বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরনো_ভূত
#পর্ব_দশ
অফিস থেকে বেরিয়ে এলেন ডেভিড র্যাগনারসন, স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল। বললেন, মিসেস পাশা, যদি কিছু মনে না করেন, ছেলের সঙ্গে আমি একটু একা কথা বলতে চাই।
নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। তা ছেলেগুলো সত্যিই কিছু করেনি তো? স্কুলে কোনো অসুবিধা হবে না?
না, না। অন্য ব্যাপার।
এতোক্ষণে দুশ্চিন্তা দূর হলো যেন মেরিচাচীর। হেসে চলে গেলেন আবার অফিসে।
প্রিন্সিপ্যালকে ব্যক্তিগত ওয়ার্কশপে নিয়ে এলো তিন গোয়েন্দা। পুরনো একটা সুইভেল চেয়ার এনে দিলো বসার জন্যে। বসলেন তিনি। সরি। তোমাদেরকে বোধহয় ঘাবড়ে দিয়েছি।
না, স্যার, মুসা বললো। আমরা তো কিছু করিনি। ঘাবড়াবো কেনো? ডনের কথা বলতে এসেছেন বুঝি?
না। তবে কথাটা তোমাদের জানানো প্রয়োজন বোধ করলাম। তখন আলোচনা করে এসেছিলে তো, সে-জন্যে। রকে অদ্ভুত ব্যাপার ঘটছে।
কী? আগ্রহী হয়ে উঠলো কিশোর।
গত দুই রাত ধরে অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছে। জানোয়ারের বিকট চিৎকার, অনেকটা নেকড়ে কিংবা কুকুরের ডাকের মতো। সেই সাথে খেপা অট্টহাসি, যেন পাগল হয়ে হেসেছে কেউ। দ্বীপে যতো লোক ছিলো সবাইকে জিজ্ঞেস করেছি, ওরকম করে কেউই হাসেনি। তারপর দেখা গেছে ভূত। আর আজব আলো। কোথা থেকে যে এলো, কিছুই বোঝা যায়নি।
কি.....মানে, কোন ধরনের ভূত? শঙ্কিত হয়ে উঠেছে মুসা।
একজনকে দেখে মনে হলো ডুবে মরা মানুষ, সারা গায়ে শ্যাওলা। আরেকজন পুরনো আমলের জাহাজের ক্যাপ্টেন, লম্বা ঝুলওয়ালা কোট, পিতলের বোতাম....
আঁটো পাজামা, সোনালি সুতোয় কাজ করা নীল ক্যাপ, গোড়ালি ঢাকা বুট, প্রিন্সিপ্যালের কথাটা শেষ করে দিলো কিশোর। হাতে একটা পিতলের টেলিস্কোপ। ঠিক বললাম?
তুমি জানলে কি করে? হাঁ হয়ে গেছেন ডেভিড।
ভূতটাকে আমরাও দেখেছি। ডন র্যাগনারসনের কটেজে। আর কিছু ঘটেছে, স্যার?
মাথা ঝাঁকালেন প্রিন্সিপ্যাল। হ্যাঁ জিনিসপত্র চুরি যাচ্ছে। একটা টর্চ, একটা হান্টিং নাইফ, কয়েকটা কম্বল, একটা জ্যাকেট। একটা ক্যাম্প স্টোভ, বেশ কয়েক টিন খাবার আর বিয়ার ইতিমধ্যেই গায়েব। ভূতে নিশ্চয় এসব নিতে আসবে না। তবে ঘটনাগুলোর সম্পর্ক থাকতে পারে।
ডন চুরি করেছে? রবিন বললো।
হতে পারে, প্রিন্সিপ্যাল বললেন। নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। হয়তো ও চুরি করার সময় ছবি তুলেছিলে তোমরা, ছবিতে এসে গেছে, সেই ভয়েই নেগেটিভগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে সে। ইংমারের অফিস থেকে তোমরা চলে আসার পর কথাটা মনে হয়েছে আমার।
আমাদেরকে বলতে এলেন কেনো, স্যার? জিজ্ঞেস করলো কিশোর।
আজব শব্দ আর ভূত ছোটদেরকেই বেশি ভয় দেখায়। বড়দেরকেও অবশ্য ছাড়ে না। রকে রাত কাটাতে এখন রাজি হচ্ছে না অনেকেই। সেলিব্রেশনের মজাই নষ্ট করবে দেখা যাচ্ছে! তবে সে জন্যে তোমাদেরকে বলছি না। বলছি ডনকে ঠেকানোর জন্যে। ও যদি এসব করে থাকে সেটা বন্ধ করা দরকার। গোয়েন্দা হিসেবে তোমাদের অনেক সুনাম। আমার কানেও এসেছে কথাটা। আরও খারাপ কিছু করে আসার আগেই ডনকে থামাও, এটা আমার অনুরোধ।
চুপ করে ভাবছে কিশোর।
কি ভাবছো? ফী? তা-ও দেবো।
না, স্যার, এসব কাজের জন্যে টাকা নেই না আমরা। শখে করি। আর আপনার কাছ থেকে নেয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। খুশি হয়েই করবো। আরেকটু সময় দিতে পারবেন, স্যার? রক থেকে তুলে আনা ছবিগুলো দেখবো এখন, এই যে, হাতের খামটা দেখালো কিশোর। আপনিও দেখুন। হয়তো কিছু চোখে পড়বে আপনার। আমাদের চোখে এড়িয়ে যেতে পারে সেটা।
বেশ, বের করো।
লম্বা বেঞ্চে ছবিগুলো সাজিয়ে রাখা হলো। তারপর মন দিয়ে দেখতে শুরু করলো সবাই।
এই জলদস্যুদের মধ্যে ডন কোনটা কি করে বুঝবো? নিজেকেই যেন প্রশ্ন করলো মুসা। সবগুলোই তো একরকম লাগছে আমার কাছে।
ডেভিড বাতলে দিলেন। একমাত্র ডনের হেলমেটেই নোজ গার্ড আছে। এই যে, এটা।
মোট ষোলটা ছবিতে ডন রয়েছে। কোথাও ভাঁড়ামি করছে, কোথাও লড়াই করছে চুমাশদের সঙ্গে, খাবার বহন বহন করছে, ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপছে, সেলিব্রেশনের আরও অনেক খেলায় অংশ নিচ্ছে। মোট কথা মাতিয়ে রেখেছে। শুধু দুটো ছবিতে ব্যতিক্রম।
পর পর নেয়া হয়েছে শট দুটো, রবিন বললো।
চূড়ার কাছে বসে খাবার খাচ্ছে অনেকে, তাদের পেছনে রয়েছে ডন, ছবি দুটোতে। একটাতে নিচু হয়ে কিছু তুলছে, কি তুলছে বোঝা যায় না। আরেকটাতে সোজা হয়েছে, বিস্মিত, হাতে কিছু ধরে রেখেছে।
কি ব্যাপার? রবিন বললো।
একটা ব্যাপার শিওর, মুসা বললো। ওর দিকে ক্যামেরা ধরে রেখেছ, দেখে ফেলেছে সে।
হ্যাঁ, একমত হলো কিশোর। ওর ছবি নিতে দেখেছে। কথা হলো, সবার পেছনে ওরকম ঝুঁকে কি করছিলো?
লুকাচ্ছিলো কিছু? প্রিন্সিপ্যালের মনে হলো।
চোরাই মাল লুকাচ্ছিলো? মুসার মনে হলো।
নাকি কিছু তুলছিলো? রবিনের মনে হলো।
মাথা ঝাঁকালো কিশোর। এর যে কোনোটাই হতে পারে, রকে যেতে হবে আমাদেরকে। ভূতের ওপর কড়া নজর রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শব্দ কোথা থেকে আসে তা-ও জানার চেষ্টা করবো। কে জিনিস চুরি করে, কেন করে, আর আমাদের তোলা ছবি কে, কেন ছিনিয়ে নিতে চায়, সব জানতে হবে।
অসুবিধে হবে না, প্রিন্সিপ্যাল আশ্বাস দিলেন। আমরা তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারবো। ভূতের ভয়ে যারা পালাবে না, রাতে থাকবে, তারা।
ডন দেখে ফেলবে না? জিজ্ঞেস করলো মুসা। সবকিছুর মূলে সে হলে আমাদের সামনে কোনো রকম শয়তানী করবে না। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে।
বুঝতে যাতে না পারে তার ব্যবস্থা আমি করবো। দ্বীপে থাকলে বেশির ভাগ সময়ই ভাইকিং কিংবা চুমাশ সেজে থাকি আমরা। আমাদের কিছু বন্ধু আছে, যাদেরকে ভালোমতো চেনে না আমাদের পরিবারের সবাই। তোমাদেরকে পোশাক দিয়ে দেবো। বলে দেবো তোমরা আমার বন্ধু। আমাদের সাথে বসে ডিনার খাবে, রাত কাটাবে দ্বীপে। কেউ বাধা দেবে না।
তাহলে তো স্যার খুবই ভালো হয়, কিশোর বললো। একটা কাজই বাকি রইলো এখন, আমাদের গর্জিয়ানদের অনুমতি নেওয়া। তার জন্যে অবশ্য অসুবিধে হবে না। বললেই রাজি হবেন। বিশেষ করে আপনার কথা বললে। আজ রাতে রকে কাটাবো আমরা! টর্চ, ওয়াকি-টকি আর স্লীপিং ব্যাগ নিয়ে ডকে দেখা করবো আপনার সঙ্গে। এই ঘন্টাখানেকের মধ্যে?
ঠিক আছে। আমি অপেক্ষা করবো।
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now