বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পশ্চিমা গবেষকের দল আবিষ্কার করল, মাস্টারবেইশানে কোন সমস্যা নেই। সবাই খুব খুশি হল। মাঝখানে দিয়ে আমেরিকায় বিলিয়ন ডলারের পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠল।
.
ক্লোজ আপ আর আমাদের দেশের খবরের কাগজ, নাটক, সিমেমায় বলা হল বিয়ের আগে দুইজন বোঝাপড়া করতে একসাথে ঘুমাতে পারে। ঘুম ভাল করে যাওয়ার জন্য কনডমের বিক্রি বেড়ে গেল। সাইড বিজনেস হিসেবে, বার্থ কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল এরও সেইল বেড়ে গেল হুহু করে।
.
সিনেমার নায়কেরা শিখিয়ে দিল দুই আঙ্গুলের ফাঁকে একটা তামাকে মোড়া সিগারেট এ ফুঁক দিলে খুব স্মার্টনেস আসে। সদ্য গোঁফ গজানো ক্লাস এইট পড়ুয়া ছেলেটা থেকে শুরু করে ভার্সিটির আঁতেল ছেলেটাও সুখটানে হারিয়ে গেল। শুধুমাত্র কোম্পানির প্রচার ছাড়াও সিগারেটের ডিমান্ড বেড়ে গেল। ভার্সিটির মেয়েরাও একসাথে "ছেলেলিপনা" চর্চা করতে সিগারেটে মন দিল। কোথাও বেড়াতে গেলে, ভার্সিটির পিকনিকে, Rag day, Freshers reception এ "শুধু একবারের জন্য" গলা ভেজানোর জন্যে হলেও বিলেতী লাল নীল পানি খাওয়া সহজলভ্য হয়ে গেল।
.
আলুর ভাজিটাকেই আরেকটু মডিফাই করে ফ্রেঞ্চফ্রাই নাম দিল। সাথে হট ডগসহ আকর্ষণীয় অনেক নামে নানা ফাস্টফুড আসলো বাজারে। ভাজাপোড়া বিক্রি করে অনেকেই সুনাম কামিয়ে নিল। সমস্যা হল এই মোটা মানুষগুলো নিয়ে। এই চর্বি ঝরাতে আবার জিমে যাওয়া, জিমের যন্ত্রপাতি কেনা - নতুন ব্যাবসা দাঁড়ালো।
.
গোঁফওয়ালা সেকুলার আংকেলরা আমাদের শিখিয়ে দিল আর যাই করো গালভর্তি দাড়ি রেখো না। ওগুলো আরবের সংস্কৃতি। আমাদের সাথে ঠিক যায় না। একান্ত রাখতে চাইলে ফ্রেঞ্চ কাট রাখো, চাপদাড়ি রেখো। তবে সবচেয়ে ভালো একদম ফেলে দাও। অফিসিয়াল থাকো। মুখটা অমন জঙ্গল বানিয়ে রেখো না। ব্যাস! আমাদের ছেলেরা নেমে পড়লো। রেজরের ভালো বেচাকেনা চলল। সেলুনে যেখানে মাসে একবার মানুষ চুল কাটাতে আসতো তাতে প্রতিদিন সকাল থেকে দাড়ি কামানোর সিরিয়াল লেগে যায়।
.
পশ্চিমের প্রভুরা আমাদের বলে দিল, মধ্যপ্রাচ্যে সব গুন্ডা থাকে। দাড়ি, টুপি পড়া জানোয়ার থাকে। তাদের একটাই ওষুধ। ওয়ার অন টেরর। এরপর সবাই নিজেদের বাঁচাতে আর্মস কেনা শুরু করে দিল। মাঝখানে অস্ত্র আর মুসলমানদের জীবনের এক ভালো বিজনেস শুরু হল। সিভিলিয়ান মানুষদের গিনিপিগ বানিয়ে একের পর এক মেরে আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার বিজনেস শুরু হয়ে গেল।
.
একটা সময় মানুষ অমন খেলা পাগল ছিল না। তারপর মানুষ এগারোজন দেবতা বানিয়ে ফেলল। তাদের সাথে দেশের মান সম্মানের প্রশ্ন জুড়ে দিল। তারা হারলে নাকি দেশ হারে। তারা জিতলে নাকি দেশ জিতে! অথচ দিন শেষে এটা সবাই শিকার করে যে এটা একটা খেলাই ছিল। সেরকম হলে জাপানের একটা ক্রিকেট টিম বানিয়ে আমাদের সাথে লাগিয়ে দিক। তাদের হাতে হেরে যাওয়া ছাড়া আর কোন চয়েস থাকবে না। অথচ, জিডিপি হিসেবে বলুন, বেকারদের কর্মসংস্থানের কথা বলুন, স্টার্ট আপের কথা বলুন, জিও পলিটিকাল ইনফ্লুয়েন্সের কথা বলুন, ইনভেস্টমেন্ট এর কথা বলুন প্রতিটা প্যারামিটারে কারা এগিয়ে আছে? এবার আমাদের দেশের ফুটবল টিমের সাথে তাদের ফুটবল টিমকে নামিয়ে দিন। আমরা কয়টা গোল হজম করবো? জিতেছি বা হেরেছি - এটাই সবকিছুর মাপকাঠি হয়ে গেল? সুবিধাও হয়েছে অনেক। খেলার ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপনের ব্যাবসা জমেছে। স্টেডিয়ামে জার্সি, ভুভুজেলা বেচে ক'টা টাকা পকেটে আসছে। লাভই লাভ।
.
আগে ইলিশ কমদামে পেতাম। তাই প্রতিদিন খেতাম। পরে আমাদের বলা হল, পহেলা বৈশাখের ইলিশ নাকি স্বর্গীয় হয়, দাম সে যতই উঠুক। পান্তা আর ইলিশের (সাথে মাটির হাঁড়ি) বাজার বেশ চড়া হল।
.
উল্কি জিনিসটা ছোটবেলা থেকে কেমন "উইয়ার্ড উইয়ার্ড" লাগত। পরে বড় হয়ে জানলাম এটার নতুন নামে বাজারে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে "ট্যাটু" বলে। এখন বেশ চলছে। পহেলা বৈশাখ ছাড়াও অন্যান্য দিনে গলা, ঘাড়সহ নাম না জানা হাজার জায়গায় এগুলোর আঁকাআঁকি, শিল্পের ছড়াছড়ি।
.
নামী দামী কাগজে লিখেছে মন ভালো করতে প্রিয় শিল্পির প্রিয় গান শোনা লাগবে। "পাগল মন" কে ভাল করতে মানুষ উঠে পড়ে লাগলো। গিটার, ড্রামসহ নানা ইন্সট্রুমেন্ট এলো। অটো টিউনিং করে সবাই অল্প রেওয়াজ করে সকাল বেলা। ইউটিউবে আপলোড হয়। গিটার বিক্রেতার বেচাবিক্রি বাড়ে।
.
আশি, নব্বই দশকের পর্দা কাপানো দেশীয় অভিনেত্রীরা এই পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই বয়সে নিজেরা স্লিভলেস ব্লাউস পরে - ছোট মেয়েগুলোকেও শিখিয়ে দিয়েছে - "আমাদের মত স্বাধীন হয়ে দেখাও"। যেখানে বাইরে বেরুলে কালো বোরকা ছাড়া সচরাচর অন্য চয়েস থাকার কথা ছিল না , সেখানে নানা রকম কাঁটছাট করে নানা নামে জামা বিক্রি করছে নানা ব্র্যান্ড শপ। মেয়েরা একশো টাকার জামা তিনশো টাকায় কিনে খুশি খুশি মনে বাড়ি ফিরছে। নিজের বরের সামনে উস্কু খুশকু থাকলেও অফিসের পার্টি, গেট টুগেদার, এসবে "গর্জাস" লুক না আনলে চলবে না। এর ফাঁকে এসব ব্র্যান্ডের বেশ উঁচুদরে সুনাম কিনে নিচ্ছে।
.
আগে বিয়ে মানে একটা "লজ্জা লজ্জা" ভাব ছিল। জামাই বউ দুইজনে লজ্জার উপর থাকতো। এবং এটা ন্যাচারাল ছিল। তবে "Wedding event management" এর লোকগুলো আসার পরে যখন স্টেইজে বসে থাকা কনেকে ক্যামেরার পেছনের লোকটা বলে "আপনি 'উনার' দিকে একটু লাজুক লাজুক করে তাকান তো", তখন যে কারো মনে হতে পারে সে এফডিসিতে সিনেমার শ্যুট দেখতে গিয়েছে। এক একটা বিয়েতে কয়েকটা ছবি আর হাই কোয়ালিটির ভিডিও করে হাজার খানেক টাকা নিয়ে চমৎকার একটা কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা হয়ে গিয়েছে।
.
ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ নেই। কিন্তু ১৪ তারিখে ফুল কেনা অবশ্য করণীয় কবে হয়ে গেল বুঝতেই পারি নি। তারপরেও ভালোই বাড়ছে দাম, রজনীগন্ধার সুবাসের সাথে তাল মিলিয়ে।
.
.
.
শেষে এসে এটাই বলবো, আমাদের ব্যাবসাগুলো যেন নিজের পেটকে পুজো করার জন্যেই কেবল না হয়। নিজের পাশাপাশি আরেকজনকে জাহান্নামের রাস্তা সুগম করার জন্য না হয়। আমরা জানি কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ। তারপরেও কেন করছি? উত্তরটা নিজেদের বের করার সময় এসেছে।
.
Misbah Mahin
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now