বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পুরনো_ভূত #পর্ব_আঠারো

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পুরনো_ভূত #পর্ব_আঠারো গ্যারেজের সামনে মোটরসাইকেল থামলো। জানালা! ফিসফিসিয়ে বললো মুসা। স্টোর রুমের একমার ছোট জানালার পাল্লা ঠেলা দিলো সে। নড়ে উঠলো ওটা। সাবধানে ঠেলা দিয়ে খুলে ফেললো। খোলার সময় জোরে কিঁচকিঁচ করে উঠলো ওটা। দম বন্ধ করে ফেললো দু'জনে। ভাগ্য ভালো, শব্দটা ঢাকা পড়ে গেল এঞ্জিনের শব্দে। তারপর বন্ধ হলো এঞ্জিন। কিন্তু কোনো পদশব্দ এগিয়ে এলো না ওদের দিকে। মুহূর্ত পরেই ছোট জানালায় মাথা গলিয়ে দিলো মুসা। বেরিয়ে এলো। তার পরপরই এলো রবিন। দু'জনেই লুকালো ঝোপের ভেতরে। এখান থেকে গ্যারেজ আর কটেজ দু'টোই চোখে পড়ে। ডন গেল কোথায়? নিজেকেই যেন প্রশ্ন করলো মুসা। চুপ! ওই যে। গ্যারেজের ভেতর থেকে খুশি মনে শিস দিতে দিতে বেরোলো ডন। খালি পা। পুরনো জিন্সের প্যান্টের নিচটা বোধহয় বেশি ছিঁড়ে গিয়েছিলো, কেটে ফেলা হয়েছে। গায়ে মলিন টি-শার্ট। ঠেলে মোটরসাইকেলটা গ্যারেজে ঢোকালো সে। দু'পাশের দরজাই টেনে হাঁ করে খুলে ফেললো। তারপর গিয়ে উঠলো ধূসর পিক আপ ট্রাকটাতে স্টার্ট দিয়ে পিছিয়ে বের করে আনলো ওটা। চলে যাচ্ছে! ফিসফিস করে বললো মুসা। পিছু নেয়া দরকার, উঠে দাঁড়াতে গেল রবিন। দাঁড়াও! রবিনের হাত চেপে ধরলো মুসা। ড্রাইভওয়েতে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে ট্রাকটা। লাফিয়ে নেমে এলো ডন। দৌঁড়ে ফিরে এলো গ্যারেজে। মোটরসাইকেলের স্যাডলব্যাগ খুলে আপন মনে শিস দিতে দিতে বের করলো একটা বোতল। সেটা নিয়ে রাখলো গাড়ির পাশে। ট্রাকের পেছনে উঠে একটা বড় তেরপল ঠেলে সরিয়ে পাঁচ গ্যালনের খালি একটা প্লাস্টিকের জগ আর একটা তেল ঢালার চোঙ বের করে নিয়ে নেমে এল আবার। ঝোপের ভেতর বসে সবই দেখতে পাচ্ছে রবিন আর মুসা। বোতল খুলে জগের মুখে চোঙ রেখে তাতে বোতলের তরল পদার্থ ঢালতে শুরু করলো ডন। সবটুকু ঢেলে বোতলটা রাখলো মাটিতে। উঁকি দিয়ে জগের ভেতর দেখলো। সন্তুষ্ট হয়ে এক লাথিতে বোতলটা পাঠিয়ে দিলো একটা ঝোপের ভেতর। জগের ক্যাপ লাগিয়ে ওটাকে তেরপলের নিচে ঢুকিয়ে রাখলো। এক মুহূর্ত কি ভাবলো। তারপর আবার চললো গ্যারেজের দিকে। জগটা নিয়ে কোথায় যাবে? মুসা বললো। তার পিছু নিতে হবে আমাদের। নেবো কিভাবে? ট্রাকের পেছনে উঠে পড়লে কেমন হয়? অন্তত একজন? তেরপলের তলায়! ঠোঁট কামড়ালো মুসা। কিন্তু বেরিয়ে আসতে পারে সে। দেখে ফেলবে। তাহলে একজনকে এখানে বসেই চোখ রাখতে হবে। আরেকজন গিয়ে ট্রাকে উঠবো। তারমানে একজনই উঠতে পারবো। কিশোরের জন্যে একজনকে তো বসে থাকতেই হবে। কিংবা গিয়ে খুঁজে বের করতে হবে তাকে। শ্ শ্ শ্ শ্। আবার বেরিয়ে এলো ডন। হাসছে আপন মনে। ছোট একটা কাঠের বাক্স হাতে। এটাতেই রয়েছে সোনার মোহর আর তালগুলো। সেটা ট্রাকের কেবিনে সীটের ওপর রেখে আবার কি ভাবলো। মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকেই কিছু বোঝালো। ট্রাকটা ঘুরে এসে কটেজের পেছন দিকে চললো। দরজায় তালা দেয়া। পকেট হাতড়ে চাবি না পেয়ে বিড়বিড় করলো কিছু। সামনের দরজার দিকে এগোলো। এটাইই আমাদের সুযোগ! মুসা বললো। আমিই বরং ঢুকিগে। আমার শরীর ছোট, ঢুকে থাকতে পারবো, দেখা যাবে না। মেনে নিলো মুসা। বেশ। আমি এখানে কিছুক্ষণ বসবো কিশোরের জন্যে। না এলে গিয়ে খুঁজে বের করবো। জলদি যাও। ডন বেরোলে ইশারা করবো ঢিল ছুঁড়ে। হামাগুড়ি দিয়ে ঝোপ থাকে বেরোলো রবিন। তারপর এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে দৌঁড় দিলো ট্রাকের দিকে। মুসার চোখ বাড়ির সামনের দিকে। ট্রাকে উঠে পড়লো রবিন। একপাশ উঁচু করে পিছলে ঢুকে গেল তেরপলের তলায়। পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেল। ভালো করে না তাকালে বোঝাই যাবে না তেরপলের নিচে কিছু রয়েছে। রবিন ঢোকার সামান্য পরেই পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো ডন। হাসি হাসি মুখ। ট্রাকের পেছনে ফিরেও তাকালো না। সোজা গিয়ে উঠলো কেবিনে। ড্রাইভওয়ে থেকে পিছিয়ে গাড়ি বের করে নিয়ে গেল রাস্তায়, তারপরে চলে গেল। তাকিয়ে রয়েছে মুসা। রবিনের জন্যে ভাবনা হচ্ছে। বসেই আছে সে। কিশোরের দেখা নেই। এতোক্ষণে তো ফিরে আসার কথা! আরও কিছুক্ষণ পর আর থাকতে পারলো না সে। উঠে বেরিয়ে এলো ঝোপ থেকে। রবিনের সাইকেলটা যেখানে রয়েছে সেখানেই রেখে নিজেরটা খুলে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল একটা ফোন বুদ খুঁজে বের করার জন্যে। তার ধারণা, কাজ শেষ করে নিশ্চয়ই হেডকোয়ার্টরে ফিরে গেছে কিশোর। কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে তারপর আসবে মুসা আর রবিনের সঙ্গে দেখা করার জন্যে। ওয়াকি-টকি সাথে আছে, তবে ইমারজেন্সি সিগন্যাল ও কাছে থাকা উচিৎ ছিলো। তাহলে এখন রবিনের কাজে লাগতো। সে কোথায় গেল না গেল বোঝা যেত। ধরে পড়লে কিংবা বিপদে পড়লে তাকে উদ্ধারের জন্যে যাওয়া যেত। কিশোরও নিশ্চয়ই এরকম কিছু ভেবেই হেডকোয়ার্টরে গেছে। রিঙ করলো মুসা। জবাব নেই। কয়েকবার চেষ্টা করে টেলিফোন বুকে মিসেস বোরিন্সের ঠিকানা খুজতে শুরু করলো। যতো তাড়াতাড়ি পারলো পর্বতের দিকে সাইকেল চালিয়ে চললো মুসা। দেখতে দেখতে শহর ছাড়িয়ে এসে উঠে পড়লো পাহাড়ী পথে। পর্বতের গভীরে ঢুকে গেছে পথটা। গিরিপথে ঢুকলো সে। কয়েকটা মোড় ঘুরে শেষ আরেকটা ঘুরতেই চোখে পড়লো বোরিন্সদের বাড়ি। পৌঁছে গেল ড্রাইভওয়ের গোড়ায়। কিশোরের সাইকেলটা খুঁজলো তার চোখ। কোথাও দেখতে পেলো না। দরজায় টোকা দিলে খুলে দিলো মিসেস বোরিন্স। ও, তুমি! তিনজনের আরেকজন! হ্যাঁ, ম্যা'ম। কিশোর আছে? হ্যাঁ, হ্যাঁ। অনেক ভালো তোমরা। ডেনির খবরটা নিজে এসে জানালো কিশোর। জ্যাকেট....। তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে গেলাম আমি। তোমরা না থাকলে..... বাধা দিয়ে মুসা জিজ্ঞেস করলো, এখনও আছে? অ্যাঁ! না....না না! কি যেন নাম তোমার? মুসা। মুসা আমান। কতোক্ষণ আগে গেছে? হলের গ্রান্ডফাদার ঘড়িটা দেখলো মিসেস বোরিন্স। এই...ঘন্টাখানেক। কেন, কিছু হয়েছে? জানি না। অস্বস্তি বোধ করছে মুসা। কোথায় যাবে কিছু বলেছে? না। এখানে সে থাকার সময় কিছু ঘটেছে? অস্বাভাবিক কিছু? না। মহিলাকে ধন্যবাদ দিয়ে সাইকেলের কাছে চললো মুসা। কিশোরের কি হলো? বাড়ির পাশের মাটিতে চিহ্ন খুঁজলো সে। কিছু নেই, শুধু পেছনের ফুল গাছের সারির কাছে মোটরসাইকেলের চাকার দাগ ছাড়া। তাতে কোনো বিশেষত্ব দেখতে পেলো না সে। সে খুঁজছে সাইকেলের চাকার দাগ। গেল কোথায় কিশোর? ডনের কটেজে কেন গেল না? কোনো সংকেত না দিয়ে, কিছুই না বলে এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়াটা তার স্বভাব বিরুদ্ধ। পুরো দুই ঘন্টা ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে সাইকেল ঠেলে নিয়ে ড্রাইভওয়ে ধরে নামতে লাগলো মুসা। চোখে পড়লো আশ্চর্যবোধক চিহ্ন। একটা টেলিফোন পোস্টের গায়ে আঁকা। দ্রুত হাতে আঁকা হয়েছে সাদা চক দিয়ে। ওই চিহ্ন কিশোরই রেখে গেছে! থামটার আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করলো মুসা। ছোট একটা ট্রাক আর বাই সাইকেলের চাকার দাগ দেখতে পেল মাটিতে। (চলবে....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now