বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"প্রতিফলন"
★★**★★**★★
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুটা বিরক্ত বোধ করছে নীরা । কয়েকবার কলিংবেল টিপ দিয়েছে কিন্তু কেউ দরজা খুলছে না । নীরার এই প্রথম আসা অভিদের বাড়ি, অনেকটা সারপ্রাইজ দেবে ভেবেছিল । শুক্রবার অবশ্যই অভি বাসায় থাকার কথা কিন্তু দরজা খুলছে না কেন ?
.
হঠাৎ করেই দরজা খুলে গেছে । সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে, তার চেহারা সুরত দেখে বুঝাই যাচ্ছে কাজের মেয়ে তবে তার চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ।
.
-- কারে চান আপনে ?
-- অভি আছে বাসায় ?
-- অভি ভাই তো বাসায় নাই, ফার্মিসিতে গেছে খালাম্মার ওষুধ আনতে ।
-- আমি কি ভেতরে আসতে পারি ? অভির সাথে সামান্য প্রয়োজন ছিল ।
-- আচ্ছা আহেন কোন সমস্যা নাই ।
.
নীরা বসে আছে গেস্ট রুমে, অপেক্ষা করছে অভির জন্য, কাজের মেয়েটা বিস্কুট চানাচুর দিয়ে গেছে সে দিকে তার দৃষ্টি নেই, দৃষ্টি তার পাশের ঘর থেকে ভেসে আসা কাশির শব্দ । খুব বিশ্রী লাগছে শব্দটা । উঠে দাঁড়িয়েছে নীরা পাশের ঘরের পর্দা সরিয়ে উঁকি দিতেই নীরা দেখতে পায় বার্ধক্যে উপনিত একজন মহিলা খাটে শুয়ে আছে । কি মনে করে ঘরে ঢুকতেই একটা বাজে উটকো গন্ধ তার নাকে এসে হোঁচট খায় । কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলেও আর জিজ্ঞেস করা হয় না । অবজ্ঞা করে খুব দ্রুত আবার ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে । মহিলাটি অবশ্য অবাক বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল ।
.
কাজের মেয়েটা সামনে দিয়ে যেতেই নীরা কাজের মেয়েকে জিজ্ঞেস করে ।
.
-- আচ্ছা পাশের ঘরে যে মহিলাটি শুয়ে আছেন, উনি কে ?
-- উনি অভি ভাইয়ের আম্মা ।
-- উনার ঘরে এতো বিশ্রী গন্ধ কেন ?
-- আর বইলেই না, কওয়া নাই বলা নাই হুট করে বিছানাতেই প্রসাব করে দেয় । আমারে ডাকলেই পারে কিন্তু তা দিব না ।
-- বিছানা পত্র, কাপড় চোপড় ঐ গুলো পরিষ্কার করে কে ?
-- আমি ঐ গুলো পরিষ্কার করি না, ভাইজানই পরিষ্কার করে । অফিস থেকে আসার পর, খালাম্মার কাপড় পাল্টিয়ে দেয় তারপর শুরু হয় কাপড় ধোয়ার যুদ্ধ । বাবারে কি গন্ধ । ভাইজান কিভাবে সহ্য করে আমি জানি না ।
.
কিছু একটা চিন্তা করে নীরার মনটা খারাপ হয়ে গেছে । অভির সাথে আর দেখা করেনি, বাসা থেকে বেড়িয়ে গেছে । কিছুদিনের ভেতর তাদের বিয়ে করার কথা । অভি তাকে বলেছিল তার মা অসুস্থ কিন্তু এই রকম অবস্হা সেটা তো বলেনি !!
.
ইদানিং নীরা অভির সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছে, ঠিক মতো ফোনে পাওয়া যায় না । পাঁচ বছরের গভীর ভালোবাসা কুয়াশা মতো কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে । যে অভির সাথে এক মিনিট কথা না বললে নীরার ঘুম আসতো না সেই নীরা অভিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে । অনেক চেষ্টার পর নীরা কে ফোনে পাওয়া গেল ।
.
-- হ্যালো নীরা কি হয়েছে তোমার, আমাকে এড়িয়ে চলছো কেন ? আমার অপরাধটা কি বলবে তো ?
-- তোমার অপরাধ কিছুই না
-- তাহলে সমস্যাটা কোথাও ?
-- সমস্যা কিছুই না তবে তোমাকে আমার বিয়ে করা সম্ভব না ।
-- কেন সম্ভব না ?
-- কেন সম্ভব না সেটা তোমাকে আমি বোঝাতে পারব না । আমি সেদিন তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম কিন্তু তোমার পরিবারের সাথে আমি মানিয়ে নিতে পারবো না ।
-- ও বুঝতে পেরেছি আমার মায়ের কথা বলছো তো । এটা ব্যাপার না মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে দিব ।
-- তাহলে কোন সমস্যা নেই, আমি রাজি আছি ।
-- তোমার কথা শুনে আমার হাসি আসলো নীরা । আমি এই পাঁচ বছর কার সাথে প্রেম করলাম !! পুরো পাঁচটা বছরের আবেগ ভালোবাসা স্বপ্ন সব কিছুই মিথ্যা ছিল । আরে ,,, তুমি কেন, তোমার মতো একশোটা নীরা কে আমি পরিত্যাগ করতে পারি আমার ঐ বিছানায় প্রসাব করা মায়ের জন্য । তুমি জানোনা আমার এই মা আমাকে কতোটা কষ্ট করে মানুষ করেছেন । বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় আমার মা বিধবা হয়ে যান । সেই ছোট্ট অভিকে নিয়ে যুদ্ধ করে তিনি আজ বিছানা গত । বাবার অভাব আমার মা আমাকে কখনোই বুঝতে দেননি । তিলে তিলে খুব যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে তিনি আমাকে বড় করেছেন । আরে আমার পুরো শরীরের চামড়া দিয়ে যদি তাকে শীতের পোশাক বানিয়ে দেই তবুও তার কৃতকর্মের ঋন শোধ হবে না আর তোমার মত সামান্য নীরার জন্য আমার মাকে পরিত্যাগ করবো !! হাসালে নীরা হাসালে ,,,
.
কথা শেষ হবার আগেই লাইনটা কেটে গেছে তার সাথে কেটে গেছে পাঁচ বছরের আবেগ ভালোবাসা আর স্বপ্নে বোনা বিনা সুতোর মালাটা।
.
নীরাকে ভুলতে অভির প্রচণ্ড কষ্ট হয়েছিল তবুও তাকে ভুলতে পেরেছে । যে মেয়ে তার মাকে সম্মান দেয় না সেই মেয়ে তার হৃদয়ে স্থান পাওয়ার যোগ্যতা রেখে না ।
.
অনেকদিন অভির মা বিছানা গত থেকে মারা গেছেন । মায়ের অসম্মান হয় এর জন্য অভি বিয়ে পর্যন্ত করেনি চাকরিটাও ছেড়ে দিয়েছিল মায়ের সেবা করার জন্য । কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি আর যাই হোক লিভার ক্যান্সার হওয়া রুগী কে বাঁচানো যায় না । অনেক কষ্ট হয়েছিলো অভির তারপরও বিধির বিধান কে মেনে নিতে হয়েছে । এখন অবশ্য অভি তার জীবন কে সাজিয়ে নিয়েছে মাঝে মাঝে অকৃতজ্ঞ
নীরার কথা মনে পড়ে । অভি জানে না নীরা কেমন আছে ।
.
একটা মহিলার ঘরে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে । মহিলাটি যন্ত্রণায় ছটফট করছে কিন্তু কেউ তার ঘরে এগিয়ে যাচ্ছে না । মহিলাটির হঠাৎ করে মনে পড়ে অভি নামের একটি ছেলের মায়ের ঘর থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং ফিরে এসেছিল তার জীবন থেকে আজ তার ঘর থেকে নিজের সন্তান সহ অনেকেই মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে এর থেকে আর কষ্টের কি হতে পারে !! অনেক দেরিতে হলেও সে বুঝতে পেরেছে আর যাই হোক মা নামের মানুষ গুলোকে কখনো অবহেলা, অবজ্ঞা করতে নেই কারন সেই অবজ্ঞা, অবহেলা একদিন না একদিন তার দিকেই প্রতিফলিত হবে প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতায় প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ।
আশা করছি সকলেই মা বাবার যত্ন নিবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now