বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রতিশোধ

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X . কেমন যেন একটা গা ছমছমে পরিবেশ। ঝিঝি পোকারা ডেকে চলেছে ক্লান্তিহীন। রাতের অর্ধাংশ শেষ। দুরের আকাশটা নিকষ কালো একটা মেঘের অবয়বে ঢেকে আছে। দুরে কোথাও কর্কশ কণ্ঠে একটা পেচা ডেকে উঠল। নিকষ কালো হয়ে আছে নীরব মৃত শহর! সুনসান রাতের নীরবতা ভেঙ্গে হেটে যাচ্ছে মেয়েটা, গন্তব্য অনতিদূরের কাঞ্চন ব্রীজ। এই ব্রীজে বসেই কোন এক ফাগুনের বিকেলে, মেয়েটার হাতে হাত রেখে কথা দিয়েছিল ছেলেটা, "একসাথে বাচতে না পারি, অন্ততঃ মরতে তো পারবো"। মেয়েটার বেচে থাকার সব ইচ্ছেগুলোকে গলা টিপে হত্যা করে আজ ছেলেটা খুজে নিয়েছে নতুন কাউকে। হয়তো এখন নতুন কোন হাতে হাত রেখে একসাথে বাচা আর মরার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় ছেলেটার হাত। ছেলেটা তার কথা রাখেনি তাই আজ মেয়েটাকে মরতেও হবে একা একা। একটা বারের জন্য টেডিবিয়ারটার দিকে তাকালো মেয়েটা। না পুরোপুরিভাবে একা নয় সে, সঙ্গে নিয়ে এসেছে বাবার দেয়া টেডিবিয়ারটাকে। মা-বাবা দুজনেই একসাথে মারা যাবার পর আট বছর ধরে এই টেডিবিয়ারটাই মেয়েটার প্রতিটি মহুর্তের সঙ্গী। মেয়েটার সমস্ত হাসি, কান্না, মান-অভিমানের একমাত্র সাক্ষী। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর, অনাথ আশ্রমের বদ্ধ দেয়ালগুলোয় মেয়েটার বন্দী দুটো চোখ যখন সুখের আশ্রয় খুজে ফিরতো। তখন তার বুকে একটু হলেও সুখের পরশ এনে দিতো এই পুতুলটাই। টেডিটাকে পুতুল মনে হতো না মেয়েটার মনে হতো, ওর কোন এক ভাই। যে ভাইটা ওর জন্য সব কিছুই করতে পারে, ওকে হাসাতে পারে, মাঝে মাঝে ওর বুকের ভেতর একে দিতে পারে শান্তির পরশ। জীবনের একটা সময়ে এসে একা একা পথাচলায় ক্লান্ত মেয়েটার মনের ধুষর মরুভূমিতে একপশলা বৃষ্টির নেমে আসার মত এসেছিলো ছেলেটা। অভিনয়ের নিখুত তুলির আচড়ে মেয়েটার হৃদয়টায় পুর্ণ প্রেমের ছাপ একেছিল। ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাওয়া মেয়েটাকে অনেকগুলো স্বপ্ন বুনতে শিখিয়েছিলো। একসময় নিজের জগতেই সীমাবদ্ধ মেয়েটা এই ছেলেটার স্পর্শেই পৃথিবীটাকে চেনে নতুন এক চোখে। যেখানে স্বপ্ন সুখের বাস ছিলো। একটা অদ্ভুত রকমের প্রশান্তি ছিলো। মেঘ বৃষ্টিতে হারিয়ে যাবার একটা নীরব আহবান ছিলো। ছেলেটার চোখে স্বপ্ন দেখা মেয়েটা ছেলেটাকে ভালোবাসে নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করেই। কাউকে না জানিয়ে লুকিয়ে বিয়ে করে তারা। ছোটবেলা থেকেই অনেকটা বোকা টাইপের মেয়েটা ছেলেটার কাছে নিজের অস্তিত্বকে উজাড় করে দেয় প্রেমের মিথ্যে অজুহাতে। ছেলেটাকে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্নে বিভোর মেয়েটা একটা সময় টের পায় ছেলেটা বদলে গেছে। ধীরে ধীরে নিজেকে বদলে নিচ্ছে গিরগিটির মতো বদলে নিচ্ছে নিজের রং। স্বার্থ হাসিলের সাথে সাথেই নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে খুব বেশী সময় নেয়নি ছেলেটা। এতদিনের দেখানো স্বপ্নগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেয় কয়েক মহুর্তেই। ওকে জানিয়ে দেয় ওসব বিয়ে কাজী সব মিথ্যে ছিলো। মেয়েটার জীবনের পটে পরিবর্তন আসে। কয়েকদিনের জন্য অনেকটা উচ্ছল মেয়েটা আবার সেই আগের মত নিশ্চুপ নীরব হয়ে যায়। দিশাহীন মেয়েটা যখন সবকিছু ভূলে আবার নতুন একটা জীবন গড়বে বলে ঠিক করে তখনি বিধাতার শেষ শাস্তি, নিজের ভেতরে আরেকটা প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করে। ১০ বাই দশ ফুটের বন্ধ ঘরে বাধা পড়ে চাপা নিঃশ্বাস। দিশেহারা মেয়েটা এবার সিদ্ধান্ত নেয় আত্মহত্যার। আর তাই ট্রেন লাইনের এপাশটায় এলো সে । ট্রেনটা আসার আর কয়েক মিনিট বাকী, কি মনে করেই যেন টেডিবিয়ারটাকে জাড়িয়ে ধরে হু হু করে কেদে উঠলো মেয়েটা, পাগলের মত পুতুলটাকে বলতে লাগলো আচ্ছা শুধু আমার সাথেই কেন এমন হয়? কেন? বোঝার বয়স হবার আগেই বাবা মা চলে গেলো। যখন বুঝতে শিখলাম তখন অনাথ আশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে বাধা কষ্টরাই আমায় আপন করে নিল। এরপরেও নতুন করে কেউ জীবনে এল, জীবনে অনেকগুলো স্বপ্ন দেখালো, বেচে থাকার মানে বোঝালো। তারপর স্বার্থপর সেই মানুষটাও হারিয়ে গেলো। এরপরেও নাহয় নিজেকে বাচিয়েই রাখতাম, কিন্তু ভেতরের এই অবাধ্য যন্ত্রণাটাকে কি করবো বল। বাড়ন্ত এই পাপী মানুষের নিষ্পাপ অস্তিত্বটার যে বৈধ কোন পিতৃপরিচয় নেই। আমার চোখে বিয়ের মিথ্যে ভ্রম একে যে আমায় কলংকিনী করেছে অমানুষটা। আচ্ছা তুই যদি সত্যি সত্যিই আমার ভাই হতি তাহলে কি প্রতিশোধ নিতি ওদের উপর! বলেই আবার কাদতে শুরু করলো সে। এরপর কেমন যেন একটা ঘোর লাগার অনূভূতি মেয়েটার সবগুলো ইন্দ্রিয়ে। পুতুলটার দিকে আবার তাকালো মেয়েটা, দেখলো ওখানে আর পুতুল নয় একটা মানুষের মত অবয়ব বসে আছে। আর সেই মানুষটার মাঝে যেন ওর বাবার ছায়া মেশানো। ওর দিকে তাকিয়েই যেন পুতুলটা বলে উঠলো। ভাই বলেই যখন ডেকেছিস তখন শোন, আমি নির্জীব একটা পুতুল মাত্র, আমার কি কাউকে কিছু করার কোন ক্ষমতা আছে বল। আমার তো প্রাণশক্তিই নেই। আমার নাহয় কিছুই করার নেই কিন্তু তোর দেহে প্রাণতো আছে, হাতগুলো আছে, বেচে আছিস তুই। কেন নিজেকে ওই পশুটার কাছে হারিয়ে দিচ্ছিস। তোকে যে জিততে হবে রে দি'। তোর এই অস্তিত্বের সাথে নতুন অস্তিত্বটাকে জড়িয়েই নাহয় বাচতে শিখ আবার। চলে যা নতুন কোথাও তার আগে জীবন্মৃত করে দে ওই নরপশু টাকে। যেন প্রত্যেকটা মহুর্তে সে মৃত্যুর জন্য ছটফট করে কিন্তু মৃত্যুও তাকে দেখে ভয় পায়। নির্জীব এই আমি নই। প্রতিশোধ তোকেই নিতে হবে, কঠিন আর নির্মম প্রতিশোধ। অল্প একটু হাসি ছুয়ে গেল মেয়েটার মুখে, চোখগুলোতে কোথা থেকে যেন একরাশ হিংস্রতা এসে ভর করলো। মনে হলো, "বেচে থাকবে সে, আর বাচিয়ে মৃত বানিয়ে দেবে সেই পিশাচগুলোকে যারা তার মত হাজারটা মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়"। হালকা একটু হাসি ছুয়ে গেল পুতুলটার মুখেও, প্রতিশোধ নেয়া হবে এবার, নিষ্ঠুর, নির্মম প্রতিশোধ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রতিশোধ
→ প্রকৃতির প্রতিশোধ
→ অমায়িক প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রকৃতির প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ -১
→ "প্রতিশোধ"
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now