বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরনো_ভূত
#পর্ব_নয়
মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে রবিনকে রাস্তার পাশের ঘাসের ওপর ফেলে দিলো সে। জোরে চেঁচিয়ে গুণলো, 'এক!'
শাঁ করে এগিয়ে গেলো কিছুদূর। তারপর ঘুরলো। মুখোমুখি হয়ে এগিয়ে আসতে লাগলো আবার। শাঁই করে সাইকেল ঘুরিয়ে ফেললো কিশোর। নেমে গেলো পাশের জমিতে ইউক্যালিপটাস বনের ভেতর। উঁচুনিচু জায়গায় নাচানাচি করলো কিছুক্ষণ সাইকেল, তারপর একটা গাছের গুঁড়িতে ঠোকর খেয়ে কাত হয়ে পড়লো।
'দুই!' শোনা গেলো ডনের চিৎকার।
ভীষণ রেগে গেলো মুসা। সাইকেল থামিয়ে সীটে বসেই তাকালো ডনের দিকে। সরে গেছে ডন। মোটর সাইকেল ঘুরিয়ে আবার ফিরে আসার আগেই সাইকেল থেকে নেমে পড়লো মুসা। ঠেলা দিয়ে সাইকেলটা ফেলে দিয়ে ঝট্ করে তুলে নিলো পড়ে থাকা একটা মরা ডাল।
ব্রেক কষলো ডন। ভয়ংকর হয়ে উঠেছে মুসার চোখমুখ। নিগ্রোর সে চেহারার দিকে তাকিয়ে দ্বিধা করলো সে। জিজ্ঞেস করলো, 'ওটা দিয়ে কি করবে?'
'কাছে এসেই দেখ না!'
এলো না ডন। ওখান থেকেই বললো, এলে কচু করবে। ঠিক আছে, ছেড়ে দিলাম। দু'টোকে ফেলেছি। তাতেই শিক্ষা হয়ে যাওয়া উচিত। আর লাগতে আসবে না আমার সঙ্গে।
মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে নিয়ে উল্টো দিকে রওনা হয়ে গেল ডন।
ডালটা ফেলে দিয়ে রবিন আর কিশরের দিকে ফিরলো মুসা। কার সাহায্য লাগবে দেখলো। রবিন উঠে পড়েছে। কিশোরও। একজন খোঁড়াচ্ছে। আরেকজন ময়লা ঝাড়ছে কাপড় থেকে।
রাগে গেলে তোমার যা একখান চেহারা হয়, হাসতে হাসতে বললো কিশোর। জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। ইউক্যালিপটাসের ভারী ওষুধী গন্ধ ফুসফুস থেকে বের করে দেয়ার জন্যে। খামোখা ভূতকে ভয় পাও। ওই সময় ভূতই তোমাকে দেখলে বাপ বাপ করে পালাবে।
কি করবো? ব্যাটা আমার মাথাটা গরম করে দিয়েছিলো। রবিন, বেশি লেগেছে?
না, তেমন না, সাইকেলটা তুলে আনলো রবিন। সামনের চাকার রিংটা সামান্য টাল খেয়েছে। বাড়ি যেতে পারবো? সাইকেলটাকেই যেনো প্রশ্ন করলো সে।
কয়েক মাসেও যাবে না এই গন্ধ, ইউক্যালিপটাসের যে পাতাগুলোর ওপর পড়েছিলো কিশোর, বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকালো সেদিকে। হাড়গোড়গুলো অবশ্য বেঁচেছে। চলো, যাই, রবিনদের বাড়িতেই... সাইকেল চালিয়ে একটা ছেলে আসছে, সেদিকে তাকিয়ে থেমে গেল সে। পেপার বয়। সাইকেলের ক্যারিয়ারে কাগজের বোঝা। একহাতে হ্যান্ডেল ধরেছে, আরেক হাতে একটা কাগজ দোলাতে দোলাতে আসছে।
কাছে আসতে কাগজে একটা ছবি চোখে পড়লো রবিনের। ইশারায় থামতে বললো ছেলেটাকে। 'দেখি, একটা কাগজ।'
এই যে! ছবিটা ভালো করে দেখে চেঁচিয়ে উঠলো রবিন। আব্বার লেখা! আমাদের তোলা ছবি!
কাগজটা কিনে নিলো কিশোর। বেশ কয়েকটা ছবি ছাপা হয়েছে।
ভালো করে দেখে মাথা নাড়লো রবিন, নাহ, কিছুই তো বুঝতে পারছি না। সাধারণ ছবি। পুরো দলটা লাফাচ্ছে , দৌড়াচ্ছে পাগলের মতো।
কিছুই নেই, মুসা বললো। সাঁ গাল আর সীলের ব্যাপারে আগ্রহী হলে অবশ্য আলাদা কথা। আশ্চর্য, সীলটাকে কিন্তু দেখিইনি তখন! ছবি কিভাবে সবকিছু ধরে রাখে!
হ্যাঁ, আমাদের চোখ এড়িয়ে গেলেও ক্যামেরার চোখ এড়ায় না, কিশোর বললো। আমরা শুধু যা দেখতে চাই তার দিকে তাকাই। ক্যামেরা একবারে সব দেখে। তবে এখানে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। র্যাগনারসন, পাথর, আকাশ আর সাগর ছাড়া কিছু নেই।
এখানে আছে মাত্র ছয়টা ছবি, রবিন বললো। অথচ আমি তুলেছি আটচল্লিশটা। ওগুলোর কোনোটাতে থাকতে পারে। চলো, বাড়ি গিয়ে আগে সবগুলো দেখি।
রবিনের সাইকেলের সামনের চাকাটা লাফাতে লাফাতে চললো। অসুবিধে হলেও চালানো যায়। এখনও মাঝে মাঝেই হাঁচি দিচ্ছে কিশোর, নাকে বালি ঢুকে যাওয়ার ফল। কাপড়ে লেগে রয়েছে ইউক্যালিপটাসের কড়া গন্ধ।
বাড়ির কাছে পৌঁছে গেছে ওরা। মোড় নিয়ে ঢুকতে যাবে, এই সময় কানে এলো জোরালো কণ্ঠস্বর, 'এই, কি করো! সরো!'
ঝট করে ফিরে তাকালো রবিন। 'বাবাআ!'
রবিনদের বাড়িতে ঢুকেছে যে ড্রাইভওয়েটা, তার মাথায় গাড়ির গায়ে শরীর ঠেকিয়ে বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মিস্টার মিলফোর্ড। তার দু'পাশে দাঁড়িয়ে মুখোশ পরা দু'জন লোক।
'খাইছে!' চিৎকার করে বললো মুসা। নিশ্চয় আবার ফটো ছিনতাই করতে এসেছে।
সাইকেল ফেলে দৌঁড় দিলো সে। পিছু নিলো রবিন। সবার পিছনে কিশোর। কাধের ওপর দিয়ে তাকালো একটা লোক। দ্বিতীয় লোকটা তাকিয়েই হাত ঢুকিয়ে দিলো গাড়ির ভেতরে। ড্রাইভিং সীটের পাশের সীট থেকে তুলে আনলো বড় একটা হলদেটে খাম।
আরও কাছে পৌঁছে মুসা দেখলো বড় একটা ছুরি মিলফোর্ডের পেটে ঠেসে ধরে রেখেছে। প্রথম লোকটা। সে জন্যেই তিনি বাধা দিতে পারছেন না।
খামটা হাতিয়ে নিয়েই দৌঁড় দিলো লোক দুটো। গাছের সারির পাশে সাদা পিকআপটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো তিন গোয়েন্দা। ওরা এসেছে উল্টো দিক থেকে, তাই আগে গাড়িটি দেখতে পায় নি।
চেঁচামেচি করে লোক ডাকতে শুরু করলো কিশোর আর রবিন। মুসা ছুটছে লোকগুলোর পেছনে। কিছুতেই ছবি নিয়ে পালাতে দেবে না।
খুলে যেতে শুরু করলো পড়শীদের বাড়ির জানালাগুলো। যে লোকটা ছবি নিয়ে পালাচ্ছে তাকে সই করে ডাইভ দিলো মুসা। কোমরে নিগ্রোর খুলির আঘাত সহ্য করতে পারলো না লোকটা, পড়ে গেলো। তার ওপর পড়লো মুসা।
ছুরিওয়ালা লোকটা দাঁড়ালো না। দৌঁড় দিয়ে গিয়ে উঠে পড়লো পিকআপে। অন্য লোকটাও মুসাকে ঝেড়ে ফেলে উঠে দাঁড়ালো। গাড়িতে গিয়ে উঠলো। দু'দিক থেকে ছুটে এলো কিশোর আর রবিন, কিন্তু একজনকে ও ধরতে পারলো না। স্টার্ট নিয়ে বেরিয়ে গেলো গাড়িটা।
গেলো! হতাশ ভঙ্গিতে বললো কিশোর। হাঁপাচ্ছে। ছবিগুলো!
হাসছে মুসা। হাতটা পেছন থেকে এনে দেখালো। হলদে খাম। এবার আর নিতে পারেনি।
তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে রবিন বললো, 'অনেক ধন্যবাদ, মুসা।'
এগিয়ে এলেন মিলফোর্ড। ব্যাপারটা কি? এরকম করলো কেন?
এটাই তো গতকাল তোমাকে বলতে চেয়েছি। র্যাগনারসন রকে তোলা ছবিগুলো ছিনিয়ে নিতে চায়।
গম্ভীর হয়ে মাথা ঝাঁকালেন মিলফোর্ড। সরি, এরকম একটা কান্ড না ঘটলে বিশ্বাসই করতাম না।
কি হয়েছিলো, আংকেল, জানতে চাইলো কিশোর। খুলে বলবেন?
বাড়ির কাছে এসেই দেখি ট্রাকটা দাঁড়িয়ে আছে, রাস্তা জুড়ে। ভেতরে ঢুকতে পারলাম না। গাড়ি থেকে নামলাম। ওখানে কেন রেখেছে জিজ্ঞেস করার জন্যে। বলা নেই কওয়া নেই দু'দিক থেকে এসে আমাকে কোণঠাসা করে ফেললো ওরা। একজনের হাতে ছুরি। জিজ্ঞেস করতে লাগলো খামটা কোথায় রেখেছি। আমি বলিনি, ওরাই দেখে ফেলেছে সীটের ওপর। খামের ওপর ফোটো লেখা রয়েছে তো বুঝে ফেললো।
লাইসেন্স নম্বরটা নিয়েছো কেউ? জিজ্ঞেস করলো কিশোর। আমি পারিনি।
না, মাথা নাড়লো রবিন। তাড়াহুড়োয় মনেই ছিলো না।
প্লেটের ওপর কাদা লেগে ছিলো, মুসা বললো। অতোটা খেয়াল করিনি, তবে একটা জিনিস দেখেছি। একজনের বাঁ হাতে ট্যাটু দিয়ে মারমেইড আঁকা।
ভালো সূত্র, খুশি হলো কিশোর।
বেরিয়ে এসেছে পড়শীরা। ওরা বেরোনোতেই থাকার সাহস পায়নি ডাকাতেরা, পালিয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলো কিশোর, ডাকাতদের ব্যাপারে তারা কিছু জানে কি না। কিছু চোখে পড়েছে কিনা। পড়েনি কারোরই। যেটা চোখে পড়েছে সবারই তা হলো, একজন আরেকজনের চেয়ে কিছুটা লম্বা। দু'জনের পরনেই জিন্স, ওয়র্ক শার্ট আর ভারি বুট। মুখে স্কি মাস্ক। মুখোশের জন্যে তাদের চেহারা দেখা যায় নি।
স্বাস্থ্য বেশ ভালো মনে হলো, মিলফোর্ড বললেন। পেশীটেশী আছে।
এক এক করে চলে গেলো পড়শীরা। সাইকেলগুলো তুলে নিয়ে মিলফোর্ডকে অনুসরণ করলো তিন গোয়েন্দা। বাড়িতে ঢুকলো। কয়েক জায়গায় কেটে ছড়ে গেছে মুসার। অ্যান্টিসেপটিক আর তুলো এনে দিলো রবিন। ততোক্ষণে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন রবিনের আম্মা। তিনিই মুসার আহত জায়গাগুলো ভালোমতো ধুয়ে মুছে দিলেন।
ছবিগুলো দেখা যাক এবার, কিশোর প্রস্তাব দিলো। আবার কিছু ঘটার আগেই।
লিভিং রুমের কফি টেবিলে ছবিগুলো ঢেলে দেয়া হলো।
মিলফোর্ডও এসে ঢুকলেন সেখানে। পুলিশকে ফোন করে এলাম। ছবিগুলো নিয়ে অন্য ঘরে চলে যাও।
ঠিক, কিশোর বললো। নইলে পুলিশ আবার নিয়ে যেতে পারে। তারচে'.....এই চলো, হেডকোয়ার্টারে চলে যাই।
ছবিগুলো খামে ভরে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলো তিন গোয়েন্দা। পুলিশ আসার আগেই কেটে পড়তে চায়। টাল খাওয়া চাকাটার কথা ভুলেই গিয়েছিলো রবিন। চড়তে গিয়ে মনে পড়লো। সাইকেল রেখে এক দৌঁড়ে গিয়ে গ্যারেজে ঢুকলো। বাড়তি চাকা আছে। নিয়ে এলো সেটা। পুরনোটা খুলে ফেলে নতুনটা লাগাতে তাকে সাহায্য করলো মুসা।
দু'জনে যখন কাজ করছে কিশোর তখন গভীর চিন্তায় মগ্ন। ঘন ঘন চিমটি কাটছে নিচের ঠোঁটে।
কি হলো? জিজ্ঞেস করলো মুসা।
একটা ব্যাপার মিলছে না, জবাব দিলো কিশোর। মুখোশধারী লোক দুটো পত্রিকায় ছবি দেখার আগে নিশ্চয় বুঝতে পারেনি যে নেগেটিভগুলো বাদেও আরও ছবি আছে। ডন আমাদের সঙ্গে ছিলো তার বাবার অফিসে। আমাদের আগেই সেটা জানার কথা নয় তার। তাহলে কি করে দোস্তদেরকে পাঠালো ছবি ছিনিয়ে নেয়ার জন্যে?
না, তার পক্ষে সম্ভব নয়, চাপ দিয়ে চাকাটা জায়গামতো ঢুকিয়ে দিলো রবিন। আমরা যেটা কিনেছি সেটাই প্রথম সংস্করণ। এর আগে আর বেরোয়নি। আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে গিয়ে পত্রিকা দেখে দোস্তদের ফোন করে বাবার পেছনে লাগানোর মতো সময় তার কাছে ছিলো না।
কে করলো তাহলে? মুসার প্রশ্ন।
ডন নয়। অন্য কেউ। জবাব দিলো কিশোর।
কে, কিশোর? বুঝতে পারছে না রবিন। কার এতো দরকার? মানে, র্যাগনারসনদের সেলিব্রেশন নিয়ে কার এতো মাথাব্যথা?
আমিও সেকথাই ভাবছি, নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটলো কিশোর। ছবিগুলোই যেহেতু চাইছে, জবাব ওই ছবির মধ্যেই রয়েছে। দেখে বের করতে হবে।
নাট টাইট দেয়া শেষ করলো মুসা।
চলো তাহলে, রবিন বললো। ছবিগুলো দেখে ফেলি।
পথে খুব সতর্ক রইলো তিনজনেই। আবার হামলা হওয়ার আশঙ্কায়। ইয়ার্ডে ঢুকতেই বেরিয়ে এলেন মেরিচাচী। বারান্দায় দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে ডাকলেন, এই কিশোর, এদিকে আয়। তোদের স্যার এসেছেন। কি করে এসেছিস স্কুলে?
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now