বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#পুরনো_ভূত
#পর্ব_আট (প্রথম অংশ)
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি করে ফেললো রবিন। আগের দিন পিকআপের তাড়া খেয়ে, খাদে পড়ে, আর প্রচুর পড়াশোনা করে কতোটা ক্লান্ত হয়েছিলো বুঝতে পারেনি তখন, এখন পারছে। এই অতিরিক্ত ঘুমানোই তার প্রমাণ। উঠে হাতমুখ ধুয়ে এসে ঢুকলো রান্নাঘরে। রেফ্রিজারেটরের সঙ্গে টেপ দিয়ে আটকানো একটা নোট দেখতে পেলো। লেখা রয়েছেঃ
গুড মরনিং,
ঘুম ভাঙ্গলো? কাল অফিসে গিয়েই শুনলাম পাহাড়ে দাবানল লেগেছে। তাড়াতাড়ি সেটার রিপোর্টিং করতে চলে গেলাম। আজ সকালেও তাড়াতাড়ি যেতে হচ্ছে। কাল ছবিগুলো প্রিন্ট করিয়ে আনতে পারিনি, সরি। আজ অবশ্যই পাবে।
___বাবা।
বি.দ্র. তোমার আম্মা সুপারমার্কেটে গেছে। আমাকে বলে গেছে তোমাকে বলার জন্যে, কি কি কাজ নাকি রয়েছে। বাগানের গাছ কাটা, লনে পানি দেয়া, এসব....
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করলো সে। নাস্তা সেরে কাজে লেগে পড়লো। দুপুরের আগে ইয়ার্ডে যেতে পারলো না। এসে দেখে ওয়র্কশপে গম্ভীর হয়ে বসে আছে মুসা। রবিনকে দেখেই বললো, দিয়েছে আটকে। বোরিস গেছে দাঁতের ডাক্তারের কাছে। রোভার একা পারবে না। তাই তার সঙ্গে কিশোরকে মাল আনতে পাঠিয়ে দিয়েছেন রাশেদ আংকেল। ছুটিটা একেবারে খাটতে খাটতেই গেলো আমাদের।
কিশোরকে ছাড়াই শুরু করতে পারি আমরা।
কি করবো? কি জিজ্ঞেস করবো তাই তো জানিনা।
জিজ্ঞেস করবো কে বা কারা গিয়েছিলো ওই রকে।
ভ্রুকুটি করলো মুসা। উঁহু, হলো না। কিশোরের জন্যে দেরীই করি।
চুপচাপ বসে থাকতে ভালো লাগে না। ওয়ার্কশপে কয়েকটা ছোটখাটো মেরামতের কাজ সারলো দু'জনে। তারপর ট্রেলারে ঢুকে চিত হয়ে পড়ে রইলো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে। সকালের খবরের কাগজের কয়েকটা কপি চোখে পড়লো রবিনের। পুরনো অবশ্যই। রেখে দিয়েছে কারণ ওতে তিন গোয়েন্দার নাম ছাপা হয়েছে। ওই যে বোটটা টেনে এনেছে সেই খবর।
দেখো কান্ড, বলে উঠলো সে। মিস্টার বোরিন্সের কথা তো ভুলেই গিয়েছিলাম। তাকে কি পাওয়া গেছে?
মাথা নাড়লো মুসা। পাবে বলে মনে হয় না। বাবা বলেছে, যেখানটায় পড়েছে, সাঁতার না জানলে বাঁচার আশা একেবারেই নেই।
রিসিভার তুলে নিলো রবিন। চীফকে ফোন করবো। বোরিন্সের খবর কি জিজ্ঞেস করবো।
আরেকটা লাইনে কথা বলিছে ক্যাপ্টেন ফ্লেচার। অপেক্ষা করতে হলো রবিনকে। অবশেষে স্পীকারে ভাসে এলো তার কণ্ঠ, না, রবিন। আশা নেই। কোস্ট গার্ডেরা খোঁজা বন্ধ করে দিয়েছে।
তাই নাকি? আহারে, বেচারা!
ট্রেলারের ছাদে লাগানো টেলিস্কোপ সর্ব-দর্শনে চোখ রেখে বাইরেটা দেখছে মুসা। হঠাৎ ঝটকা দিয়ে সোজা হলো। ট্রাক নিয়ে ফিরে এসেছে কিশোর!
আর বসে থাকতে পারলো না দু'জনে। বেরিয়ে পড়লো।
ওদেরকে দেখেই বলে উঠলো কিশোর, এসেছো। ভালো হয়েছে। হাত লাগাও। মালগুলো নামাতে হবে।
দেখতে দেখতে নামিয়ে ফেলা হলো সব মাল। থ হয়ে গেলেন রাশেদ পাশা। ছেলেগুলো যে কত দ্রুত কাজ সারতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস হয় না। ইচ্ছে করে না বলেই ঢিলেমি করে অন্য সময়।
সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লো তিন গোয়েন্দা। একটা দোকানে থেমে তাড়াতাড়ি বার্গার আর কোল্ড ড্রিংক খেয়ে নিয়ে সেন্ট্রাল হাউস অ্যান্ড হার্ডওয়্যার স্টোর-এর মালিক মিস্টার জর্জ র্যাগনারসনের ওখানে চললো ওরা, শহরতলীতে। পুরো একটা ব্লক জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে স্টোরটা। পেছনের একটা ঘরে পাওয়া গেলো জর্জকে জমা-খরব পরীক্ষা করছেন। খাটো, মোটা, ব্যস্ত একজন মানুষ। কথা বলার সময়ও কাজ করেন।
'বলো, কি করতে পারি?'
র্যাগনারসন রকের ব্যাপারে কয়েকটা প্রশ্ন করবো, স্যার, মোলায়েম গলায় বললো কিশোর। ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের ওপর গবেষণা করছি আমরা, স্কুলের পরীক্ষায় লাগবে। আমাদের সাবজেক্ট, বিচিত্র ঘটনা। আপনি কি কিছু বলবেন? এই, ইদানীং নতুন কিছু পেয়েছেন কি সেখানে?
নতুন কিছু? নাহ্। বুড়ো হয়েছি। দেখার চোখও নেই এখন। দাঁতের ব্যথায়ই মরলাম। হতচ্ছাড়া এই কাজ...
নিরীহ কণ্ঠে কিশোর বললো, শুনলাম, ক্যাপ্টেন কুলটারের কি হয়েছে তা নাকি আপনি জানেন?
কে? হিসেব থেকে মুখ তুললেন জর্জ।
দ্য স্টার অভ পানামার ক্যাপ্টেন, স্যার, রবিন বললো।
ও, ওটা। না কিছু জানি না। ভুল শুনেছো।
আপনার ভাইপো ডন হয়তো জানে, মুসা বললো।
মুখ বিকৃত করে ফেললেন জর্জ। ওই অপদার্থটা! ওর নামও মুখে এনো না আমার সামনে। ভাই বলে পরিচয় দিতেও ইচ্ছে হয় না। ও আমার চাচাতো ভাই।
'অ, জানতাম না,' কিশোর বললো। শুনলাম অসৎ সঙ্গে পড়ে নাকি নষ্ট হয়ে গেছে। ইদানীং কোনো গোলমালে জড়িয়েছে নাকি?
জড়ায় না কখন?
আপনাদের সেলিব্রেশনে কি যায়? এবার গিয়েছিলো?
নাক দিয়ে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করলেন জর্জ। পারিবারিক অনুষ্ঠান, বাধা তো আর দিতে পারি না। তবে দিতে পারলে ভালো হতো। একবার ধরে এনে এখানে কাজ দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ভালো হয়ে যাবে। ও কি করলো জানো? সমস্ত জায়গায় আমার বদনাম করে বেড়াতে লাগলো। কাজকর্ম কিচ্ছু নেই। খালি খাওয়া আর ঘুম।
এখনও কি ওরকমই আছে? মুসা জিজ্ঞেস করলো।
বাজে কিছুতে জড়িয়েছে? জিজ্ঞেস করলো রবিন।
বললাম না, সবসময়ই জড়ায়, চাচাতো ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বিষ ঢাললেন যেন জর্জ। এখন কিসে জড়িয়েছে, জানিনা।
তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে এলো তিন গোয়েন্দা। এরপর, ডনের বাবা ইংমার র্যাগনারসনের অফিসে গেলো ওরা। তিন তলা হলুদ ইটের একটা বাড়িতে ডাক্তারের দন্ত চিকিৎসালয়। পথের পাশেই। গাছপালায় ঘেরা। হাসিমুখে ওদেরকে স্বাগত জানালো রিসিপশনিস্ট। জিজ্ঞেস করলো, কার দাঁত খারাপ? বেশি ব্যথা করছে?
ঝকঝকে সাদা মুক্তোর মতো দাঁত দেখিয়ে দিলো মুসা, হেসে।
রবিন বললো, কারোরই নেই।
কিশোর বললো, ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই। তার ছেলের ব্যাপারে। কয়েক মিনিট সময় দিতে পারবেন?
কোন ছেলে?
ডন, জানালো মুসা।
ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো মেয়েটা। শুনেই বুঝেছি, ও-ই হবে। দাঁড়াও, একটা রিসিভার তুলে নিয়ে খটখট করে কয়েকটা বোতাম টিপে কানে ঠেকালো সে। কথা বললো। তারপর রেখে দিলো রিসিভারটা। আসছেন।
ভেতরের অফিস থেকে বেড়িয়ে এলেন সাদা জ্যাকেট পড়া লম্বা, সোনালী চুলের একজন মানুষ। বিরক্ত বোঝা যায়। ছেলেদের জিজ্ঞেস করলেন, কি করেছে?
নোনা বাতাসে কোঁচকানো মুখের চামড়া, লম্বা চুল, আসল ভাইকিংদের চেহারা মনে করিয়ে দেয়। যেন এইমাত্র জলদস্যুদের জাহাজ থেকে নেমে এসেছেন তিনি।
কি করেছে, জানি না, স্যার, জবাব দিলো কিশোর। কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই, যদি অনুমতি দেন।
তোমাদেরকে তো চিনি না, বলেই কিশোরের মুখের ওপর দৃষ্টি স্থির করলেন তিনি। এক এক করে তাকালেন রবিন আর মুসার দিকে।উজ্জ্বল হলো মুখ। আরে, তোমরা! সেদিন রকে ছবি তুলেছিলে। কেমন এসেছো?
এই ছবিগুলোর ব্যাপারেই কথা বলতে এসেছি, রবিন বললো।
'এসো, ভেতরে এসো। '
সাজানো গোছানো ডেন্টস্টের অফিস। রোগী শোয়ানোর চেয়ার। ক্রোমের তৈরি নানারকম আধুনিক যন্ত্রপাতি। চেয়ারে বসে আছেন আরেকজন মানুষ। একই রকম সোনালী চুল, গায়ে সাদা স্মক।
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now