বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো_ভূত #পর্ব_পঁচিশ (শেষপর্ব)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পুরনো_ভূত #পর্ব_পঁচিশ (শেষপর্ব) কখন সন্দেহ করলে? জিজ্ঞেস করলেন হলিউডের বিখ্যাত চিত্র পরিচালক মিস্টার ডেভিড ক্রিস্টোফার, ডেনমার বোরিন্স যে মরেনি। এক সপ্তাহ পর কেসের রিপোর্ট নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে তার অফিসে দেখা করতে এসেছে তিন গোয়েন্দা। যখন মিসেস বোরিন্সের সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা করলাম, জবাব দিলো কিশোর। এবং যখন ডনকে দেখার কথা অস্বীকার করলেন মহিলা। তার আগেই অবশ্য ভাবতে শুরু করেছি, ডন ছাড়াও আমাদের তোলা ছবি কেউ চায়। কারণ মিস্টার মিলফোর্ডকে যখন আক্রমণ করলো দু'জন মুখোশধারী চোর, তখন ডনের জানারই কথা নয় যে পত্রিকায় ছবিগুলো ছাপা হয়েছে। ভাবলাম, ছবিতে গুপ্তধনের কোনো চিহ্ন হয়তো ফুটেছে, তাই ছবিগুলো নিয়ে যেতে চায় ডন। কাজেই রবিন আর মুসা ভেজা কাপড় বদলাতে বেরিয়ে যাওয়ার পর আরেকবার ভালোমতো দেখলাম ওগুলো। একটা খাম থেকে চারটা ছবি বের করে টেবিলের ওপর দিয়ে মিস্টার ক্রিস্টোফারের দিকে ঠেলে দিলো কিশোর। ভালোমতো দেখলে আপনিও দেখতে পারেন, বড় টিলাটার গোড়া থেকে একটা মুখ উঁকি দিয়ে রয়েছে। লড়াইয়ের জন্যে তখন মার্চ করে চলেছে র্যাগনারসনরা। প্রথমে খালি চোখে দেখলেন পরিচালক। তারপর একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস বের করলেন আরও ভালোমতো দেখার জন্যে। হুঁ, খুব ভালো করে না দেখলে চোখেই পড়বে না। একটা ঝোপের কাছে অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। ঠিক, কিশোর বললো। তখনই মনে হলো আমার, মিস্টার বোরিন্স বেঁচে নেই তো? হয় তো লুকিয়ে রয়েছেন রেকার'স রকে। হতে পারে, রবিনকে ছবি তুলতে দেখেছেন তিনি। ভয় পেয়ে গেলেন, বীমা কোম্পানির লোকেরা এই ছবি দেখে ফেললে তার সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। গুঙিয়ে উঠলো মুসা। এই বীমার ব্যাপারটা এখনও কিছু বুঝতে পারছি না আমি। কেন পারছো না? সহজ ব্যাপার। লাইফ ইনশিওরেন্স কি জানো না নাকি? আশ্চর্য! রবিন বললো। ধরো, পরিবারের কেউ একজন একটা বীমা করালো। কাউকে নমিনি করে যাবে। তারপর থেকে মাসে মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমা দিতে থাকবে কোম্পানিতে। প্রিমিয়াম। যদি সেই লোকটি অসময়ে মারা যায়, যার নামে নমিনি, তাকে তখন বিরাট অঙ্গের টাকা দিতে বাধ্য থাকবে কোম্পানি। প্রিমিয়ামে যা জমা দিয়েছে, তার চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি। যতো টাকার বীমা করানো হয়েছিলো ততো টাকা। আচ্ছা, বুঝলাম। পাঁচ লক্ষ ডলারের বীমা করিয়েছিলেন মিস্টার বোরিন্স। খাইছে! এ তো জুয়া খেলা! মরা বাঁচার ওপর হারজিত নির্ভর করে! বলাটা একটু অন্যরকম হয়ে গেছে বটে, পরিচালক বললেন, তবে ঠিকই বলেছো তুমি। দুই পক্ষই জুয়া খেলে। বীমা কোম্পানি চায় মক্কেল তাড়াতাড়ি না মরুক। আর মক্কেল অবচেতন ভাবে চায় সে এমন সময় মরুক যখন তার পরিবার টাকাটা পেয়ে যেতে পারে। তবে পরিবারের জন্যে টাকাটা চায় নি বোরিন্স। নিজের জন্যেই চেয়েছে। নিজে জীবিত থেকে ভোগ করতে চেয়েছে টাকাটা। টাকার কষ্টে পড়েছিলো বোধহয়? হ্যাঁ, জবাব দিলো কিশোর। বেশি খরুচে স্বভাবের, স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই। গত কয়েক বছর ধরে গাড়ি বিক্রি কমে গেছে, ব্যবসার অবস্থা খারাপ। এই অবস্থায় আর কোনো উপায় না দেখে বীমা কোম্পানিকে ফাঁকি দেয়ার প্ল্যান করেছিলো ওরা। একটা দূর্ঘটনা সাজিয়েছেন। বোটে, হ্যাটে রক্ত লাগিয়ে রেখেছিলেন। ছেঁড়া জ্যাকেটে রক্ত লাগিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন পানিতে। তারপর গিয়ে রকে উঠেছিলেন বোরিন্স। রাত পর্যন্ত লুকিয়ে থাকতেন। তখন হ্যাংম্যানরা এসে তাকে ট্রলারে তুলে নিয়ে চলে যেত। কিন্তু র্যাগনারসনদের সেলিব্রেশন আর রবিনের তোলা ছবি সর্বনাশ করে দিলো তার, মুসা বললো হেসে। রবিন যে ছবি তুলেছে সেটা দেখতে পেয়েছেন বোরিন্স, কিশোর বললো। তখন হ্যাংম্যানদেরকে রেডিওতে বলেছেন ছবিগুলো আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্যে। আরও বলেছেন, র্যাগনারসনরা দ্বীপে তিনি বেরোতে পারবেন না দ্বীপ থেকে। ওখানে থাকা উদ্দেশ্যে নামেননি তিনি, তাই সাথে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর খাবার রাখেননি। শেষে বাধ্য হয়ে তাঁবু থেকে কাপড় আর খাবার চুরি করেছেন, বাঁচার তাগিদে। হ্যাংম্যানরা তুলে নিতে এতো দেরি করলো কেন তাহলে? জিজ্ঞেস করলেন পরিচালক। প্রথম দু'রাত আকাশ পরিষ্কার ছিলো, জবাবটা দিলো মুসা। দ্বীপ তখন জমজমাট। ওই সময়ে এসে র্যাগনারসনদের চোখে পড়তে চায় নি কেউই। কিন্তু তৃতীয় রাতে, মুসার কথার খেই ধরলো রবিন, বেশ কুয়াশা পড়েছিলো। তাছাড়া ভয় দেখিয়ে ডন বেশিরভাগ সেলিব্রেটারকেই বিদেয় করেছে ততোক্ষণে। ঝুঁকিটা নেবেন ঠিক করলেন বোরিন্স। রেডিওতে খবর পাঠালেন হ্যাংম্যানদের। এরা এলে টর্চ জ্বেলে সংকেত দিলেন যে তিনি হাজির। কিন্তু তার কপাল খারাপ। আমরা তাকে দেখে ফেলেছি। ডনও। হ্যাঁ, এবার ডনের কথা বলো, পরিচালক বললেন। রহস্যের দ্বিতীয় ভাগ। সে-ও কি বীমা জালিয়াতির সাথে জড়িত? না, কিশোর বললো। অন্তত সরাসরি ভাবে নয়। সোনার সন্ধান সে সত্যই পেয়েছে। সেটার ভাগ দিতে চায়নি কাউকে। নিরাপদে যাতে এলাকায় তুলে নিয়ে যেতে পারে সে-জন্যে ভয় দেখিয়ে সবাইকে তাড়াতে চেয়েছে। তাই ভূত সেজে আজ নেকড়ের ডাক টেপ করে এনে শুনিয়ে আতংক সৃষ্টি করেছে। ওসব করতে গিয়েই বোরিন্সকে টিলার কাছে দেখে ফেলে সে। ওর সাথে কথা বলে। ব্ল্যাক মেইলের চিন্তা ঢুকলো মাথায়। ভালো টাকা পাওয়া যাবে, বুঝতে পারে। তাই আমি যাওয়ার আগেই গিয়ে মিসেস বোরিন্সের সাথে দেখা করে। রাজি না হয়ে উপায় ছিলো না মহিলার। তখন হ্যাংম্যানদের সাথে কাজ শুরু করে ডন। তাদেরকে সাহায্য করে যাতে নিরাপদে বোরিন্সকে রক থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারে ওরা। সে-জন্যেই র্যাগনারসনদের সমস্ত বোট অচল করে দেয় সে। তারপর চলে যায় রেকার'স রকে। ছেলেটা অতিরিক্ত লোভী, মন্তব্য করলেন পরিচালক। এসব মানুষের কখনও ভালো হয় না। আর একেরপর এক বিপদে পড়ে। ঠিক বলেছেন, স্যার, মাথা দোলালো মুসা। ডনের বেলায়ও তাই হয়েছে। কায়দা করে তার কাছ থেকে সাহায্যটা ঠিকই আদায় করে নিয়েছে বোরিন্স। কিন্তু শেষ মুহূের্ত তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো ট্রলারে। ওর ভাগ্য ভালো যে, কিশোর বুঝে ফেলেছিলো। নইলে হাঙরের পেটে হজম হয়ে যেতো এতোদিনে। শিওর, তাকে পানিতে ফেলে দিতো হ্যাংম্যানরা। তোমাদেরকে দেখে সে-জন্যেই খুশি হয়েছে, পরিচালক বললেন। তা ছন্নছাড়া স্বর্ণ-সন্ধানী এখন কোথায়? হাসলো কিশোর। বাড়িতে। বোরিন্সকে সাহায্য করার অপরাধে বিচারক তাকে বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছেন। অনেকটা গৃহবন্দীর মতো। বাড়ি থেকে বেরোতে পারবে না। রেকার'স রকে যেতে পারবে না। সব র্যাগনারসনরা এখন দ্বীপে চলে গেছে, হেসে যোগ করলো মুসা। সারাদিন ধরে শুধু মাটি খুঁড়ে চলেছে। মোহর খুঁজছে সবাই। হাহ্ হাহ্! ডন যখন মুক্তি পাবে, যাবে ওখানে, সোনার একটা কণাও খুঁজে পাবে না। তেমন কিছু নেইও, রবিন বললো। শুধু কয়েকটা সোনার মুদ্রা, ব্যস। তারমানে ক্যাপ্টেন কুল্টার আর তার খুনী নাবিকেরা সত্যিই দ্বীপটায় নেমেছিলো, পরিচালক বললেন। দ্বীপে কিছু সোনা ফেলে গিয়েছিলো কোনোভাবে। ওদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, আর সোনাগুলো গায়েব হয়ে যাওয়া রেকার'স রকের একটা বড় রহস্য। মাথা ঝাঁকালো তিন গোয়েন্দা। বোরিন্স আর হ্যাংম্যানদের কি শাস্তি হলো? খবরের কাগজে দেখেননি? ও। কিশোর বললো, অনেক অভিযোগ আনা হয়েছে ওদের বিরুদ্ধে। জালিয়াতি, ষড়যন্ত্র, আক্রমণ, কিডন্যাপিং। বেশ কিছুদিন উকিল নিয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে ওদেরকে। শেষ পর্যন্ত আরেকবার সত্যের জয় হলো। মৃদু হাসি ফুটলো পরিচালকের ঠোঁটে। তা এতো কিছু যে করলে, তোমাদের কিভাবে পুরষ্কৃত করলেন প্রিন্সিপ্যাল ডেভিড র্যাগনারসন? নিশ্চয় খুব বিনীত ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছো। তোমাদের যা স্বভাব.... গালে লাল আভা ফুটলো কিশোরের। হ্যাঁ, স্যার, ঠিকই বলেছেন। আমাদের কাজে খুব বেশি খুশি হয়েছেন মিস্টার ডেভিড। ডাক্তার সাহেবের মন থেকেও ভার নেমে গেছে। চমৎকারভাবে চলেছে সেলিব্রেশন, কেউ বিরক্ত না করায়। ডনের কোনো ক্ষতি না হওয়ায় দু'জনেই খুশি। তাহলে তো ভালোই। তবে একেবারে খালি হাতে আমাদের ছাড়েনি প্রিন্সিপ্যাল স্যার। পাশের চেয়ারে রাখা ন্যাপস্যাকটার চেইন খুললো কিশোর। সেদিকে তাকিয়ে হাসলো রবিন আর মুসা। এই যে, বলে ব্যাগ থেকে বের করে আনলো একটা চুমাশ মুখোশ, যেটা রেকার'স রকে গিয়ে পরেছিলো কিশোর। ভারি জিনিসটা মুখে পরে প্রতিটি ক্ষণ অস্বস্তিতে ভুগেছে সে। টেবিলের ওপর দিয়ে ঠেলে দিয়ে বললো, আমাদেরকে দিয়েছেন মিস্টার ডেভিড। কিছু যদি মনে না করেন, স্যার, আমরা আপনাকে উপহার দিলাম। নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই, আগ্রহের সঙ্গে টেনে নিলেন পরিচালক। ওরকম একটা জিনিসের শখ আমার অনেক দিনের। ছবি বানাতে কাজে লাগে। তাছাড়া আমার ব্যাক্তিগত মিউজিয়ামে....মুখোশটা মুখে পরলেন তিনি। কেমন লাগছে? হাসলো কিশোর। সেটা সংক্রমিত হলো রবিন আর মুসার মাঝে। কিশোরের হাসি বাড়লো। অন্য দু'জন হাসতে হাসতে চেয়ারের ওপরই গড়িয়ে পড়লো। তাকে দেখতে কেমন লাগছে, আন্দাজ করতে পারছেন পরিচালক। মুখোশের আড়ালে তিনিও নিঃশব্দে হাসলেন। সেটা দেখতে পেলো না তিন গোয়েন্দা। >>সমাপ্ত<<


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now