প্রথম প্রেমের স্পর্শ "রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)
X
``প্রথম প্রেমের স্পর্শ"
লেখকঃ ヽ হিমু ヽ (অভিমানী ছেলে)
.
.
"কি করে পিচ্ছি মেয়েটা?"
.
"আমি পিচ্ছি না, একটু বড়"
.
"তবে বুড়ি?"
.
"না, আরো ছোট"
.
"তবে মধ্যমা বয়সী?"
.
"না সেটাও না আরো ছোট, কিশোরী যাকে বলে!"
.
"দুরন্ত কিশোরী?"
.
"আমি মোটেও দুরন্ত নই। সাধা-সাধে আমি"
.
"হুম বুঝলাম। যাবেন?"
.
"কোথায়?"
.
"ঘুরতে"
.
"না ফ্যামিলি আছে, কলেজ আছে"
.
"বেশি দূর নয় তো, কাছাকাছি কোথাও যাব! একদিন না হয় এমনি বের হবেন"
.
"কোথায় যাবেন জায়গাটা তো বলেন?"
.
"ধর্মসাগর কিংবা সিটি পার্ক, অথবা অন্য যেকোন জায়গায়"
.
"কবে যাবেন?"
.
"আগামি সপ্তাহে?"
.
"বিকেলে যাবেন না সকালে?"
.
"যখন সুবিধে হবে আপনার"
.
"বিকেলে গেলে আপনি ঘুরিয়ে সন্ধ্যা নামিয়ে আনতে পারেন! দুপুরের আগে যাব"
.
"তবে লাঞ্চও এক সাথে হচ্ছে?"
.
"আপনি না খাইয়ে রাখলে না খেয়ে থাকব"
.
"অকে তবে না খাইয়ে রাখব"
.
মেসেজটা সেন্ড করে ইমরান হাসছে। হুমুর সাথে চ্যাটিং করছিল। ফেসবুকেই পরিচয় বেশ কয়েকদিন আগে। দুজনে একই জেলায় থাকে। এখন দুজনে দেখা করবে বলে ভাবছে। ইমরান দেখা করতে চাওয়ার পেছনে হুমুরও কিছুটা অবদান রয়েছে। হুমু বলেছিল ইমরানকে গান শুনাবে। কিন্তু হুমু বলছিল সামনা-সামনি বসে গান শুনাবে। অডিও ক্লিপ পাঠালে কণ্ঠের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
.
পরের সপ্তাহ,
সকাল ১০টায় ফোন বেজে উঠল ইমরানের। তখনো লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমুচ্ছে। ফোনের শব্দে ঘুমটা ভাঙ্গল। হতে ফোন নিয়ে রিসিব করে কানে ধরতেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটা মেয়ে বলল,
.
"কই আপনি?"
.
ঘুম জড়ানো চোখে ফোনোর স্ক্রিনে তাকালো সে। অপরিচিত নাম্বার। মেয়েটা ভুল নাম্বারে কল দেয় নি তো! ঘুম ভাঙ্গা অস্পষ্ট স্বরে ইমরান বলল,
.
"কে আপনি?
.
"কই আছেন আগে সেটা তো বলুন?"
.
"আপনি কে? আর কাকে চান?"
.
"আপনি এত প্রশ্ন করেন কেন? যেটা জিজ্ঞেস করছি উত্তর দিন কোথায় আছেন?"
.
"বাসায় ঘুমুচ্ছি"
.
এবার মেয়েটা রাগান্বিত হয়ে ঝাঝালো কণ্ঠে বলল,
.
"কিহ! আপনি এখনো ঘুমুচ্ছেন! কয়টা বাজে!"
.
"আরে আজব তো! আপনি কে সেটা তো বলুন? আপনি মনে হয় ভুল নাম্বারে ফোন দিছেন"
.
"আমি ভুল নাম্বারে ফোন দেই নি। আপনি ইমরান তো?"
.
"জ্বি। কিন্তু আপনি কে?"
.
"হব কোন ভূত-পেত্নী কিংবা প্রেতাত্মা"
.
"সরি এখানে ভূত-পেত্নির কেউ থাকেনা"
.
"হয়েছে ভাব কম নেন। আপনি আসবেন কখন?"
.
"যাব কই? আর কে আপনি ঠিক করে পরিচয় দিন, নাহয় ফোন কাটলাম"
.
"আমি হুমু......."
.
বলেই হুমু চুপ হয়ে গেল। ইমরানের অবাক হবার মাত্রা অতিক্রম করেছে। হুমুকে তো নাম্বার দেয় নি, তবে নাম্বার পেল কোথা থেকে! আমতা আমতা করে ইমরান জিজ্ঞেস করল,
.
"আপনি নাম্বার কোথায় পেলেন? নাম্বার তো মনে হয় দেই নি?"
.
"আপনার নাম্বার আবার আমাকে দেয়া লাগে! ফেসবুকে তো নাম্বার পাবলিক করেরে রেখেছেন যেন সব মেয়েরা ফোন দিতে পারে!"
.
ইমরানের মনে পড়ল, আইডিতে তো নাম্বার এড করা আছে। তাহলে ওখান থেকেই নাম্বার নিয়েছে। নির্বিকার গলায় ইমরান বলল,
.
"মেয়েরা ফোন দিতে পারে মানে!!"
.
"মানে কিছুই না। তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে কান্দিরপার চলে আসুন"
.
"এখনি!!"
.
"থাক আসতে হবেনা"
.
"আরে আরে! মানা করেছি নাকি! এখনি ফ্রেস হয়ে আসছি"
.
"পাঞ্জাবি আছে না?"
.
"আছে"
.
"নীল পাঞ্জাবি?"
.
"হুম, কিন্তু কেন?"
.
"ওটাই পড়ে আসুন"
.
"আচ্ছা"
.
"তাড়াতাড়ি আসবেন কিন্তু"
.
আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোনের লাইন কেটে দিল হুমু। ঘুম থেকে উঠে প্রথমে এমন একটা খবর ইমরানের মনটা ভালো করে দিল। উঠে ফ্রেস হয়ে পাঞ্জাবির সাথে জিন্স পড়ে নিল। চুলে হালকা করে হেয়ার ক্রিম লাগিয়ে নিয়ে জুতে পড়ে বাঁ হাতে হাত ঘড়িটা পড়তে পড়তে বেড়িয়ে পড়ল ইমরান।
.
বেশ জ্যাম লেগে গেছে। রেলগেইটের কাছে প্রতি মূহুর্তেই যেন জ্যাম লেগে থাকে। দুপুর ১২ টা বেজে গেছে। হঠাৎই পকেটের ভেতর ফোন কাঁপাকাঁপি শুরু করল। ইমরান বুঝতে পেরেছে কেউ ফোন করেছে। সচরাচর বাহিরে বের হলে ইমরান ফোনটা ভ্রাইবেট মোডে রাখে। কারন বাহিরের ব্যস্ত শব্দে ফোনের রিংটোন কান অব্দি পৌঁছাতে নাও পারে। পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখলো হুমু ফোন দিয়েছে। তাড়াহুরু করে রিসিব করতে গিয়ে ফোনটা কেটে দিল ইমরান। হুমু আবারো ফোন দিল, রিসিব করতেই হুমু বলল,
.
"কোথায় আপনি?"
.
"জ্যামে আটকে আছি"
.
রাগান্বিত হয়ে ঝাঁঝালো গলায় হুমু বলল,
.
"আপনি কোন জায়গায় আছেস সেটা জিজ্ঞেস করেছি"
.
হতদম্ভ হয়ে ইমরান বলল,
.
"রেলগেইট"
.
"হুম, তাড়াতাড়ি আসেন কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি"
.
"আচ্ছা"
.
ফোনের লাইন কেটে গেল। রিক্সা একটু একটু চলতে শুরু করল। পাঁচ মিনিট পর কান্দিরপার পৌঁছে গেল ইমরান। রিক্সা ভাড়া দিয়ে সাইডে দাঁড়িয়ে আছে ইমরান। হুমুকে চারপাশে খোঁজচ্ছে। হুমু তো বলেছিল দাঁড়িয়ে আছে। হুমুকে ছবিতে দেখেছিল। হুমুকে চিনতে দেরি হলেও হুমু ইমরানকে চিনতে দেরি হল না। নীল পাঞ্জাবি পড়া ছেলেটাকে দেখেই হুমু বুঝেছে এটাই ইমরান।পেছন থেকে হুমু ডাক দিল,
.
"এই যে?"
.
ইমরান পেছনে ফিরল। ঘুর অবাক চোখে হুমুর দিকে তাকিয়ে আছে। বাস্তব হুমু আর ছবির হুমুর তফাৎ দেখল। বাস্তবে হুমু ছবির চাইতেও সুন্দর। মায়া মায়া চেহারা। নীল শাড়ি পড়ে এসেছে। ইমরান ঐদিন কথায় কথায় বলেছিল,
"দেখা করার সময় শাড়ি পড়ে আসবেন"
হুমু শাড়ি পড়েই এসেছে। চুল খোলে রেখেছে। ইমরান সে মূহুর্তে অন্য কিছু ভাবছে না। শুধু এক নজরে তাকিয়ে আছে। দুজনে নিরব। ইমরানের চোখের সামনে হাত ঝাঁকিয়ে নিরবতা ভেঙ্গে হুমু বলল,
.
"হ্যালো! এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন! খুব তো বললেন ঘুরবেন। এখন দেখছি মুর্তির মত দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন!"
.
চুড়ির ঝনঝন শব্দে ঘুর কাটল ইমরানের। হুমুকে দেখে ঘুরের মধ্যে চলে গিয়েছিল। হুমু হাত ভর্তি করে কাঁচের লাল,নীল রঙা চুড়ি পড়ে এসেছে। ইমরানের বলতে ইচ্ছে করছে,
"বাহ! দারুন লাগছে তো! অসম্ভব সুন্দর আপনি"
কি যেন ভেবে বলল না আর। আবারো হুমু বলল,
.
"আরে কি মহা মুশকিলে পড়লাম! ঘুরবেন বলে এলেন, আর এসে দাঁড়িয়ে রয়েছেন! তা কোথায় যাবেন ঠিক করলেন?"
.
"আপনি বলুন"
.
"আমি বলব! তবে চলুন প্রথমে ধর্মসাগর যাই, তারপর লাঞ্চ শেষ করে ভাবব আর কোথায় যাওয়া যায়"
.
"রিক্সা নিব?"
.
"তা কি হেঁটে যাবেন?"
.
রিক্সায় পাশাপাশি দুজনে বসে। কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছে না। হুমু কখনো সামনে তাকাচ্ছে কখনো ডানে তাকাচ্ছে। খুব লজ্জা লাগছে হুমুর। এই প্রথমবার চেনা হয়েও অচেনা কারো সঙ্গে রিক্সায় করে ঘুরতে যাচ্ছে। ইমরান বারবার হুমুর দিকে তাকাচ্ছে। হুমুকে যতবার দেখে তত যেন অন্যরকম লাগে। পিচ ঢালা পথের উপর বেঁয়ে রিক্সা চলছে। চাকার শো শো আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। এ রাস্তায় ব্যস্ত শহরের মত জ্যাম লেগে যায় না। বাতাসে হুমুর শাড়ির আঁচলটা পেছনের দিকে ঢেউ তুলে উড়ছে। দুজন আলাদা আলাদা সংকুচ নিয়ে মনে মনে ভাবছে দুজনের কি শুধু এমনি এমনি দেখা করা! নাকি কোন কিছুর টানে দেখা করা! কিসের টান হবে! মায়ার টান! নাকি ভালোবাসার! তবে কবে ভালোবাসলাম! বাসতেও পারি! নয়তবা দুজনের দেখা হত না কখনো! দেখা করার ইচ্ছেটা কারো মনে জাগলেও তা একাকিত্ব রয়ে যেত। তবে হয়ত ভালোই বাসি! দুজন দুজনকে ভালোবাসি! নাকি আমি ই শুধু ভালোবাসি! আচমকা দুজনে এক সাথে হেসে উঠল। হাসির ধ্বনি মিলিয়ে যাচ্ছে মূহুর্তেই। দুজন দুজনের দিকে তাকালো। হুমু লজ্জা পেল। চেহারাটা লালচে বর্ন ধারন করেছে। অন্যদিক তাকিয়ে ফেলল হুমু। ইমরান অজান্তেই হুমুর হাত ধরল। হুমু কিছু বলছে না। অনুভব করছে ইমরানকে। এ যেন প্রথম প্রেমের স্পর্শ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now