বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#তিন_গোয়েন্দা
#পুরনো_ভূত
#পর্ব_আট (বাকি অংশ)
ও আমার ভাই ডেভিড, পরিচয় করিয়ে দিলেন ডাক্তার।
স্যারকে চিনি, বিনয়ের সঙ্গে বললো রবিন। আমাদের স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল।
ছেলেদের দিকে তাকিয়ে অল্প একটু মাথা ঝোঁকালেন ডেভিড। কেমন আছো? ছেলেরা ভালো আছে জানালো। ভাইয়ের দিকে ফিরলেন তিনি। 'ইংমার, একটা দাঁত নিয়ে আর কতোক্ষণ? রকে যাওয়া দরকার। ডিনারের আগেই।'
ডনের ব্যাপারে কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করতে এসেছে এরা। ডাক্তার বললেন। কাজ করতে করতেই বলা যাবে, কি বলো? একথাটা ছেলেদের উদ্দেশ্যে বললেন তিনি। ভাইয়ের ওপর ঝুঁকে দাঁত নিয়ে কাজ শুরু করলেন। কি জানতে চাও?
প্রশ্ন করতে লাগলো কিশোর।
বেশ কয়েক বছর আর সিরিয়াস গোলমালে জড়ায়নি, এক প্রশ্নের জবাবে বললেন ডাক্তার। কি বলো ডেভিড?
মুখের ভেতরে ডেন্টিস্টের আয়না ঢোকানো। একটা ধাতব চোখা শলা দিয়ে খোঁচাখুঁচি করছেন ইংমার। এই অবস্থায় কথা বলা অসম্ভব। গাঁ গাঁ করে কি বললেন বোঝা গেলো না।
ও, সরি, মুখ থেকে আয়না আর শলা সরিয়ে আনলেন ডাক্তার।
জ্বলন্ত চোখে ভাইয়ের দিকে তাকালেন প্রিন্সিপ্যাল। যেন ইংমারই ডন। তা জড়ায়নি। তবে আজেবাজে কাজ করেই চলেছে। মাথায় বোধহয় দোষই আছে ছেলেটার।
হ্যাঁ, কিছুটা ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের! মস্ত একটা নোভোকেইন হাইপোডারমিক সিরিঞ্জ বের করলেন ডাক্তার। তবে মানুষ হিসেবে সে খারাপ নয়। কি বলো?
লম্বা সূচটার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকালেন প্রিন্সিপ্যাল। জবাবটা দিতে দ্বিধা করলেন। তা বটে। ঘেউ ঘেউ বেশি করে, কামড়ায় কম। তবে ওই ঘেউ ঘেউ টাই অসহ্য।
জর্জ র্যাগনারসন অবশ্য অন্য কথা বলছিলেন, মুসা বললো। ডনের ব্যাপারে তার ধারণা খুব খারাপ।
মাথা নাড়তে নাড়তে বললেন ডাক্তার, ও আর মাফ করতে পারলো না ছেলেটাকে। দশ বছর বয়সে ওর ছেলেকে গাছ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো ডন, সেই রাগ আর গেলো না। নিশ্চয় বলেছে, ওর বদনাম করে বেড়িয়েছে ডন। খালি খেয়েছে আর ঘুমিয়েছে, কোনো কাজই করেনি স্টোরে। কে খায় না, বলো। আর খেলে ঘুম আসবেই।
সেটা প্রমাণ করার জন্যেই বোধহয় আচমকা প্রিন্সিপ্যালের মাড়িতে সূচটা ঢুকিয়ে দিলেন ডাক্তার। প্লাঞ্জারে চাপ দিয়ে ওষুধ ঢুকিয়ে দিতে শুরু করলেন।
আঁ আঁ করতে লাগলেন প্রিন্সিপ্যাল। চেয়ারের হাতলে শক্ত হয়ে গেলো আঙুল। সূচটা বের করার পর ঠোঁটের কোণা দিয়ে কোনোমতে বললেন, জর্জটা ভদ্রতা জানেনা।
আর ও-ই একমাত্র র্যাগনারসন, যোগ করলেন ডাক্তার, যে সেলিব্রেশনে আমাদের মতো অংশ নেয়নি। ওই একবার, দু'বার গেছে এসেছে ব্যস!
আপনারা এখন এখানে কেনো? প্রশ্ন করে বসলো কিশোর।
ইমারজেন্সী। ডেভিডের দাঁতে ব্যথা উঠলো। নিয়ে আসতে হলো এখানে।
ওয়েটিং রুমে গলাবাজী শোনা গেলো। রিসিপশনিস্টের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিয়েছে কেউ। কান পেতে এক মুহূর্ত শুনলেন, তারপর ছেলেদের দিকে তাকালেন প্রিন্সিপ্যাল। আসলে কি জানতে এসেছো তোমরা? নোভোকেইন কাজ শুরু করে দিয়েছে। অবশ করে দিচ্ছে জ্বীভের গোড়া। কথা জড়িয়ে আসছে তার।
আমরা শুনেছি আজব ঘটনা ঘটছে রকে, রবিন বললো।
"কোথায়...?"
শেষ করতে পারলেন না ডেভিড। হুড়মুড় করে এসে ঢুকলো এক তরুণ। মুসার সমান লম্বা। তবে স্বাস্থ্য তার মতো ভালো নয়। বরং রোগাটেই বলা যায়। পরনে মলিন জিন্স, গায়ে নোংরা টি-শার্ট। পা খালি। জুতো, স্যান্ডেল কিছুই নেই। কয়েকদিন শেভ করেনি।
'বাবা....'
তিন গোয়েন্দার দিকে চোখ পড়তে থেমে গেলো। এরা এখানে কি করছে? নিশ্চয় বানিয়ে বানিয়ে নালিশ করছে আমার নামে। আমি কিচ্ছু করিনি। শুধু ছবিগুলো কিনতে চেয়েছিলাম। সব মিথ্যে কথা বলছে।
ছবি? বুঝতে পারছেন না ডাক্তার। ওদের ছবি তোমার কি দরকার?
স্যুভনির। সবাইকে উপহার দিয়ে চমকে দিতে চেয়েছিলাম।
ভাইকিং পোশাক, শিংওয়ালা হেলমেট আর নকল দাড়ি না থাকায় বয়স অনেক কম লাগছে ডনের।
মিথ্যে কথা কি কি বলেছে? একটা শব্দ ও ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারলেন না প্রিন্সিপ্যাল।
আর কি? আমি ওদের পিছু লেগেছি, গোলমাল করেছি। বিশ্বাস করো চাচা, আমি কিছুই করিনি। শুধু ছবিগুলো চেয়েছি।
কিছু যদি না-ই করে থাকবে, তাহলে কেনো মনে হলো তোমার বিরুদ্ধে নালিশ করবে ওরা?
লাল হয়ে গেলো ডনের গাল। আমতা আমতা করতে লাগলো, 'ওই...ইয়ে....মানে...ও'বয়সী ছেলেমেয়েগুলো তাই করেতো...'
জোরে নিঃশ্বাস ফেললেন ডাক্তার। কেনো মিথ্যে কথা বলছো! ওরা কিছু বলেনি। নিজের দোষ নিজেই বের করে দিলে।
বোকা হয়ে তিন গোয়েন্দার দিকে তাকালো ডন।
ডেভিড বললেন অস্পষ্ট উচ্চারণে, এদেরকে তুমি.. ঠোঁটের এককোণ ঝুলে পড়েছা তার।
চুপ করে থাকো। তোমার কথা এখন বোঝা যাবে না। হেসে ড্রিল মেশিন বের করলেন ডাক্তার। দেখি হাঁ করো।
বলেই ফেলি, স্যার, কিশোর বললো। খারাপ কাজ অনেকগুলোই করেছে আপনার ছেলে। হয়তো। হয়তো বলছি এ-জন্যে, চেহারা চেনা যায়নি। কাল আমাদের ছবিগুলো সব চুরি হয়ে গেছে। পুরনো সাদা একটা পিকআপে করে রবিনের পিছু নিয়েছিলো দু'জন লোক। ধাক্কা দিয়ে রবিনের সাইকেল খাদে ফেলে ছবিগুলো ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
আমি কিচ্ছু করিনি! রেগে গেলো ডন।
ছবিগুলো তো তুমিই চেয়েছিলে, বললো রবিন।
কেড়ে নেয়ার হুমকি ও দিয়েছিলে, মনে করিয়ে দিলো কিশোর।
আরও রেগে গেলো ডন। মিছে কথা! একদম মিথ্যে কথা!
ছেলের দিকে তাকিয়ে অস্বস্তি ফুটেছে ডাক্তারের চোখে। আর প্রিন্সিপ্যালের চোখে ফুটেছে ড্রিল মেশিনটার দিকে তাকিয়ে।
ছেলেদের চোখে চোখে তাকালেন ইংমার। ডন, তুমি ছবিগুলো চেয়েছিলে, তুমিই বলেছো।
ওরা কোথায় থাকে তা-ই জানি না! চেঁচিয়ে উঠলো ডন।
মুসা বললো, সেদিন ম্যারিনা থেকে আমাদেরকে অনুসরণ করে এসে থাকতে পারো। তাহলেই ঠিকানা জানা হয়ে যাবে।
ছবিগুলো চাইলে আমি বলেছি, রবিন বললো। এগুলো আমার বাবার পত্রিকার জন্যে দরকার। বাবার নামও বোধহয় বলেছিলাম। ঠিকানা জোগাড় করে বাড়ি চিনে নেওয়া কিছুই না। কাল সকালে আমাদের বাড়ির সামনে ট্রাকে বসে নজর রাখছিলো চোরেরা।
অস্বস্তি বাড়লো ডাক্তারের। বাড়ছে প্রিন্সিপ্যালেরও। ড্রিল মেশিনটা যতো এগিয়ে আসছে, মাথা পিছিয়ে নিচ্ছেন তিনি। পিছাতে পিছাতে একেবারে ঠেকে গেলো চেয়ারের সঙ্গে।
আমি কিছু করিনি! জোর দিয়ে বললো ডন। কখন চুরি হয়েছে?
তাকে জানালো রবিন।
হেসে উঠলো ডন। ওই সময় আমি রকে ছিলাম! বাবা সাক্ষী।
মাথা ঝাঁকালেন ডাক্তার। হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গেই ছিলো। বেলা এগারোটায় দু'জনে একসাথে বেরিয়ে এসেছি দ্বীপ থেকে।
তাতে কি? যুক্তি দেখালো মুসা, তার দু'জন বন্ধুকে বলে রেখে যেতে পারে কাজটা করার জন্যে।
দেখো, আমি কিন্তু বিশ্বাস করতে পারছি না, ডাক্তার বললেন। ড্রিলটা ধরে রেখেছেন প্রিন্সিপ্যালের অপেক্ষমাণ মুখে।
মনে হয় কিছু করেনি, কোনোমতে শব্দগুলো বের করলো ডেভিড। এই, সারাদিনই ধরে রাখবে, না কিছু করবে?
হয়তো আপনাদের কথাই ঠিক, শান্ত কন্ঠে বললো কিশোর। ভাবলেশহীন চেহারা। সরি, অনেক বিরক্ত করলাম, রবিন আর মুসাকে ডাকলো, এসো। অন্য কোথাও গিয়ে চোর খুঁজি।
ইলেকট্রিক ড্রিলের সুইচ অন করলেন ডাক্তার।
রিসিপশনিস্টের ঘর থেকে বেরিয়েই কিশোরের মুখোমুখি হলো রবিন। এতো সহজে ছাড়লে কেনো?
ছবিগুলো ও চুরি করেনি? মুসার প্রশ্ন।
করতে পারে, জবাব দিলো কিশোর। এখনও শিওর নই। আগে আমাদের জানতে হবে ছবিগুলো এতো চাওয়ার কারণটা কি? নিশ্চয় এমন কিছু আছে যা আর কাউকে দেখতে দিতে চায় না সে।
সে জন্যেই ছিনিয়ে নিয়েছে।
ঘড়ি দেখলো কিশোর।
চারটের বেশি বাজে। চলো, রবিনদের বাড়ি যাই। আংকেলের আসার সময় হয়েছে। যতো তাড়াতাড়ি পারি ছবিগুলো দেখবো।
সাইকেলে চড়লো মুসা। চলো, প্রমাণ দরকার। তারপর ডনের থোতাটা ভাঙবো আমি।
রাস্তায় যানবাহনের ভীড় তেমন নেই। সাইকেল চালিয়ে চলেছে তিন গোয়েন্দা। মুসা সবার আগে, কিশোর মাঝখানে আর রবিন রয়েছে সবার পেছনে। এঞ্জিনের শব্দে হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে বলে উঠলো, এই, দেখ দেখ!
ফিরে তাকালো অন্য দু'জন। মোটর সাইকেলে করে আসছে ডন র্যাগনারসন। কাছাকাছি এসে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো, আমার সাথে লাগয়ে এসেছো তো, থুহ্ করে রাস্তায় থু থু ফেললো সে।
'বোঝাবো মজা!'
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now