বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#পুরনো_ভূত
#পর্ব_বার
এক্কেবারে গায়েব! চেঁচিয়ে উঠলো রবিন। কণ্ঠস্বর নামিয়ে রাখার কথাও ভুলে গেছে।
অসম্ভব। মানুষ কখনও গায়েব হতে পারে না, বিশ্বাস করতে পারলোনা কিশোর। চাঁদের আলোয় কুয়াশা পর্যন্ত চোখে পড়ছে। মানুষ না পড়ার কথা নয়।
তাহলে গেলো কোথায়? মুসা প্রশ্ন করলো।
ওই পাথর ডিঙিয়ে যায় নি, রবিন বললো। তাহলে দেখতামই।
উড়ে গেলো না তো!
আরে দূর। হাত নাড়লো কিশোর। মানুষ কি উড়তে পারে নাকি। লুকিয়ে পড়েছে।
ভারি মুখোশটা খুলে ফেলে নিচু হয়ে মাটির দিকে তাকালো সে। ডন যেখান থেকে উধাও হয়েছে সেই জায়গাটার চারপাশে ঘুরে ঘুরে দেখলো। অন্য দু'জন পরীক্ষা করলো আরও খানিকটা ছড়িয়ে পড়ে। চাঁদের আলো কমছে বাড়ছে। কুয়াশার ঘন হালকা সঙ্গে তাল রেখে।
একগুচ্ছ রোম খুঁজে পেলো মুসা। এই কিশোর, দেখ তো?
পাঁচ ফুট উঁচু ঘন একটা চিরসবুজ ঝোপের কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে। একসারি জুনিপারের ঝোপ রয়েছে পাথরের এই পুব পাশটায়।
আলখেল্লার ভেতর থেকে খুদে একটা টর্চ বের করে আনলো কিশোর। ঝোপের ওপর আলো ফেললো। রোমগুলো যেখানে লেগেছে তার পাশের কয়েকটা ডাল ভাঙা। ওগুলোর পেছনে ঝোপের অন্যপাশে বাঁয়ে একটা ফোকর মতো, বোধহয় সুড়ঙ্গ মুখ।
রোমগুলো দেখতে দেখতে কিশোর বললো, ভাইকিং পোশাকেরই মনে হচ্ছে। কাপড়ও লেগে রয়েছে খানিকটা। নিশ্চয় তার টিউনিক থেকে ছিঁড়েছে। এই ঝোপের আড়ালে আড়ালেই আমাদের চোখে ধূলো দিয়ে পালিয়েছে ডন।
গাছের সারি আর টিলার মাঝের খালি লম্বা জায়গাটা ধরে আগে আগে এগোলো কিশোর। পেছনে চললো অন্য দু'জন। কিছুদূর এগিয়ে দক্ষিণে বাঁকা হয়ে গেছে পথটা। যে ঝোপের কাছ থেকে যাত্রা শুরু, বড় জোর তার বিশ গজ দূরে এসেই শেষ হয়ে গেলো জুনিপার। আবার খোলা জায়গায় বেরিয়ে এসেছে ওরা। চাঁদের আলোয় লুকোচুরি খেলছে কুয়াশা, আর কিছু নেই। কাছেই তীরে আছড়ে পড়ছে সাগরের ঢেউ।
হায় হায়, বেশি দূর তো নয়। মুসা বললো।
তবু যথেষ্ট, বললো কিশোর। ঝোপের আড়ালে আড়ালে দৌঁড়ে এসে আরেকদিকে চলে গেছে। টিলার গোড়ায় পথটা বেঁকে গেছে বলেই আমাদের চোখে পড়েনি। মনে হয়েছে গায়েব হয়ে গেছে।
গেল কোথায়? চারদিকে তাকাতে লাগলো মুসা।
এক চিলতে পাথুরে ভূমিতে এসে দাঁড়িয়েছে ওরা। একক ধরনের গুল্ম জন্মে রয়েছে ওখানে, হলুদ ফুল ফোটে। একপাশে মাথা উঁচু করে রয়েছে দানবীয় টিলাটা, খুদে পাহাড়ই বলা চলে এটাকে। কয়েকটা ছোট ছোট চূড়া রয়েছে। আরেক পাশে সাগর। ঢেউয়ের মাথায় ফেনা নাচানাচি করছে। গাছশূন্য অঞ্চলটাকে চিরে ফালাফালা করেছে যেন অনেকগুলো লম্বা গিরিখাত।
খাত-টাত অনেক কিছুই আছে, দেখতে দেখতে বললো রবিন। যেখানে খুশি লুকিয়ে থাকতে পারে।
কিন্তু কেন? চুরি করে কিছু এনেছে বলে তো মনে হয় না।
একই প্রশ্ন আমারও। কিশোর বললো। ধারে কাছেই কোথাও রয়েছে এখন সে। কোথায়? দ্বীপের এখানটায় বেশি দূর যেতে পারবে না সে, জায়গাই নেই। ছড়িয়ে পড়ে খুঁজতে শুরু করি আমরা। নেহায়েত দরকার না পড়লে টর্চ ব্যবহার করবে না আমাদের যেন না দেখে।
আচ্ছা, রবিন বললো। ফাঁদে পড়েছে ব্যাটা। দেখা না দিয়ে পালাতে পারবে না এখান থেকে।
ছড়িয়ে পড়লো তিনজন তিন দিকে। সাগরের ওপর থেকে ভেসে আসছে কুয়াশা, জমে জমে ঘন হচ্ছে, তারপর দমকা বাতাস এসে ফুঁ দিয়ে যেন হালকা করে ফেলছে। আবার আসছে কুয়াশা, জমছে, আবার হালকা হয়ে উড়ে যাচ্ছে। চলছে এমনি। ফলে একবার উজ্জ্বল হচ্ছে চাঁদের আলো, একবার মলিন। আলোর এক বিচিত্র খেলা চলছে যেন।
খুঁজতে খুঁজতে এগোলো ওরা। টিলার পশ্চিম ধারে ছোট একটা লুকোনো খাঁড়ির পাড়ে এসে শেষ হয়ে গেলো সমস্ত গিরিখাত। দক্ষিণে খানিকটা উঁচু ভূমি, উত্তরে বিশাল টিলা খাঁড়িটাকে রক্ষা করছে প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউয়ের খোলা আঘাত থেকে।
নাহ, হারিয়েই ফেললাম! নিরাশ ভঙ্গিতে হাত নাড়লো মুসা।
তাই তো মনে হচ্ছে, কিশোরকেও অসুখি লাগছে।
রবিন আর মুসাকে নিয়ে উঁচু জায়গায় উঠে এলো সে। কিন্তু এখানেও কেউ লুকিয়ে নেই।
গেলো কোথায়? খাঁড়ির দিকে তাকিয়ে বললো রবিন। ঘন কুয়াশা যেন ঝুলে রয়েছে ওখানে পানির ওপর। কিশোর, কি করবো?
কি আর, ফিরে যাব। যেখান থেকে উধাও হয়েছে ডন। সূত্র খুঁজবো। তখন কোনো কিছু চোখ এড়িয়ে গিয়ে থাকলে এখন সেটা বের করার চেষ্টা করবো। আর না পারলে, কিম্ভূত মুখোশটা দুলিয়ে বললো গোয়েন্দাপ্রধান, ফিরে যাবো আগুনের কাছে। র্যাগনারসনরা কিছু দেখেছে কিনা জিজ্ঞেস করবো।
জোৎস্না ধোয়া জায়গাটার ওপর আর একবার চোখ বুলিয়ে ফিরলো কিশোর। পা বাড়াতে গিয়েই যেন জমে গেলো।
নিচে, খুদে খাঁড়িটার পাড়ে দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে টর্চ জ্বেলেছে একটা মূর্তি। বড় টর্চ, উজ্জ্বল আলো।
দম বন্ধ করে ফেললো ছেলেরা। নিঃশব্দে তাকিয়ে রয়েছে। এপাশ-ওপাশ নড়ছে টর্চ। কুয়াশাকে কেটে দুই টুকরো করে দিতে চাইছে যেন উজ্জ্বল আলোকরশ্মি। আলোর লম্বা একটা আঙুল যেন আতিপাতি করে খুঁজছে কোনো কিছু। জোরালো হাওয়া এসে হালকা করে দিলো কুয়াশা। দেখতে দেখতে আবার ভারি হয়ে জমে গেলো যেন খাঁড়ির ওপরে। খাঁড়ির মুখের কাছ থেকে কুয়াশার ভেতরে যেন খুঁজেই চলেছে আলোর আঙুলটা।
কিশোর! হাত তুললো রবিন।
বার সাগরে, একটা জাহাজের গায়ে গিয়ে পড়েছে আলো। ঢেউয়ে দুলছে জাহাজটা। কুয়াশা ঘন হলেই মিলিয়ে যাচ্ছে, হালকা হলেই অবয়বটা ফুটে উঠছে আবার। একমাত্র মাস্তুলে ঝুলছে ধূসর রঙের পাল, তাতে অসংখ্য ফুটো। ধূসর ছায়া এমনভাবে ঢেকে রেখেছে ডেকটাকে, যেন ফ্যাঙ্গাসের স্তর পড়েছে। টর্চের আলোয় রাতে সাগরে কুয়াশার মধ্যে লুকোচুরি খেলছে যেন একটা ভূতুড়ে জাহাজ।
ও-ওটা কি! কথা আটকে যেতে চাইলো রবিনের।
কিশোরেরও প্রায় একই অবস্থা, দে-দেখো....
ওদের চোখের সামনেই মিলিয়ে গেলো জাহাজটা। মুহূর্ত আগেও ছিলো। পরক্ষণেই নেই। উঁচু ঢেউয়ের খাঁজে নেমে যেন চোখের পলকে তলিয়ে গেলো।
নিভে গেলো টর্চ।
এসো, ধরবো... বলতে বলতেই পাথরের ধাপ বেয়ে নামতে শুরু করলো মুসা। খাঁড়ির মুখের কাছে যাবে।
রাতের নীরবতাকে খান খান করে দিলো যেন একটা চাপা গর্জন। চেঁচিয়ে উঠলো একটা ভয়াল কণ্ঠ, অ্যাভাস্ট, ইয়ে ন্যাভিস!
চমকে গেলো তিন কিশোর। মুখ তুলে তাকালো শব্দটা যেদিক থেকে এসেছে।
খাঁড়ির মুখের কাছে খানিকটা উঁচু জায়গা রয়েছে। পাথরের একটা বেদি মতো। তার ওপর উঠে দাঁড়িয়ে রয়েছে, দ্য স্টার অভ পানামা জাহাজের ক্যাপ্টেন কুলটার। গায়ে লম্বা নীল কোট। পিতলের বোতাম। সোনালি সুতোয় কাজ করা নীল ক্যাপ। আঁটো প্যান্ট। তার চারপাশে পাক খেয়ে উড়ছে কুয়াশা।
হাড্ডিসর্বস্ব একটা হাত তুলে তিন গোয়েন্দার দিকে পিস্তলের মতো তাক করলো ক্যাপ্টেন। হিসিয়ে উঠে বললো, চোর! ডাকাত!
লম্বা, মারাত্মক ভোজালি দেখা দিলো তার হাতে। কোপ মারার ভঙ্গিতে সেটা তুলে এগিয়ে আসতে লাগলো ছেলেদের দিকে।
খাইছে! ভূ-ভূ-ভূত! পালাও বলেই দৌঁড় দিলো মুসা।
রবিন তো বটেই। এমনকি কিশোরও ভোঁ দৌঁড় একটা মুহূর্ত দ্বিধা করলো না।
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now