বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো_ভূত #পর্ব_চব্বিশ

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পুরনো_ভূত #পর্ব_চব্বিশ কি উপায়, কিশোর? জানতে চাইলেন ফ্লেচার। আসুন আমার সাথে, কিশোর বললো। দেখাই। টর্চ জ্বালবেন না কেউ। আগে আগে চললো কিশোর। গুল্মে ঢাকা জায়গাটা পেরিয়ে চলে এলো খাঁড়ির কাছে উঁচু জায়গাটায়। নীরবে তাকে অনুসরন করলো অন্যেরা। কুয়াশা নেই। চাঁদ ও ওঠেনি এখনও। টর্চ জ্বালাতে পারছে না। অন্ধকারে হোঁচট খেয়ে আছাড় খেতে পারে। তাই সতর্ক হয়ে হাঁটছে সবাই। এখানেই ভূতটাকে দেখেছিলাম, ফিসফিসিয়ে বললো মুসা। ভূতফূত কিছু নেই। মনে করিয়ে দিলো রবিন। ডনই ক্যাপ্টেন কুল্টারের ছদ্মবেশ নিয়েছিলো। তারপরেও.....কথাটা শেষ করলো না মুসা। ওদেরকে চুপ করতে বলে বসে পড়লো কিশোর। তাকিয়ে রয়েছে খাঁড়ির অন্যপাড়ে মাথা তুলে থাকা টিলাটার দিকে। কি দেখছো? জিজ্ঞেস করলেন চীফ। মনে হয়..... শেষ হলো না তার কথা। খুদে খাঁড়ির পাশ থেকে জ্বলতে-নিভতে শুরু করলো টর্চ। সাগরের দিকে মুখ করে। ডন? ফিসফিস করলেন ফ্লেচার। কিশোর জবাব দেয়ার আগেই মুসা বলে উঠলো, দেখ! দেখ! একটা চলমান জাহাজের আলো দেখা যাচ্ছে। দ্বীপের দিকে ঘুরে এগিয়ে আসছে। এঞ্জিন বন্ধ। নিঃশব্দে ভেসে এসে খাঁড়িতে ঢুকলো জাহাজটা। নোঙর ফেললো। হুইল হাউসের উজ্জ্বল আলো এসে পড়লো খাঁড়ির সৈকতে। এটাই ভূতের জাহাজ! নিচু বললো রবিন। এক মাস্তুলের সেই জাহাজটা। কুয়াশার মধ্যে যে ধূসর পাল দেখেছে ওরা। এখন চিনতে পারলো, পাল নয়, জাল। বুম থেকে ঝুলছে। কুয়াশার জন্যে মনে হয়েছিলো অসংখ্য ফুটো ওয়ালা একটা পাল। শরীরটা মনে হয়েছিলো ধূসর, আর শ্যাওলায় ঢাকা। এই ট্রলারের বুমে উঠেই কিশোরকে বের করে এনেছিলো রবিন। দু'জন লোককে দেখা গেল। ওরাই হ্যাংম্যান, চীফ বললেন। কিশোর, ওরাই কিডন্যাপ করেছিলো? চিনেছো? ওদের মতোই তো লাগছে। মুখে মুখোশ ছিলো তখন, চিনতে পারি নি। তবে একজন লম্বা। আরেকজন বেঁটে আর ভারি। তাদের সাথে মিলে যায়। ট্রলার থেকে একটা রবারের বোট নামানো হলো। লম্বা লোকটা তাতে চড়ে দাঁড় বেয়ে চলে এলো কিনারে। লাফিয়ে বালিতে নেমে টেনে বোটটা তুলে এনলো শুকনোয়। তারপর দাঁড়িয়ে রইলো যেন কোনো কিছুর অপেক্ষায়। কিসের অপেক্ষা করছে? জানতে চাইলেন প্রিন্সিপ্যাল। হয়তো ডনের জন্যে, বিষণ্ণ কণ্ঠে জানতে বললেন ডাক্তার। কিছু বললো না কিশোর। ঠোঁটে আঙুল রেখে সবাইকে চুপ থাকার ইশারা করলো। সৈকতে দাঁড়িয়ে ঘড়ি দেখলো লোকটা। টিলার দিকে তাকালো কিশোর। ওই যে, তার কণ্ঠে খুশির আমেজ। ফিরে তাকালো অন্যেরা। যেন টিলাটার গোড়ার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে লোক দুটো। তাদের একজন ডন র্যাগনারসন। আরেকজন খাটো, মোটা, মাঝবয়সী। পরনে হালকা পোশাক আর স্কি জ্যাকেট। আরে, সেই জ্যাকেটটার মতো লাগছে! অবাক হয়ে বললেন প্রিন্সিপ্যাল। তাবু থেকে চুরি গেছে যেটা! ডনকে আগে রেখে ঠেলতে ঠেলতে যেন লম্বা লোকটার কাছে নিয়ে গেল মোটা লোকটা। এমনভাবে চলেছে ডন, যেন ইচ্ছার বিরুদ্ধে। জোর করা হচ্ছে যেন তাকে। হঠাৎ মোটা লোকটার হাতে ঝক করে উঠলো কিছু তারার আলোয়। ছুরি! ভয় পেয়ে গেলেন ইংমার। ডনকে বন্দী করেছে ওরা! উঠে দাঁড়ালেন চীফ। চেঁচিয়ে আদেশ দিলেন, দাঁড়াও! পুলিশ! ছুরিটা ফেলে দাও! একসাথে জ্বলে উঠলো কয়েকটা টর্চ। পুলিশ অফিসার আর চীফের হাতের পিস্তল দেখতে পেলো মোটা লোকটা। ট্রলারের দিকে টর্চ আর পিস্তল তাক করলো একজন অফিসার। গলুইয়ে দাঁড়ানো বেঁটে লোকটার গায়ে আলো পড়লো। ওর হাত দেখেছো? বলে উঠলো মুসা। ট্যাটু! মারমেইড! তার মানে ওরাই! কিশোর বললো। হ্যাংম্যানরা দুই ভাই। আমাকে ধরেছিলো। দীর্ঘ একটা মুহূর্ত দ্বিধা করলো মোটা লোকটা আর দুই জেলে। উজ্জ্বল আলো চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে ওদের। অবশেষে ছুরি ফেলে দিয়ে মাথার ওপর হাত তুললো মোটা লোকটা। সবাই নিচে নামলো, সৈকতে, শুধু একজন অফিসার বাদে। যে ট্রলারের দিকে পিস্তল তাক করেছে। ভুরুর ঘাম মুছলো ডন। বোকার মতো মাথা ঝাঁকালো বাবা আর তিন গোয়েন্দার দিকে তাকিয়ে। তোমাদেরকে দেখে সত্যি খুশি হয়েছি, গোয়েন্দাদেরকে বললো সে। কি করে বুঝলে? কিশোর, চীফও জানতে চাইলেন, এবার বলে ফেলো তো? কি ঘটতে যাচ্ছিলো এখানে? ওই লোকটা কে? মোটা লোকটাকে দেখালেন তিনি জ্বলন্ত চোখে কিশোরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সে। মিস্টার ডেনমার বোরিন্স, চীফ, কিশোর বললো। মরে যাওয়ার আগেই যিনি মরে গেছেন বলে খবর ছড়িয়েছেন। বোরিন্স? হ্যাঁ, স্যার। ইনিই ডুবে মরেছেন বলে ভাবা হচ্ছিলো। বীমা কোম্পানিকে ঠকানোর জন্যেই একাজ করেছেন। পানিতে ডুবে মারা যাবার পরিকল্পনা করে এসে লুকিয়ে থেকেছেন এই দ্বীপে। তাকে তুলে নিয়ে আজ রাতেই দেশের বাইরে পাচার করে দিতো তার জেলে বন্ধুরা। তার বিধবা স্ত্রী তখন বীমার টাকাটা তুলে নিয়ে চলে যেত স্বামীর কাছে। নিশ্চয়ই অনেক টাকার বীমা করিয়েছেন মিস্টার বোরিন্স। কিশোরের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করে কি যেন বললেন বোরিন্স। বোধহয় গালই দিলেন। বোঝা গেল না। বোঝার চেষ্টাও করলো না কিশোর। বলতে থাকলো, তার কপাল খারাপ। ঠিক তখনই সেলিব্রেট করার সময় এসে গেল র্যাগনারসনদের। দলবল নিয়ে দ্বীপে হাজির হলো তারা। এতো লোকের সামনে জাহাজে চড়ার ঝুঁকি নিতে সাহস করলেন না তিনি। কাল রাতে ভয় পেয়ে র্যাগনারসনরা যখন বেশির ভাগই চলে গিয়েছিলেন, আর ঘন কুয়াশা পড়েছিলো, তখন একবার পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ভেবেছিলেন, কুয়াশার মধ্যে কেউ খেয়াল করবে না। সব মাটি করেছি আমরা। কিছুই প্রমাণ করতে পারবে না তুমি এসব, শয়তান ছেলে কোথাকার! আর সহ্য করতে পারলেন না বোরিন্স, চেঁচিয়ে উঠলেন। দূর্ঘটনায় পড়ে স্মৃতি হারিয়েছিলাম আমি। একটু আগে ফিরে পেয়েছি। হেসে উঠলো কিশোর। বেবি ক্লাসের ছেলেরাও এর চেয়ে ভালো গল্প শোনাতে পারে, মিস্টার বোরিন্স। ভ্রূকুটি করলেন গাড়ির ব্যবসায়ী। অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে আপনাকে, মিস্টার বোরিন্স, কঠোর পুলিশী কণ্ঠে বললেন চীফ। থানায় যেতে হবে। প্লানটা তিনি ভালোই করেছিলেন, কিশোর বললো। র্যাগনারসনরা দ্বীপে না এলে সফল হয়ে যেতেন। আর তিন গোয়েন্দা নাক না গলালে! মুচকি হাসলেন ইয়ান ফ্লেচার। [আগামী পর্বে শেষ]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now