বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#তিন_গোয়েন্দা
#পুরনো_ভূত
#পর্ব_চার
পরদিন সকালে নাস্তার টেবিলে বাবাকে ছবিগুলোর কথা জানালো রবিন। আগের রাতে অনেক রাত করে বাড়ি ফিরেছেন মিস্টার মিলফোর্ড, তার সঙ্গে দেখা হয় নি।
খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে তিনি বললেন, বোটটা তাহলে কাল তোমরাই এনেছো।
মাথা ঝাঁকালো রবিন। মিস্টার বোরিন্সকে পাওয়া গেছে?
'কি জানি। এটা ছাপা হয়েছে কাল রাতে। এতক্ষণে পেয়েছে কিনা... 'বলতে বলতে টেবিলে রাখা রেডিওটা অন করে দিলেন মিস্টার মিলফোর্ড। লোকাল নিউজের সময় হয়েছে।
ন্যাশনাল নিউজ পড়া সবে শেষ করেছে সংবাদ পাঠক। একটা অগ্নিকান্ডের কথা বলে স্থানীয় সংবাদ পড়তে আরম্ভ করলো। শুরুতেই মিস্টার বোরিন্সের খবর: 'রকি বীচের গাড়ি ব্যবসায়ী মিস্টার ডেনমার বোরিন্সের খোঁজ এখনও চালিয়ে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড। কাল বিকেলে র্যাগনারসন রকের কাছে তার বোটটা পেয়েছে রকি বীচেরই তিন কিশোর, রবিন মিলফোর্ড, মুসা আমান আর কিশোর পাশা। বোরিন্সের স্ত্রী জানিয়েছেন তার স্বামী সাঁতার জানেন না। কাজেই হতভাগ্য লোকটা বেঁচে থাকার আশা খুব কম।
'বেচারি!' শারলির জন্যে আফসোস করলেন রবিনের আম্মা। রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে এসে পেছনে দাঁড়িয়ে শুনছিলেন।
'হু!' বলে ছেলের দিকে ফিরলেন মিলফোর্ড। 'কিছু জানোটানো নাকি?'
তেমন কিছু না। আগের দিনের সমস্ত ঘটনা খুলে বললো রবিন। ডন র্যাগনারসন যে হুমকি দিয়েছে সেই কথাও। সব শেষে বললো, 'আমার মনে হয়, ছবিগুলো ভালো উঠেছে।'
তাহলে ভালো। চমৎকার একটা ফিচার করা যাবে।
ওসব দিয়ে আর কি ফিচার হবে? কিছুটা অবাকই হলেন মিসেস মিলফোর্ড। ও তো কয়েকটা বুড়ো খোকার পাগলামি।
হ্যাঁ, বাবা, আমারও অবাক লাগছে। এ-দিয়ে আর কি ফিচার হবে?
হবে। বিশেষত্ব আছে এর। দুই চুমুকে অবশিষ্ট চা টুকু শেষ করে কাপটা পিরিচে নামিয়ে রাখলেন মিলফোর্ড। ক্যালিফোর্নয়ার ইতিহাসে আরেকটা বিচিত্র ঘটনা। আঠারোশো ঊনপঞ্চাশ সালে এই অঞ্চলে সোনা খোঁজা নিয়ে যখন মাতামাতি চলছে, তখন ইলিয়ন থেকে এসেছিলো 'নাট র্যাগনারসন'। জুতোর কারিগর ছিলো সে। খনির লোকদের কাছে জুতা বিক্রি করে প্রচুর টাকা কামিয়েছিলো। অনেক সোনার খনির মালিকও তার মতো ধনী ছিলো না। পরের বছরই স্যান ফ্র্যনসিসকো থেকে জাহাজে চড়লো সে, পুব অঞ্চল থেকে গিয়ে তার পরিবারকে নিয়ে আসার জন্যে। জাহাজটাতে যাত্রী ছিলো, আর ছিলো প্রচুর স্বর্ণ। দ্বিতীয় রাতেই শয়তানী করলো ক্যাপ্টেন। জাহাজের সী-কক খুলে দিয়ে, সমস্ত সোনা একটা নৌকায় তুলে নিয়ে পালালো। বেশির ভাগ যাত্রীই আতঙ্কিত হয়ে মারা পড়লো। কিন্তু র্যাগনারসন মাথা গরম করেনি। একটা হ্যাচ কভার খুলে নিয়ে সেটা ধরে সাঁতরে চলে এলো ছোট একটা দ্বীপে। সেখানে একটা চুমাশ ক্যানূ পেয়ে গেলো। তাতে করে তীরে ফিরলো। যে দ্বীপটাতে প্রথম উঠেছিলো সে, সেটাই র্যাগনারসন রক হয়ে গেলো, তার নামে নাম। তারপর থেকেই প্রতি পাঁচ বছর পর পর ওই দ্বীপে গিয়ে উঠতো র্যাগনারসন আর তার বন্ধুরা। ভাইকিং আর ইন্ডিয়ান সেজে লড়াই করতো। র্যাগনারসনের বেঁচে যাওয়াটাকে সেলিব্রেট করতো এভাবে। তোমাদের স্কুলের প্রিন্সিপাল ডেভিড র্যাগনারসন এসব কথা বলেছেন আমাকে।
'মিস্টার ডেভিড?' চেঁচিয়ে উঠলো রবিন। ওই লড়াইয়ে তিনিও গিয়েছিলেন নাকি?
নিশ্চয় গিয়েছিলেন। তবে লড়াই-টড়াইগুলো কম বয়সীদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন, আমার যা মনে হয়। ওই অংশ নেয়া পর্যন্তই। পারিবারিক অনুষ্ঠানের ব্যাপারেই তার আগ্রহ বেশি।
চোরাই সোনাগুলোর কি হলো? জানতে চাইলেন রবিনের আম্মা।
'হ্যাঁ, ঠিক, কি হলো? আর নাট-ই বা কতদিন দ্বীপে ছিলো?' রবিন জিজ্ঞেস করলো।
হাত নাড়লেন মিলফোর্ড। হাসলেন। ওসব জানি না। যা যা জানি, বলেছি। আমাদের একজন রিপোর্টার ওসব নয়ে গবেষণা করছে এখন। খোঁজ-খবর চালাচ্ছে। কাল নাগাদ ফিচারটা বের করতে পারি আশা করি।
দুধের গ্লাসটা খালি করলো রবিন। ফিল্মগুলো কিশোরের কাছে। যাই, ডেভেলপ করে ফেলি। তারপর....
হাত তুললেন আম্মা। আরে, ভুলে বোসে আছো দেখছি! জানালার কাঁচগুলো না মোছার কথা আজ? আর ক'দিন ফেলে রাখবে?
'মা, ছবিগুলো বাবার খুব দরকার.... '
দেখ, আগের কাজ আগে। কালই যদি শেষ করে ফেলতে, আজকে অন্য কাজ করতে পারতে। কাল করলেনা কেন? কাজ ফেলে রাখা একদম পছন্দ করি না আমি।
'মা, শুধু আজকের দিনটা...'
আচ্ছা, আচ্ছা, আমি ব্যবস্থা করবো। সমাধান করে দিলেন মিলফোর্ড। প্রেসের ডার্করুমে ডেভেলপ করা যাবে। সকালটা আজ বাড়িতেই কাটাবো, কাজ আছে। দুপুরের আগে বেরোচ্ছি না। জানালা মোছা শেষ করে ততোক্ষণে ওগুলো কিশোরের কাছ থেকে নিয়ে আসতে পারবে তুমি। যাও, লেগে যাও। আমিও আসছি, সাহায্য করবো।
অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেতে হলো রবিনকে। তবে আগে হেডকোয়ার্টারে কিশোরকে টেলিফোন করলো। রবিনের 'দুঃসংবাদ' শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলেলো গোয়েন্দা প্রধান, রিসিভারেই সেটা শুনতে পেলো তিন গোয়েন্দার নথি-গবেষক।
মুসাকেও আটকে দেয়া হয়েছে, কিশোর জানালো। ঘর পরিষ্কারের কাজে। আসতে দেরি হবে। কাজ সেরে যতো তাড়াতাড়ি পারো চলে এসো তুমি।
দ্রুত হাত চালালো রবিন। কিন্তু জানালা অনেক। এতো তাড়াহুড়ো করেও এগারোটার আগে কিছুতেই শেষ করতে পারলো না। সাইকেল নিয়ে বেরোনোর আগে বাবা ডেকে বললেন, রবিন, জলদি আসবে। এক ঘন্টার মধ্যেই বেরোবো।
'আচ্ছা।'
ড্রাইভওয়ে থেকে বেরিয়েই সামনে পড়লো একটা সাদা, ঝরঝরে পিকআপ ট্রাক। ঠিক তাদের বাড়ির সামনেই পার্ক করা। অবাক হলো। কারণ এভাবে বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করে না কেউ। মোড়ের কাছে গিয়ে কি ভেবে ফিরে তাকাতেই দেখলো মুখ ঘুরিয়ে তার পিছু নিয়েছে ট্রাকটা।
দ্রুত প্যাডেল করে আরও কয়েকটা মোড় ঘুরলো সে। ইতিমধ্যে আর একবার ঘুরে তাকিয়েছিলো। পিছু লেগে রয়েছে ট্রাকটা। লাইসেন্স নম্বরটা দেখতে চেয়েছে, পারেনি। সামনে প্লেট লাগানো নেই।
আরও গতি বাড়ালো সে। একটু পর পরই কাঁধের ওপর দিয়ে ফিরে তাকালো। লেগেই রয়েছে ট্রাক। সন্দেহ নেই তাকেই অনুসরণ করছে।
ভাবছে রবিন। স্যালভিজ ইয়ার্ডের কাছাকাছি এসে পড়েছে। তাকে ওখানে ঢুকতে দেখলে ঠিকানা জেনে যাবে ট্রাক চালক। হয়তো সেটাই জানতে চায় লোকটা নাহ্, ইয়ার্ডে ঢোকা চলবে না, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো সে।
ইয়ার্ড থেকে সামান্য দূরে একটা গ্যারেজ আছে। টেলিফোন আছে। ওখান থেকে হেডকোয়ার্টারে ফোন করলো সে।
সাড়া নেই।
কয়েকবার চেষ্টা করে বিফল হয়ে গ্যারেজ থেকে বেরোলো রবিন। রাস্তার এদিক ওদিক তাকালো। ট্রাকটা নেই। তাহলে কি তাকে অনুসরণ করেনি? কাকতালীয় ঘটনা?
সাইকেলটা নিয়ে আবার চললো সে। ইয়ার্ডে ঢোকার আগে আরেকবার তাকালো পথের সামনে পেছনে। নেই ট্রাকটা। তারপরেও বাড়তি সতর্কতার জন্যে গেট দিয়ে ঢুকলো না সে। ঘুরে চলে এলো বেড়ার কাছে। লাল কুকুর চারের কাছে। তিন গোয়েন্দার এই গোপন প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকে পড়লো ভেতরে। সাইকেল রেখে হেডকোয়ার্টারে ঢুকে দেখতে পেলো কিশোর আর মুসা বসে আছে।
একটু আগে কোথায় ছিলে? জিজ্ঞেস করলো রবিন। ফোন করেছিলাম। ধরোনি।
মেরিচাচীর পাল্লায় পড়েছিলাম, নাক মুখ কুঁচকে জবাব দিলো মুসা। আমাদের দেখেই ধরে নিয়ে গিয়ে কাজে লাগিয়ে দিলেন। আজ কার মুখ দেখে যে ঘুম ভেঙ্গেছিলো!
কি ব্যাপার, রবিন? জিজ্ঞেস করলো কিশোর। ফোন করেছিলে কেন?
সাদা পিকআপটার কথা জানালো রবিন।
ট্রাকে কে ছিলো দেখোনি? মুসার প্রশ্ন।
না। ড্রাইভারের চেহারা দেখতে পাইনি।
তোমার পিছুই নিয়েছিলো? শিওর? ভুরু কোঁচকালো কিশোর।
শিওর না। হয়তো পুরো ব্যাপারটাই কাকতালীয়।
হয়তো। যাই হোক। হুঁশিয়ার থাকতে হবে আমাদের। সাদা ঝরঝরে পিকআপ দেখলেই। সতর্ক হতে হবে। তো ফিল্মগুলো?
হায় হায়, ভুলেই গিয়েছিলাম! চিৎকার করে উঠলো রবিন। ঘড়ি দেখলো। সাড়ে এগারোটা। আর মাত্র আধ ঘন্টা আছে!
আধ ঘন্টায় দুটো রোল ডেভেলপ করা যাবে না, মুসা বললো।
দরকার নেই। বাবা বলেছে ফিল্মগুলো দিয়ে দিতে। প্রেসের ডার্করুমে করিয়ে নেবে।
তারও দরকার নেই, মুচকি হাসলো কিশোর। সকালে আমিই করে ফেলেছি। এতোক্ষণে বোধহয় শুকিয়ে গেছে। নিয়ে যেতে পারো।
'কোথায়?'
উঠেগেলো কিশোর। ডার্করুম থেকে একটা বাদামী ম্যানিলা এনভেলপ নিয়ে এলো। রবিনের হাতে দিলো।
লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো রবিন। দাঁড়াও, দিয়েই চলে আসছি।
আবার লাল কুকুর চার দিয়ে বেরিয়ে এলো সে। সাইকেল চালিয়ে উঠে এলো মেইন রোডে। বাঁয়ে ঘুরতেই কানে এলো এঞ্জিন স্টার্ট নেয়ার শব্দ। পেছনে তাকিয়েই চমকে গেলো রবিন। সেই সাদা পিকআপ ট্রাকটা...!
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now