বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো_ভূত #পর্ব_বাইশ

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পুরনো_ভূত #পর্ব_বাইশ আরেকবার আটচল্লিশটা ছবি ছড়িয়ে নিয়ে বসলো তিন গোয়েন্দা। যেগুলো তে ডন রয়েছে, সেগুলো বেছে নিলো। এই যে, একটা ছবিতে আঙুল রাখলো মুসা, অন্যদের পেছনে ঝুঁকে রয়েছে। আমি শিওর, মাটি থেকে সোনার মোহর তুলছে সে। আমাকে ছবি তুলতে দেখেছিলো, রবিন বললো। সে-জন্যেই কেড়ে নিতে চায় ওগুলো। ছোট ঘরটায় পায়চারি করছে কিশোর। নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটছে। ডেস্কের ধারে এসে দাড়ালো। একটা ছবি তুলে নিয়ে পায়চারি শুরু করলো আবার। দেখা শেষ করে সেটা রেখে আবার আরেকটা তুলে নিলো। এভাবেই এক এক করে পরিক্ষা করতে লাগলো ছবিগুলো। হ্যাঁ, এই ছবিগুলোই ডন ফেরত চায়। অবশেষে কথা বললো গোয়েন্দা প্রধান। ছবি দেখে আসলে বলা যাচ্ছে না সে কি করছিলো। কিন্তু সে সেটা জানে না। মোহরগুলো অন্য কেউ দেখে ফেলুক, সেই ঝুঁকিও সে নিতে চায় না। সবাইকে ভয় দেখিয়ে দ্বীপ থেকে তাড়াতে চেয়েছে, যাতে নিরাপদে সমস্ত গুপ্তধন তুলে আনতে পারে। আবার একটা একটা করে ছবি দেখতে লাগলো সে। মুখোশধারী লোকদুটো তার হয়ে কাজ করছে। আমাদের নেগেটিভগুলো চুরি করেছে ওরা। প্রিন্টগুলোও ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে, রবিন বললো। ডন ওদেরকে পাঠিয়েছে তোমাকে কিডন্যাপ করে আনার জন্যে, যাতে ছবিগুলো দিতে বাধ্য করতে পারে তোমাকে। এবং কিছুতেই কাউকে জানতে দিতে চায় না যে সে গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছে। এমনও হতে পারে, মুসা বললো, যেখানে পেয়েছে ওগুলো সেখানে রাখেনি। সরিয়ে ফেলেছে দ্বীপেরই অন্য কোনোখানে। জাহাজসহ চোরদুটোকে ভাড়া করেছে ওগুলো দ্বীপ থেকে তুলে আনতে তাকে সাহায্য করার জন্যে। কাল রাতে কুয়াশার মধ্যে গিয়েছিলো সে-জন্যেই, রবিন বললো। কিন্তু আমাদের জন্যে পারেনি। কুয়াশা ছিলো বলে দ্বীপে লোক থাকা সত্ত্বেও পরোয়া করেনি। ভেবেছে কেউ খেয়াল করবে না। হ্যাঁ, চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালো কিশোর, যুক্তিতে মিলে যায়। কিন্তু সেই একই সমস্যা থেকেই গেলো। কেন লোকদুটোকে দরকার হলো ডনের? কেন নিজেই সব নিয়ে নিচ্ছে না? তার নিজের বোট আছে। দ্বীপের কোথাও যদি লুকিয়েই রাখলো, থাকলো। অল্প অল্প করে তুলে আনলেই তো হলো। কেউ জানলো না, কোনো ঝামেলাও হবে না। ভাগও দিতে হবে না। সেটাই কি স্বাভাবিক ছিলো না? হতে পারে, মুসা যুক্তি দেখালো, আমরা ছবি তুলে আনায় হয়তো ঘাবড়ে গেছে। তাড়াহুড়ো করে তুলে আনার জন্যে লোক ঠিক করেছে। তা হতে পারে, ভ্রূকুটি করলো কিশোর। তারপরেও প্রশ্ন থেকে যায়। পত্রিকায় ছবি বেরিয়েছে যে এ কথা কি করে জানলো ডন? রবিনের আব্বার কাছ থেকে ছিনিয়ে আনার জন্যে লোক পাঠালো। আর মনে করে দেখো, ডক্টর ইংমার বলেছিলেন, মঙ্গলবারে রবিনের কাছ থেকে যখন নেগেটিভ গুলো কেড়ে নেয়া হয়, তখন দ্বীপে ছিলো ডন। ডন না পাঠালে তাহলে কে পাঠালো কিশোর? রবিনের জিজ্ঞাসা। তাছাড়া, মুসা মনে করিয়ে দিলো, পিয়ারে ওদের সাথে ডনকে কথা বলতে দেখেছে রবিন। তা ঠিক, স্বীকার করলো কিশোর, হয়তো একসাথেই কাজ করছে ওরা। তাহলে কি এখন গিয়ে ইংমার আর প্রিন্সিপ্যাল স্যারকে জানাবো? রবিন জিজ্ঞেস করলো। আর পুলিশকে? নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটলো একবার কিশোর। ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ নীরবে। তারপর বললো, ডন যে সোনাগুলো পেয়েছে, তার কোনো প্রমাণ নেই আমাদের হাতে। আর আমার মনে হয় না, শুধু সোনা নিয়েই এই গন্ডগোল। আরও কিছু রয়েছে। ডন এমন কিছু করেনি যে তার বিরুদ্ধে পুলিশকে কিছু বলতে পারবো। কিডন্যাপও সে করেনি আমাকে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। পুলিশের কাছে যাওয়ার আগে জোরালো প্রমাণ জোগাড় করতে হবে আমাদের। আর তা করতে হলে রেকার'স রকে যেতে হবে। ডাক্তার আর প্রিন্সিপ্যাল স্যারের সঙ্গে আজ রাতে আবার দ্বীপে যাবো আমরা। এখন বাড়ি যাও। গোসল-টোসল করে শুকনো কাপড় পরো। বাড়িতে বলে আসবে আজ রাতে ফিরছো না। রবিনের বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে পাঁচটার বেশি বেজে গেলো। বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ছবিগুলো যারা চুরি করতে চেয়েছিলো, তাদের ব্যাপারে আর কিছু জেনেছো? আমরা অনুমান করছি, জবাব দিলো রবিন, ওদের সাথে ডন র্যাগনারসনের সম্পর্ক রয়েছে। স্টার অভ পানামার হারানো সোনা খুঁজে পেয়েছে সে। কাউকে সে কথা জানতে দিতে চায় না। সোনার ছবি তোলোনি তো তুমি! আমরা তা-ই ভাবছি। অথবা ওরকমই কোনো কিছুর। নিজের ঘরে চলে এলো রবিন। গা ধুয়ে শুকনো জামাকাপড় পরলো। তারপর শুকনো জ্যাকেটটা হাতে নিয়ে নেমে এলো আবার নিচতলায়। বাবা, মাকে বলো আজ রাতে ফিরবো না আমি। কিশোর আর মুসার সঙ্গে আবার রেকার'স রকে যাবো। সারারাত থাকতে হতে পারে। যাও। সাবধানে থেকো। আচ্ছা। বিকেলের উষ্ণ রোদের মধ্যে সাইকেল চালিয়ে আবার স্যালভিজ ইয়ার্ড -এ ফিরে এলো রবিন। এসে দেখলো, মুসা স্ট্যান্ডে তুলে রেখেছে সাইকেল। উত্তেজিত হয়ে রয়েছে কিশোর। রবিনকে দেখেই বলে উঠলো, এখুনি যেতে হবে। ট্রাক নিয়ে বসে আছে বোরিস। আমাদের বন্দরে পৌঁছে দেবে। অন্ধকার হওয়ার আগেই দ্বীপে পৌঁছতে হবে আমাদের। খাইছে! কিশোর, কি হয়েছে? এখনও শিওর না, দ্রুত বললো কিশোর, তবে রেকার'স রকে সাংঘাতিক কিছু একটা ঘটছে। আমাদের কল্পনারও বাইরে। ছবিগুলো আবার দেখেছি। দেখেই মনে হয়েছে একথা। কিন্তু এত তাড়া কিসের? ট্রাকের দিকে এগোতে এগোতে রবিন জিজ্ঞেস করলো। কারণ ডন চলে গেছে ওখানে। অন্ধকার হয়ে গেলে দেরি হয়ে যেতে পারে। মিস্টার ইংমার আর ডেভিডকে বলবে না? বন্দরে পৌঁছে গেছেন। তোমরা যাওয়ার পরপরই ফোন করেছিলাম। তারা এবং আর যারা যারা দ্বীপে যেতে চায়, ছ'টার মধ্যে রওনা দেবে। আমাদের পোশাক-টোশাক? মুসা জানতে চাইলো। লাগবে না। ডন জেনে গেছে আমরা কে, কি করছি। ছদ্মবেশ আর দরকার নেই। ট্রাকের পেছনে চড়লো তিনজনে স্টার্ট দিয়ে ইয়ার্ড থেকে বেরিয়ে এলো বোরিস। মুসা আর রবিন অবাক হয়ে ভাবছে। ছবিগুলোতে কি দেখতে পেয়েছে কিশোর? জিজ্ঞেস করলে বলবে না, জানা আছে ওদের। সময় না হলে কিছুতেই মুখ খুলবে না সে। কাজেই অযথা প্রশ্ন করলো না। বন্দরে এসে সাইকেল র্যাকের দিকে তাকিয়ে খুশি হলো মুসা। আছে। ঠিকঠাকই আছে। সাইকেল তো দুটো, মুসা, রবিন বললো। তাই তো! কিশোরেরটা! চেঁচিয়ে উঠলো মুসা। বোরিস, কেবিনের জানালার পাশে ঝুঁকে ডাকলো কিশোর, ট্রাক থামান। কিশোরের সাইকেলটা কাছ থেকে দেখলো তিনজনে। কোনো ক্ষতি করা হয়নি। মুসারটার গায়ে ঠেস দিয়ে রাখা। স্যাডল ব্যাগটাও জায়গামতোই রয়েছে। পুলিশ নিয়ে ফিরে আসতে পারি, কিশোর বললো, এই ভয়ে এটা এখানে রেখে গেছে। যাক, ভালোই হয়েছে। সাইকেলটা ফেরত পেলাম। এখন আর কিডন্যাপিং-এর ঘটনাটাও প্রমাণ করতে পারবো না, নিরাশ হয়ে বললো রবিন। না পারার জন্যেই তো করেছে এসব, কিশোর গম্ভীর। প্রমাণ দিতে পারবো না। বিশ্বাস করাতে পারবো না পুলিশকে। সাইকেল দুটো ট্রাকে তুলে নিলো ওরা। নিজেরাও চড়লো আবার। পাবলিক পিয়ারে ট্রাক নিয়ে এলো বোরিস, যেখানে র্যাগনারসনদের বোটগুলো বাঁধা রয়েছে। কয়েকজন র্যাগনারসন সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তিন গোয়েন্দাকে নামতে দেখে এগিয়ে এলেন ইংমার আর প্রিন্সিপ্যাল। সর্বনাশ করে দিয়ে গেছে! প্রিন্সিপ্যাল জানালেন। একটাকেও স্টার্ট দিতে পারবো না। স্যাবোটাজ করে দিয়ে গেছে! ডাক্তার বললেন। (চলবে.....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now