বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:- শেষমেষ তবে আমাদেরও!
:- মিথ্যে শুনো নি অবশ্যই
:- আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে তবে?
:- হ্যাঁ!
:- কত দিনের সম্পর্ক?
:- এই তো তিন বছর পার হলো গত সাপ্তাহে্....!
:- দিন হিসেবে কত?
:- হিসেব করি নি। তুমি হিসেব করে নিও....
:- দিন হিসেবে প্রায় ১ হাজার ১০০ দিনের কিছু বেশি হবে....
:- হ্যাঁ.... হয়তো....!
:- আমাদের সম্পর্ক কেন জানি ভেঙ্গে যাচ্ছে?
:- ভুলে গেলে এরমাঝেই? অবশ্যই আমি অবাক হই নি ভুলে যাওয়াতে... তুমি এমনই....
:- কারন'টা তো বলো নি?
:- তোমার কোন "ব্রাইট ক্যারিয়ার" নেই তো তাই!
:- আসলেই তো! আমার তো কখনো ব্রাইট ক্যারিয়ার নেই! কখনো ছিলও না মে'বি....! আচ্ছা এতদিনে তোমার হুশ এলো? যার সাথে টানা তিন বছর একসাথে দিনের পর দিন কথা বলে গেলে, আত্মার সাথে আত্মা গেঁথে দিয়েছিলে তার যে ব্রাইট ক্যারিয়ার নেই এটা তোমার আরো আগে কেন মাথায় আসে নি? আমার মাথায় তো কত আগ থেকেই ঘুরছিল আমার কোন ক্যারিয়ার টাইপ কিছু নেই। ব্রাইট ক্যারিয়ার নামক শব্দের স্পর্শ চিন্তা করা তো দূরের কথা! এভাবে দিব্যি দিন কেটে যাবে ভেবেছিলাম!
:- আরো আগেই এসেছিল। সময়ের অভাবে বলতে পারি নি। বলতে পারো সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম কথাটা বলার জন্য....
:- হ্যাঁ....! বেশ্ হয়েছে!
:- তো?
:- এই তো একটু পর'ই তুমি নামক জীবন্ত কেউ একজন হারিয়ে যাবে। কখনো আর ফিরবে না হয়তো! আচ্ছা বহুদিন পর যদি কোন একদিন আমার ক্যারিয়ার দাঁড়িয়ে যায় তুমি কি ফিরবে?
:- এতদিনে হয় নি!!! আবার......আবার আমায় নতুন করে স্বপ্নের ঘোরে ভাসাচ্ছো!
:- আচ্ছা বাদ দাও!.... আচ্ছা তুমি তো খুব বেশি স্বাধীন ভাবে চলতে পারবে এবার তাই না?
:- এত দিন কি স্বাধীন ছিলাম না?
:- আমি তো কতসময় কত বাধা দিয়েছি! ওগুলোর কথা বললাম....
:- তুমি একটা অপদার্থ এটা তুমি স্বীকার করো? এ তিন বছর আমি যা যা করেছি তুমি কখনো আমার কোন কিছুতেই বাধা দাও নি.... বরং বাধা দিলে আমি'ই খুশি হতাম...
:- হয়তো ভালবাসি বলে.... আচ্ছা তোমার মনে আছে?
:- কি?
:- প্রথম এবং শেষ বার যখন তোমার দু'ঠোঁটের শীতল স্পর্শ তলিয়ে গিয়েছিলাম.... তােমার পুরো দেহ কেঁপে উঠেছিল! অনেকক্ষণ যাবত কেঁপে ছিলে.... ওদিনটার কথা তোমার মনে আছে? অবুঝ মেয়ের মত বৃষ্টিতে হুট করে রিকশার হুড নামিয়ে দিয়ে আমাদের প্রথম বৃষ্টি বিলাস করেছিলে। রাতে আমার ভীষণ জ্বর এলো। টানা চার দিন ছিল জ্বরের ঘোর। তোমায় খুব জ্বালিয়েছিলাম তাই না?
:- মনে করিয়ে দিও না আর প্লীজ!
:- তোমার চোখের কোণে কি পানি জমেছে?
:- তোমার কষ্ট হচ্ছে না? তুমি আর কখনো আমায় পাবে না? আমায় আর বুঝতে পারবে না কখনো.... একটুও কষ্ট হয় না তােমার?
:- হয়তো এখনো আমায় বুঝে উঠতে পারো নি!
:- খুব সম্ভবত.....
:- আচ্ছা তুমি কি অনুৃভব করবে দিন গুলো? আমার হুটহাট কল দেয়া। মাঝেমাঝে মধ্যরাত্রি'তে তোমায় জাগিয়ে ভোর অব্দি কথা বলা। ভরা জোসনায় দু'জন দু'প্রান্ত থেকে একসাথে জোসনা বিলাস করা। আমি দেরি করে নাস্তা করবো তুমি আর বকবে না! ভাবতেই কেমন লাগছে....!
:- হয়তো.....!
:- আমাদের কত স্বপ্ন'ই পূরণ হলো না!
:- কি জানি.!...!
:- কুয়াশা মাখা সকালে দু'জন খালি পায়ে হাঁটা। তোমার খোঁপার চুল খুলে দেওয়া। আমাদের হানিমুন! হুট করে কখনো কখনো রাতে হলুদ ফতুয়া পড়ে দু'জন হিমু, হিমুনি হয়ে বাহিরে হাঁটা। আমাদের সংসার! এক গ্লাসে মৃত্যু অব্দি ভাগাভাগি করে পানি খাওয়া। আরও কত....
একই স্বপ্ন আমরা আর দেখছি না তাই না?
:- হ্যাঁ.... হয়তো.....
:-জানো?
:- কি?
:- এখন যত কথা বলছি গত তিনবছর এত কথা বলি নি! তুমি আজ নিশ্চুপ! তুমি কেবল'ই শ্রোতার ভূমিকা পালন করছো আজ.....
:- হ্যাঁ......
:- তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ জানো?
:- কেনো?
:- তিন'টা বছর তুমি একাই কথা বলে আমাকে তোমার শ্রোতা বানিয়ে দেয়ার জন্য.....
:- ওহ্.... আচ্ছা!
:- কথা বলতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তোমার?
:- জানি না তো.....
:- তুমি অনুৃভব করবে না?
:- কি?
:- এ'পাশ হতে দিনের পর দিন বলে যাওয়া মানুষটার মুখ হতে বেজে উঠা শুধু এক শব্দবিভ্রাট "ভালবাসি"টা?
:- সহ্য হচ্ছে না আর.....
:- শেষ দিনটায় না হয় আমি বকবক করি?
:- আর নাহ্!
:- কত কিছু বলার ছিল!
:- উহু.... শেষ করো... রেখে দিবো শেষ বারের মত.....
:- তুমি কাঁদবে খুব করে তাই না?
:- এটাই হয়ে আসছে তিনবছর ধরে।
:- এতদিন ছিল প্রতিবার ফিরে পাবার আশায় অভিমানী আর্তনাদ । আর একটু পর শুরু হবে ছেড়ে আসার হতাশার আর্তনাদ!
:- রাখবে তুমি না আমি?
:- প্রতিবার যখন তুমি'ই রাখো আজ'ই বা কে ব্যতিক্রম হবে?
:- হ্যাঁ....
:- আমাকে ধন্যবাদ দিবে না...?
:- কেন?
:- প্রেমের ফাঁদে পড়ে আশেপাশে অন্য মেয়েদের মত তোমার স্বতীত্ব হরণ হয় নি সেজন্য !
কথাটা শুনেই ওপাশ আর সহ্য করতে পারলো না। শেষ বারের মত অনিচ্ছা স্বত্বেও মোবাইল নামিয়ে আর্তনাদে মেতে উঠলো......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now