বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরনো_ভূত
#পর্ব_বিশ
সামনে দাঁড়ানো মুখোশ পরা লোক দুটোর দিকে তাকিয়ে রইল কিশোর। চেয়ারে বসিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে। ছোট একটা ঘর। ওপরতলায়। অনেক ওপরে একটা মাত্র জানালা। কানে আসছে ঢেউয়ের ছলাৎছল শব্দ। বাতাসে শুঁটকি আর আলকাতরার কড়া গন্ধ।
দেখুন, হুমকি দিলো কিশোর, ভালো চাইলে খুলে দিন। নইলে পস্তাবেন।
আরে, বড় বড় কথা বলে তো! চাপা গর্জন করে উঠলো লম্বা লোকটা।
বেশি ছোঁক ছোঁক করে, বললো হাতে ট্যাটু আঁকা দ্বিতীয় লোকটা। অন্যের ব্যাপারে নাক গলায়।
দেখুন, হুঁশিয়ার করলো কিশোর, আমাকে খুঁজে বের করবেই ওরা। পুলিশ নিয়ে আসবে, কিডন্যাপিং খুব বড় অপরাধ।
এত কথা বলে কেন, টার? বিরক্ত হয়ে বললো লম্বা লোকটা।
তোমার বন্ধুদের আবার দেখতে চাও? টার বললো। তাহলে বলে দাও বাকি ছবিগুলো কোথায়।
দেরি করে ফেলেছেন, জবাব দিলো কিশোর। পত্রিকায় ছাপা হয়ে গেছে ছবি। মিস্টার মিলফোর্ড ছেপে দিয়েছেন।
সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না দেখছি, দাঁতে দাঁত চেপে বললো টার। দেরি হয়েছে কি না সেটা আমরা বুঝবো। ছবিগুলো কোথায় সেটা জানতে চাইছি। এই ডরিস, কথা বলাও তো।
এগিয়ে এসে কিশোরের একেবারে সামনে দাঁড়ালো ডরিস। কড়া গলায় জিজ্ঞেস করলো, হ্যাঁ, বলো দেখি, কোথায়?
ডন র্যাগনারসন আর আপনারা রেকার'স রকে কি করছেন, বলুন তো?
পাল্টা প্রশ্ন করলো কিশোর, স্মাগলিং?
ডন র্যাগনারসন কে?
কি জন্যে মনে হলো তোমার রেকার'স রকে কিছু করছি আমরা?
রকের ধারে কাছেও যাইনি আমরা কখনো।
ডেঞ্জারাস, তাই না ডরিস?
হ্যাঁ।
কাল রাতে আপনাদেরকে ওখানে দেখেছি আমরা, কিশোর বললো।
চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলো লোক দু'জন। ঢেউয়ের শব্দ আরও বেশি জোরালো লাগছে এই নীরবতায়।
মাঝে মাঝে বড় বেশি চালাক হয়ে যায় ছোটরা, টার বললো। আমার কথা বুঝতে পারছো ডরিস?
পারছি।কিছু কিছু আছে অনেক বেশি চালাক।
বন্দরে লাশ ভাসতে দেখা গেলে কেমন হয়?
দেখা যাওয়ার কি আছে?
ঢোক গিললো কিশোর। কিন্তু চেহারা স্বাভাবিক রাখলো। সে বলেই পেরেছে। বড় অভিনেতা সে। বললো, আমাকে কিছুই করবেন না আপনারা। যতোক্ষণ ছবিগুলো না পাচ্ছেন, কিচ্ছু করবেন না আমাকে। কারণ তাহলে ওগুলো আর পাবেন না কোনোদিন।
বেশি আশা করো না, বুঝলে! গর্জে উঠলো টার।
তিনজন তোমরা, যুক্তি দেখালো ডরিস। অন্য দু'জন যদি দেখে মুখ নিচু করে পানিতে ভাসছো তুমি, বলতে আর এক মুহূর্ত দেরি করবে না।
ভয় পেলো কিশোর। কিন্তু সেটা কিছুতেই চেহারায় ফুটতে দিলো না। বরং রাগ দেখিয়ে বললো, কয়েকটা সাধারণ ছবির জন্যে ওরকম করছেন কেন? কি করেছি আমরা? আপনাদের স্মাগলিঙ এর ছবি তুলে ফেলেছি আমরা? সোনা? লোক পাচার? ড্রাগস?
স্মাগলিং? সামান্য বিষ্ময়ের ছোঁয়া টারের কণ্ঠে। ছেলেটা ভাবছে আমরা স্মাগলার।
ছেলেটার মাথায় মগজ আছে, হুঁশিয়ার করলো ডরিস। বুঝে সমঝে কথা বলো।
যদি স্মাগলারই হই, তবে ডেঞ্জারাস লোক আমরা, তাই না, খোকা? টার বললো। ঝটপট এখন বলে ফেলো তো ছবিগুলো কোথায় আছে?
দিয়ে দাও। তারপর নিশ্চিন্তে বাড়ি চলে যাও। আন্তরিকতা দেখানোর জন্যে হাসলো ডরিস।
তোমার দোস্তদের ডাকো। ছবিগুলো দিয়ে দিতে বলো।
এখুনি।
সময় থাকতে।
বাড়ি তো নিশ্চয় যেতে চাও। চাও না?
মাথা ঝাঁকালো কিশোর। ঢোক গিলে বললো, বেশ। ডাকছি ওদের।
এই তো, লক্ষ্মী ছেলের মতো কথা। ডাকো ডাকো। দেরি করো না।
এবং কোনো চালাকির চেষ্টা করবে না। পকেট থেকে তো তোমার কার্ড বের করেই রেখেছি, ফোন নম্বর জানি। কাজেই শয়তানী করতে চাইলে ধরা পড়ে যাবে। ভুল নম্বরে করা চলবে না, বুঝলে?
ঘর থেকে বেরিয়ে গেল টার। ফিরে এলো একটা টেলিফোন সেট নিয়ে।
কিশোরের কাছেই দেয়ালে টেলিফোনের সকেটে প্লাগ ঢুকিয়ে তিন গোয়েন্দার কার্ড দেখে হেডকোয়ার্টারে ডায়াল করলো। তারপর রিসিভারটা ধরলো কিশোরের কানের কাছে।
ওদের বলো, বাতলে দিলো ডরিস, একটা বুদ্ধি এসেছে তোমার মাথায়। সব ছবিগুলো তোমার এখনি দরকার। নিয়ে আসে যেন। জলদি করে।
আবারো বলছি, কোনো চালাকির চেষ্টা করবে না।
মাথা ঝাঁকালো কিশোর। হতে পারে হেডকোয়ারর্টারে ফিরে গিয়ে তার জন্যে অপেক্ষা করছে রবিন আর মুসা। ওদেরকে কোনো একটা সংকেত দিতে হবে, যাতে ওরা বোঝে সে বন্দী হয়েছে।
টেলিফোন বাজছে। ধরছে না কেউ।
আছাড় দিয়ে ক্রেডলে রিসিভার রেখে দিলো ডরিস। দেখি। একটু পরে আবার করবো।
দরজায় টোকা দেয়ার শব্দ হলো। নিচতলা থেকে আসছে। থমকে গেল দুই চোর।
দেখতো গিয়ে, ডরিস বললো।
বেরিয়ে গেল টার। বেরোনোর আগেই মুখোশ ধরে টান দিলো, খুলে ফেলার জন্যে। নিচতলায় নেমে যাচ্ছে, শুনতে পাচ্ছে কিশোর। তারপর নীরবতা। একটু পর চেঁচিয়ে বললো টার, ডরিস, মাছের বাজারের নতুন ম্যানেজার। নেমে এসো।
চুপ করে বসে থাকো, কিশোরকে সাবধান করলো ডরিস।
বেরিয়ে গেলো সে। দরজায় তালা লাগিয়ে দিলো। হাত-পা চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা রয়েছে কিশোরের। টেনেটুনে দেখলো। কিছুটা লম্বা হলো বলে মনে হলো, কিন্তু ঢিল হলো না। মরিয়া হয়ে উঠলো সে। বাঁধন খুলতে সাহায্য হয় এরকম কিছুর জন্যে তাকালো ঘরের চারপাশে। কিছুই নেই। জানালা খোলাই রয়েছে। কিন্তু এভাবে বাঁধা থেকে কিছুই করতে পারবে না। ওখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সে নিশ্চিত, রবিন আর মুসা তাকে খুঁজতে যাবেই। আর গেলে চিহ্নও দেখতে পাবেই। যেগুলো রেখে এসেছে। বোরিন্সদের ড্রাইভওয়েতে থামের গায়ে যেটা এঁকে এসেছে, সেটা তো না দেখার কোনো কারণই নেই। চোরগুলো তখন তার দিকে পেছন ফিরে সাইকেলটা ট্রাকে তুলছিলো। কিন্তু এরপর থেকে চিহ্ন রেখে আসা জটিল হয়ে যায়।
কমলা রঙের কর্ক গুলো আগেই দেখে রেখেছিলো সে। ট্রাকের পেছনে তার সঙ্গে উঠেছিলো টার। সুযোগ খুঁজেছে কেবল কিশোর। মুহূর্তের জন্যে টার অন্য দিকে মুখ ফেরাতেই চিহ্ন ফেলে দিয়েছিলো। শেষ চিহ্নটা আঁকতে অবশ্য কোনো অসুবিধেই হয়নি। তাকে ট্রাকের চাকার কাছে বসিয়ে বিল্ডিং-এর দিকে তাকিয়ে ছিলো তখন টার। ডরিস গিয়েছিলো বাড়িটায়। তার সংকেতের অপেক্ষায় ছিলো টার।
এখন মুসা আর বরিনের ওপরই ভরসা। ভাগ্য ভালো হলে ওরা বোরিন্সদের ওখানে যাবে, তার চিহ্ন দেখতে পাবে, অনুসরণ করে এখানে আসবে। কিন্তু জানবে কি করে সে এখানে আছে। জানতে হলে বাঁধন খুলতে হবে। আরেকবার টানাটানি করলো। ব্যর্থ হলো চেষ্টা। হতাশ হয়ে চেয়ারে হেলান দিলো সে। হাঁপাচ্ছে। তবে চোখ দুটো এখনও খুঁজছে বাধন খোলার মতো কিছু পাওয়া যায় কিনা।
শুধু তার সাইকেলটাই চোখে পড়ছে বার বার।
দীর্ঘ একটা মুহূর্ত স্যাডল ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে সে। চোরেরা সরিয়ে ফেলে না থাকলে তার ওয়াকিটকিটা রয়ে গেছে ওটার মধ্যে। সকালে রেকার'স রক থেকে ফিরে এসে যন্ত্রটা ব্যাগে ভরেছিলো সে।
বাঁধা থাকলেও পা দিয়ে মাটি ছুঁতে পারছে কিশোর। প্রাণপণ চেষ্টায় চেয়ার নিয়েই উঠে পড়লো। এমনভাবে বাধা রয়েছে পা, হাঁটার অবস্থা নেই। তবে ছোট ছোট লাফ দিতে পারছে। ওভাবেই কোনোমতে এসে পৌঁছলো সাইকেলের কাছে। হাঁটুতে ভর রেখে নিচু হয়ে নাকটা ঠেকাতে পারলো স্যাডল ব্যাগে।
আছে! ওয়াকিটকিটা আছে ওর মধ্যে!
দাঁত দিয়ে বাকলেস খুলে ওপরের চামড়ার ঢাকনা তুললো। মুখ ঢুকিয়ে দিলো ব্যাগের ভেতরে। অনেক কায়দা কসরৎ করে কামড়ে ধরে বের করে আনলো যন্ত্রটা। ধরে রাখতে পারছে না ঠিকমতো। পিছলে যাচ্ছে....গেলও। ঠকাস করে পড়ে গেল মেঝেতে।
দম বন্ধ করে ফেললো কিশোর।
কান পেতে রয়েছে। শোনা যাচ্ছে শুধু ঢেউয়ের শব্দ। আর হালকা অস্পষ্ট কণ্ঠস্বর।
কেউ এলো না।
কাত হয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়লো সে। ওভাবেই ওয়াকিটকিটা ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে চলে গেলো দেয়ালের কাছে। নাক দিয়ে বোতাম চেপে চালু করে দিলো যন্ত্র।
শুনছো! মুখ দিয়ে ঘড়ঘড় স্বর বেরিয়ে এলো, মুসা! রবিন! আছো তোমরা? শুনছো.....
(চলবে.....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now