বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো_ভূত #পর্ব_ছয়

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #পুরনো_ভূত #পর্ব_ছয় রকি বীচেই সৈকতের ধারে ডনের বাড়ি। ঠিকানাটা জানতে অসুবিধে হয়নি তিন গোয়েন্দার। টেলিফোন ডিরেক্টরি ঘাঁটতেই পেয়ে গেছে। অযত্ন অবহেলায় রং চটে গেছে বাড়িটার। বাগান মানে আগাছে আর ঝোপঝাড়। 'বাগানটাও সাফ রাখতে পারেনি লোকটা,' রবিন বললো। একেবারেই অলস মনে হচ্ছে। 'হ্যাঁ,' বাড়ির পিছন দিকটা দেখিয়ে বললো কিশোর। বোধহয় ওটা গ্যারেজ। দেখা যাক, পিকআপটা আছে কিনা। পাশের বাড়িটার সামনে সাইকেল গুলো রেখে ডনের সীমানায় ঢুকলো ওরা। ঘুরে চলে এলো পেছনে। গ্যারেজের অবস্থা কটেজের চেয়েও খারাপ। কয়েকটা তক্তা ফাঁক হয়ে রয়েছে। সেখানে চোখ রেখে চেঁচিয়ে উঠলো মুসা, 'আছে একটা। এক্কেবারে ঝরঝরে।' কিশোর ও দেখলো। রবিন, দেখো তো এটাই নাকি? রবিন দেখে বললো, 'নাহ্ এটাতো বাদামী। ওটা সাদা। লাইসেন্স নম্বরও মেলে না।' পিকআপ চালাতেই পছন্দ করে, অনুমান করলো মুসা। এটা আরেকটা। দুটোই তার। আরেকটা গাড়ি রাখার জায়গা অবশ্য আছে, চিন্তিত ভঙ্গিতে বললো কিশোর। অন্য কাউকে পাঠিয়েছে হয়তো নেগেটিভগুলো চুরি করতে। ঘুরে আবার সামনে চলে এলো ওরা। পুরনো সিঁড়ি দিয়ে উঠলো দেবে যাওয়া বারান্দায়। ভেতরে দুটো জানালার কাঁচে পুরু হয়ে ধূলো ময়লা লেগে রয়েছে। পর্দা গুলোতে দাগ। কলিং বেলের বোতাম টিপলো কিশোর, বাজলো না। 'গেছে নষ্ট হয়ে,' হাসলো রবিন। আর সব জিনিসের মতোই। অবাক হইনি আমি, কিশোর বললো। টোকা দিলো দরজায়। তারপর থাবা। সাড়া নেই। বাড়িতে নেই কেউ। আবার আসতে হবে আমাদের। জানালার ময়লা শার্সির ভেতর দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে মুসা। কিশোর, কি যেন নড়ছে! তাই? কিশোরও এসে চোখ রাখলো জানালায়। ম্লান আলো। বাইরের চেয়ে ভেতরের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। ভাঙাচোরা আসবাবপত্র। দেয়ালের অবস্থা করুণ। দেখছো? জিজ্ঞেস করলো মুসা। সত্যি, কি যেন নড়ছে। অদ্ভুত ভঙ্গিতে। মানুষ না কি বোঝা যাচ্ছে না। ভয় পেয়ে গেলো মুসা। এই, বাদ দাও। পুরনো বাড়ি, আল্লাহ্‌ই জানে....চলো, হ্যামবার্গারের জন্যে পেট জ্বলছে আমার। কে? ফিসফিসিয়ে বললো রবিন। 'ডন র‍্যাগনারসন? ' কোনো ধরনের ইউনিফর্ম পরা, মুসা বললো। যে-ই হোক! ডনের চেহারা দেখিনি আমরা, কিশোর বললো। আরেকবার দেখলেও চিনতে পারবো না। জলদস্যুর পোশাকে ছিলো সেদিন, মনে আছে? তা তো আছেই। এই লোকটা ভাইকিং নয়, মুসা বললো। নড়ছে, অথচ দরজা খুলতে আসছে না কেনো? শুনতে পায়নি হয়তো, রবিন বললো। মনে হয় কাজে ব্যস্ত। কিংবা হয়তো খোলার ইচ্ছে নেই। ভূত-ফূত... মুসার সঙ্গে স্বর মিলিয়ে বললো রবিন, জায়গাটা অদ্ভুত! গা ছমছম করে! তোমাকেও মুসার রোগে ধরলো নাকি? বিরক্ত হয়ে বললো কিশোর। 'চলো, পেছন দিকে ঢোকার পথ আছে নাকি দেখি।' পেছনের জানালাগুলো সব তক্তা লাগিয়ে বন্ধ করা। ঢোকার কোনো পথ নেই। 'এবার?' ভুরু নাচালো মুসা। বন্ধ জানালার ওপর থেকে দরজার ওপর দৃষ্টি সরালো কিশোর। কিল মারতে শুরু করিগে। জোরে জোরে চেঁচাবো, যতোক্ষণ না খোলে। ঢোক গিললো মুসা। তার সঙ্গে কথা বলার কি সত্যি দরকার আছে? 'আছে।' সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে গোয়েন্দাপ্রধান। তর্ক করে লাভ হবে না। চুপ হয়ে গেল মুসা। দরজায় কিল আর থাবা মারতে মারতে চেঁচিয়ে ডাকতে লাগলো তিনজনে। ডন র‍্যাগনারসনের নাম ধরে। ঝটকা দিয়ে খুলে গেলো দরজা। দরজায় দাঁড়িয়ে একজন মানুষ। কড়া চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে ধমকে উঠলো, 'এই, থামো! হচ্ছেটা কি?' রোগা-পাতলা একজন মানুষ। তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর। ফ্যাকাসে নীল চোখ। সোনালি কাজ করা নীল রঙের টুপি মাথায়, নাবিকেরা যে রকম পরে। আঁটো নীল কোট গায়ে, বোতামগুলো পিতলের। পরনে নীল ট্রাউজার। গোড়ালি ঢাকা কালো বুট পায়ে। সাদা দস্তানা পরা হাতে ধরে রেখেছে একটা পিতলের টেলিস্কোপ। শান্ত ভদ্র গলায় কিশোর বললো, মিস্টার ডন র‍্যাগনারসনের সঙ্গে কথা বলতে চাই আমরা। 'এখানে নেই।' ঘুরে হাঁটতে শুরু করলো লোকটা। তাড়াতাড়ি রবিন বললো, তার আরেকটা পিকআপ ট্রাক আছে কিনা জানতে এসেছিলাম। 'সাদা ট্রাক' যোগ করলো মুসা। ঘুরে তাকানোরও প্রয়োজন মনে করলো না সে। জবাব দিয়ে দিলো, 'নেই।' স্যার, সম্ভবত ডন র‍্যাগনারসন কতগুলো মূল্যবান ফটো চুরি করেছে, যে করেই হোক লোকটাকে দিয়ে কথা বলাতে চাইছে কিশোর। 'করে থাকলে বেশ ভালো বিপদেই পড়বে।' থমকে দাঁড়ালো নীল ইউনিফর্ম পড়া লোকটা। আস্তে করে ঘুরালো মাথাটা। কাঁধের ওপর দিয়ে ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বললো, 'এসব কাহিনী অন্যের নামে যত খুশি গিয়ে বলো, ডন র‍্যাগনারসনের নামে নয়। সে সত্যিকারের একজন ভাইকিং, ছিঁচকে চোর নয়। ভাগো জলদি। নইলে মাস্তুলে বেঁধে চাবকে চামড়া তুলবো।' ফিরে এসে দড়াম করে দরজাটা লাগিয়ে দিলো আবার সে। প্রথমে কেন খুলে রেখে গিয়েছিলো কে জানে। হয়তো চমকে গেছে, কিংবা তাড়াহুড়ো। অথবা দুটোই হতে পারে। বদ্ধ পাল্লার দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকালো মুসা, 'একেবারেই অসামাজিক।' 'হ্যাঁ,' একমত হলো কিশোর। কিন্তু কেন এরকম আচরন করলো? আমরা তো খারাপ কিছু বলিনি। এবার কি করবো? ডন র‍্যাগনারসনের জন্যে অপেক্ষা করবো? কতোক্ষণ লাগবে আসতে কে জানে! 'আমার মনে হয়,' ঠোঁটের নিচে চিমটি কাটলো কিশোর। ডন র‍্যাগনারসন আর র‍্যাগনারসন রক নিয়ে তদন্ত করার সময় এসেছে। সেকেন্ড, চেম্বার অভ কমার্স আর স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর অফিসে গিয়ে খোঁজ-খবর চালাও। র‍্যাগনারসনদের পারিবারিক ইতিহাস জানার চেষ্টা করো। আমি? রবিন জানতে চাইলো। তুমি যাও হিসটোরিক্যাল মিউজিয়ামে। আর তুমি? 'আমি? লাইব্রেরিতে যাবো। আমাদের ছবিগুলো কে চুরি করেছে, জানি না। ডন র‍্যাগনারসন হতেও পারে, না-ও হতে পারে। তবে ওগুলোতে কি আছে জানতে আগ্রহী হবে অবশ্যই। ' (চলবে....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now