বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#পুরনো_ভূত
#পর্ব_পাঁচ
পলকের জন্যে চোখে পড়লো সামনের সীটে দুটো মাথা। জোরে জোরে প্যাডেল করে চালালো রবিন। কিন্তু কাছে চলে এলো ট্রাক। এঞ্জিনের সঙ্গে পারার কথা নয় সাইকেল নিয়ে। আরেকবার মুখ ঘোরালো, অন্তত একজন মানুষের চেহারা দেখার জন্যে। চোখে পড়লো শুধু রেডিয়েটরের গ্রিল।
সাইকেলের সঙ্গে একই গতিতে পিছে পিছে চললো ট্রাক। যেন কোনোকিছুর অপেক্ষায় রয়েছে লোকগুলো।
সামনের ব্লকে বাড়িঘর নেই। শুধু বাগান। আর আরেক পাশে একটা পার্ক। তাতে গাছপালা ঝোপঝাড় রয়েছে। রবিন বুঝে গেলো এই জায়গাটায় আসারই অপেক্ষায় রয়েছে লোকগুলো।
ব্লকটার কাছে আসতে না আসতেই পেছন থেকে সামনে চলে এলো ট্রাকটা। তার পথরোধ করলো।
ব্রেক কষলো রবিন। দেখলো ক্যালিফোর্নিয়ার লাইসেন্স প্লেট। প্রথম দুটো নম্বর শুধু মনে রাখতে পারলো, ৫৬। পরক্ষণেই মোড় নিয়ে নেমে পড়লো পার্কের রাস্তায়। পেছনে ফিরে তাকালো একবার। কেউ অনুসরণ করছে না।
পথটা মোড় নিয়ে মেইন রোডের সমান্তরালে চলে গেছে। ওটা দিয়ে এগোলে আবার ইয়ার্ডের দিকেই যেতে হবে। তাই করলো রবিন। ফিরে তাকিয়ে হাসলো সে। উল্টো দিকে, অর্থাৎ ভুল দিকে মোড় নিয়েছে সাদা ট্রাক।
যখন নিশ্চিত হলো ভুল করে আরেক দিকে চলে গেছে ট্রাকটা, তখন আবার ফিরলো বাড়ির দিকে। খানিক দূর এগোতে না এগোতেই পেছনে আবার শোনা গেলো ঝরঝরে বডির ঝনঝন শব্দ। ফিরে তাকিয়ে দেখলো, আবার পেছনে লেগেছে সাদা পিকআপ। এবার আর সামনে এগোলো না। পার্ক থেকে সরতে সরতে রবিনকে নামিয়ে দিলো রাস্তার পাশের মাটিতে। আরও সরলো। পাশে খাদ। সাইকেল থেকে নামা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
সেটাই করতে যাচ্ছিলো রবিন। আরও সরে এলো ট্রাক। পাশ থেকে বডির সঙ্গে সামান্য ছোঁয়া লাগলো হ্যান্ডেলের। তাতেই যথেষ্ট। সাইকেল নিয়ে খাদে পড়ে গেলো সে
পড়ার আগে হ্যান্ডেল ছেড়ে দিয়েছিলো। ফলে সাইকেলটা সরে গেলো তার কাছ থেকে। গড়িয়ে পড়ে কোনোমতে উঠে দাঁড়ালো সে। কনুই আর হাঁটু ছড়ে গেছে। শার্ট প্যান্ট ছেঁড়া। সারা শরীরে মাটি। কিন্তু সেসব দেখার জন্যে থামলো না সে। লম্বা খাদের মধ্যে দিয়েই দৌঁড় দিলো কাছের বাড়িটার দিকে। ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলছে।
পেছনে আর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ফিরে তাকালো সে। আধ ব্লক দূরে, খাদের একটু ওপরে ঢালের মধ্যে শুয়ে আছে তার সাইকেলটা। কেউ তাড়া করেনি তাকে। কাউকে দেখাও যাচ্ছে না। পিকআপটা চলে গেছে।
প্রথমে অবাক হলো। তারপরেই হাত চলে গেলো পকেটে।হাতে কিছু ঠেকলো না। খামটা কোথায়?
তাড়াতাড়ি চলে এলো সাইকেলটার কাছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও খামটা পেলো না। খাদে পড়ার সময়ই নিশ্চয় বুকপকেট থেকে খামটা পড়ে গিয়েছিলো।
খোয়া গেছে নেগেটিভসহ ডেভেলপ করা ছবিগুলো, বুঝতে অসুবিধা হলো না তার।
সাইকেলটা রাস্তায় তুলে এনে আবার ইয়ার্ডে ফিরে চললো সে। ওখানে যাওয়াটাই এখন একমাত্র করণীয় কাজ মনে হলো তার। এবার আর গোপন প্রবেশ পথের কাছে গেলো না..সোজা ঢুকে পড়লো মেইন গেট দিয়ে। ওয়ার্ক শপে সাইকেল রেখে দুই সুড়ঙ্গ দিয়ে ঢুকে পড়লো হেডকোয়ার্টারে।
তার অবস্থা দেখে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো মুসার। 'খাইছে! কি হয়েছে, রবিন?'
কিশোর বললো, 'ট্রাকের লোকগুলো তোমার ওপর হামলা চালিয়েছিলো!'
সাইকেলসহ খাদে ফেলে দিয়েছিলো আমাকে। খামটা পড়ে গিয়েছিলো পকেট থেকে। নিয়ে গেছে।
'ওদেরকে দেখেছো?'
'হায় হায়রে! গেলো আমাদের ছবি বেচা টাকা,' কপাল চাপড়ালো মুসা।
কি হয়েছে, সব খুলে বলো তো।
কি কি ঘটেছে সব বললো রবিন। শেষে বললো ছবিগুলো এখন ফেরত আনতে হবে।
কি করে? কোনো উপায়ই তো দেখছি না। মুসা বললো।
কি যে করি এখন! ঘড়ি দেখলো রবিন। গুঙিয়ে উঠলো। আধ ঘন্টা ও নেই আর। বাবা চলে যাবে অফিসে।
মাথা ঝাঁকালো কিশোর। তা যাবেন। তুমি আগে ছবিগুলো পৌঁছে দাও তোমার বাবাকে। তারপর চোর ধরার কথা আলোচনা করবো আমরা।
হাঁ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলো রবিন আর মুসা।
কি করে দেবে, মুসা বললো।
সব তো নিয়ে গেছে! বললো রবিন।
না, হাসলো কিশোর। সারাটা সকাল কিছু করার ছিলো না। বসে না থেকে ছবি ডেভেলপ করেছি। তখনও ভেজা ছিলো ওগুলো। সে জন্যেই শুধু নেগেটিভগুলো দিয়েছিলাম। সব ছবি না দেয়ার আর একটা কারণ ছিলো। ওই সাদা পিকআপ। যখন বললে তখনই কেমন সন্দেহ হচ্ছিলো। ভাবলাম তুমি বেরোলেই যদি পিছু লাগে? যদি ছবিই ওদের উদ্দেশ্য হয়? এখন দেখছি ঠিকই করেছি না দিয়ে। তাহলে সব যেতো।
আবার ডার্করুমে গিয়ে একগাদা ছবি নিয়ে বেরুলো গোয়েন্দা-প্রধান। এখনো ভেজা। শিস দিয়ে উঠলো মুসা। উত্তেজনায় টুল থেকে লাফিয়ে উঠলো রবিন।
দাও, দাও, দিয়ে আসি। হাত বাড়ালো সে।
এক মিনিট, বাধা দিলো মুসা চোরেরা কেন এতো করে চাইছে এগুলো দেখা দরকার।
ছবিগুলো কিশোরের হাত থেকে নিয়ে ডেস্কের ওপর ছড়িয়ে দিলো সে। দু'দিক থেকে ঝুঁকে এলো কিশোর আর রবিন। ছবিতে ভরে গেছে ডেস্কের ওপরটা।
নাহ্, তেমন কিছুই তো দেখছি না, রবিন বললো। স্বাভাবিক সবকিছু। তোলার সময় যেমন দেখেছিলাম।
জলদস্যু এবং ইন্ডিয়ানদের লড়াই, মুসা বললো। আর পিকনিক। ব্যস!
মাথা ঝাঁকালো কিশোর। আমরা দেখতে পাচ্ছি না বটে, চোরেরা নিশ্চয় স্পেশাল কিছু আছে ভাবছে। এবং সেটা অন্য কাউকে দেখতে দিতে চায় না।
'কি আর দেখবে,' রসিকতার সুরে বললো মুসা। কি কি দিয়ে লাঞ্চ করেছে লোকে, সেসব আর কি।
তার কথায় কান দিলো না কেউ। রবিন বললো, হয়তো স্যুভনির হিসেবে রাখতে চায়।
'মানুষকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দিয়ে?' কিশোর মানতে পারলো না। অন্য কোনো কারণ আছে।
এই, ডন র্যাগনারসন না তো? প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো রবিন।
একথা আগেই মনে হয়েছে আমার। রবিন, দেরি হয়ে যাচ্ছে। তোমার আব্বা বসে আছেন। তাকে বলবে আরেক সেট ছবি যাতে তৈরি করে দেন আমাদেরকে। তাহলে বসে ভালোমতো পরীক্ষা করে দেখতে পারবো।
বলবো। আজ রাতের মধ্যেই পেয়ে যাবো আশা করি।
চলো, আমি আর মুসাও যাই। আর রিস্ক নেয়া যায় না। তিনজন থাকলে সুবিধা হবে।
পথে আর কোনো অঘটন ঘটলো না। সাইকেল নিয়ে নিরাপদেই রবিনদের বাড়ি চলে এলো তিনজনে। ড্রাইভওয়েতে গাড়ি বের করে ফেলেছেন মিলফোর্ড।
রবিনকে বললেন, এতো দেরি করলে। আমি বেরিয়ে যাচ্ছিলাম।
খামটা বের করে দিয়ে বললো, একেবারে প্রিন্ট করেই নিয়ে এসেছি আংকেল। তবে সেটা করার জন্যে দেরি হয়নি।
'তাহলে?'
দু'জন লোক যে আক্রমণ করে নেগেটিভ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, সেকথা বাবাকে বললো রবিন। আরেক সেট ছবি তৈরি করে দেয়ার অনুরোধ করলো।
তা দেয়া যাবে, মিলফোর্ড বললেন।
খুব ভালো হয় তাহলে, কিশোর বললো। কেন ওগুলো ছিনিয়ে নেয়ার জন্যে ওরকম বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল লোকগুলো, দেখলে হয়তো বুঝতে পারবো।
হাসলেন মিলফোর্ড। দেখো। তোমাদের তো সবকিছুতেই রহস্য খোঁজার নেশা। যাই, দেরি হয়ে গেলো।
তিনি চলে যাওয়ার পর দুই সহকারীর দিকে ফিরলো কিশোর। এক কাজ করতে পারি। পয়সা তো কিছু ইনকাম হলো। কোথাও গিয়ে কিছু খেয়ে নিতে পারি। সেই সাথে আলোচনা।
'কিসের?' মুসার প্রশ্ন।
'ভুলে গেলে? অবশ্যই ডন র্যাগনারসনের।'
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now