জন লোক ছবিগুলো নিয়ে গেছে। কেউ একজন ক্যাপ্টেন কুলটারের ছদ্মবেশ নিয়েছে। আমরা জেনেছি, ক্যাপ্টেন, তার নাবিক আর সোনাগুলোর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনও তো হয়ে পারে, এখনও সোনাগুলো রয়েছে র্যাগনারসন রকে!
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now